পিকেটার
থাম এখুনি থাম,
তোরা থাম ভাঙিসনে বাস টেম্পো রিক্সা আর টেক্সি,
তোরা আগুন জালাসনে গরীবের দোকানে,
তারা ও তোদের মতো দিনে খায় দিনে এনে,
তোরা কি জানিসনে?
একদিন না চললে বাস চুলো জ্বলে না হেল্পারের ঘরে,
একদিন না চললে টেম্পো খেতে দেয় না হেল্পার ছৌট ছেলেটারে,
একদিন না চললে রিক্সা খাওয়া হয় না রিক্সাওয়ালাটার,
তোরা কি দেখিসনি বাস হেল্পার ছেলেটা সারাদিন ঝুলে বেড়ায়,
ঘামে শরীর তার ভিজে যায়,
তবুও সে যাত্রীদের বসতে দিয়ে নিজে দাড়িয়ে যায়,
কিছু টাকা বেশি পাবে বলে,
তার ছৌট ভাইটারে স্কুলে পড়াবে বলে,
বুক ভরা স্বপ্ন তার সে ড্রাইভার হবে,
একটা সুন্দর জীবন একটা সুন্দরী বউ পাবে,
তোরা দেখিসনি ১২ বছর বয়সী বালক টেম্পো হেল্পার,
গায়ে ছিন্ন ময়লা জামা বুক ভরা স্বপ্ন যার,
রুক্ষ তার চুল শরীর গেছে শুকিয়ে,
টেম্পোর পা দানিতে দাঁড়িয়ে স্কুলগুলোর দিকে যায় তাকিয়ে,
মনটা তার হু হু করে কেঁদে উঠে,
ছল ছল চোখে অপূর্ণ স্বপ্ন ফুটে,
সেও যেতো স্কুলে স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে,
সে আজ হয়েছে হেল্পার কপালের দোষে,
তোরা দেখিসনে ৫০ বছরের বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালাটারে,
মৃত্যু শয্যায় স্ত্রী অপেক্ষা করে যারে,
গুরাচ্ছে রিক্সার চাকা যদিও তার গায়ে শক্তি নেই,
মনে তার অশেষ চিন্তা ঘরে ভাত পানি ঔষধ নেই,
বুক ভরা হতাশা ভাগ্য তার বদলালো না,
কোন ঈদে তার স্ত্রীকে নতুন শাড়ি দিতে পারলো না,
সে চায় না বড় লোক হতে আর,
স্ত্রী সুস্থ হবে দুমুটো খেয়ে বাঁচবে দুজনে এটুকু স্বপ্ন তার,
তোরা দেকিসনি ফুটফাটের ধারে বৃদ্ধ লোকটারে,
সিডর ভিটামাটিহীন করেছে যারে,
অনেক কষ্টে একটি দোকান দিয়ে,
একমাত্র মেয়েটার দেবে বিয়ে,
এই মানষে খুলেছে একটি ছৌট দোকান,
এর উপর ভর করে বেঁচে আছে তিনটি প্রাণ,
তোরা ভাঙ্গসিস না বাস টেম্পো রিক্সা টেক্সি আর দোকান
তোরা ভাঙ্গসিস তাদের স্বপ্ন রে,
তোরা পুড়সিস না বাস টেম্পো রিক্সা টেক্সি আর দোকান,
তোরা পুড়সিস তাদের স্বপ্ন রে,
থাম থাম তোরা থাম,
আর ভাঙ্গিস নে আর পুড়িস নে,
তার হাত ভেঙ্গে ফেল যে তোমারে দিয়েছে টাকা,
তোদের কাছে কি ওদের স্বপ্নের চেয়ে টাকার দাম বেশী?
চলরে চলরে আগুন লাগিয়ে দিই রক্ত শোষকের ঘরে,
চলরে চলরে লাঠি ভাঙ্গি গডফাডারের ঘাড়ে,
আয়রে আয়রে আগুন লাগিয়ে দিই লুটেরা ঢাকাতের গুডামে,
আয়রে আয়রে তাদের জাগিয়ে তুলি যারা আছে ঘুমে।





সুন্দর লিখেছেন। সত্যি লিখেছেন
মন্তব্য করুন