প্রচুর শোনা হয় ইদানীং যেসব গানগুলো
কামিলা কাবিলো'র 'হাভানা...উম না না না' গানটার নাকি কোনো মানে নেই। গ্যারি আনহিগোরোর মতামত এটা। আমার মনে হয় ভিন্ন কথা। ওটা যেন কারো কোনো এক সাগরপাড়ের ছোট্ট দ্বীপ থেকে ঘুরে এসে সে জায়গাটার সাথে তার গড়ে ওঠা বন্ধুত্বকে খুব তীব্রভাবে অনুভব করার গান। দি চেইনস্মোকার আর কোল্ডপ্লে'র সামথিং জাস্ট লাইক দিস্ গানটা যেমন। সে কোনো সুপারহিরো কিংবা কোনো ফেইরি-টেল থেকে শান্তি নয়, বরং সে চায় এমন কাউকে যাকে সে চুমু দিতে পারে। ইদানীংকার গানগুলোর মধ্যে, কাউকে উদগ্রীবভাবে চাওয়ার প্রকাশগুলো এতো সুন্দর, আর গতিশীল!
ইদানীং সময়গুলো কেমন কাটছে আসলে? মনে কি পড়ে চার কিংবা পাঁচ বছর আগের কথা? এই বছরটা একটা ইভেন্টের পাঁচ বছর পূর্তির বছর। ইভেন্টটা চলে গেল জাস্ট কিছুদিন আগে। হৃদয়ের প্রায় মাঝামাঝিটার কাছ দিয়ে। ইমাজিন ড্রাগনস্ ব্যান্ডের নামটা না, আমার দারুণ লাগে! আমেরিকান রক ব্যান্ড। রক গানের এখন সেই আশি-নব্বুইয়ের দশকের মতো রমরমা অবস্থা আর নেই, তাই না? ডেভিড বাউই, জন লেনন, মাইকেল জ্যাকসন, পল ম্যাককার্ঠনি, কার্ট কোবেইন, টুপাক শাকুর আরও কত সব দারুণ রকস্টার।
এখন যুগটা ইনস্টালাইফের। এই শব্দটার সাথে পরিচিত না, এমন কারও এই লেখার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বিরল। তাই ব্যাখ্যা দিলাম না। এখন যারা গান গায় তাদের মধ্যে এডেল আর এড শিরান একদমই মেইনস্ট্রীম হওয়া স্বত্তেও আমার ফেভারিট। প্রিয় এডেলের কথা আরেকদিন বলতে হবে। সে আমার ভেতরে এমি ওয়াইনহাউসের শূন্যতাটা পূরণ করেছে। তাকে নিয়ে এখনও কিছু লিখা সম্ভব না। আজ বরং শুধু এড শিরানের কথা দিয়েই শেষ করি।
অসাধারণ কিছু কাজ করেছে এড শিরান গত কয়েক বছরে। শুধু গেম অফ থ্রোন্সে দেখা দেয়াটা বাদে। ওর লিরিকের অাকর্ষণী ক্ষমতা ভীষণ। মাঝে মাঝে অন্যদেরকেও লিরিক লিখে দেয়। জাস্টিন বিবারকে যেমন, পুরা আমাদের রুদ্র-তসলিমার মতো পাল্টাপাল্টি শিল্প-আক্রমণের একটা হাতিয়ার গড়ে দিয়েছিল সে, লাভ ইয়োরসেল্ফ গানটায়। প্রথম শুনেছিলাম থিংকিং আউট লাউড গানটা। গানের নামটাই হালকা নাড়া দিয়েছিল। লাইক, ওয়াও! থিংকিং আউট লাউড, হুম।
জানালার বাইরের বার্চের সব পাতা ঝড়ে এখন ডালগুলো শুধু ঝুলে আছে। তুষারপাতের বরফ ধরে ছোট ছোট উল্টা পিরামিড বানাবে, সেই অপেক্ষায়। ঠান্ডাটা এখন আসলেই প্রচুর। এটাই কাবু করে রাখে মানুষের অনেকটা। আর বার দশমিক চার বর্গমিটারের এই কুঠুরিটা, যে নিজেকে ভাবে একটি ভ্যাম্পায়ার, এই সবকিছুর মধ্যে আমাকে পরম যত্নে আগলে রাখে, প্রতিটি মুহূর্তে। ম্যাটেরিয়াল যদি কিছু সাথে নেয়াই যেতো, তাহলে তো আমি এই ছোট্ট কুঠুরিটা, যেটা আমাকে তিন বছর আগলে রাখলো বিরতিহীন, তাকেই নিতাম।
বাসা পাল্টানোর সময় হয়ে গিয়েছে। মাস্টার্সটা কমপ্লিট হয়ে গেল। এবার যাত্রা নতুন গন্তব্যের পানে। কোথায়? জানি না এখনও। তাহলে? হাতে যে সুযোগটি আছে, অর্থাৎ ন্যাচারালি যা ঘটছে তোমার সাথে, সেটাকে যতোটা ভালভাবে ঘটানো যায়, উদ্যম, উদ্যোগ, বিচারবোধসহ যা আছে সবকিছু কাজে লাগিয়ে, ঘটাতে থাকো। পথ বেরিয়ে আসবেই। ঘটনাগুলোকে শুধু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নিজের সাথে ঘটতে দেয়া যাবে না- এই হচ্ছে আমার মন্ত্র। নিজের গল্পগুলো আমাদের প্রত্যেককে এ্যাকটিভলি উদ্যোগ নিয়ে লিখতে হবে। গ্যারির মতামত এটাও।
এড শিরানের ফটোগ্রাফ আর পারফেক্ট গান দু'টো প্রতিদিন সকালে একটা আরেকটার সাথে ফাইট করে। আমার কাল্পনিক ক্ষুদ্র টপচার্টের চূড়ায় ওঠার জন্য। কখনও দিনটা হয়ে যায় পারফেক্ট-এর, কখনও ফটোগ্রাফ জিতে নেয় প্রথম আসনটা। দিনগুলোর মুডও সেট হয়ে যায় সেই সুরের সাথে। যেসব দিনে টিউনটা সেট হয় পারফেক্ট গানটার সাথে সেসব দিনে তো চারিদিক যেন পুরাই অস্থির।
যাকে দেখি তাকেই ভাল লাগে। মনে হয় এখনও যদি সবকিছু অন্যরকম থাকতো, ঠিক যেমনটি আমরা স্বপ্নে দেখি তেমন, তাহলে দু'জনই আমরা হাত ধরে বসে থাকতে পারতাম, অনেক অসম্ভব কিছু সুন্দর সুন্দর জায়গাতে।
এড শিরানের গান! মাথার ভেতর ভালো ঢোকে।
---





মন্তব্য করুন