অপেক্ষার বৃষ্টি
ঠিক পাঁচটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল শান্তনার। প্রতিদিন এই সময়ই ঘুম ভাঙ্গে তার। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা ভারী বরষায়ও। কাকভোরে উঠে তড়িঘড়ি করে ছুটতে হয় কাজে। সংসারে তার আপন বলতে একমাত্র ছোট ভাই অপু। কিশোরী সান্তনা যখন মাত্র প্রাইমারীর গণ্ডি পেরিয়ে হাই স্কুলে প্রবেশ করল তখনই বাবা ওকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। আর মা, কয়েক বছর ওদের দু ভাই বোনকে আগলে রেখে সেই যে বিছানায় পড়ল, আর উঠলো না। দুই বছর ভোগে, শুধু ভোগে না বলে বলা যায় সবাইকে ভোগায়। তারপর সব শেষ! সেই থেকেই সান্তনার মাথার উপর আর কেউ থাকে না। পাশে থাকে শুধু অপু। ওর জন্য অপু আর অপুর জন্য ও।
শহরে একটি হাসপাতালে ছোট একটি চাকরী করে সান্তনা। বাবার এক বন্ধুর সুপারিশে চাকরীটা হয়ে যায়। যা আয় হয় ভাই-বোনের চলে যায় কোনরকমে। বাবা মা মারা যাওয়াতে লেখাপড়া বেশিদূর আর এগোতে পারেনি, মা মারা যাবার আগে এস এস সির গণ্ডিটা পার হয়েছিল কোন রকমে। তাই এই ছোট চাকুরীই ভরসা। প্রতিদিন প্রায় চার মাইল পথ পায়ে হেঁটে গঞ্জে পৌছে, সেখান থেকে ভ্যান কিংবা টেম্পু করে পৌছে জেলা শহরে। আসতে যেতে অনেকটা সময় পথেই চলে যায়। বৃষ্টি হলে তো কষ্টের শেষ নেই! এই লম্বা পথ কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে প্রায়ই ভিজে যেতে হয়।
তাড়াতাড়ি চারটা খেয়ে রেডি হয়ে কাজে বের হয় শান্তনা। বাড়ি থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে তৈরি নতুন পথ ধরে হাঁটতে থাকে। একপাশে সবুজ কলাই আর অন্য পাশে হলুদ সরিষা ক্ষেত, মাঝখান দিয়ে সরু মেঠপথ। শীতের শেষে ক্ষেতের ধান কেটে নেয়ার পর সেখানে কলাই বোনা হয়, কোন কোন ক্ষেতে চাষ হয় সরিষার। সময় বাচাঁনোর জন্য মূল রাস্তা ধরে না গিয়ে অনেকেই এই রাস্তা ব্যবহার করে। সরু মেঠোপথ ধরে এগিয়ে চলে সান্তনা, শিশির ভেজা পথে হাঁটতে গিয়ে জুতার নিচে পুরু কাদার স্তর জমে, পা মাখামাখি হয়ে যায় কাদায়। বড় রাস্তায় গিয়ে স্কুল ঘরের সামনের টিউবওয়েলে পা ধুয়ে হাঁটতে থাকে গঞ্জের দিকে।
এই গ্রামে হিন্দু জনবসতি খুবই কম। একসময় অনেকগুলো অবস্থাশালী পরিবার ছিল। বিভিন্ন পুজা পার্বণে উৎসবমুখর হয়ে উঠত সারা গ্রাম। হিন্দু মুসলমান সবাই মিলেই আনন্দে মেতে উঠত। এখন সেদিনগুলি কেবলই স্মৃতি! হিন্দুর সংখ্যা কমতে কমতে এখন কয়েক ঘরে ঠেকেছে। সবাই চলে গেছে ওপারে। যারা এখনো পড়ে আছে তারা নিতান্তই নিম্ন বর্ণের, অনেকে এদের গ্রাহ্যের মধ্যেও আনে না। প্রভাবশালীদের দাপটে অনেকটা কোণঠাসা, এদের মধ্যেও যারা গরীব তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। সান্তনারা সেই গুটিকতক পরিবারের মধ্যে একটি। বাব মা হারা হওয়ায় যেন আরও অসহায়!
কাজ শেষ করে হাসপাতাল থেকে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায় সান্তনার। স্কুলের সামনের রাস্তা ছাড়া বাড়ি যাওয়ার আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই। এখান দিয়ে যাবার সময় সান্তনা অবচেতন মনে একবার হলেও ক্লাবঘরের দিকে তাকায়, উৎসাহী দুচোখ কি যেন খুঁজে ফেরে!
স্কুল সংলগ্ন ক্লাবঘর বিকেল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে। গ্রামের বিভিন্ন বয়সী তরুন-যুবাদের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ক্লাব। বিভিন্ন রকম খেলেধুলার আয়োজনও করা হয় এই ক্লাবের উদ্যোগে। কিশোর থেকে শুরু করে তরুন-যুবাদের কাছে ক্লাবঘরটি একটি মিলন মেলা। প্রতি বছরই ক্লাবের উদ্যোগে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিদিনের মত আজও সান্তনার ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ক্লাবঘরের কাছে এসে দেখে ক্লাবের দরজা দিয়ে বের হচ্ছে সত্যেন। ভেতরটা যেন আনন্দে নেচে ওঠে! একটু সামনে যেতেই মুখোমুখি হয়ে যায় দু’জনে।
-কেমন আছস অনু?
সত্যেনের কণ্ঠ শুনে একটু যেন থমকে যায় সান্তনা, তারপর বলে
-ভাল আছি, তুমি কেমন আছ সত্যদা?
-হুম, ভাল। আমরা এইবার ক্লাব থেকে নাটক করুম ঠিক করছি। নার্সের চরিত্রে একটা মেয়ে দরকার, তুই কি অভিনয় করতে পারবি?
কিছুক্ষণ থমকে থাকে সান্তনা, কতদিন পর সত্যদা ওকে ডেকে কথা বলল! আবার ওদের থিয়েটারে অভিনয়ের প্রস্তাবও দিচ্ছে!
-কি রে, কি ভাবতাছস, পারবি?
-তোমার কি মনে অয়, আমি পারুম?
-তুই তো হাসপাতালে চাকরি করস, তোর তো পারার কথা
-তুমি যহন কইতাছ তয় মনে অয় পারুম
-হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়া সময় দিতে পারবি তো? রিহার্সেল করতে অইব কিন্তু
-আচ্ছা আগে থেইক্যা টাইমটা জানাইয়ো
-ঠিক আছে, আগেই জানামু
সান্তনা বাড়ির দিকে হাটতে থাকে। অনেকদিন পর এই নামটা শুন। মনের মধ্যে বাজতে থাকে সত্যদার কণ্ঠস্বর- অনু... অনু... অনু... অনু... অনু......। এই জগতে একমাত্র দুইজন মানুষ তাকে এই নামে ডাকতো। একজন বাবা আর একজন সত্যদা। বাবা দেহ রেখেছে সেই কবে আর সত্যদাও আর আগের মত নেই। মানুষ বদলে যায়। সময়, পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। আজ অনেকদিন পর সত্যদা ওর সাথে কথা বলল! মনে আশা জাগে, মন স্বপ্ন দেখতে চায়, পরক্ষণেই আবার মিলিয়ে যায় অন্ধকারে! নিজের অবস্থান ভেসে ওঠে চোখের সামনে। সান্তনা কারো কাছ থেকেই আর কিছু আশা করে না। মনে মনে শুধু বলে অনু হারিয়ে গেছে সত্যদা, এখন আমি শুধুই সান্তনা!
প্রথম সন্তান বাবা-মা’র অনেক আদরের হয়। জন্মের পর বাবা মা ভালবেসে ওর নাম রাখে অনামিকা। অনামিকা দাশ। বাবা মা আদর করে ডাকে অনু। জন্মের দু’বছরের মাথায় কঠিন অসুখ হয় অনুর, প্রায় না বাঁচার মত অবস্থা। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন লোকজন বলাবলি করে এই নামটার কারণেই ওর অসুখ ছাড়ে না। অনেকে বলে ওর নামটা বদলে ফেল, তাহলে অসুখ ভাল হয়ে যেতে পারে। আদরের সন্তানকে বাঁচাতে যে যাই বলে মা-বাবা যেন তা পালন করতে আর দেরী করে না। ওর নাম বদলে ফেলা হয়। সেই থেকে অনু হয়ে যায় সান্তনা। গ্রামের অনেকে নামটা আরও ছোট করে নিয়েছে, এখন সবাই ওকে ডাকে শান্তি বলে।
ভাবতে ভাবতে শান্তনা বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে আর মনে ভাসে সত্যদার সাথে কত ছুটোছুটি করেছে গাঁয়ের পথে পথে! তখন ছোট ছিল, বাবা মাও বেঁচে ছিল। সত্যদা বলত- তোকে আমি কোনদিনই সান্তনা ডাকুম না। তুই অনু, তোকে আমি অনুই ডাকুম। ঠিক আছে ডাইকো। বাবা মা মারা যাবার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সবকিছু। আজ সান্তনা সবার কাছেই অস্পৃশ্য! এমন কি সত্যদার কাছেও!
হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মাথার ব্রিজের কাছে চলে আসে সন্তনা। রেলিঙের উপর বসে আড্ডা দিচ্ছে গ্রামের কয়েকজন যুবক। প্রতিদিনই দেয়, সন্ধ্যার পর এটাই ওদের আস্তানা। শোনা যায় এখানে বসে এরা নেশাও করে। এদের সবাইকেই চেনে সান্তনা, লিয়াকত, কালু, ফজলু, ব্রজেন- গ্রামে বখাটে হিসেবে এদের বেশ দুর্নামও আছে।
ব্রিজ পার হয়ে মেঠোপথে নামার মুখে এসে দেখে সামনে দাঁড়ানো তৈয়ব। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে! দৃষ্টিতে কি যেন আছে, ভেতরটা কেঁপে ওঠে ওর।
-কি রে শান্তি, এত দেরী করে ফিরলি যে! হাসপাতালে কি এমুন কাম?
-কাম না থাকলে কেউ কি দেরী করে? এদ্দুর থেইক্যা আইতেও তো সময় লাগে। আর আমি দেরী করলে আফনের কি?
-না, একলা একলা ফিরস তাই কইলাম।
-দেহি, রাস্তা ছাড়েন।
বড় রাস্তা থেকে নেমে মেঠোপথ ধরে বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে। তৈয়ব কি যেন বলতে চায়, সান্তনা না শোনার ভান করে সামনে এগিয়ে যায়।
সান্তনা জানে তৈয়বরা কি বলতে চায়! এই গ্রামে অনেক তৈয়ব আছে, এরা শুধু চায়। একুশ বছরের সান্তনা জীবনের অনেক রঙ-রুপ দেখে ফেলেছে। মানুষের ভেতর বাহিরের পার্থক্যও খুব সহজেই বুঝতে পারে! মাঝে মাঝে মনে হয় অপুকে নিয়ে চলে যায় গ্রাম ছেঁড়ে কিন্তু পারে না। কোন এক অদৃশ্য সুতোয় বার বার বাঁধা পড়ে যায়!
নিশুতি রাতের নিকষ কালো অন্ধকার, একা ঘরে মনে ভয় ধরে যায়। সামনের ঘরে অপু ঘুমিয়ে পড়েছে সেই কখন! ঘরের পিছনে পেঁচার ডাক কিংবা শুকনো পাতা মাড়ানোর শব্দে বুকের মধ্যে অন্যরকম ভয় জাগে। পানিতে কিছু পড়ার শব্দে গা ছম ছম করে! ঘরের চালে বিড়াল কিংবা কাঠবিড়ালীদের ছুটোছুটি ভয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আরও একটু। এ ভয় অশরীরী কোন কিছুর নয়, অন্যকিছুর! আরও ভয়ের, আরও হিংস্র কিছুর! চোখে ভাসে কিছু কুৎসিত মুখের ছবি।
সান্তনা প্রাণপণে সত্যেনের সেবা করে চলে। ডাক্তার বলেছে এ রোগীর জন্য ঔষধের চেয়ে যত্ন বেশী প্রয়োজন। জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে সত্যেন, সান্তনার কপালে চিন্তার রেখা, চোখের কোণে জল। দিনরাত সেবা করে আর প্রার্থনা করে সত্যেন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। অক্লান্ত সেবায় চোখ মেলে চায় সত্যেন, সান্তনার মুখে হাসি, চোখে আনন্দের দীপ্তি! সত্যেন কৃতজ্ঞ চিত্তে চেয়ে থাকে সান্তনার দিকে। চোখে চোখে কথা, আলতো হাতের ছোঁয়া! সান্তনার মনে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। কানে বেজে ওঠে সত্যেনের কণ্ঠস্বর- অনু... অনু... অনু... অনু... । ফর্সা গালে গোলাপী রঙ লাগে... বুকের ভিতর সুখের কাঁপন লাগে, ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহমনে... পর্দা পড়ে যায়, দর্শকদের হাততালি, প্রশংসা। সান্তনার চোখে পানি। এ পানি প্রশংসার জন্য নয়, অন্য কিছুর জন্য...
শো শেষে দর্শকরা একে একে চলে যায়, একসময় ফাঁকা হয়ে যায় স্কুলের মাঠ। সান্তনা বাড়ি যাবার জন্য বের হতে গিয়ে দেখে সত্যেন তাকে ইশারা করছে।
-অনু, একটু দাড়া, রাইত অনেক অইছে, হাতের কামডা শেষ কইরা তোরে আগাইয়া দিমুনে।
-ঠিক আছে সত্যদা, তুমি কাম শেষ কর আমি অপেক্ষা করতাছি
কিছুক্ষণ পর সত্যেন কাজ শেষ করে সান্তনার সাথে বেড়িয়ে পড়ে। দুজনে হাঁটতে থাকে বাড়ির পথে। কতদিন পর একসাথে এই পথে হাটছে ওরা! দুজনেই চুপচাপ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিনই যাওয়া আসা করে সান্তনা কিন্তু আজকের এই মুহুর্তটি যেন বহু প্রতীক্ষিত, একটা অদ্ভুত ভালোলাগা ছড়িয়ে পড়ে মনে। আকাশে চাঁদ উঠেছে, চারিদিক জোছনার আলোয় আলোকিত। ওর মনেও ছড়িয়ে পড়ে সেই আলোর রেশ। ব্রিজের উপর এসে একটু থমকে দাঁড়ায় সান্তনা।
-কি রে, এইহানে দাঁড়াইলি ক্যান?
-এমনিই। হটাত মনে পড়ল এই খালে তোমার লগে কতদিন নৌকায় উঠছি!
-হেইডা তো ছোডকালের কথা
-আমগো ছোডকালডাই অনেক ভালা আছিলো
-ছোডকালের কতা ভাইবা কি অইব! এহন বয়স অইছে, ভালভাবে চলাফেরা করিস। গ্রামে তোরে নিয়া নানান কথা অয়
-আমি কি করুম তুমিই কও! ছোড ভাইডারে নিয়া তো বাইচা থাকন লাগব! আমরা না খাইয়া থাকলে কি কেউ আমগোরে খাওন দিবো?
-তারপরও সমাজে বাস করতে অইলে সবার মন রক্ষা কইরাই চলতে অয়!
-তুমি ঠিকই কইছ সত্যদা, সবার মন রক্ষা কইরাই চলতে অইব। কিন্তু আমি এদের অনেকরেই চিনি, এদের অনেকেরই ভিতরের চেহারাডা ভালা কইরা জানা আছে আমার।
-সত্যেন চমকে তাকায় সান্তনার দিকে! আবছা অন্ধকারে শান্তনার যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখের ছবিটা চোখে পড়ে না
-তুই আইজ অনেক ভালা অভিনয় করছস, সত্যেন বলে
-তোমার পছন্দ অইছে?
-হ অইছে
সান্তনা মনে মনে ভাবে আমি তো অভিনয় করি নাই সত্যদা, ওটা যে কি ছিল তা তুমি বুঝবা না!
-সত্যদা!
-হুম!
-তোমার আগের দিনগুলার কথা মনে আছে? আমরা একসাথে কতদিন এই পথ দিয়া চলছি!
-হ, মনে থাকব না ক্যান?
-দীর্ঘশ্বাস ছেঁড়ে সান্তনা বলে- দিন বদলাইয়া গেছে সত্যদা, আমাদের জীবনে এহন আনন্দ বইলা আর কিছু নাই!
সত্যেন অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে সান্তনার দিকে। জোছনার মায়াবী আলোয় সত্যেন দেখতে পায় সান্তনার চোখে পানি চিক চিক করছে।
-অনু, তুই কানতাছস ক্যান?
-না, এমনিই। ও তুমি বুঝবা না। চল অনেক রাত অইয়া গ্যাছে, আমারে পৌঁছাইয়া দিয়া তোমার আবার বাড়ি যাইতে অইব
সত্যেন কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর ব্রিজ ছাড়িয়ে বড় রাস্তা থেকে নেমে ক্ষেতের মাঝের শিশিরে ভেজা মেঠোপথ ধরে দুজনে এগিয়ে চলে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা, দূরের বাড়িগুলোর বাতি নিভে গেছে অনেক আগেই। পাশের ঝোপে একটানা ডেকে চলে ঝিঁঝিঁপোকারা। খালের পাড় থেকে বয়ে চলা হালকা ঠাণ্ডা বাতাসে একটু শীত শীত লাগে। জোছনার অপরূপ মায়াবী আলোয় ঝলমল করা রাতে পাশাপাশি এগিয়ে চলে দুজন মানব মানবী। দুজনের মনেই বয়ে যায় অন্যরকম এক শিহরণ! হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির কাছে চলে আসে ওরা। অনেকদিনের চেনা আমগাছতলায় এসে থমকে দাঁড়ায় সত্যেন। তারপর হঠাৎ সান্তনার হাত ধরে বলে
-অনু!
-কি সত্যদা ?
সান্তনার সারা শরীর কেঁপে ওঠে! বুকের ভিতর এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে যায়। অনেকদিনের জমানো মেঘ গলে বৃষ্টি নামে, অঝোর ধারায় বৃষ্টি!





বেশ ভাল হয়েছে গল্প।
তবে শুরুর বর্ণনা একটু বেশি মনে হয়েছে আর হঠাত্ করে নাটক শুরু করে দেয়ায় একটু খটকা লেগেছে পড়তে।
ধন্যবাদ বাউন্ডুলে, কষ্ট করে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আরেকটু টাইম নিয়া পড়তে হইবেক, মিটিং এ যাওনের আগে ঢু মারলাম আর কি
চমৎকার
হেহেহে.।ভালা হইসে কইলাম
অনেক ধইন্না
.. সুন্দর..
ধন্যবাদ
ভালো লাগলো ভাইয়া
ভালো ভালো গল্প লিখেন আরো!
ধন্যবাদ শান্ত
মন্তব্য করুন