শেষ থেকেই শুরু
শেষ থেকেই শুরু করতে হবে। দিন শেষে প্রথম কাজ হচ্ছে দ্রুত বিছানায় যাওয়া। একজন সুস্থ মানুষের ছয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সেই হিসেবে ঘুমাতে যেতে হবে যাতে ঘুম আসার আগের অস্থিরতা পাশ কাটিয়ে ছয় ঘণ্টা ঘুম হয় এবং সূর্যোদয়ের দেড় ঘণ্টা আগে ঘুম ভাঙ্গে। পৃথিবীর প্রকৃতি, আবহাওয়া ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটাই একটি সুস্থ, কর্মময় এবং আনন্দময় জীবনের সঠিক স্লিপিং সাইকেল।
জীবনের মধ্যবয়সে প্রকৃতির ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে বাঁচার প্রয়াসের শুরুতে শরীর এই সময়ে ঘুমাতে পারবে না এবং এই সময়ে জাগতেও পারবে না। কারন সারাটা জীবন শরীরকে অন্য চক্রে ঘুমানোর এবং জাগানোর অভ্যাসে অভ্যস্ত করা হয়েছে। তাই ধৈর্যহারা হয়ে সাধনায় ছেদ আনা যাবে না; অনবরত বিরামহীন সাধনার মাধ্যমেই শরীর প্রত্যাশিত চক্রে অভ্যস্ত হবে। যেহেতু শারীরিক উত্তাপ এবং উত্তেজনা মনকে উত্তেজিত এবং অস্থির করে, রাতের খাবারে প্রাণীজ প্রোটিন (যেমন মাংস, ডিম ইত্যাদি) এবং অতিরিক্ত শর্করা বর্জন করাই শ্রেয়।
একটা সময়ে দেখা যাবে যে শরীর সময়মতই জেগে উঠছে- অ্যালার্মের কর্কশ শব্দ ছাড়াই। ঘুম ভাঙ্গার পর তড়াক করে বিছানা না ছেড়ে তিন মিনিট শুয়ে থেকে তারপর দুই মিনিট বসে থেকে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াতে হবে। এ সময়ে কোনও ভাবেই দ্রুত হওয়া যাবে না। পরবর্তী পঁচিশ মিনিতের মধ্যে নিচের কাজগুলো ক্রমান্বয়ে সেরে ফেলতে হবে-
১। প্রস্রাব করা
২। প্রায় এক লিটার জল খাওয়া
৩। একটি কলা / সশা খাওয়া
৪। হাগু করা এবং সব শেষে
৫। স্নান করা
এই কাজগুলোতে যদি একঘণ্টা লাগে তবে ঘুম থেকে উঠতে হবে সূর্যোদয়য়ের দুই ঘণ্টা আগে। কাজগুলো সেরে সূর্যোদয়য়ের ঠিক একঘণ্টা আগে ধ্যানে বসতে হবে। সদাসন, পদ্মাসন অথবা অন্য যেকোনো আরামদায়ক আসনে। ধ্যানের বিষয়ে বিশেষ কিছু বলছি না, কারন প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব ধ্যান পদ্ধতি আছে। তাই যোগাসন এবং আসনে উপবিষ্ট হবার পর ধ্যান কী হবে সেটা নিজেকে নির্ধারণ করে নিতে হবে। যোগীর যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকে তবে ঈশ্বর চিন্তায় ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকাই শ্রেয়।
সূর্যোদয়য়ের সময়ের যাদুকরী আলোয় ধ্যানভঙ্গ করে সূর্য ওঠার দৃশ্য অবলোকন করতে হবে। এভাবেই যাদুকরী সূর্যালোকে প্রাণমন ভরে নিয়ে দিন শুরু হবে।
ধ্যান ভেঙ্গে দিনের প্রথম কাজ হবে রান্নাঘরে যাওয়া। যেকোনো প্রকারের ফল, একটি ডিম সেদ্ধ, প্রচুর পরিমানে কালসিয়াম, লৌহ ও অন্যান্য খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ শাকসবজি সেদ্ধ, সেই সাথে পরিমানমত শর্করা ও প্রাণীজ প্রোটিন এবং এক গ্লাস দুধ খাবার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে রাজকন্যার মত প্রশান্তি নিয়ে খাদ্য গ্রহন করতে হবে।
তারপর কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন করে দিনটি সেইসব কাজের জন্য উৎসর্গ করতে হবে- যেসব কাজ করার জন্য তোমার জন্ম হয়েছে।





মন্তব্য করুন