ইউজার লগইন

আকস্মিক বিস্ময়

বাতাসে শীতের একটা আভাস পাওয়া যায়, বোঝা যায় গ্রীস্মের সময় বিদায় নিচ্ছে। শরতকালের মৃদু টোকা মনের দুয়ারে সেসব স্মৃতিরা উকি দেয় যেখানে লেপ্টে আছে কাশ বনের ঢেউ অথবা ঝকঝকে আকাশের পূ্র্নিমা রোদ।

এখানে পূর্নিমা রাতে জ্যোসনার প্লাবন বোঝা যায় না, জনপদ উদাস হয়ে নদীর পাড়ে বসে ঢেউয়ের গান শোনে না। এখানে চলে সুরার জলে নেশাগ্রস্হ বন্যতা। হতে পারে তা আধুনিক যান্ত্রিকতার সুরে মোড়া ক্ষনিকের উচ্ছ্বাস অথবা অন্ধকার রূমে শুধু দৈহিক চাহিদার আদান প্রদান।

আজ পূর্নিমা কিনা জানা নেই, তবে সকাল থেকে মন চাইছিলো একটা খোলা মাঠে শুয়ে থাকি। মাথায় অনেক কিছু এলোমেলো ঘুরপাক খায়। রাস্তা দিয়ে যখন দেখি ছোট ছোট শিশুরা পপসিকলস হাতে নিয়ে ছুটো ছুটি করে তখন মন চায় এরকম একটাকে যদি কোলে নিয়ে সারা দিন হেসে খেলে বেড়াতাম অথবা ছুটির দিন পিকনিকে গিয়ে সোজা দোলনায় চড়িয়ে দিতাম! একটি জীবনের পূর্নতা হয়তো সংসারেই, এরকম চক্রের পূর্নতা দান করাতেই নিহিত।

বাসে ওঠে এসএল কার্ড মেশিনে চেক করার সময় হঠাৎ বাস ড্রাইভার বাংলায় বলে উঠলো,"আপনার পকেট থেকে বোধ হয় টাকা পড়ে গেছে!"

আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম, কারন বাস ড্রাইভারকে মনে করেছিলাম ইন্ডিয়ান। কিন্তু এ যে বাঙ্গালী সেটা বুঝতে পারিনি। কিছুক্ষন তব্ধা খেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি আরো বেশ কয়েকজন লাইনে এসএল কার্ড পান্ঞ্চ করবে। হঠাৎ মনে পড়লো পকেটে টাকা ছিলো না কোনো। খুচরো আঠারো ক্রোনারের কয়েন আছে। পকেটে হাত দিয়ে বেশীর ভাগ কয়েন পাওয়ায় বললাম,"১-২ ক্রোনার খুজতে গিয়ে আপনার বসা ছাড়তে দেরী হয়ে যাবে। ব্যাপার না। থ্যাংক্স!"
লোকটা মিটিমিটি হাসলো। আমি জানালার পাশে সীট খুজছিলাম কিন্তু বাসটা মোটামোটি ভরা।

পেছনের দিকে একটা অবশ্য পেলাম, জানালার পাশের সীট টা খালি রেখে মেয়েটি পাশের সীটে বসে। মেয়েটিকে ইংলিশে বললাম,"আমি কি বসতে পারি?"
মেয়েটি "শিওর" বলে ঢুকবার জায়গা করে দিলো।

আমি জানালার পাশে বসতেই নাকে সেন্টের কড়া ঘ্রান। সুইডীশ ছেলে হোক মেয়ে হোক কড়া সেন্ট ব্যাব হার করবে। কারন এরা মাসে একবার গোসল করে। তো শরীরের গন্ধ দূরীকরনের জন্য সেন্টই ভরসা। এমনি এরা খুব ফরসা আর ব্লন্ডি। যারা স্লিম এবং ২৪-২৫ এর মধ্যে তারা অসম্ভব রূপবতি যেটা উপ মহাদেশে বসে কল্পনা করা যায় না। আর সামার আসলে এরা এত ছোট পেন্ট পড়ে যে নিতম্বের বেশ কিছু অংশ বেরিয়ে থাকে। বুকের দিকে বেশ খোলামেলা। মাঝে মাঝে মনে হয় কপাল ভালো আমি হুজুর নই। তাহলে ওজু নিয়ে টানাটানি লাগতো সবসময়।

: উমমমম....আচ্ছা কটা বাজে একটু বলবে? আমার ঘড়ি নেই, মোবাইলটাও আনিনি।
: (মেয়েটি মিস্টি হাসি দিয়ে) সিওর, ১১:৩০।
: আমি আসলে সাগরের পাড়ে যাবো সময় কাটানোর জন্য। ট্যুরিস্ট বক্স থেকে বললো এই লাইনের শেষে একটা আছে। তুমি কি জানো?
: আমি জানি। ফর্স্টা স্ট্রান্ডে। তুমি কি স্টক হোমে নতুন?
: হ্যা।
: ওখানে আসলে কোনো সাগর নেই, তবে তুমি লেক পাবে বিশাল। লেকে দুটো বীচ একটা ন্যুড বীচ আরেকটা নর্মাল..........

আমি যতদূর জানি সুইডিশরা রেসিস্ট না তবে ভেতরে ভেতরে কিছুটা রেসিস্ট তবে সেটা আমাদের সাথে তুলনা করলে আমরা রেসিস্টের কোটায় ১০০ এর মধ্যে ৮০ পেলে ওরা পাবে হয়তো ২০। আর সুন্দরী গুলো যত ভাব নিয়ে চলে আসলে এরা ততটা বাচাল। একবার শুরু করতে পারলেই হলো যতক্ষন না কানে পোকা নড়ায় দেবে ততক্ষন চলতে থাকবে....বাংলাদেশ বেতার ননস্টপ!

পুরোটা ভ্রমন জুড়ে ওর কথা। আমাকে "ইয়েস" "নো" তেই সীমাবদ্ধতা থাকতে হয়েছে, পুরো আলোচনায় আমার নামটা একবারও জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু আমি জানলাম ওর নাম টাবিথা, ও জিমন্যাসিয়াম পাশ করেছে (এখানে জিমন্যাসিয়াম বলতে উচ্চমাধ্যমিক কলেজ বোঝায়)। বয়ফ্রেন্ডের সাথে গতকালকে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, এই জন্য কাল সারা দিন ওর মনটা খারাপ ছিলো। কিন্তু আজকে ওর মন ভালো, তাই ও ন্যুড বীচে যাচ্ছে। আর কি কি বললো ভুলে গেছি।

কখন যে ফর্স্টা স্ট্রান্ড আসলাম বুঝতে পারিনি। হঠাৎ মেয়েটা দাড়িয়ে বললো,"তুমি নামবে না? বাসতো আর যাবে না।"
: ও আচ্ছা! আমরা কি এসে পড়েছি? মনেই ছিলো না। তোমার কথাগুলো শুনতে শুনতে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।

দুজন নামলাম। ওর হাটার গতি ঘোড়ার সাথে তুলনা করলে আমি হয়ে গেলাম কচ্ছপ। বাস থেকে নামতেই দেখি মেয়েটির সাথে আমার দূরত্ব আধা মাইল। আমি "পাবদা" বলে ডাক দিলাম। ও দূর থেকে কি যেনো বললো বুঝতে পারলাম না। আমি ভাবলাম দূর থেকেই ফলো করি। কিন্তু সমস্যা হলো মিনিট পাচেকের মধ্যে আমি চার রাস্তার মধ্যে পথ হারিয়ে ফেললাম, আর ঐ পাবদা না টাবদা কই হাওয়ায় চলে গেলো বুঝলাম না। তবে জায়গাটা খারাপ না। লম্বা লম্বা গাছের জঙ্গল আর তার মাঝে মাঝে সুন্দর পীচ ঢালা রাস্তা। মিস্টি রোদের হালকা ঠান্ডা হাওয়া মনে হচ্ছিলো এখানেই শুয়ে থাকি।

হঠাৎ আমার পিছে কি যেনো স্পর্শ করতেই একটা লাফ দেই। এমন সময় শুনি খিলখিল হাসির শব্দ। আমি তাকিয়ে দেখি এই স্বর্নকেশী মেয়েটা। আমার চমকানো লাফ দেখে সুইডীশে বলছে,"কী কিউট ফ্রগী!"

"আমি তো ভেবেছিলাম তুমি চলেই গেছো। আমরা তো তোমাদের মতো এত দ্রুত হাটতে পারি না।" আমি হাপাতে হাপাতে বললাম।

ও হাসি থামিয়ে বললো,"আমি জানি, তুমি বাংলাদেশ থেকে এসেছো নিশ্চয়ই। আমি এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে কাজ করতাম। তুমি ঐ বাস ড্রাইভারের সাথে যখন কথা বলছিলেন তখন আমি বুঝেছি। 'আমি তোমাকে ভালোবাসি!'"

আমি আরও একবার থতমত খেলাম। এ তো দেখি বাংলাও জানে। কোন ফাজিল ছেলের সাথে যে মিশেছে সেটা বোঝাই যায়। তারপর আমরা হাটতে শুরু করলাম। বাস থেকে নেমে ওর আসলে একটু টয়লেট চেপেছিলো তাই দৌড়ে টয়লেটে চলে যায়। ও আমাকে বলেছিলো অপেক্ষা করতে। আমি না বুঝে উল্টো হাটা ধরেছিলাম।

প্রচুর পরিমান বক বক শুরু হলো আর আমি ওর মুখের দিকে হা হয়ে তাকাই একবার আরেকবার তাকাই ওর বডির দিকে। পুরো নিটল ফিগার।

আমরা হাটতে হাটতে একটা গলফ কোর্টে চলে আসলাম। বেশ কিছু বৃদ্ধ অথচ সুঠাম দেহী গলফ কেলছে। এরপর জঙ্গল পেরিয়ে একটা গাড়ি পার্কিং এর জায়গা। ওখানে আসার পর টাবিথা মুখটা বন্ধ করলো। তারপর বললো,"তুমি যে বীচে এসেছো তোমার কি ব্যাগ নেই কোনো?"

আমি বললাম," কেন?"

সে কিছুক্ষন ভাবলো, তারপর বললো," ব্যাপার না, কিন্তু ক্যামেরা ব্যাব হার করবে না। তোমরা বাংলাদেশীরা লোক ভালো কিন্তু মাঝে মাঝে তোমরা অদ্ভুত কাজ করো!"

আমি মাথা চুলকালাম। এর পর জঙ্গলের মেঠো পথ পেরিয়ে একটা খোলা জায়গায় আসলাম। কিন্তু খোলা জায়গায় এসে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো।

তার চেয়ে আরও বেশী চোখ ছানা বড়া হলো টাবিথাকে দেকে। সে পুরো পুরি ন গ্ন হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি যেখানে এসেছি সেটা একটা ন্যুড বীচ।

ওর চাহনী দেখে বুঝলাম এবার আমার নেংটো হবার পালা! এই ঠান্ডা আবহাওয়াতেও আমার ঘাম ঝরছে!

বিশাল দৈত্য সাইজের মধ্যে আমি এক লিলিপুট!

ফর্স্টা ন্যুড বীচ যেভাবে যাবেন: যদি কেও স্টকহোমে গ্রীস্মের সময় আসেন তাহলে ৭৪২ বা ৮৩৩ নম্বর বাসে কারে রোদমোসেভগেন (Rödmossevägen) এ আসবেন। এলাকার নাম অগেস্টা আর লেকটার নাম ম্যাগালুঙ্গেন। ওখানে এসে গলফ কোর্ট বরাবর হাটা ধরবেন। তারপর ঐ রাস্তা বরাবর হাটা ধরলে একটা ছোট সাইন বোর্ডে লেখা থাকবে Naturist Bed। ঐ বরাবর জঙ্গলে ঢুকলে বিশাল একটা কার পার্কিং এরিয়া। ওখানে গাড়ি পার্কিং করে একটু ভেতরে গেলেই ন্যুড বীচ।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


সর্বনাশ এতো শুধু নিজের মানসম্মান খোয়ায় নি অন্যদের টা খোয়ানোর জন্য ঠিকানা লোকেশন সহ দিয়ে দিয়েছে।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Tongue Laughing out loud

দূরতম গর্জন's picture


Crazy Party

দূরতম গর্জন's picture


স্টকহোমে মোট ৮ টা ন্যুড বীচ আছে, টাবিথার তথ্যানুসারে। সোডারটলিয়ার দিকে টুলান লেকের উত্তর পূর্ব দিকের টা বিশাল। স্লুসানের পিজি উডে হলো বড়লোকদের জন্য তার পাশেই আরেকটা স্ভার্সডনটা হলো যুবক যুবতী আর লেসবিয়ানদের জন্য বিশেষ করে।

আরও বেশ কিছু আছে বললো যা আমার মনে নেই। মেয়েটা এক দমে কথা বললেও দুই গালে টোল পড়ে। এতো সুন্দর লাগে নাহ ওকে!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পুরাই নাউজুবিল্লা পোস্ট।

আপনার দিনলিপি লেখার হাত ভালো।
চালিয়ে যান। ভালো থাকেন।

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ। সারা দিন খাই দাই ঘুরে বেড়াই। বিশেষ কিছু করার নেই

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


Laughing out loud Tongue

দূরতম গর্জন's picture


মজা

টোকাই's picture


আমি যতদূর জানি সুইডিশরা রেসিস্ট না তবে ভেতরে ভেতরে কিছুটা রেসিস্ট তবে সেটা আমাদের সাথে তুলনা করলে আমরা রেসিস্টের কোটায় ১০০ এর মধ্যে ৮০ পেলে ওরা পাবে হয়তো ২০। আর সুন্দরী

১০

দূরতম গর্জন's picture


আমরা বাঙ্গালী জাতী এখন কি সত্যি বর্নবাদী, অতি সাম্প্রদায়িক নই?

১১

তানবীরা's picture


আমাদের টলারেনস পাওয়ার ডবল জিরো

১২

তানবীরা's picture


আসতাগফিরুললাহ নাউজুবিল্লা লেখা কিনতু সারল্যে আর লেখার ভংগী খুবই কিউট।

লেখায় ছবি মিস, একটা ছবি যোগ করে দেন যাতে বাকিরা আপনাকে দেখে দলে দলে আপনার পথে যোগদান করতে পারে Big smile Wink

১৩

দূরতম গর্জন's picture


আমি এসালাম সিকার। মাস শেষে ১৮০০ ক্রোনার আর সুইডিশ ক্যাম্পে ছাইভস্ম খেয়ে জীবন কাটে আমার এখন। মাঝে মাঝে মিডিয়ামার্কেটের বড় বড় পোস্টারে ডিএসএলআর দেখে কিনতে মন চায়। কিনবার টাকা কোথায় পাই বলেন?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!