নির্ঝর নৈঃশব্দ্য'এর ব্লগ
মহিষের হাসি একটি মৃগেল স্বরছেঁড়া কাক
মহিষের হাসি
অন্ধচেতনা ভেঙে আরো গভীর কোনো গহ্বর ডেকেছিলো। তুমুল ঝড়ের আড়ে বটের ফল ঝরে পড়ছিলো লাল বেদানা ফলে। উদাসীন কাদাগন্ধ চিনে রাখে, চিনে রাখে বিপন্ন নিধান। ঘেঁটুফুল ইশ্কুল, বাড়িঘর ভাঁজ করা, সস্তা ছাতার পাড়ে সূর্যচিহ্ন আছে। চেনা চোখ, চোলাইমদের গন্ধ কারো কোলের গণিতে, মনে পড়ে। ত্রিকোণমিতি শিখে ইস্রাফিলকে ধার দিয়েছিলো মহিষের শিং। বালিরঙ হাওয়া ঘুরে হাওয়ার বাহন, চোখের পাপড়ি চিনিয়েছিলো কালিকাপুরাণ। তারপরও বিরান, সুমসাম। নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে একলা শরীর, আঙুলের ফাঁকে চারকোল, কার্টিজ কাগজে ঘষে ঘষে বানায় মহিষের মুখ। অদূরে মহিষ নিষ্পাপ হাসে। নিষ্পাপ তবু এ হাসির অর্থ যে জানে-- সেইই জানে একা।
একটি মৃগেল
অণুগল্প: পোকা
তার মাথার ভিতর একটা পোকা ঢুকেছে। যেকোনো ভাবে হোক এটা ঢুকেছে। এখন সে পোকাটাকে বের করে মেরে ফেলতে চায়। কিন্তু কেমন করে? সে ভাবে। কোনো কূলকিনারা করতে পারে না। ডাক্তারের কাছে গেলে তাকে পুরো বৃত্তান্ত দিতে হবে। সে তা চায় না। কী হবে এখন? সে ভাবে।
একদিন পুরনো বইয়ের দোকানে গিয়ে তার মাথায় আইডিয়াটা আসে। সে একগাদা ডাক্তারি বই কিনে, ক্ষুর-কাঁচি, ওষুধ এইসব কিনে। অনেকগুলি আয়না কিনে। টানা এগারোদিন পড়াশোনা করে। তারপর সে ঠিক করে পোকাটা সে নিজেই বের করবে। চারপাশ থেকে মাথার চারটা এক্স রে করে। কিন্তু পোকাটা সেখানে দেখা যায় না। তার মনে হয় মেশিনে সমস্যা ছিলো। মাথার তালুর নীচেই পোকাটা আছে সে নিশ্চিত।
নিঝুমশৃঙ্গার
এই ভাষা তোমাকে দিয়েছিলো দূর পাহাড়ের ওপারে জেগে থাকা একলা এক কাঠঠোকরা পাখি। তুমি হাতের নখের ভিতর লুকিয়ে রেখেছিলে গ্রামের সবচেয়ে শীতল পুকুরটির মানচিত্র। সে কাউকে দেখতে পায় না। এদিক ওদিক তাকায়। একদিন সে কবিতা লিখতো। তার দুয়েকটা কবিতা কয়েকটা ছোটোকাগজে ছাপাও হয়েছিলো। তার সংগ্রহে নেই। কেননা তার চটের একটি ছেড়া ব্যাগে বুকশেল্ফ ধরে না। আজও সে বাসে চেপে পাশের শহরে গিয়েছিলো। তার ভাড়া লাগে না। শহরের একফালি ঘরে আছে হেমলতার বিকলাঙ্গ স্মৃতি। সে দেখতে পারে না। অথবা হয়তো তার নৌকো ছিলো নদীযান। সে তাকে টেনেছিলো এবং গাছ পর্যন্ত তাদেরকে ঝাঁকুনি দিয়েছিলো। আমি মাঠের অন্যান্য আইল থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম এবং তাদেরকে ভালোবেসেছিলাম।
একটা কার্নিভাল এসে দুচোখের রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
নদীর ওপারে রাতে গিয়েছিলাম। গভীর রাতে। তখন ওখানে রাত ছিলো না। ছিলো সকাল সকাল একটা ব্যাপার। ধোঁয়া ধোঁয়া গ্রামের হাটে দেখা হলো মানুষের সাথে। মানুষগুলি আমার মাথার ভিতর ছিলো কখনো। মেক্সিকোতে পিরামিডের চুড়োয় সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে আমি তাকে প্রথম স্পর্শ করেছিলাম। আমার আঙুল ছিলো ধূলির মিনার। ফ্রিদা। সে ছবি আঁকতো নিজে নিজে। সে মাঝরাস্তায় একটি বাসের সামনে পড়ে গেলো, বাস তার ওপর ব্রেক কষলো। বাসের একটা লোহা তার যোনিপথ দিয়ে ঢুকে মেরুদণ্ড ছিন্ন করে বের হয়ে গেলো। তারপর সে শিল্পী হলো। তার ছবি সব পাখি হয়ে উড়ে বেড়ালো। তার সাথে নদী পাড়ে দেখা হলো। সে একটা মনোহরি রোদের দোকান দিয়ে বসেছে। সে আমার হাতে দিলো একজোড়া রোদের নূপুর। সে আমাকে তার পাশে বসতে বললো। আমি কিছুক্ষণ বসলাম। পান খেলাম। চুনটা একটু বেশিই হয়ে গেলো। ফলত আমার ওষ্ঠাধর এমন লাল
সকালের কাতরতায় পতনোন্মুখ একটি পাতা
দুজনে মিলে কেবল একটাই ক্রিয়েটিভ কাজ করা সম্ভব আর তা হলো সন্তান উৎপাদন।
আগের বাক্যটি পরে আমার প্রবচন রূপে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রকাশিত হবে। এইটা এখানে বিচ্ছিন্নভাবে এসে লেখাটা শুরু করলেও পরমরূপে পৃথিবীতে বিদ্যমান। আর এই বিদ্যমানতা হংসমান লোভ এবং নিরাসক্তিকে প্রকাশ করে না।
সকালের কাতরতায় পতনোন্মুখ একটি পাতা। হ্যাঁ, বলো। তোমার শরীরের দাগের জন্যে আমাকে কিংবা তোমার মাকে দায়ী করতে পারো না।