অভাগ ভালবাসা
সুভলং পাহাড়ের শীতল ঝর্ণা,
বয়ে যাওয়া কাচালং,কর্ণফূলী নদী,
পাহাড়ে ফুটে থাকা অজস্র ফুল,
সাড়ি সাড়ি সবুজ বৃক্ষ রাজি,
পুরী রাজকন্যার সাথে করে বাজি,
স্বগৌরবে সবাই বলে;
পুরী তোমার চেয়ে আমি বেশি সুন্দর,
পুরী কন্যা হেসে বলে;
দেখো আমার অপরূপ রূপের জ্যোতি,
মায়াময় মূখখানি অতি,
ফুল বলে দেখো আমার দেহের রং কত সুন্দর,
দেহখানি মোর যৌবন ময়,
তাই দেখে পাখি আর ভ্রমরের দল কত পাগল হয়,
আদরে হাত বুলায় পাহাড়ীরা এসে,
তারা আমায় সাথে নিয়ে যায় কতইনা ভালবেসে,
পুরী কন্যা হেসে বলে;
বলো নাখে এমন কথা দুঃখে বুক ফেটে যায়,
কেমন তাদের ভালবাসা তোমাকে মেরে ফেলায়,
তার চেয়ে দেখো আমি কত পাই যত্ন,
ভালবেসে প্রিয় মোরে দিয়েছে হীরা মুণি মুক্তো রত্ন,
আর তুমি কি পেলে?
ফুল হেসে বলে;
হোক আমার জীবন অতি ক্ষণিকের,
আজীবন ভালবাসা পাই আমি অনেকের,
পুরী তুমি কর ছটফট ভালবাসা নিতে,
অথচ সবাই করে ছটফট আমার ছৌয়া পেতে,
জীবন দিয়ে সাজাই আমি মনুষের বাসর ঘর,
তাই সবাই আমায় ভালোবাসে কেউ নয় পর,
তাই ধন্য আমার জীবন,
মুগ্ধ হয়ে পুরি বলে;
হেরে গেলাম ফুল তোমার রূপ গুনের কাছে,
এখন বল বৃক্ষ তোমার কি কি গুন আছে?
বৃক্ষ বলে স্বগৌরবে;
সবেরে দিই আমি ফুল ফল সুশীতল ছায়া,
পক্ষিকুল করি রক্ষা দিয়ে স্নেহ মায়া,
ঝড় ঝঞ্চায় সবেরে করি আশ্রয় দান,
তাই আমি এ সংসারে কত আজ মহান,
পুরী কন্যা হেসে বলে;
যদি হও তুমি এত যে মহান,
পেয়েছো কি কোন দিন তার প্রতিদান,
মানবেরা তোমার জীবন নিয়ে কত খেলা করে,
তোমার বুক ছিড়ে তারা বাড়ি ঘর গড়ে,
নিষ্টুর তারা তোমাকে পোড়ায় ভয়ঙ্কর আগুনে,
অথচ তারা তোমাকে কষ্ট দিয়ে সুখে দিন গুনে,
তাতে তোমার কষ্ট কি লাগে না?
মা মরেও পায়না দুঃখ,
যখন সন্তান আসে কোল জুরে,
সন্তান লাভের মহান আশায়,
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরে,
মা মরেও যেমন সুখী হয় সন্তান দের সুখী দেখে,
আমি তেমন সুখি হই সবেরে সুখে রেখে,
মুগ্ধ হয়ে পুরী বলে;
বৃক্ষ তুমি করিলে মোরে জ্ঞান চক্ষু দান,
তোমার মহীমা তোমায় করেছে মহান,
ভূলবো না কোন দিন বৃষ্টি ঝর্ণা নদী তোমাদের অবদান,
এ পুরী কুলে তোমরা চিরকাল মহান,
পিপাশা মেটাই করে সুশীতল পানি পান,
সে পানিতেই মোরা সবে করি অনন্দ স্নান,
বর্জ্য ফেলে কোন দিন দূষিত করব না মানবের মত,
সর্বদা মঙ্গল কাজে থাকব রত!
আজ বড় ইচ্ছে করে ফুল হতে,
সুগন্ধি অপরূপ ফুল হয়ে সবার হৃদয় ছুয়ে দিতে,
ইচ্ছে করে বৃক্ষ হতে,
মায়ের মত সবাইকে ভালবাসা দিতে,
মুগ্ধ আমি তাদের এই অদ্ভূত ভালবাসায়,
দিবা নিশি কাটাবো আমি ফুল আর বৃক্ষ হবার আশায়।





বুঝে না বুঝে পড়লাম। শুভলং পাহাড়ের ঝর্ণাটা সুন্দর।
একবার আসুন দেখে যান সুভলং কত সুন্দর।তখন আপনি ও একটা নর হাজারটা কবিতা লিখবেন।

প্রকৃতিময় লেখা।
হ্যাঁ
ভালো লাগল
মন্তব্য করুন