ইউজার লগইন

ঈশ্বরের চেতনা

আসবাবপত্রহীন ঘর অনেকটা সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর মতই। যখন সে ঘুমিয়ে থাকে তখন যে কারো মনেই বয়ে যায় প্রশান্তির হাওয়া। এক অজানা সুখ মুখে ছোট্ট হাসি এনে দেয়, সারা শরীরে বয়ে চলে এক অদ্ভুত আদুরে অনুভূতি। এই ছোয়াচে আদরের সংক্রমন উপেক্ষা করা কঠিন, তেমনি কঠিন হয়ে যায় ৩ দিন পর নিজ রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়া, শার্সিতে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোটা দেখতে থাকা।

অদ্ভুত আলস্যে দিন গুলো কেটে যায়। ৮ টা ঘন্টা টানা পরিশ্রমের পর বসে থাকি, কথা বলি। খেতে থাকি যতক্ষন না উদর পূর্তি হয় অথবা চেতনা গুলো হারিয়ে যায় রঙ্গিন পানির নেশায়। কখনো সে নেশার আতুরতা সেটে যায় নগ্ন শরীরের অলিগলিতে। হরমোনের প্রবল স্রোতে ককেশীয় চামড়ার সোদা গন্ধে নিজের সচেতনাকে মেরে ফেলার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়তোবা সার্থকও হয়। চিন্তা করতে চাই না এহেন অনুশোচনার।স্বপ্নে তলিয়ে যাক আমার প্রতিটা সেকেন্ড।

ঈশ্বর বলে যদি কেউ সত্যি থেকে থাকে তাহলে কি এমন হতে পারে না আমার ঘুম ভাংলো ৫ টা বছর পেছনে। পল্লবীর ভাড়া বাসাটা আমার ভালো লাগতো। শীতের সকালে রোদটা ঠিক ৯ টা বাজলে চোখে পড়তো। আমি লেপ মুড়ি দিতাম আবার। রাতের বেলা অসম্পূর্ন স্বপ্নগুলো তখন নিজের মতো দেখার চেষ্টা আর কি।শীতের মাঝে ভাপা পিঠা, পাটি শাপটা, সেমাই কলই আরও কত পিঠা। বাবা বাসায় এসে সবার আগে জিজ্ঞেস করতো,"শফিক খেয়েছে?"

দরজায় বেলে ঘুমটা আমার ভেঙ্গে যায়। বাসার ঠিকানা বেশী লোকজনকে দেইনি, তবে প্রাকটিকে (ইন্টার্নী, কলেজ পড়ুয়ারা সরকারের কাজ খোজার অফিস আরবেটফরমালিঙ্গার অথবা স্কুল থেকেই কাজে পাঠায় যার ৭৫% বেতন সরকার দেয় আর বাকিটা ঐ কোম্পানী) আসা মেয়ে দুটো আর হয়তো আগের বাসার মালিক।

দরজা খুলেই আধোঘুম কেটে যায়, সোনিয়া দাড়িয়ে আছে ব্যাগ নিয়ে। চোখ দুটো লাল, বোঝাই যায় এই দু চোখে কিছুক্ষন আগে বর্ষা নেমেছে। নাক টানতে টানতে বললো,"শফিক, তোমার বাসায় কি কিছুদিন থাকতে পারি?"

আমি উদোম গায়ে, ট্রাউজারের ফিতাটাও বাধিনি। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ওর জন্য দরজা খুলে দেবো নাকি আগে নিজের শরীর ঢাকবো। কিছুক্ষন ওর বুকের খোলা অংশে তাকিয়ে মুখ দিয়ে কি যেনো বললাম। ও দরজা ঠেলে ঢুকে গেলো।

আজ ও শুয়ে আছে নতুন বেডে। আমার এখনও স্যালারী হয়নি। সোনিয়া শুনে আজকে ইকিয়া নিয়ে গেলো। একটা বিশাল খাট, জামা কাপড় রাখার ছোট আলমারী আর আমার জন্য ৩টা জিন্স আর ট্রাউজার, আন্ডার ওয়ার আর ওর নিজের কিছু মেয়েলী কাপর। সব ওর টাকায়। ওর হঠাৎ আমার বাসায় ওঠার কারন জিজ্ঞেস কারিনি, ওর চাপে পড়ে আজকে কাজেও যাইনি।

গত দুদিনে হিসেব করে দেখলাম আমরা দুজনে ৬ টা পিজ্জার অর্ডার দিয়েছি, সিস্টেম বোলাগেট (মদ বিক্রির দোকান, সুইডেনে মদের পুরো ব্যাবসাটা সরকারের হাতে, প্রতিটা শহরে সরকারের বিশাল মদের দোকান আছে যেখান থেকে সুলভ মূল্যে মদ কিনতে পাওয়া যায়) থেকে দুই কেস বিয়ার, দুটো রেড ওয়াইন, আর একটা সিবাস রিগ্যাল। আমার বীয়ারে পোষালেও বাকীগুলো খেতে পারি না।

ছোটবেলা শুনতাম মেয়েরা নাকি লক্ষ্মী। একটা ঘরের সাজসজ্জা দেখলেই বোঝা যায় এ ঘরে একটা মেয়ের ছোয়া আছে। ব্যাচেলরদের রুম আর ডাস্টবিনের অবস্হা দুটো একই নাকি থাকে। আমার রুমটার এখন সে অবস্হা। পিজ্জার বাক্স বীয়ারের ক্যান ঘরময়। মেঝেতে বিশ্রী দাগ.....জামা কাপড় অন্তর্বাস সব ছড়িয়ে। একটু আগে সোনিয়া ট্যাবলেট নিয়ে এসেছে। আমাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে নিজেই দুটো খেয়ে এখন নাক ডাকছে।

ঘুমুতে যাবার আগে একটা ঘটনা ঘটিয়েছে। আগামী শুক্রবার পার্টি ডেকেছে। ওর সব বন্ধু বান্ধবদের আসতে বলেছে।

আমি ভাবছি এসব নেশাবাজদের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্টাংশ তো পরের কথা, এর রুম আমি এখন কিভাবে সাফ করি আর এই আপদ কিভাবে বিদায় করি!

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


আপনার লেখা পড়ে খুব মজা পাই।

অদ্ভুত আলস্যে দিন গুলো কেটে যায়। ৮ টা ঘন্টা টানা পরিশ্রমের পর বসে থাকি, কথা বলি। খেতে থাকি যতক্ষন না উদর পূর্তি হয় অথবা চেতনা গুলো হারিয়ে যায় রঙ্গিন পানির নেশায়। কখনো সে নেশার আতুরতা সেটে যায় নগ্ন শরীরের অলিগলিতে। হরমোনের প্রবল স্রোতে ককেশীয় চামড়ার সোদা গন্ধে নিজের সচেতনাকে মেরে ফেলার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়তোবা সার্থকও হয়। চিন্তা করতে চাই না এহেন অনুশোচনার।স্বপ্নে তলিয়ে যাক আমার প্রতিটা সেকেন্ড।

অদ্ভুত একটা প্যারা। মুগ্ধ হলাম খুবই।

দূরতম গর্জন's picture


ধইন্যা পাতা

তানবীরা's picture


প্রথমটুকু খুব ভাল লেগেছে পড়তে

শেষের দিকের অংশটুকু পড়ে বলবো এক বিপদ থেকে এখানে এসেছেন আর এক বিপদে জড়িয়ে যাওয়ার পসিবিলিটি আপনার অনেক। আরো সাবধান হওয়া দরকার আপনার। এখানে কিছু ঘটলে কিনতু পালাতে পারবেন না, সুযোগ হয়তো নাও পেতে পারেন পালানোর। দোষ যারই হোক ভুগবে গরীব

দূরতম গর্জন's picture


ঠিকই বলেছেন। ভেবে দেখলাম মানুষের দোষ না খুজে নিজেকেই এখন শুধরানো উচিত। নিজের দোষেই এত কিছু হচ্ছে

সামছা আকিদা জাহান's picture


বরাবরের মতই ঝরঝরে লেখা। ভাল লাগলো।

দূরতম গর্জন's picture


Thanx

টোকাই's picture


ভাল লাগ্লো।

দূরতম গর্জন's picture


THNX

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সাধু সাবধান!

১০

দূরতম গর্জন's picture


Angel

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!