একটা কার্নিভাল এসে দুচোখের রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
নদীর ওপারে রাতে গিয়েছিলাম। গভীর রাতে। তখন ওখানে রাত ছিলো না। ছিলো সকাল সকাল একটা ব্যাপার। ধোঁয়া ধোঁয়া গ্রামের হাটে দেখা হলো মানুষের সাথে। মানুষগুলি আমার মাথার ভিতর ছিলো কখনো। মেক্সিকোতে পিরামিডের চুড়োয় সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে আমি তাকে প্রথম স্পর্শ করেছিলাম। আমার আঙুল ছিলো ধূলির মিনার। ফ্রিদা। সে ছবি আঁকতো নিজে নিজে। সে মাঝরাস্তায় একটি বাসের সামনে পড়ে গেলো, বাস তার ওপর ব্রেক কষলো। বাসের একটা লোহা তার যোনিপথ দিয়ে ঢুকে মেরুদণ্ড ছিন্ন করে বের হয়ে গেলো। তারপর সে শিল্পী হলো। তার ছবি সব পাখি হয়ে উড়ে বেড়ালো। তার সাথে নদী পাড়ে দেখা হলো। সে একটা মনোহরি রোদের দোকান দিয়ে বসেছে। সে আমার হাতে দিলো একজোড়া রোদের নূপুর। সে আমাকে তার পাশে বসতে বললো। আমি কিছুক্ষণ বসলাম। পান খেলাম। চুনটা একটু বেশিই হয়ে গেলো। ফলত আমার ওষ্ঠাধর এমন লাল হলো আমি নিজেই ভয় পেলাম।
ফ্রিদা আমাকে একটা মহিশের শিং দিয়ে বললো বাজাতে। আমরা অনেকদিন ওঙ্কার ভুলে গেছি বলে এটা দেখে লজ্জা হলো এবং একটি গুহা আর রাত্রির কথা মনে পড়লো।
একটা নদীর ভিতর অনেক নদ ছিলো। প্রচলিত বিশ্বাসে একটি কলস ভেসে ভেসে একটি নালার দিকে গেলো। আমি পানা সরিয়ে নৌকো বেয়ে ওপাড় গিয়ে দেখি রাজাদের গ্রাম। রাজাদের রানিগুলি, রাজকন্যাগুলি সব কোনো ঘাটে ছিলো; তাদের বহন করার জন্যে ঘুরছে সাজোয়া পাল্কিদল। রাজকুমারদের জন্যে ঘুরছে ঝকমারি রিকশা। এইসব বাহনে ফুল, বেগুন, আতর, কিসমিস, মদ আর তামাকে ভর্তি।
আমার মনে পড়ে গেলো বিয়াত্রিসের কথা। মনে পড়ে গেলো ইলেক্ত্রার মুখ। তাদের মুখ ছিলো তামাক রঙ, রোদে পোড়া। ত্বকে রোদের গন্ধে আমি কখনো পাগলের মতো উজাড় করেছি উত্তরের যাকিছু অরণ্য।
পানপাতা এসে আমাকে একটি কবিতা দিলো সেই কবিতাটিই সকল পথ মুছে দিলো।
একটা কান্না এসে আটকে থাকে গলায়, কাঁটার মতো। কান্নার রঙ ধু ধু প্রান্তর। একটা কার্নিভাল এসে দুচোখের রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
ঝাপসা বলে ঢুকতে গিয়ে হারিয়ে ফেলি আগল। আমার নাম একটি পতঙ্গের নামে হলে বুকের ভিতর লুসিফেরিন আগুন নিয়ে স্পষ্ট করে দিতাম মানুষের উৎসবের দীর্ঘপথ। পথ দীর্ঘ হলে দূরে সরে যায় ক্লান্তির চিহ্ন।
তুমি বলেছিলে আমি মানুষ নই-- তাই পতঙ্গ হতে ইচ্ছে হলো।





পথ দীর্ঘ হলে দূরে সরে যায় ক্লান্তির চিহ্ন
=======================
পথ দীর্ঘ হলে ছেয়ে যায় কৃষ্ণআলো, প্রেম...
বাপরে......
দারুন লেখা
দারুণ।
ওহ্ পুরা গুল্লি। পুরা লিরিক হয়েছে একটা।
ফেসবুকেও পড়েছিলাম। সুন্দর
মন্তব্য করুন