প্রেম ......... ঢাকা স্টাইল (শেষ পর্ব)
এ ঘটনার কিছুদিন পর এক ছুটির দিনে বেশ ভোরে কঙ্কার ঘুম ভেঙে গেলো। সারা বাড়ির সবাই তখন ঘুমে বিভোর, ছুটির দিনের আয়েশী ঘুম। ক্লাশের পড়াশোনার চাপে আজকাল আর গল্পের বই পড়ার সময়ই পায় না কঙ্কা। ভাবল ঘুম যখন ভেঙ্গেই গেলো শুয়ে না থেকে যাই একটু বই পড়ি। যেই ভাবা সেই কাজ, উঠে কঙ্কা হাত মুখে ধুয়ে চায়ের মগ নিয়ে বই হাতে বসার ঘরে যাচ্ছিল। দরজা জানালা খোলা দেখে আর রান্না ঘরের টুকটাক মৃদু শব্দে কঙ্কা বুঝতে পারল মা একবার উঠে ওদেরকে ডেকে দিয়ে গিয়ে আবার শুয়েছে। খুব সন্তর্পনে কঙ্কা যাচ্ছিল যাতে কারো ঘুম না ভেঙ্গে যায়। বসার ঘরে ঢুকতে ঢুকতেই হঠাৎ অকারণে বারান্দার দিকে চোখ গেলো তার। তার ই.এস.পি বলছিল কিছু একটা ঘটছে ওদিকে। এগিয়ে যেয়ে দেখতে পেলো রাজমিস্ত্রী মজনু হাতে পাইপ নিয়ে দুলে দুলে ছাদের উপর ডাই করে রাখা ইট ভিজাচ্ছে, এমন ভঙ্গিতে ইট ভিজাচ্ছে দেখে জীবন বীমার এ্যাড এর কথা মনে পড়ে গেলো কঙ্কার। জীবন বীমার এ্যাডে যেমন করে বুড়ো বয়সে হাতে পাইপ নিয়ে ঠোটে স্মিত হাসি ঝুলিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ফুল গাছে পানি দিতে দেখায়, মুখে থাকে সিগার, অনেকটা সেই রকমই ইটে পানি দেয়ার ভাব, এই ভঙ্গী দেখে কঙ্কার সন্দেহ হলো, মনে হলো এই ভঙ্গী এমনি এমনি না, নিশ্চয় কাউকে ইম্প্রেস করার ব্যাপার এরমধ্যে আছে। কঙ্কা আস্তে করে দরজা আর ওয়ালের সংযোগ স্থলের যে ফাঁকটা আছে, সেদিক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখল সীমা রান্নাঘরের বারান্দার সাথে এই বারান্দার যে সন্ধিস্থল সেখানে বসে কি যেনো একটা বাটছে। মসলা বাটা যে একটা আর্ট সেটা সেদিন প্রথম অনুধাবন করলো কঙ্কা। দুই হাতে শিলটাকে আলতো করে ধরে নৃত্যের ভঙ্গীতে একবার সীমার হাত দুটো উপরে উঠছে আবার নীচে নামছে। মনে হচ্ছিল রোমান্টিক কোন গানের কোরিওগ্রাফী হচ্ছে ‘গাঙ্গে ঢেউ খেলিয়া যায়, ও কন্যা মাছ ধরিতে আয়’। হাতের সাথে সাথে সীমার পুরো শরীর ছন্দময় ভঙ্গীতে উঠানামা করছিল পাটার উপর। খুব রোমান্টিক দৃশ্য। এই লীলাময় ভঙ্গিতে মসলা পিষা হচ্ছিল কিনা কে জানে, নাকি শিল শুধু পাটার বুক ছুঁয়ে মধুময় ভঙ্গীতে আসা যাওয়াই করছিল। কঙ্কা যেমন সন্তর্পনভাবে গিয়েছিলো ঠিক সেভাবেই চলে এলো কেউ টের পায়নি। এই সাত সকালে কারো প্রেমময় অনুভূতি নষ্ট করতে তার কিছুতেই ইচ্ছে করলো না। কিন্তু প্রেমিক যুগল মজা টের পেলো আরো আধ ঘন্টা পরে। কঙ্কা ভেবেছিলো মা আবার শুয়ে পড়েছে কিন্তু না, মা মুখ হাত ধুয়ে রান্নাঘরে গেলো চেক করতে কি কি কতোদূর এগিয়েছে। আজকে ছুটির দিনে সবাই একসাথে আরামসে বসে বাসায় নাস্তা খাবে। তাই নাস্তার বিশেষ আয়োজন। রান্নার বুয়া যখন বললেন ছোলা এখনও বাটা হয়নি, হালুয়া তাই বসাতে পারেনি, মা গেলেন সীমার বাটাবাটি চেক করতে। এতোক্ষনেও এটুকু ডাল বাটা কি করে শেষ না হলো। মা যেয়ে দেখলেন সীমা সেই লীলায়িত ভঙ্গীতে শিল-পাটা নিয়ে খেলা করে যাচ্ছে। দূরে কোথাও রেডিওতে কোন সিনেমার প্রেমের গান বাজছে। রাগে মা জ্বলে উঠলেন, মায়ের চিৎকারে সাত সকালে সব কাক উড়ে যাওয়ার অবস্থা। একেতো ছুটির দিন পাড়াময় সব ঘুম নিঝুম শান্ত কোন, শব্দ নেই তারমধ্যে সাত সকালে মায়ের এই চিল চিৎকার। কঙ্কার ভাইয়া বিছানা ছেড়ে দৌঁড়ে উঠে গেলেন মাকে নিয়ে আসতে, মায়ের এক কথা ওকে আমি রান্না ঘরের বারান্দায় ডাল বাটতে দিয়ে এসেছি ও কোন সাহসে শিল-পাটা নিয়ে এই বারান্দায় এসে বসল। ভাইয়া মাকে শান্ত করার জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দিয়ে বোঝাতে লাগল। কদিন পরেই ভাইয়া পাশ করে বেরোবে আর চাকরী মোটামুটি রেডি। সেজন্য ধুমসে কঙ্কাদের আত্মীয় স্বজন ভাইয়ার জন্য মেয়ে দেখছে। প্রায়ই আশে পাশের বাসার আন্টিরা এসে কঙ্কার মাকে খবর দিয়ে যায় যে আপনার ছেলের খোঁজ নিতে আজ একজন এসেছিলেন। ভাইয়া বুঝাতে লাগল তুমি যদি এভাবে চিৎকার করো মা তাহলে কি আমার জীবনেও বিয়ে হবে? পাড়ার লোক যখন বলবে ছেলের মা এমন খানে দজ্জাল তখন কোন বাবা প্রাণে ধরে মেয়েকে আমার কাছে দিবে? তুমি তোমার ছেলের ভবিষ্যতটা একবার ভাবো মা। ইত্যাদি নানান অকাট্য যুক্তির পর আস্তে আস্তে মা একটু শান্ত হলেন।
কিন্তু সীমা আর সেই রোমিও এই অপমান সহ্য করতে পারল না। পরদিন বিকেলে সীমা ছাদে কাপড় তুলতে গেছে, কাপড় নিয়ে সীমা আর আসছেই না। এমনিতে সীমা ছাদে গেলে যথেষ্ঠ দেরী করে, ছাদে যেয়ে প্রথমে এদিকে ওদিকে উঁকি -ঝুকি দিবে ঘুরবে, গান গাইবে। তা নিয়ে রোজ বকা ঝকাও খায় কিন্তু আজতো ঘন্টা পার হয়ে গেলো সীমা আসছে না। প্রথমে রান্নার বুয়াকে পাঠানো হলো সীমাকে ছাদ থেকে ডেকে আনতে আর এদিকে কঙ্কার মাতো বাসায় বসে গরগর করছিলই আজকে ও নামুক নীচে আমার একদিন কি ওর একদিন। বিকেলের সব কাজ পড়ে আছে ওদিকে মহারানীর দেখা নেই। কিন্তু বুয়া এসে খবর দিল ছাদ তন্ন তন্ন করে দেখে এসেছে কোথাও সীমা নেই। তখন দারোয়ানকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হলো সীমা কি নীচে গেছে, দারোয়ান সেটা বলতে পারল না। তাছাড়া দারোয়ান আছরের নামাজ আদায় করতে কিছুক্ষণের জন্য মসজিদে গিয়েছিল, মেইন গেট তখন অরক্ষিত ছিল। দারোয়ানকে বলা হলো নীচে খুঁজে দেখতে। কিন্তু তখনও কারো মাথায় সীমা পালিয়ে যেতে পারে এ সম্ভাবনার কথা মনে হয় নি। এতো বড়ো দুঃসাহস সে করবে এটা তাদের সবার কল্পনার অতীত ছিলো। চিনে না জানে না কদিনের দেখায় কারো হাত ধরে চলে যাওয়ার মতো অসম্ভব ব্যাপার কে ভাবতে পারে? দারোয়ান নীচে দেখে এসে বলল, সীমা সেখানেও নেই। মা তখন বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে খুঁজে আসতে বললেন, অন্য ফ্লোরের মেয়েদের সাথেও সীমার বেশ সখ্যতা আছে যদি সেখানেও যেয়ে থাকে। নেই নেই নেই কোথাও নেই। কি করা এখন। বাসার সবার সব কাজ মাথায় উঠলো, সবাই মিলে সীমাকে খোঁজা চলল। এরমধ্যে রান্না ঘরের বুয়া জোরে চিৎকার করে কেঁদে উঠল যে তার ঈদে পাওয়া নতুন শাড়ি সহ আরো দুখানা ভালো শাড়ি আর সেগুলোর সাথের ম্যাচিং ব্লাউজ, পেটিকোট আর তার নুতন স্যান্ডেল জোড়াও নেই। সীমা নিজের ভালো দুটো জামা নেয়ার সাথে সাথে বুয়ারগুলোও নিয়ে গেছে। পুরনো কি আধ পুরনো কিছু সাথে নিয়ে যায়নি। এ খবর পাওয়ার পর মোটামুটি বোঝা গেলো কি হয়েছে। এরমধ্যেই সন্ধ্যা নামলো, ভাইয়া বাড়ি ফিরলো সব শুনে গেলো পাশের বাসায় চেক করতে আসলেই কি সেই রাজমিস্ত্রীর সাথে গিয়েছে নাকি অন্য কিছু। সেই রাজমিস্ত্রির কথা সেখানে কেউ ঠিক করে বলতে পারছে না তবে এটা ঠিক বিকাল থেকে তার দেখাও নেই। রাত কাটলো উদ্বেগ আর উত্তেজনা আর টেলিফোনের মধ্যে দিয়ে। বাবা কিছুটা মায়ের উপর বিরক্ত মা কেনো আগে থেকেই টের পেলেন না। কিন্তু কতোদিন ধরেই মা বাবার সাথে বলছিলেন কোনদিন কোন অঘটন ঘটে যাবে, তার আগেই আমি ওকে ওর মায়ের কাছে দিয়ে দায়িত্বমুক্ত হতে চাই। সেজন্য কঙ্কার নানুকে ফোন করে কঙ্কার মা আর একটা লোক যোগাড় করতেও বলে দিয়েছিলেন। হয়তো সেই থেকেই সীমা তক্কে তক্কে ছিলো। টেলিফোনেতো বড় রাখঢাক করে কথা বলা হতো না আর মা রেগে গেলে সীমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিবেন বলে শাসাতেনও বটে।
পরদিন ভোর সকালেই কঙ্কার বড় মামা কঙ্কাদের বাড়ি এলেন। ঠিক হলো ভবিষ্যতের দায় এড়াতে পুলিশে খবর দিয়ে রাখাই ভালো যদিও চব্বিশ ঘন্টা না পার হলে পুলিশ মিসিং পার্সন নথিভুক্ত করে না। কঙ্কাদেরকে বলা হলো সীমার একটা ছবি খুজে রাখতে, থানায় যাওয়ার সময় লাগবে। আর সীমার বাবা মাকে বাড়ি যেয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আস্তে ধীরে খবর দেয়াটাই ভালো হবে এই ডিসিশন নেয়া হলো। ডিসিশন নিতে পেরে বাড়ির বড়রা একটু হালকা হলেন, বাড়ির গুমোট একটু কাটলো। জীবন যাত্রা স্বাভাবিক হতে লাগল। দুপুরে সবাই যখন একটু রিলাক্স খেতে বসেছে তখন ঝনঝন শব্দে ফোন বেজে উঠল। ফোন মাইই ধরলেন। আজকাল রাস্তার মোড়ে মোড়ে পি,সি,ও হওয়াতে ফোন আর কোন বড় ব্যাপার না। সীমা ফোন করেছে, ফোনে মাকে বলছে , আমারে মাফ সাফ কইরা দিয়েন, আমি ভালোই আছি, আমার স্বামীর সাথে, আমার জন্য খাস দিলে দোওয়া কইরেন আফনে। সামনে পেলে মা হয়তো সীমাকে কাঁচাই খেয়ে ফেলতো, বহু কষ্টে মা নিজেকে সংবরন করে সীমাকে জিজ্ঞেস করলেন এখন কোথা থেকে ফোন করেছিস? সীমা বলল এখন আমরা সিলট আছি, সত্যি বলল না মিথ্যা কে জানে। সীমা আবার বলল আপনি এট্টু ফোন কইরা আমার আব্বা - আম্মারে এই খবরটা দিয়েন আর খালুজানরেও কইয়েন আমার জন্য খাস কইরা দোয়া করতে। মা শুধু বলতে যাচ্ছিলেন তুই এভাবে না বলে চলে গেলি কিন্তু বেশী কিছু বলার আগেই সীমা লম্বা বিনীত ছালাম দিয়ে ফোন ডিসকানেক্ট করে দিল। ফোনের পরে পুলিশে যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত বাদ দেয়া হলো। আস্তে আস্তে যত দিন যাচ্ছিল আবিস্কার হচ্ছিল সীমা পালিয়ে যাওয়ার জন্য বহু দিন ধরেই তৈরী হয়েছিল। রান্নাঘরের শোকেস থেকে সীমা কিছু বাসনপত্র, গ্লাস সরিয়ে রেখেছিল, বিছানার চাদর, টেবিলের কাপড় এধরনের অনেক কিছুই নিয়ে পোটলা করে ছাদের কোথাও বা নীচে গ্যারেজের পাশে এদিক সেদিক লুকিয়ে রেখেছিল। এতো বড় সংসার থেকে কেউ চারটে কাচের বাসন বা গ্লাস কিংবা দুটো বিছানার চাদর সরিয়ে রাখলে খুব সহসা সেটা ধরার উপায়তো কিছু নেই। আর এই সমস্ত নিদারুন আর্কষণীয় তথ্যগুলো আবিস্কার করছিলেন বুয়া আর দারোয়ান। কিন্তু যাবার সময় হয়তো বেচারী সীমা তাড়াহুড়ায় সব জিনিস নিয়ে যেতে পারেনি। নতুন সংসারের স্বপ্ন ছিল তার চোখে, যেমন প্রত্যেক বাঙ্গালী মেয়েরই থাকে, সেই স্বপ্নকে সার্থক রুপ দিতেই পাখির মতো একটু একটু খড়কুটো একত্র করছিল। যাকে এখন চৌর্যবৃত্তির অপরাধের নামে আকা হচ্ছে।
এই নিষ্ঠুর শহরে প্রেম খুঁজে পাওয়াতো আর সোজা কথা নয়। কেউ যদি খুঁজেও পায় তার প্রেমের রাস্তায় আসে হাজারো বাধা। কারো প্রেম দেখার বা বোঝার কারো সময় বা আগ্রহ নেই। ফেলো কড়ি মাখো তেল এখানে হলো সেই কথা। কঠিন শহরের কঠিন প্রেম। আর তারচেয়েও কঠিন হয় তার পরিনতি। যদি রাজমিস্ত্রীকে পাড়ার লোক ধরতে পারত তাহলে তার কি হতো ভাবা যায় না আর সীমার পরিনতির কথাতো বাদই থাকলো। খবর শোনার পর সীমার বাবা মা কঙ্কাদের বাড়ি এসে অনেক আস্ফালন করলেন, মেয়েকে পেলে টুকরো টুকরো করে কেঁটে পানিতে ভাসিয়ে দিবেন, কি কুক্ষনে এমন কলঙ্কিনী মেয়ে জন্ম দিয়েছিলেন, আগে জানলে জন্মের মুহূর্তেই মেয়ের মুখে লবন ঢেলে মেরে ফেলতেন, মেয়ের সাথে চির জীবনের সম্পর্ক ছিন্ন ইত্যাদি ইত্যাদি। আস্ফালন শেষ হলে সীমার মা ডুঁকরে ডুঁকরে কেদে উঠলেন সন্তান বাৎসল্যের কারণে। সীমার বাবা মুখ গুজে, মাথা নীচু করে বসে রইলেন সারাটা সময়। কারো চোখের দিকে তাকালেন না, কারো সাথে কোন বাক্য বিনিময়ও করলেন না। হয়তো এমনটাই হবে সীমা ধারণা করেছিল সেজন্যই কি সীমা এই কঠিন শহর ত্যাগ করে অনেক দূরে চলে গেলো তার প্রেমের জীবনের সন্ধানে? কেউ তার প্রেমের কদর করতে পারবে না সেই জ্ঞান সীমার মধ্যেও হয়তো ছিল, তাই সবার থেকে দূরে নিজের জীবন খুঁজতে গেলো সে। হয়তো সেখানে প্রেমের অপরাধে তাকে দিন রাতের গঞ্জনা, অভিশাপ সহ্য করতে হবে না, সহ্য করতে হবে না মাস্তান বাহিনী কিংবা আত্মীয় স্বজনের হুমকি ধমকি। সারাদিন কাজের পরে কারো প্রেমময় চোখের দিকে তাকিয়ে সে ভুলে যাবে পরিশ্রমের ক্লান্তি। কারো সমুদ্রসম ভালোবাসা সীমার সারা জীবনের পাওয়া না পাওয়ার, দুঃখ বঞ্চনার হিসাবকে ভুলিয়ে অন্যকোন সুখের আঘোষের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। ভুলে যাবে অনেক কিছু না পাওয়া, দুঃখ, অপমান, বঞ্চনার ইতিহাস। বেরসিক ঢাকা আর যাই বোঝে না বোঝে কিন্তু মরার প্রেম বোঝে না।
তানবীরা হোসেন তালুকদার
০৭।০৬।০৭





শেষপর্বটাই পড়লাম। এখন তো প্রথমে থেকে পড়তে হবে। তাইলে শুরু করা যাক।
আপনি কি আমার দাওয়াত পেয়েছেন? কোন মেইল পেলাম না এখনো? আসতেছেন তো। আমার রান্না খেয়ে এখনো কেউ প্টল তুলে নাই, আপনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন, ভয় পেয়েন না
শেষপর্বটা ভাল লেগেছে
কঠিন হইসে। এবির লোকজন বেশ রোমান্টিক।
কিন্তু এই লেখাটা পড়ে মন বেজায় খারাপ হইল।
(তারাহুড়োয় "ছাদ"-এ চন্দ্রবিন্দু পড়ে গেছে)
তাড়াহুড়োয় "তাড়া" হয়ে গেছে তারা ।
দু পর্বই পড়লাম। ভাল লেগেছে। পুতুপুতু প্রেম কাহিনী ভাল লাগেনা, কারন এসব অবাস্তব। এটা ঠিক প্রেম কাহিনী না, মধ্যবিত্তের জীবনের কিছু অংশও উঠে এসেছে।
বড়লোকে করলে হয় প্রেম, ছোটলোকে করলে নষ্টামি।
ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা গল্পটার চেয়েও গল্পের দর্শনটা ভালো লেগেছে বেশী।
ভিন্ন সমাজে বাস করতে করতে অনেক কিছুর প্রতি এখন দৃষ্টিভঙ্গী ভিন্ন হয়ে গেছে
নীড়দার কথাটাই মনে আসছিলো। গ্রেট মেন থিঙ্ক অ্যালাইক
তোমার আরেকটা নাম জানা গেলো
সই, হুদাই কষ্ট করতাছো ময়না। এসব নাম আমার পছন্দের। তাই বসাই দেই। আমি আসছি ক্ষ্যাতোন্নি ক্ষ্যাত পরিবার থেকে। আমার ডাক নাম রাখছে আমার মেজো চাচী আর ভালো নাম ছোট চাচা। বুঝছোতো কি কই?
তাতাপু, শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছ তোমার লেখনী দিয়ে। আমার একটা চাহিদা পেশ করছি তা হলো- কিছু কিছু জায়গায় বর্ণনাকে সংলাপে পরিণত করে দিলে আরো আয়েশ করে পড়া যেতো।
তুমি কী তাহলে এখন থেকে 'তাহোতাপু'?
সেই কিছু কিছু জায়গাটা ধরে দে। চেষ্টা করি।
জোশ গল্প!! মশ্লা বাটার বর্ণনাটা জটিল!!
চোখে দেখলে জীবনেও ভুলটা না দৃশ্যটা
নুশেরাপু এবং রাজ মিস্ত্রির কাহিনিটা মনে পড়ে গেল
আসলেই বস্। এমনভাবে লিখেছেন যে বলার কিছু নেই। কিছু বললে মানবেনও না। তার চেয়ে অফ গেলাম। ইমো দেইখা বুইঝা লন।

আপনের মন্তব্য থেকেতো আমার

দরকার নাই
কাল এই পোষ্টে তিনবার আসলাম আপনার সাথে আড্ডাইতে ....প্রত্যেকবারই নেট গেছে।
তাতাপু কেমন আছেন? এমন পোষ্ট পড়লে মন ফুরফুরা লাগে।
জয়িতা, নিয়ত ঠিক ছিলো কি? খিচুড়ি কবে খাচ্ছো?
তাতাপু আমারে এই কথা কইলেন!
প্রতি রাতে ব্লগে ঢুকে আপনাকে খুঁজি। ইদানীং বাসায় নেট খুব প্রবলেম করে। অফিস যখন থাকি আপনি থাকেন না তখন।
ঈমানে কইতাছো
ঈমানে কইলাম কিনা এইবার বুঝে নেন।এজন্যই বলেছি ভালুবাসা ভালু না। লুকে বুঝে না।
লুকে আজকাল খালি দুষ দেয়, ক্যান?
মন্তব্য করুন