ইউজার লগইন

সার্টিফিকেট ছাড়া

আমি আমার কিছুই খুঁজে পাই না আজকাল। আমি জানি না আমি ডিপ্রেশনে ভুগছি কি না। ভুগে থাকলেও ডাক্তার দ্যাখাতে ইচ্ছে করে না। নিজেই ভালো থাকতে চাই কোনো একটা উপায় বের করে নিয়ে। থেরাপি বা মেডিকেশন ভাল্লাগে না।

কিন্তু কোনো কিছু তো করা দরকার ভালো থাকতে হলে। আমি শুধু খাচ্ছি আর ঘুমাচ্ছি। মাঝে মাঝে মুভি দেখতেছি। সাইকেল চালাতেও ভালো লাগে। আর কোনো কাজে যেতে ইচ্ছে করে না।

লিখতে বসছিলাম এইম ইন লাইফ। কিন্তু সূচনাটা ভালো হয় নাই। আর কথা না বাড়ায়ে আসল পয়েন্টে যাই।

এইম ইন লাইফ রচনা আমি কোনো দিন পড়ছিলাম কিনা বা কোনো পরীক্ষায় লিখছিলাম কি না মনে নাই। অনেক কিছুই মনে নাই। মনে আছে আমি ছোট থাকতে ভাবতাম জাহাজের নাবিক হবো। বন্দরে বন্দরে নেমে পান করবো, ভোগ করবো নারী। কিন্তু সেটা থাকলো না।
তারপর আরেকটু ভেবে দেখলাম আর্মি অফিসার হইতে হবে। এতেই সবচেয়ে বেশি দাপট। সবাই আমারে বাঘের মত ভয় করবে। এলাকার পুলিশও আমারে দেখে স্যার স্যার করবে। কিন্তু না, ব্যক্তিগত স্বাধীনতারে পাত্তা দিয়ে ছাঁটাই করে দিলাম সে ইচ্ছে।

জলের কুমির বা ডাঙার বাঘ কিছুই হলাম না। ভাবলাম যে সায়েন্টিস্ট হতে হবে, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট। সেসব দিনে ভাবতাম আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটটি কী রকম দেখতে হবে, দুপুরে ভাতঘুম দেবার আগে ডায়রি খুলে সেই ওয়েবসাইটের নকশায় চোখ বুলোতাম। তখন সবকিছু নতুন ছিলো, ভাবতাম ইন্টার পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই জীবন আমার কাছে সব কিছু নিয়ে আসবে ডালা ভরে।

আহা আমার সেই স্বপ্ন দ্যাখার দিনেরা, কোথায় যে হারিয়ে গেলো, পালিয়ে গেলো- আমি কিছু বুঝে নেবার আগেই। বোকা আমি, এ্যাত সহজে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার ইচ্ছে ভুলে গেলাম। যে সময় চলে যায়, সে সময় চলেই যায়, ফিরে পাওয়া যায় না। আমি একটা বিবিএ কোর্সে ভর্তি হলাম অনর্থক। সেসব দিনে কী ভাবতাম আজ আর মনে করতে পারি না। আহাম্মকি করেছি বড় বেশি- আর মনে করেই বা কী হবে।

একটা ফিল্ম সোসাইটিতে দিন রাত পড়ে রইতাম। সিগারেট টানা শুরু করলাম। গাঁজা কবে শুরু করছিলাম পাকাপাকিভাবে মনে পড়ে না। মদ সামনে এলেই খেতাম। নিজে কিনে খাবার পয়সা ছিলো না।

সেসব দিনের কথা এরচেয়ে বেশি মনে পড়ে না। তো তখন চাইতাম ফিল্মমেকার হতে। ফিল্ম বানানো আমারে দিয়ে হবে না তা জেনে গেলাম দুটো বছর ওভাবে কাটতে না কাটতেই।
থার্ড ইয়ারে এসে পড়লাম আরেক সার্কেলে। বড় নতুন, বড় অদ্ভুত এই সার্কেল। এই সার্কেলে বসে গাঁজা খেয়েই কেটে গেলো আরো দুই কি তিন বছর। এই সময়টায় আমি কোনো কিছুতেই ছিলাম না। আমার টিকিটাও কেউ খুঁজে পেত কি না সন্দেহ হয়, আমি কল্কিতে টান দিয়ে সব কিছুর উর্ধ্বে চলে যেতাম।

সার্কেলে কিছু লোকজন ছিলো সাংবাদিকতা পেশার। আমি ভাবতাম এই পেশাটাই তো দারুণ। ভাবতাম বিবিএ পাস হলে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করবো। তখন একটা পত্রিকায় কন্ট্রিবিউটিং করতাম। কিন্তু রিপোর্টার হবার ইচ্ছে আমারে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছিলো না। ছয় মাস রিপোর্টিং করে দেখলাম- এভাবে আর পারা যাচ্ছে না। অবশেষে সাংবাদিক হবার ইচ্ছেও মরে গেলো কোনো এক ভাবে।

এসবের মাঝে ইচ্ছে হয়েছিলো গান গাইবার, গীটার বাজাবার। অনেকেই বাজাতো গাইতো। কিন্তু কয়েক মাস পরে দেখি কিছুই হচ্ছে না। আমার ভেতরে সেই ডেডিকেশন নাই।
আমার জীবনে এরকম অনেক কিছু হবার ইচ্ছে এসেছে- ইচ্ছে চলেও গেছে। কোনো কিছুই স্থায়ী হয় নাই। নানান ইচ্ছের কবলে পড়ে বিবিএটাও পাস করতে পারি নাই। ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। আমি এখনও ইন্টার পাস রয়ে গেছি।

আমি ঘুমাচ্ছি, খাচ্ছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি, ঢুলুঢুলু চোখে, ক্লান্ত শরীরে, একই এই শহরে।

''তোর জীবনে হবেও না কিছু। বুঝছিস। তুই সারা জীবন কাটাইছিস নিজেরে বিরাট একটা কিছু ভেবে আর দুনিয়ার সবাইরে ছোট ভেবে। ক্যাডেট কলেজ ভার্সিটি কোথাও ফ্রেন্ডটেন্ড বানাস নাই। আসলে যে তুই নিজেই চোদনা একটা সেইটা কোনোদিন ভাবিস নাই। অকারণে মানুষরে ছোট করা তোর স্বভাব। আল্টিমেটলি সবাই সবার জায়গায় পৌঁছাইসে আর তুই তোর বিরাট ইগো নিয়ে সবার তলায় বসে আছিস আর ভাবতেছিস বিরাট হনু তুই। সব মেয়েদের ভাবছিস দুধেল মাগি। সব মেয়েদের ভাবছিস ছাগল। প্রেমিকাও পাস নাই কোনো।পাসও করতে পারিস নাই। কারণ তুই ভাবছিস তোর মতোন হনুরে পড়ানোর মতো এলেম ওই ডিপার্টমেন্টের নাই। ডিপার্টমেন্টে তোর কোনো বন্ধু নাই কারণ তুই সারাজীবন ভাবছিস যে ওরা পড়াশোনা করে, ওরা আবাল। এখন তোর তাই জায়গা খুঁজতে যাওয়া লাগে এখানে সেখানে। এই শিবলী ভাই এই আমি এই বালছাল। তোর মা বাপেরে তুই আন্ডারএস্টিমেট করিস।ভাবিস তুই বিরাট কিছু হেতেরা আবাল। আসলে তুই নিজে আবাল, নিজে ছোটলোক, নিজে মাগা, নিজে চিংড়ি মাছ। তাই তোর জীবনে হবেও না কিছু, সুখও আসবে না। আর তোর খুব কাছের কেউ তোর মতো কারও খপ্পরে পড়বে। তারপর তুই বুঝবি। তুই সারাজীবন ভাবছিস যারা পাস করে চাকরি করে তারা সব ভোদাই আর তুই পাস করিস না, ঘুরে বেড়াস, তুই খিব স্মার্ট। খুব স্রোতের বিপরীতে যাইতে চাইছিস। অথচ সার্টিফিকেট ছাড়া স্রোতের দিকে বা বিপরীতে কোনো দিকেই যাওয়া যায় না। সারাজীবন বড় ভাইদের কাজের ছ্যামড়া হয়ে কাটাইছিস। সারাজীবন এর মদ কিনে দিছিস ওর গাঁজা এনে দিছিস তার কল্কে সেজে দিছিস।বদলে নিজেও ভাগ পাইছিস। আর জীবন ধন্য হয়ে গেসে তাতে তোর। এখনও যট্টুক হইসে, তোর জন্য যথেষ্ট হয় নাই মনে হয়। তুই এই যে সময় নষ্ট করতেছিস, এর ফল তোর হাতে আসবেনে।''

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নিয়োনেট's picture

নিজের সম্পর্কে

অতীতের ভিত্তিতে নিজেকে ডিফাইন করা অর্থহীন। আর আগামীও অদেখা। বর্তমানে আমি কী সেটা যদি এখন বলি, সেই তথ্য খানিক সময় পরে ইনভ্যালিড হয়ে যাবে, যেহেতু মানুষ প্রতি সেকেন্ডে বদলায়। ফলে, নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলাটা কঠিন কাজ।