জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে
১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ধ্বংসাত্মক তান্ডব দেখেছি। ছাত্রশিবিরের রগকাটা রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ভার্সির্টিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারিনাই। বাংলাদেশ ছাত্রশিবির হলো পৃথিবীর সবচেয়ে একটা উগ্রপন্থী ছাত্রসংগঠন। এরা ধর্মের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতেও দিধাবোধ করে না। এরা ইসলামের দুশমন। এরা রক্ত দিয়ে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু এরা জানে না যে, রক্ত দিয়ে কখনো কোনধর্মই প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামাতের ভন্ড নেতারা স্কুলের গন্ডি পার না হতেই বাংলাদেশের কোমলমতি কিশোরদেরকে শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে। বাংলাদেশের অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ আপনারা আপনাদের ছেলে মেয়েদের সম্পর্কে একটু সজাগ থাকেন যাতে কোনভাবেই আপনার সন্তান ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত না হয়।
আর শিবিরের কোমলমতি ছাত্র ভাইদের বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, আপনারা জামাতের ভন্ড নেতাদের কথায় কান দিবেন না। এরা আপনাদের কাঁধে পা দিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে চায়। ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলামে উগ্রবাদের স্থান নেই। আপনারা ছাত্রশিবির প্রদত্ত পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের শুধুমাত্র সেলেকটিভ অংশের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে সমগ্র কোরআন এবং হাদিস পড়ার চেষ্টা করুন, তাহলে বুঝতে পারবেন জামাত শিবির কতটা ভন্ড রাজনৈতিক দল।
হুকুমতের মাধ্যমে যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যেতোই তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে প্রথমেই রাষ্ট্রপ্রধান করে তাঁর হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহ প্রদত্ত সেই ক্ষমতার বলে ইসলাম প্রচার করতেন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তা করেন নি। বরং তিনি (সাঃ) তাঁর চারিত্রক গুণাবলীর দ্বারা বিধর্মীদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। বিধর্মীরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী করিম (সাঃ) এর চারিত্রিক গুণে মুগ্ধ হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত হয়েছেন। আর আজ আপনাদেরকে দেখলে আমরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাই ভয় পাই, আপনাদের কারণেই বিধর্মীরা ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসাবে আখ্যায়িত করার সাহস পাচ্ছে। আপনাদের জন্য আমাদের মেধাবী ছাত্ররা বিদেশের ভিসা পাচ্ছে না। এই ক’দিন পূর্বে আমার এক বন্ধুকে ভিসা দেওয়া হলো না। একই সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ প্রায় ১০টা দেশের গবেষককে ভিসা প্রদান করা হলো, কিন্তু আমার বন্ধুকে ভিসা প্রদান করা হলো না। ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ না জানালেও আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক বলেই আমাদেরকে ভিসা দেননি। আপনাদের এই নোংরা রাজনীতির কারণে বহিঃর্বিশ্বে আমাদের ভাবমর্তি ভীষণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই এখনও সময় আছে নিজেদেরকে সংশোধন করে নেন। বাংলাদেশের আপামর জনগণ ক্ষেপে গেলে পালাবার পথ পাবেন না।
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে নতুন প্রজন্মের ডাক এসেছে জামাত শিবিরের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তাই বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আইন করে জামাতের রাজনীতি বন্ধ করার পূর্ব পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল জামাতের সাথে জোট করতে পারবে না। যেখানেই জামাত শিবির সেখানেই প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুভ্র সরকার, জাপান।





এবি তে সুস্বাগত।
নিষিদ্ধ করে সাইড এফেক্টটাই না বড় হয়ে যায়, সেটাই চিন্তার বিষয়।
মন্তব্য করুন