৫মে গুম হওয়া লাশ
৫মে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরনীয় দিন। এদিন যেমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, তেমনি এ দিনকে কেন্দ্র করে আরও অনেক কিছু ঘটে যেতে পাতো। তাই এ দিনটিকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। আমি নতুন করে আর তেমন কিছুই লিখতে চাই না, আবার একটু লিখতেও ইচ্ছে করে। তাই এ লেখা।
৫মে থেকে আজ ১৬মে, অনেক গুলো দিন। এর মধ্যে আমাদের দেশের ভাবি রাষ্ট্রপতি ইরানের আদলে দেশ পরিচালক, ধর্মগুরু (জিনি নিজে শুয়ে শুয়ে কল্পনা করতেন) জনাব আল্লামা শফি সাহেব (হেলিকপ্টার শফি) মতিঝিলে লাশ গুম হওয়ার ব্যপারে একটি মাত্র হুংকার দিয়েই থেমে গেছেন। উনি আন্তর্জাতিক আদালতে যাবেন বিচারের জন্য, যদি সরকার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকমিটি গঠন না করে। ওনার হুংকারের আগে পিছে ওনার সাথে কন্ঠ মিলিয়েছেন অনেক নেতাই, তবে তারা হেফাজতের কেউ নন। তারা দাবী করেছেন ওই দিন ২৫০০থেকে ৩০০০ হেফাজতি মারা গেছে। তাদের লাশ গুম করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক তদন্ত না হলেও সাধারন মানুষ হিসাব করেছে আর কিছু পত্রিকা একটা জরিপ করেছে , তার মধ্যে কালের কন্ঠ তাদের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। তারা দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে পেরেছে যে তাদের কোন মাদ্রাসা থেকেই কোন ছাত্র, মানে হেফাজতে কর্মী নিহত কিংবা নিখোজ নেই। যারা সমাবেশে অংশগ্রহন করেছে তারা সবাই ফিরে এসেছে। কোন গ্রামের কোন পরিবার থেকে আজ পর্যন্ত দাবি ওঠে নাই যে তাদের গ্রাম বা পরিবার থেকে কোন লোক নিহত বা নিখোজ হয়েছেন শুধু জামাত শিবির বাদে। আর যে কয়জন মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই জামাত-শিবিরের লোক। সমাবেশ করলো হেফাজত আর মারা গেল জামাত শিবির! কি আজব ব্যাপার। আনুষ্ঠানিক সব জরিপকারীদের বাদ দিলাম। সবচেয়ে বড় জরিপ হল জনগণের জরিপ। সেই জনগন কোথাও কোন নিহত বা নিখোজের সংবাদ যখন পেল না তখন বোঝাই যাচ্ছে সেদির মতিঝিলে কোন লোক মারা যায় নাই। তাহলে যে নেতারা ২৫০০ থেকে ৩০০০ লোক মারা গেছে বলে প্রচার করলো তারা এ লাশগুলো কোথায় দেখলো এবং কিভাবে দেখল? এবার জনগন, আপনারা এই নেতাদের প্রশ্ন করুন।
বাবুনগরী যিনি ভাবী প্রধানমন্ত্রী (তিনিও নিজে শুয়ে শুয়ে কল্পনা করতেন) তিনি এখন আটক আইশৃংখলাবাহীনির হাতে। আল্লাহ তাকে হেফাজত করেছেন আর গড় গড় করে বলে দিচ্ছেন তদন্তকারীদের কাছে সেদিন কোন কোন ভুত তার ঘাড়ের উপর ভর করেছিল। কোন কোন ভুত তাকে সেদিন মঞ্চে রেখে পালিয়েছিল। কোন কোন ভুত কিভাবে তার সাথে বেইমানী করেছে। হেফাজতের উপর ভুতের আছর সেদিন ঠিক মতই লেগেছিল। যদি সরকার সেদিন ভুতের ওঝা না পাঠাত মতিঝিলে তাহলে হেফাজতের ঘাড়ে পা দিয়ে সরকারকেই গিলে খেত সেই ভুতের দল। ধন্যবাদ সরকারকে হেফাজতের ভুত ছাড়ানোর জন্য। হেফাজতের ঘাড় থেকে তো সরকার ভুত ছাড়াল, এখন সেই ভুতের পেট থেকে গুম হওয়া লাশগুলো সরকারের বের করা উচিত।





মন্তব্য করুন