ছায়াবাজির পুতুল (২)
পরীক্ষা চলাকালীন সময় ভাবসিলাম পরীক্ষাটা শেষ হলে ব্লগে নিয়মিত হবো। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখতিসি অবস্থা উল্টা। তখন যা হোক কমেন্ট না করতে পারি ব্লগে রোজ ঘুরে যাইতাম। এখন আরো সময় পাই না। পুরাই ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলা দশা। কি করে দিন যাচ্ছে তারও কোনো ঠিক নাই।
মৌসুম আপুকে বলছিলাম আমি এখন ফ্রি, কোনো কাজ নাই। যেকোনো দিন ডাকলেই আসতে পারি। কিন্তু সেদিন সবাই আড্ডাইলো আমি আবারো মিস। কিছুই করার ছিল না। আম্মার ডাক্তারের এ্যপয়েন্টমেন্ট ছিল। ডাক্তার দেখানোটা যে কি ঝামেলার কাজ! ডাক্তার বসবেন সন্ধ্যায়, টেস্ট হবে সকালে। কিছু টেস্ট হবে খালি পেটে তো কিছু ভরা পেটে। তার উপর আবার ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হয় অন্তত তিনমাস আগে।
তিনমাস পরে আমার কোনো শারিরীক সমস্যা হবে কিনা তা তিনমাস আগে কেমনে জানা যাবে জানি না। নাকি ডাক্তারের কাছে নাম লেখানোর আগে জ্যোতিষীর কাছ থেকে জেনে নিতে হবে! যাই হোক এটাই এখন নিয়ম।
এত ফ্যাকরা করে ডাক্তার দেখাতে গেলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যেতে হয়। অবশ্য আমার জন্য নতুন কিছু না। আব্বু - আম্মুর ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্লাড টেস্টের জন্য ব্লাড নেয়া দেখে বা ইঞ্জেকশন দেয়া দেখে আমি অনেকবারই সেন্সলেস হইসি।
যা বলতিসিলাম। আজাইরা কাজে ব্যস্ত থেকে ভালোই শুরু হলো বছরটা। ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস খুবই মনে ধরসে।
No resolution for 2012, will take life as it comes. No rush No urgency. Good wishes to you all. Love others without expectation. Try it .......... feels good inside.
![]()
এটা দেখে একটা কথা মনে পড়ল। আগে কোনো কিছুর জন্য যদি বলতাম এটা কেন হলো না বা ঐটা কেন এমন হবে। তখন আম্মা বলতো - এরকম বলতে হয় না। সব সময় মনে করবা এখন যেমন আছি এর চেয়ে ভালো না হোক খারাপ যেন না থাকি।
অবশ্য ভালো থাকা খারাপ থাকা পুরোটা না হলেও অনেকটাই নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। কিছুদিন আগে ক্লাসের কয়জন আড্ডা দিচ্ছি। একজন বলল সে কোয়ান্টাম মেথডে কোর্স করছে। গ্র্যাজুয়েশন করেছে। এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করবে। আমার অনেকদিনেরই আগ্রহ এই ব্যাপারে জানার। তাই জানতে চাইলাম কি করায়, কিভাবে করায় ইত্যাদি। তো সে বলল। অনেক কথাই বলল। শুনলাম। কিছু জিনিস হাস্যকর লাগলো, কিছু সিরিয়াস। একটা অডিও ক্লিপও শুনলাম। অবাক লাগলো জেনে যে এরও আবার গ্র্যাজুয়েশন/ পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন আছে!!
সব শুনে শেষ-মেষ আমার যা মনে হলো গ্র্যাজুয়েশনে যা করায় সেটা আমার জন্য অনেক প্রাইমারী। কারণ মাঝে মাঝে আমি নিজেই অবাক হই আমার কনফিডেন্স দেখে। ঠিক কনফিডেন্স না বলা ভালো আমার ভাব ধরা দেখে! ভাঙ্গবো তবু মচকাবো না।
নিজের পড়ালেখা - ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকদিন ধরে একটা জায়গাতেই ঘুরতিসি। কখনো মনে হয়, এখনও!! আরোও এতদিন???!! আবার ভাবি, এই তো আর কয়টা দিন। মাঝে মাঝে এতটাই হতাশ লাগে আবার কোথা থেকে যে সামনে চলার এত শক্তি পাই!!
এতগুলা দিন পার হয়ে গেসে। আর তো আসলেই কয়টা মাত্র দিন। এটাও পার হয়ে যাবে। তখন আর আমারে পায় কে ................ 





লেখা ভালো হইসে। কয়দিন পরে কি হবে সেইটা তো বললেন না।
কোয়ান্টামের বাণীগুলা জটিল
ধইন্যা। কয়দিন পর কোয়ান্টমের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে ভর্তি হইতে পারি

মনের বাড়ির স্টেশন মাঝে মাঝেই টানে
চাইলেই যদি জীবন যেম্নে আসে মেনে নেয়া যেত! কত্তো হ্যেপা সামনে আসে
কিচ্ছুই হবে না, এই এক্সামের পর দেখবা আরো কোন এক্টার প্যাচেঁ পড়ছো, একের পর এক পড়বাই, তোমারে তুমি নিজেই পাইবা না!
চোখ বন্ধ করে দম নিন। দম নিতে নিতে ভাবুন প্রকৃতি থেকে অফুরন্ত প্রাণ শক্তি আপনার ভেতরে প্রবেশ করে আপনাকে সজীব ও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
এতগুলা দিন পার হয়ে গেসে। আর তো আসলেই কয়টা মাত্র দিন। এটাও পার হয়ে যাবে। তখন আর আমারে পায় কে ................
মনে ধরছে এই লাইন
কোয়ান্টামের কথা মনে করাইয়া দিয়ে মেজাজটা বিগড়াইয়া দিলেন।ইউনির এক মাস্টর ছিলো আমাদের উনি এই কাজে ছিলেন।ক্লাসে এসে বই রিডিং পড়তো আর কোয়ান্টামের গল্প শুনাইতো।তার রিডিং্যের মাশুল এখন মাঝে মধ্যেই দেয়া লাগে।
কোয়ান্টম যে একেবারেই কাজের না তা হয়তো না। যদিও আমার এখনো ক্লিয়ার না ব্যাপারটা।
এইটা দিয়া কি বুঝাইলেন, এইযে ছয়-সাতশ বছর পর পর মাঝে মাঝে আপ্নারে দেখা যায় তাও দেখা যাইবো না

আমারে দেখা যায় নাকি?

আমার বাসায় একজন ছিল কোয়ান্টাম করতো। কিছু উদ্ভট অডিও ক্যাসেট বাজাইয়া বাজাইয়া মেডিটেশন করতো সে। ঢিমা ঢিমা সুর চলতো, এর মধ্যে এক ভারী গলার লোক বলতো 'চোখ বন্ধ করুন...মনের গভীরে যান...পায়ের পাতা শিথিল করুন, এখন আপনি অমুক স্টেইজে পৌঁছেছেন'....এই ধরনের ব্যাপারস্যাপার। কিছুদিনের মধ্যেই আমি আবিস্কার করে ফেললাম আরামে এই ক্যাসেট ছেড়ে এক দেড় ঘন্টা ঝিমানো যায় মেডিটেশন করার নাম করে। পড়া ফাঁকি দেয়ার এই সুবর্ন সুযোগ অনেক কাজে দিছিলো।
ঝিমানো কি আমি হলে নিশ্চিত ঘুমাই যাবো।
তবে মনের বাড়ির স্টেশন নামটা আমার খুব পছন্দ হইসে।
মনের বাড়িটা আসলেই ইন্ট্রেসটিং ছিল। তবে যেমনে বিবরন দিতো তাতে আমার সবসময় মনে হইতো আচ্ছা কেউ যদি বেশি কন্সেন্ট্রেশন দিয়ে ফেলে আর তারপর কোমায় যায়গা!
আর যে কয়টা দিন আছে , যেদিনগুলোকে বিদায় দিতে এতো তাড়া , যখন সে দিনগুলো যাবে আপনে তা ফিরে পেতে চাইবেন । বলবেন সে দিনগুলোই অনেক ভালো ছিল ।
সেইটাই তো স্বাভাবিক তাই না? আমি তো অসাধারণ কেউ না যে এর বাইরে যাবো। মানুষ হিসেবে যা গেছে তা নিয়ে জাবর কাটব আর যা পাই নাই তা নিয়ে হা হুতাশ করবো
হাজার খানেক বছর আগে যখন ক্যাসেট এর যুগ তখন একটা বই কিনছিলাম কোয়ান্টাম মেথড। সাথে ক্যাসেট। কয়েকবার চেষ্টা করছিলাম ক্যাসেট চালায়া মনের বাড়ি যাইতে। কোনো লাভ পাই নাই মন খালি আমার ডোরিং রুমেই পইড়া থাকে। তার বাদে খেমা দিসি।
কোয়ান্টামের কোর্সগুলো আসলেই উপকারী। সুযোগ থাকলে করে ফেলতে পারেন। শুভেচ্ছা রইলো।
কিসু নিয়া চিন্তা করতেই এখন আর ভাল্লাগেনা। সবকিসুই পেইন।
কে বলসে পেইন? আপনে এমন প্রিয় একজন মানুষ হয়ে যদি এই কথা বলেন তো হয়? চলেন নাচি
আমি আপ্নের প্রিয় জেনে খুশী লাগ্লো। আপনি আমার আরো বেশী প্রিয়।
লেখা পড়লুম। তবে কোয়ান্টাম মেথড নামক ভুয়া ব্যাপার নিয়া কথা বলার প্রতিবাদে কোনো মন্তব্য করলুম না!
পিচ্চি একটা মেয়ে বাবা-মায়ের ডাক্তার দেখানো, যত্ন নিয়ে এতো সজাগ...
জানায় দিয়ো কিন্তু 
আর মাত্র কয়েকটা দিন পর তোমারে কে পাইতেছে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাল্লায় পড়তেন
। একবার অনার্সে ভর্তির পর হতাশায় জর্জরিত হয়ে, সেইটা সৈহ্য করে, পুরা দার্শনিক হয়ে বেরতেন
ঠিকই বলেছেন, আমি নিজেও এটা এখন মানি ।
আমার আগের কোনো একটা পোস্টে হয়ত এমন বলসিলাম যে নিজের ভুলের জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ করা গেলে দায় এড়ানো যায়, ভালো থাকা যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাল্লায় পড়লে ওদের দোষ দিতে পারতাম, এইটা নিয়ে চারটা পোস্ট দিতে পারতাম কিন্তু নিজের বোকামী বা অদূরদর্শিতার জন্য কি করা যায়?
নির্দ্বিধায় প্রত্যয়ন করতে পারি যে কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েট আনন্দ আগের আনন্দের থেকে অনেক পরিণত, অনেক সাহসী আর অনেক ইতিবাচক।
আমি বছরখানেক আগে গ্র্যাজুয়েট হয়েছি। চার বছর ধরে "যাবো, না কী যাবো না" এই চিন্তা করতে করতে পার করার পর কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করে শেষে উপলব্ধি করেছি যে আমার মাঝের চারটা বছর নষ্ট করে ফেলা একেবারেই ঠিক হয় নি। সকলেরই মেডিটেশান চর্চা করা উচিত বলে আমি আসলেই আন্তরিক ভাবে মনে করি। মায়াবতী, তোমার জন্যে শুভকামনা রইল।
অনেক ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য। কোয়ান্টম এর ব্যাপারটা আসলে আমার কাছে ক্লিয়ার না। তবে এই ব্যাপারে জানার আগ্রহ রাখি। সম্ভব হলে শেয়ার করো।
আপাতত http://www.quantumfnd.org/ তে চোখ বুলাও।
তুমি যেখানে থাকো, তার আশে পাশে ফাউন্ডেশানের সেন্টার বা সেল থাকলে সেখানে প্রতি শুক্রবার সাদাকায়ন এবং মঙ্গলবারের আলোকায়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারো। অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
http://quantummethod.org.bd/ আগের লিঙ্কটা ভুল। এই ভুলের জন্যে আমি দুঃখিত।

দুইটাতেই ঘুরলাম, দেখলাম।
কই পড়েন আপু?লেখা খুব ভাল্লাগসে
কই যে পড়ি আপু

কষ্ট করে লেখা পড়ছেন তার জন্য ধইন্যা
আচছা, তাই নাকি

কোয়ান্টাম মেথড !!! আমার এক কলিগ চুল পড়ে যাচ্চে এই চিন্তা থেকে মুক্ত হতে সম্প্রতি এই কোর্স নিচ্ছে। মানুসের যে কত বিচিত্র সমস্যা থাকে।
চুল পড়ার জন্য কেউ করে বলে শুনি নাই। আত্নবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য করে বলে শুনসি।
আছে আছে। কি জানি "হিলিং" বইলা একটা ব্যাপার আছে। যেইটায় সবাই মিলে একজনের জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে তার শরীরের ভিতর ঢুইকা হিলিং করে
হিলাইয়া দেয় নাকি
অয় অয়

তোর রহস্য গল্পের কি খবর? ভাব মারা শেষ হইলে গল্প শেষ কর।
কি জানি আইলসামি মনে হয় বাড়ছে

অঃটঃ তোর এক দোস্তের শুভ সংবাদ আছে শুনলাম।
"তখন আর আমারে পায় কে" ---কেন আমি !!! আমি তো সব সময় তোমাকে পাই!
একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও
এতগুলা দিন পার হয়ে গেসে। আর তো আসলেই কয়টা মাত্র দিন। এটাও পার হয়ে যাবে। তখন আর আমারে পায় কে ................
মনে ধরছে এই লাইন
মন্তব্য করুন