এক গুচ্ছ ড্রোন!
আজকের আকাশে এক গুচ্ছ রোদ ছিলো। সে রোদে ছোট ছোট শিশুরা লাল ক্যাপ পড়ে ঘুরতে চেয়েছিলো। হাতে পপসিকলস নিয়ে ষোড়শী লাল ফ্রক বাতাসে হেলিয়ে দুলিয়ে স্কুল থেকে ফিরবে। জানালার সাড়শী খুলে পাশের বাড়ির সোনালী চুলো উষ্কখুষ্ক ছেলেটার সাথে কথা বলার বাহানা খুজবে।
অথচ পুরোটা রাস্তা জ্যামে আটকে গেলো। ট্রেন গুলো অথর্বের মতো বসে বসে প্রমাদ গুনছে ট্রাফিক পায়নি বলে। বাসগুলো বেরোয়নি বেশী ডিপো থেকে। অফিস আদালত তবুও থুবড়ে পড়বে না, কেননা সরকার অচল হয়ে পড়বে ওবামার আগমনে।
হ্যা, আজকে স্টক হোমে ওবামা এসেছেন। তার মুখে চকচকে আমেরিকান হাসি। সুইডিশরা এই এক জায়গাতেই দুর্বল যেমনটা দুর্বল মিশরীয় সোনিয়া তার বয়ফ্রেন্ডের প্রতি।
: তুমি নাকি রুম ছেড়ে দিয়েছো?
: হ্যা। আমাকে ইমিগ্রেশন থেকে স্টুভসটা পাঠিয়ে দিয়েছে। ওখানে একটা ক্যাম্প আছে।
: ওসব ছাইপাশ খাও কিভাবে?
: ক্ষুধা পেটে সুইডেনের পুরো জঙ্গল আমার কাছে সব্জী বাগান মনে হয়।
: তুমি আমার রুমে উঠে পড়ো তাহলে!
: তোমার বয়ফ্রেন্ড আসলে কোথায় থাকবো?
: জানি না। তবে তুমি উঠে পড়ো। অনেক মজা হবে।
: সেটা ভেবে দেখবো, কিন্তু তুমি কি আমার দু পায়ের উপর থেকে উঠে দাড়াবে? আমার পা দুটো ব্যাথা করছে।
: আর ৫ টা মিনিট। এই! আমি কি মোটা হয়ে যাচ্ছি?
: কই নাতো! তবে ক্যাম্পের সুইডিশ খাবার না খেতে পেরে অপুষ্টিতে ভুগছি।
: তুমি খুব সুইট।
: এবার উঠবে?
সোনিয়া একটু রাস্তার ওপারে তাকালো, তারপর মুচকি হেসে উঠে দাড়ালো। ঘটনা আগেই আচ করতে পেরেছিলাম তবু জিজ্ঞেস করলাম,"ব্যাপারটা কি?"
সোনিয়া কি যেনো ভেবে বললো,"আসলে ওর সাথে আজকে আমার ডেট ছিলো। কিন্তু ফেসবুকে দেখলাম ও আজকে বিজি থাকবে এখানে। তাই ভাবলাম তোমাকে নিয়ে আসি।"
আমি হতাশাক্ষুন্ন ভাব নিয়ে,"তাহলে আমাকে দিয়ে তোমার বয়ফ্রেন্ডের জেলাসী বাড়াচ্ছো, তাই না? তো আমাকে বার্গার কিং এ কখন নিচ্ছ?"
ও হুট করে আমার ঠোটে চুমু বসিয়ে দিলো। কি হলো বুঝতে পারলাম না। ওর উষ্ঞ ঠোটের স্পর্শ পেয়ে আমার শরীর অজস্র লোম কাটা দিলো। হ্রৎপিন্ডের ছন্দের লয় বাড়তে লাগলো। একটা অদ্ভুৎ ভালো লাগা বরাবরের মতোই আমাকে গ্রাস করে, পঙ্গু করে, ওর পোষা মানুষে পরিণত করে।
কিছুক্ষন পর ঠোট দুটো ছাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ চোখে বললো," যাবে এখন?"
আমি ওর দিকে অপলক দৃষ্টিতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বললাম,"যেখানে নিতে চাও!"
আমি জানি এ প্রেম নয়, ভালোবাসার এতটুকু স্হান এতে নেই। ভালোবাসা মায়া বৈ কিছুই নয়। হতে পারে এই এই মায়ায় বাংলাদেশে আমাদের বাবা মা ভাই ভাবী দাদা দাদীরা কাটিয়ে দিয়েছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এক সাথে। আমি এমন মানুষের একজন হয়েও আমার ভাগ্যটা এরকম সুপ্রসন্ন নয়। তাই কলিং কার্ডের মতো ভালোবাসায় খুজতে থাকি নিজের দুঃখ গুলোকে ভুলবার অনুষঙ্গ।
শুনেছি সঙ্গদোষে লোহা ভাসে, আমি দেখছি সঙ্গদোষে "আমি" ভেসে যাই, অন্তহীন গন্তব্যহীন।





আপনার গল্প পড়ে আমার গায়েও তো কেমন কাঁটা দিয়ে উঠলো .
কাটা দিতেই পারে...মেকী জীবনের হাতছানী খানিকটা মরীচিকার মতোই।
ভালবাসাহীন কিন্তু ভাল লাগা। এখানে নেই কোন কপটতা। সব বাবা মা, ভাই ভাবী, দাদা দাদীর মাঝে কি ভালবাসা থাকে নাকি থাকে অভ্যাস আর অভ্যস্ততা। কোন কোন ক্ষেত্রে মেকি প্রেমের প্রলেপ। সংসার টা তো কোন কোন ক্ষেত্রে সং এর সার।
নির্র্জলা সত্যি কথা বলেছেন
নানা জন নানা মত
হতে পারে আবার নাও হতে পারে। হতে পারে এমনও যে তখনকার মানুষগুলো এমনই ছিলো, তাই জীবনের সমাপ্তি সবকিছুর পূর্নতায়। আমরা এই সবকিছুর পূর্নতায় অনেকটা একঘেয়ে হয়ে পড়েছি। ডানা মেলে উড়তে চাই, সবাই হাতে আইফোন চাই, সভাই সৈকতে শুয়ে সমুদ্রস্নান উপভোগ করতে চাই।
একটা সময় আমরা খালি পায়ে হেটে বর্ষা কালে ধানক্ষেতে বড় বড় মাছ ধরতাম। সে মাছ বাসার সবাই মিলে দুবেলা পেট ভরে খেতাম। এখন শুধু আমার কথাই ভাবি, অফিস শেষে ডিজে মিউজিকে হাতে একটা বীয়ার নিয়ে রঙ্গিন স্বপ্ন চোখে নিয়ে রাত কাটাতে চাই। পকেটে এখন ডলারের বান্ডিল চাই।
জীবনটা তো সরল ছিলোই, আমরাই তো এরকম করেছি, তাই কি নয়?
কিছুই ফেলা যাবে না, নৌটংগি শালা মুভিটা দেখেছেন?
২০০৮ এর পর হিন্দী সিনেমা আর দেখা হয়নি। রুচিতে বাধে।
মেয়েটি ৫ মিনিট কি করলো?
৩০ সেকেন্ড পর পর আইফোনে ক্যামেরা অন করে নিজের চুল ঠিক করা, চোখের কাজল পাপড়ি বার বার দেখা। স্বচ্ছ সেন্ট গ্যান্জীর নীচে থাকা লাল অন্তর্বাস টেনে টুনে ক্লিভেস বের করে রাখা....এই আরকি....আমার উপভোগ করার তেমন সময় হয়নি। আমার দু'পায়ের ওপর এরকম একটা ভারী জিনিস বসে আছে, পায়েরও তো শান্তি দরকার`?
শেষ লাইনটা চমত্কার লাগলো।
জীবনটা হুট করে যেন এলোমেলো হয়ে গেলো
মন্তব্য করুন