যেভাবে আমি মায়াবতী
ফেসবুকে নিয়মিত একজন আমারে মায়াবতী ডাকে। আমার স্ট্যাটাসে সে যত কমেন্ট করে, সে বলে আমি নাকি মায়াবতী। আমারে নিয়ে যদি সে কোনো পোস্ট দেয় সেখানেও বলে আমারে আমি মায়াবতী। আমার জন্মদিনে সে আমারে উইশ করে তখনও ডাকে মায়াবতী।
আমার জন্মের পরে বহুজনে বহু নাম বের করলো। যার যা মনে ধরলো ডাকলো, এখনও ডাকে। কিন্তু যে নামটা কাগজপত্রে ফাইনাল হলো সেই নামটা শুনছি তারই দেয়া। তো সেই মহীয়সী ব্যাক্তি যখন আমারে মায়াবতী ডাকলো আমি ভাবলাম ভালোই তো!!
এরপর যখন ব্লগ দুনিয়ায় নাম লিখাতে আসলাম তখন ভাবলাম দেই নাম মায়াবতী। কি আছে জীবনে!! সেই কারণে এবি'তে এ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিক দিলাম একজন মায়াবতী।
যাক যে কারণে এই কথা আসলো সেইটা বলি। কিছুদিন আগে লীনা ফেরদৌস আপু পোস্ট দিলেন নিজের সম্পর্কে লিখুন- ১। সবাই নিজেদের সম্পর্কে কি বলছে আর সেটা পড়ে কার কি প্রতিক্রিয়া হয় এই নিয়ে ব্যাপক মজার এক পোস্ট। কিন্তু তানবীরা আপু সেইটাতে কমেন্ট করলো যে উনি দেখছেন কঠিন হৃদয় লুকেরা নিক নেয় মায়াবতী।
আমাকে কেন কঠিন হৃদয়ের লুক মনে হইল আপনাদের কাছে আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি না হয় অন্য একটা ঘটনা বলি আপনাদের।
আমি আমার ভাই-বোনদের মধ্যে ছোট। আমাদের সবার বড় যে বোন তারে আমরা ভাই-বোনেরা ডাকি বাজি বলে।
তো আমি তখন অনেক ছোট। ৩/৪ বছরের নান্না-মুন্না সা শিশু। আব্বু-আম্মুর একমাত্র ছোট মেয়ে হওয়ার কারণে অনেক আদরের। আবার সবসময় আম্মুর কথা শুনতাম। বড়রা সবাই যেখানে মাছের নাম শুনলেই নাক কুঁচকাতো সেখানে আমি রোজ আম্মু মাছ ভাজার সময় প্লেট নিয়ে আম্মুর শাড়ির আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম ভাজা মাছ খাওয়ার জন্য। আব্বু আমাকে যেমন অনেক আদর করতেন আমিও তেমন সারাক্ষন আব্বুর গলায় ঝুলে থাকতাম। বাজি-ভাইয়া কিছু করলে আবার ওদের ভয় দেখাতাম আব্বু আসুক বাসায় সব বলে দিব আব্বুকে। বেশ ভালোই চলছিল আমার খবরদারি।
এমন অবস্থায় বাজি হিংসায় হিংসিত হয়ে একদিন স্কুল থেকে ফিরে কি মনে করে হঠাৎ আমাকে একটা ছুড়ি দেখিয়ে বলল “আজকে তোরে এই ছুড়ি দিয়ে কেটে, রান্না করবো। ভর্তা বানিয়ে খাবো। আব্বা বাসায় আসলে আব্বাকেও খেতে দিবো। আব্বা তো মজা করে খাবে। জানবেই না যে তোর ভর্তা খাচ্ছে। অনেক মজা হবে”।
আমার তো ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা।
আমাকে ভর্তা বানিয়ে খাবে!! কাঁদতে শুরু করলাম। আবার দেখি আমার কান্না দেখে সবাই হাসে। আম্মু যদিও বুঝাতে চেষ্টা করলো। বলল আরে না। তোমার সাথে দুষ্টামী করছে। তবুও আমার ভয় যায় না। সারাদুপুর ভয়ে ভয়ে কাটালাম। আম্মুর কাছে কাছে লুকিয়ে থাকলাম।
রাতে আব্বু বাসায় ফিরলে দিলাম আব্বুর কাছে বিচার। আব্বু ও দেখি হাসে!! আব্বুও বলে দুষ্টামী!! এত বড় একটা ঘটানা দুষ্টামী!! যাই হোক সেই দিনের মতো চুপ থাকলাম।
বাজি আমার ভয় পাওয়া দেখে অনেক মজা পেল। পরদিনও সে একই কাজ করলো। সারাদিন আমার চোখের সামনে ছুড়ি নাচালো। কিভাবে ভর্তা বানাবে, কিভাবে খাবে, কাকে কাকে খেতে দিবে ইত্যাদি রকমের ভয়ঙ্কর সব বর্ণনা দিয়ে গেলো।
রাতে আব্বু আসলে আবার বিচার দিলাম আব্বুকে। আব্বুকে বললাম যে সত্যি যদি ওরা আমাকে খেয়ে ফেলে? তারচেয়ে কালকে থেকে আপনি বাইরে যাবেন সময় আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যাবেন। আমি বাসায় থাকবো না। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আব্বু নাই। বাইরে চলে গেছেন।
তারপর থেকে প্রতিদিন বাজি এই এক কাহিনি শুরু করল। স্কুল থেকে ফিরেই ছুড়ি নিয়া ঘুরা শুরু করে। আর আমি ভয়ে জমে থাকি। আম্মুর কাছে কান্নাকাটি করি। কোনো শয়তানি-বান্দরামী করার উপায় নাই। ওদেরকে আর আমি শাসাবো কি!! আমাকেই আম্মুর সাথে সাথে থাকতে হয় সারাক্ষন।
তারপর একদিন ঘটল মজার ঘটানা। সেদিন বাজি স্কুল থেকে ফেরার আগেই বুদ্ধি করে আমি ছুড়িটা খুঁজে নিলাম। লুকিয়ে রাখলাম আমার কাছে। দুপুরের খাওয়া শেষে সবাই যখন ভাত-ঘুম দেয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল ঠিক তখন বের করলাম ছুড়ি। বললাম- আজকে!!! আজকে দেখি কে কাকে কেটে কেটে রান্না করে আর ভর্তা বানায়!
তারপর আর কি। বারোটা বাজলো সবার ভাত-ঘুমের। আর বাজির কি হলো সেটা না হয় বাজিকেই জিজ্ঞাসা করবেন। 





খাইছে, ডরাইছি ! আপনিতো দেখি ভয়ঙ্কর নারী, দস্যু ফুলন দেবী...
নাআআআআআআআআআ।
আপনি তো ভাই ঘটনা অন্যদিকে ঘুরাই দিতিসেন।
বায়ে কি বেশি ঘুরাইয়া ফালাইছি ? তাইলে কন ডাইনে এট্টু ঘুরাইয়া দেই !
ঘুরেন। ঘুরতে থাকেন।
ওরে বাপস ... :bigsmile কী কাণ্ড
সাক্ষাৎ ফুলন দেবি 
কে? আমি না বাজি??
নিজের আসল রূপটা দিয়া দিলি রে

এই ভাবে নিজের পরিচয় ফাস করে দিলে?
সুমি আফা আমি তো শুরু থেকে শুরু করছি। পরিচয় কিন্তু আপনারটা এখনও বাকি আছে।
আপনে আমার পরিচয় জানেন? বলেন তো আমি কিঠা?
আপনেরে লুকে মায়াবতী বলল আর আপনে বিশ্বাস করলেন? সব্বনাশ! লুকে যা বলে সবটা বিশ্বাস করেন?
লুকের কথা বিশ্বাস করলাম কই? সেইটা তো বাজির কথা।

আপ্নে পোস্ট না পইড়াই কমেন্ট করেন বুঝলাম।
আপু পোস্ট না পইড়াই কমেন্ট করলাম কই? আপনেরে বাজি বলসে মায়াবতী, আপনে সেটা বিশ্বাস কইরাই তো নিক নিসেন, নাকি? বাজি তো এখন আপনারে কঠিন লুক বলসে, আপনি এখন নিক বদলাবেন?
হুম। ভদ্রমহিলা আপনার উওর সঠিক হয়েছে।

কিন্তু আমি নিক বদলাইবাম না।
'কঠিন হৃদয় লুকেরা নিক নেয় মায়াবতী' তানবীরার এই পর্যবেক্ষণ তাইলে ঠিকই আছে!
সহমত
মায়াবতী মেঘে এলো তন্দ্রা ........................।।
কুল কুল রঙ পায়েতে ফুল ফুল বন ছাঁয়েতে
পলাশেরও রঙ, রাঙালো কখন চোখে সে স্বপন আঁকে
আপনার বাজিকে কোথায় পাওয়া যাবে, সেটাতো বললেন না
আমি বলি? আমি বলি? ...
বাজি আছে আমাদেরই আশে-পাশে।
শুধু কঠিন লুক না... এখন দেখি মায়াবতী আপ্পি অনেক ইনটেলিজেন্টও...।
দেখেন তো আপু কি কান্ড। কুইজটা কেউ ধরতে পারলো না!!!
কুইজটা মনেহয় আসলেই ধরতে পারি নাই
বাজি কে জিজ্ঞাসা করেন।
আমি বুঝতিসিনা লেখাটায় কি ভুল হইল!!
সবাই আমারে নিয়া পড়ল ক্যান??
গাইসসসস ফোকাস অন বাজিইইইইইই
মজার লেখায় একশটা প্লাস।
চাক্কুওয়ালী। আপনি না, আপনার বাজি
আপনেই বুঝলেন আসল কথাটা
ক্যপ্টেন ববি ইজ রাইট।
আর আপনার লেখাগুলো কিউট হয়।
ক্যাপ্টেন ববির যে কত রূপ!!! তবে সব রূপেই সে রাইট।
আপনার কমেন্টও কিউট হইসে।
খুব ভয় পাইছিরে ভাই, আজ রাতে মনে হয় ঘুম হবেনা
ঘুমের ঔষধের ইমো ও নাই কফির ইমোও নাই। আপনারে কোনো ভাবেই হেল্পাইতে পারলাম না।
বাজিরে বিচারে হাজির করা হোক
এতক্ষণে একটা কথা কইলেন।
চাক্কুওয়া্লী। খাইছে।
বাজিরে বিচারে হাজির করা হোক
বিচার করে কি হবে? দরকার নাই। এম্নেই হাজির করেন।
চাক্কু ওয়ালী দেখি সবাই ।
বন্যরা বনে সুন্দর, চাক্কুওয়ালারা নাগালের বাইরে
কারো হাতে চাকু দেখলেই ভয় করে... যদি চাকু ঠিকমত হ্যান্ডল না করে
..
আপনার সাহস তো মারাত্ক
কেটে ছিলে ভর্তা বানানো লুকজন দেখি মায়াবতী! মাশাল্লাহ।
সবই আপনাদের দোয়া।
মায়াবতী??!!!!
পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এর মত দজ্জালী আর নাই।
দোস্ত টিউব লাইটটা হইল রিফাত। এইবার বোঝ তাইলে পূর্ব অভিজ্ঞতা দিয়া ও আর কি বলতে পারে??
আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা আর নিক দেখে আমিও বলতে পারলাম আপনি কিডা। আমার ব্লগে আসার জন্য আপ্নেরে
কিন্তু তানবীরা বাজি তো কিছুই বললেন না?!!
দেখেন না কাউন্টার পোস্ট দিয়া ফেলল?? আর বেশী চাপাচাপির দরকার নাই।
শেষে আর কি কি কয় কে জানে।
আমি তো একটা মায়াবতী গল্প আশা করেছিলাম। কিন্তু আমি পুরাই ভীত-সন্ত্রস্ত! আতংকিত! এবং তততততততত!
বাজিকে মাইনাস। শিশুদের সাথে এমন মজা করার জন্য। এটা মনের উপর চাপ ফেলে!
কিন্তু শেষে যে সাসপেন্স দিলেন! ..আমার গলা শুকায় কাঠ হয়ে আসছে...!
ব্লগাররা, যার যার ছুরি-কাঁচি লুকায় ফেলেন!
কারে বেশি ভয় পাবো? বুঝতাছি না ঠিক।
দুইজনকে সমান ভয় পাইতে হবে
হি: হি:
ভালা বুদ্ধি!
মন্তব্য করুন