বাবা হওয়ার অনুভূতি
২৫শে আগষ্ট, ২০১২। আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। কারণ এই দিনে আমি প্রথম বাবা হলাম। বাবা হওয়ার অনুভূতিটা আসলে লিখে ব্যক্ত করার মত নয়। এটা একটা অদ্ভুত স্বর্গীয় অনুভূতি। তারপরও এই অনুভূতিগুলো সবার সাথে শেয়ার করারও একটা আনন্দ আছে, সেই ইচ্ছা থেকেই এই লেখার অবতারণা।
জানুয়ারীর প্রথম দিকে যখন ডাক্তারের কাছ থেকে নিশ্চিত হলাম যে আমি বাবা হতে যাচ্ছি, তখন প্রচন্ড রকম এক উত্তেজনা কাজ করছিল মনের মধ্যে। তার পর থেকেই আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি আমার স্ত্রীর দিকে খেয়াল রাখতাম যেন গর্ভাবস্থায় তার যত্নের কোন ত্রুটি না হয়, একজন স্বামী হিসেবে সবারই এমন করা উচিৎ, কারণ এই সময়টায় মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ফিল করে তার স্বামীর সাহচর্য। স্বামীর সঙ্গ মেয়েদের এই সময়টায় তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
যাই হোক, এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। ডাক্তারের পরীক্ষামতে আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার সময় ছিল ২৯শে আগষ্ট, যা ঈদের ঠিক পরের সময়টাতেই। তাই রমজান মাস আসার শুরু থেকেই আমরা সেই মাহেন্দ্রক্ষণ গণনা শুরু করেছিলাম। অবশেষে ঈদের পর গত ২৩শে আগষ্ট আমি আমার স্ত্রীকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করাই, ঐ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধানের কাছেই আমি গত ৯ মাস যাবত আমার স্ত্রীকে দেখাতাম। ২৩শে আগষ্ট ছিল ঈদের ছুটির সময়কাল, হাসপাতালের ব্যস্ততাও ছিল কিছুটা কম। আমার স্ত্রীকে দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হল। প্রায়সময়ই তার রক্তচাপ উপরের দিকে ছিল, কমছিলনা। ২৫তারিখ সকালে আমাদের সেই ডাক্তার এসে আমার স্ত্রীকে পরীক্ষা করে মত দিলেন যে তাকে ঐ মুহুর্তেই সিজার করাতে হবে। এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, আমার বাবা-মা ও আমার শ্বশুড়-শাশুড়ী সবাই চাইছিলেন যেন নরমাল ডেলিভারী হয়, কারণ সিজার ডেলিভারীর পর অনেক জটিলতা হয় রোগীর জন্য। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের কারণে আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারী সম্ভব হয়নি। ২৫তারিখ খুব ভোরে যখন ফোনে খবর পেলাম যে তার সিজার হবে, তখন থেকে মনের মধ্যে প্রচন্ড একটা ভয় কাজ করছিল, কারণ সিজার অপারেশনের এনেস্থেশিয়া এবং পরবর্তী অন্যান্য কার্যাবলী সম্বন্ধে আগে কয়েকজনের কাছ থেকে জানার পর আমার শুধু স্ত্রীর জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছিল, সবকিছু ঠিকঠাকমত হবে তো!
যাই হোক সকাল ১১টার কিছু পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হল। অন্যান্য সিজারিয়ান রোগীর অপারেশন শেষে সম্ভবত ১২টার দিকে আমার স্ত্রীকে অপারেশন টেবিলে নেয়া হয়। ১২টা ২০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, আমাদের ছেলে প্রথম এই পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে। যখন ডাক্তারের কাছ থেকে প্রথম খবরটা শুনলাম, আমার প্রথম প্রশ্নটা ছিল ডাক্তারের কাছে, “বাচ্চার মা সুস্থ আছে তো?” ডাক্তার যখন “হ্যাঁ” বললেন, তখন আনন্দের আতিশয্যে আমার দু’চোখ দিয়ে ঝরঝর করে অশ্রু ঝরছিলো। এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি যা শুধু ঐ ব্যক্তির পক্ষেই বোঝা সম্ভব যিনি নিজে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যান, লিখে বা মুখে বর্ণনা করে এই অভিজ্ঞতা কাউকে বোঝানো সম্ভব না। আমাদের বাবুটা হওয়ার পর যখন পরিচিত সবাইকে ফোন করে জানাচ্ছিলাম খবরটা, তখন অনেকের সাথেই আমি কান্নার কারণে ঠিকমত কথা বলতে পারিনি।
এই আনন্দের ঠিক পরপরই হঠাৎ করে বাবুটা জন্মের পরদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। শ্বাসকষ্ট, জ্বর এসবের কারণে তাকে কেবিন থেকে ট্রান্সফার করে আলাদা শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখা হল।প্রচন্ড জ্বরও ছিল অনেকক্ষণ।পরদিন একজন পরিচিত শিশু বিশেষজ্ঞ এসে দেখে যাওয়ার পর তাঁর পরামর্শে বাবুটা আস্তে আস্তে উন্নতির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু স্যালাইন, ইনজেকশন এগুলো চলছিল তার উপর। তাছাড়া এতটুকু বাচ্চাকে রক্ত পরীক্ষাও করাতে হয়েছিল। তার কষ্ট অনুভব করে আমার বুকটা তীব্র যন্ত্রণায় অস্থির হয়েছিল সারাক্ষণ। এই কষ্টটা একমাত্র যারা বাবা হয়েছেন শুধু তারাই বুঝতে পারবেন। ঐ হাসপাতালে রোগীর সাথে পুরুষ কারও রাতে থাকার নিয়ম নেই, তাই রাতে আমি বাসাতেই ছিলাম। রাতে ঘুমাতে গেলে ভয় পেতাম, সন্তানের অসুস্থতা আমাকে প্রচন্ডভাবে ব্যাকুল করে ফেলেছিল। আশেপাশের পরিচিত সবাইকে অনুরোধ করছিলাম আমাদের বাচ্চাটার জন্য যেন সবাই দোয়া করেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। অবশেষে গতকাল (৩০শে আগষ্ট বৃহষ্পতিবার) সন্ধ্যায় তাকে শিশু ওয়ার্ড থেকে আবার কেবিনে ফেরত দেয়া হল। আল্লাহ্র অশেষ রহমতে আমাদের বাবু এখন ভালো আছে। এই লেখা যারাই পড়বেন, তাদের কাছে আমার আকুল আবেদন থাকবে তারা যেন আমার বাবু ও তার মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
আমার সন্তান হওয়ার এই অল্প কিছুদিনের মধ্যে যে ধকলটা গেল আমার এবং আমার স্ত্রীর ওপর দিয়ে, তাতে করে আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি মা-বাবা হওয়া কতটা কষ্ট, কতটা চ্যালেঞ্জিং! মায়ের কষ্টের কাছে বাবার কষ্টগুলো কিছুই না, তারপরও বিভিন্ন প্রয়োজনে বাবাকে এই সময় যতটা ছোটাছুটি করতে হয়, সেটাও একেবারে ফেলনা নয়। এখন তো মাত্র ছেলেটা জন্ম নিল, সামনে আরো কত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে আমাদের দু’জনের জন্য! সবাই আমার ছেলে, আমার স্ত্রী এবং আমাদের পুরো পরিবারটির জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সব চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করতে পারি।
আমাদের বাবুর ছবিঃ





বাবু আর বাবুর মা সুস্থ্য হোক জলদি এই কামনা রইলো।
=================================
পোস্টের সাথে ছবি দেন, চিটাগং জিলাপী খেতে আসতেছি খুব তাড়াতাড়ি। রেডি থাইকেন।
জিলাপী খাইয়েন্না, সব ফরমালিন মিশ্রিত ভেজাল

অভিনন্দন নতুন বাবা ও মা কে।
ধন্যবাদ।
অনেক শুভকামনা রইলো আপনাদের সবার জন্য.. এই সময়টা যে কি পরিমান ধকল যায় বলার বাইরে, তবে আল্লাহর রহমতে বাবু সুস্থ থাকলে কষ্ট করেও আনন্দ ..বাবু সোনার জন্য অনেক আদর..
অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, দোয়া করবেন আমাদের বাবুটার জন্য।
অভিনন্দন
ধন্যবাদ

অভিনন্দন এবং শুভকামনা।
ধন্যবাদ, দোয়া করবেন।
খালি মুখে দোয়া!!! অনতত বাবুটার ছবি দেন ভাই
অভিনন্দন নতুন বাবা ও মা কে।

দিয়া দিলাম, দোয়া কইরেন
।
খুবইইই কিউট। একেবারে যাকে বলে মাশাললাহ
থেঙ্কু

কনগ্রাচুলেশন্স!!! এইবার বাচ্চার ছবি দেন উস্তাদ, ভাল্লাগলো খবরটা শুনে
দিয়া দিলাম উস্তাদ, এইবার দোয়াপ্রার্থী
।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ..... নতুন বাবু, নতুন মা, নতুন বাবা সবাইকে
বাবুটা কিউট হইছে
ধন্যবাদ।
অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কিউট বেবীর বাবা মা’কে। বাবুটার জন্য অনেক অনেক আদর!
ধন্যবাদ ভাই, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
জীবনের শ্রেষ্ঠতম অনুভুতি পেয়ে গেলা মামা অভিনন্দন দোয়া শুভকামনা সব সময় থাকলো।
থেঙ্কু
অভিনন্দন নতুন বাবা ও মা কে।
পিচ্চি বাবুটার জন্য অনেক অনেক দোয়া, আদর আর ভালোবাসা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বাচ্চা তো আপনের জেরক্স কপি হইসে, মাশাল্লাহ
ওরে! মাশাল্লাহ। অভিনন্দন বাবুর মাবা-মাকে। বাবুর জন্য অনেক আদর আর দোয়া।
ধন্যবাদ।
প্রথম বাবার হওয়ার অনুভূতি আসলে প্রকাশ করা মুশকিল। (লেখাটা মনে হয় দুই বার কপি হইছে)
ভাল বাবা হন।
ধন্যবাদ ভাইয়া ভূলটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য, আসলে পোষ্টটা কয়েকবার এডিট করার সময় কোন এক কারণে হয়ত এরকম হয়েছিল, যাই হোক ঠিক করে দিলাম।
দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
নাঈম বাবা হইয়া গেল
অভিনন্দন
অনেক অনেক শুভ কামনা নতুন বাবুটার জন্য .. ফটুক দিও
ধইন্যাপাতা
ফটুক তো দিলাম, চৌক্ষে কি লাল চমশা লাগাইছেন্নাকি, দেখতাছেন্না???

মানে কইতে চাইছিলাম আরো ফটুক দিও

সিলিপ অব পিঙ্গার
বেশী ফটুক দিলে নাকি নজর পড়ে, মুরুব্বীরা কয়
।
ঋহানের ফটুকে ফেসবুক ভর্তি
ভরষা করবা সব সময় আল্লাহর উপর... ভালো/মন্দের মালিক সেই... আর সব ফুউউউ দিয়া উড়াইয়া দিবা।
সবসময় আল্লাহ্র উপরই ভরসা করি, কিন্তু এমন এমন সব কথা শুনি মুরুব্বীদের থেকে, মাথা-মুথা আউলাইয়া যায়, তর্ক করতে ইচ্ছা করেনা, হুদাই পেঁচাইয়া লাভ কি???
যাউকগা, দিমু ছবি খোমাবইয়ে, কয়েকদিন যাক, অয়েট এন্ড চি
।
পোস্টে ঢুকেই বাবুটার ছবি চোখে পড়ল সবার আগে! কি কিউট! আলহামদুলিল্লাহ! বাবু সহ ব্র্যান্ড নিউ আব্বু-আম্মুর জন্য শুভ কামনা রইল!
নাম কি রাখলেন ছেলের?
অনেক ধন্যবাদ......
ছেলের নাম ঠিক করেছি আহমান আতিফ , অর্থ হল ধর্মবিশ্বাসী দয়ালু।
সরি, আহমান আতিফ না, আসলে হবে আহনাফ আতিফ।
পুত্রকে শুভেচ্ছা, বাবা-মা কে অভিনন্দন...
ধন্যবাদ।
পুত্রকে স্বাগতম জানাচ্ছি। বাবা-মা কে অভিনন্দন...
ভালো থাক বাবুটা এই পৃথিবীতে। বেঁচে বর্তে থাকুক।
ভালো মানুষ হোক
অনেক ধন্যবাদ মেসবাহ ভাই।

অসম্ভব সুন্দর বাবু। মাশাল্লাহ।। বাবুর জন্য অনেক অনেক আদর। আর কংগ্র্যাচুলেশনস নতুন বাবা- মাকেও।
অনেক ধন্যবাদ
।
অভিনন্দন নতুন বাবা ও মা কে..
ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন