বকুলকথা (১)
বকুল একবার উঠছেতো আবার বসছে বিছানায়। অস্থির লাগছে প্রচণ্ড কিন্তু কিছু করার নেই তার, জানে না কি করলে অস্থিরতা কমবে। টেবিলের ওপরে থাকা বইগুলো উল্টাচ্ছে, বাণী বসু’র লেখা ইদানীং খুব টানে তাকে। বহুবার পড়া “একুশে পা” আবারো খুলে বসলো, যদি মনটাকে ব্যস্ত রাখা যায়। কিছুক্ষণ অক্ষরগুলো চোখের পরে নাচানাচি করলো, অক্ষরগুলোকেই চিনতে পারছে না সে। পড়ার বৃথা চেষ্টা বন্ধ করে আবার বসলো। আজ ছুটির দিন হয়েছে বলেই জ্বালা। কোথাও যাওয়ার নেই তার, বন্ধু নেই বান্ধবী নেই। পার্লার আর বাড়ি আর বাড়ি আর পার্লার এইই জীবন প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বকুলের। কর্মঠ মেদহীন শরীর দেখে কেউ ধারণাই করতে পারবে না আটত্রিশ কাটাচ্ছে বকুল এখন। সবাই ভাবে বড়জোর ত্রিশ। যদিও আজকাল কেশে রূপালী রেখে দেখা দিতে শুরু করেছে। সেদিন ঝর্ণাদিকে বলে মেহেদী রঙে ডাই করেছে নিয়েছে চুল সে। পরিচ্ছন্ন থাকতে বকুল খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলার অভ্যাস, রাঙা কাকিমা করিয়ে দিয়েছেন। মুখে মেকাপ লাগিয়ে সাজে না সে খুব একটা কিন্তু সবসময় ম্যাচিং শাড়ি – ব্লাউজ – জুতো। হাতে কানে রঙ মিলিয়ে সামান্য পলার চুড়ি আর দুল। এতেই অন্যদের থেকে আলাদা দেখায় তাকে। মাঝারি গড়নের বকুল যে খুব আহামরি কিছু সুন্দরী নয় তা সে নিজেও জানে। কিন্তু তার ছোট চোখের সাথে মিলিয়ে কিভাবে মোটা করে কাজল পড়তে হবে আর মোটা গড়নের ভুরু প্লাক করতে হবে, মোটা ঠোঁটটাকে কি করে আঁকলে বিশ্রী দেখাবে না সেটাতো সে জানে আর তাতেই প্রায় কালো ঘেষা গায়ের রঙ, আর প্রায় ছোটর দিকের মাঝারী গড়নের বকুল, মোটামুটি দেখতে ভালো এই বিশেষণ পায় অন্যদের কাছে।
প্রিন্টেড জর্জেটের শাড়িটা আবারো ভালো করে পিঠের ওপর দিয়ে এনে শরীরের মাঝে ঠিকঠাক জড়ালো সে। বসে বসে নখ দিয়ে মেঝের ওপর নানা রকম আল্পনা কাটছিলো। ঠাণ্ডা মেঝেতে পা রেখে এই আল্পনা আঁকা খেলাতে তার অনেক অবসর সময় কাটে। তার জীবনের যেমন কোন অবয়ব নেই, নেই এই আল্পনাগুলোরও কোন আকৃতি প্রকৃতি। নেহাত জন্মেছে বলেই যেমন তার বেঁচে থাকা তেমনিই এই আল্পনার অস্তিত্ব, কেটে যাওয়ার জন্যই যাওয়া। মাঝে একবার উঠে পাশের ঘরের সবাইকে আর এক দফা চা নাস্তা দিয়ে এসেছে সে। বাড়িটা খুব বড় নয়, না চাইলেও পাশের ঘরের কথা অনায়াসে এ ঘরে বসে শোনা যায়। আর পাশের ঘরেতো রাখ ঢাক করে কথা বলা হচ্ছে না। সবাই যার যার মতামত জোর গলায় দিচ্ছেন। শুধু বকুল অনাহুত সেখানে, সামনে দিয়ে অনেকবার যাওয়া আসা করলো, কেউ একবার তাকে বললো না বকুল তুইও বোস, গুরুত্বপূর্ন কথা হচ্ছে এখানে, তোর থাকাটা জরুরী। সে যে একটা মানুষ তারও কষ্ট হতে পারে, কিছু আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে সেটা তাদের হিসেবের মধ্যেই নেই? কিন্তু সে যে হিসেবের মধ্যে পরে না সেটাতো সে অনেকদিন ধরেই জানে, জানে না? তারপরও তার মনের মধ্যে কীসের ক্ষীণ আশা সে এতোদিন লালন করেছিল?
আজো সেদিনটার স্মৃতি তার চোখে মনে জ্বলজ্বল করে। বোস বাড়ির রাঙাকাকু বিয়ে করে ফুটফুটে রাঙা কাকিমাকে বোস বাড়ি নিয়ে এলেন। বকুল তার জীবনে কখনো এতো সুন্দর মানুষ দেখেনি, মনে হচ্ছে সাক্ষাত দুর্গা প্রতিমা। দুর্গা ঠাকুরের মতো বড় বড় মায়াভরা চোখ, লাল টুকটুক ঠোঁট আর পিঠ ভর্তি একরাশ কালো কোঁকড়ানো চুল। সারা পাড়ায় বলাবলি হতে লাগলো বউ এসেছে বটে বোস বাড়ি উজ্জ্বল করে। বকুল রোজ মায়ের সাথে আসে, মা যখন বাড়ির কাজ করে বকুল তখন রাঙা কাকিমার পাশে পাশে ঘুর ঘুর করে। হাসি হাসি মুখের রাঙা কাকিমাকে দেখে তার মনের আশ মেটে না। রাঙা কাকিমা যদি তাকে কিছু করতে বলেন সে কৃতার্থ হয়ে যেতো। এভাবে দিন যায় রাত আসে আবার রাত কেটে দিন আসে। রাঙা কাকিমার সাথে বকুলের খুব ভাব হয়ে গেলো। কাকিমা তাকে ছবির বই কিনে দিলেন, অ আ ক খ পড়াতে লাগলেন। বকুলের মা অন্য বাড়িতেও যখন কাজে যায়, বকুল এ বাড়িতেই থাকতে লাগলো। শয়নে স্বপনে বকুলের পৃথিবীর ভরে রইল শুধু রাঙা কাকিমা। বছরের পর বছর ঘুরেও যখন রাঙা কাকিমার ঘর উজ্জ্বল করে কেউ এলো না তখন রাঙা কাকু মা’কে বললেন বকুল আমাদের কাছেই থেকে যাক। আমরা ওকে পড়াশোনা করিয়ে বড় করবো। একথায় বকুল আর শুধু বকুলের মা নয় বকুলের পুরো পরিবার খুশিতে নেচে ওঠেছিল। বকুলদের বস্তির অনেকেই বকুলের ভাগ্য দেখে হিংসা করেছিল, কেউ কেউ হয়তো নিঃশব্দে দুঃখের নিঃশ্বাসও ফেলেছিলো।
সেই থেকে রয়ে গেলো বকুল বোস বাড়ি। বয়স বেশি বলে সে প্রথমেই স্কুলে ভর্তি হতে পারলো না। কাকু কাকিমার কাছে পড়াশোনা করতে লাগলো। দুপুরে কাকিমার সাথে ঘুমোতো, টিভিতে সিরিয়াল দেখতো। কাকিমা কতো গল্প করতো, বই - সিনেমার ম্যাগাজিন পড়ে শোনাত, রবীন্দ্র সংগীত থেকে আরতি মুখার্জী, লালনের গান থেকে কিশোর সব কাকিমার পাশে থেকে জেনেছে সে। স্যান্ডউইচ বানানো কিংবা জিরা পানি, ইকেবোনা থেকে ঝাড়দানি, কাকিমা পাশে থেকে হাত ধরে ধরে বাড়ির মেয়ের মতো করে শিখিয়ে দিলো তাকে । হাঁটতে, চলতে, বলতে বোস বাড়ির মেয়েদের মতো হয়ে গেলো সে দ্রুত। মাঝে মাঝে মা ভাইবোনদের সাথে দেখা করতে নিজেদের বাড়িতে যায় বকুল, নিজেকে তার সেখানে খুবই বেমানান লাগে। কি চিৎকার করে মুখ খিচিয়ে খিচিয়ে কথা বলে তার মা বাবা, ছিঃ। দুজনের প্রতি দুজনের কোন ভালোবাসাতো নেই, শ্রদ্ধা ভক্তিও নেই। এ ভাষায় কেউ কাউকে কথা বলে। ভাই বোনদের মুখের ভাষা শুনলেতো দুহাতে কান ঢেকে লজ্জায় নুইয়ে পড়তে লাগলো। দাদা দিদিকে কিছু শিখাতে গেলে কিংবা বলতে গেলে তারা তাকে উলটো বিদ্রূপ করে হেসেই খুন হতো। বকুলের ভদ্দরলোকপনা তখন ভাই বোনদের কাছে একটা হাসির উপাদান। সহ্য করতে পারে না, কখন বোস বাড়িতে ফেরত চলে আসবে সেজন্য অস্থির হয়ে ওঠে সে । আর এখানের ইলেক্ট্রিকের পাখা ছেড়ে, ঐ ঘুপচি ঘরে আলো ছাড়া, বাতাস ছাড়া তার দম বন্ধ হয়ে আসতো। চারধারে আবর্জনার দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ করে আর কতোক্ষণই বা থাকা যায়।
আস্তে আস্তে স্কুলে যেতে শুরু করলো। স্কুলের খাতায় তার বাবা মায়ের নাম এলো আর লোকাল গার্জিয়ান হিসেবে নাম এলো রাঙা কাকুর। পড়াশোনায় বকুলের তেমন মাথা ছিলো না আর পড়াশোনা করার তেমন ইচ্ছেও ছিলো না। ভবিষ্যতের কতোটুকুই কেউ বুঝে সে বয়সে। বোস বাড়ি থাকতে পেয়েই সে বর্তে ছিলো। অনেক কষ্টে কোন রকমে স্কুল ফাইন্যাল পাশ করলো বকুল। কাকা কাকিমা তার উচ্চতর পড়াশোনার ব্যাপারে খুব আগ্রহী ছিলেন না। তারা বললেন, স্কুল ফাইন্যালতো হলো, ঠিকাছে, এখন বরং কাজ কিছু কর। বকুলের নিজের পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলেও সে এক কথায় খুবই অবাক হয়েছিল। তখনো বোস কাকুরা সব যৌথ পরিবারে থাকেন। বাড়ির অন্য ছেলে কিংবা মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে সবারই খুব কড়া দৃষ্টি। এই রাঙা কাকিমাই সেজ কাকুর ছোট মেয়ের ইংরেজি ট্রান্সলেশন নিয়ে প্রত্যেক দুপুর পরে থাকেন। কিন্তু বকুলের পড়া কিংবা পরীক্ষা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যাথাই সে দেখলো না। হলেও ভালো না হলেও ভালো।
বকুল কি করবে কি করবে। তাই নিয়ে বকুলও ভাবছে, বোস বাড়ির কেউ কেউ ভাবছেন আর ভাবছেন বকুলের বাবা মা। বকুলের মা – ভাইয়ের ইচ্ছে, তারা যদি দেখে শুনে বকুলকে পাত্রস্থ করে দেন তাহলেতো একটা হিল্লে হয়ে যায়, একটা বোঝাও নেমে যায়। স্কুল ফাইন্যাল পাশ মেয়েই বা কম কী। তারা ইশারা ইঙ্গিতে বোস বাড়িতে একথাটা অনেকভাবে পাড়ল কিন্তু বোস বাড়ির কেউ তাতে গা করলো না। বোসরা তখন সবাই যার যার অংশ গুছিয়ে আলাদা হওয়ার তালে আছেন, সেই ব্যস্ততায় বকুলের ভবিষ্যত চিন্তা পাথর চাপা পড়ে গেলো। রাঙা কাকিমাতো বকুলকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকার কথা ভাবতেই পারেন না, বিয়ে দিবেন কি? রাঙা কাকিমার বাতের ওষুধ কি মাথা টিপে দেয়া, রাঙা কাকুর অফিসের ভাত বাড়া তো ব্যাংকে গিয়ে বিদ্যুতের বিল দেয়া বকুল ছাড়া সবই অচল। যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে কাকু কাকিমা বকুলকে আরো আঁকড়ে ধরলেন। বকুলের কাঁধে তখন রাঙা কাকিমার সংসারের চাবি, এই কতৃর্ত্ব হাতে পেয়ে বকুল তখন দিশেহারা। ছাদে যেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তরুণী সে গুন গুন গান গায়। কতো শতো স্বপ্ন তার দুচোখ বেয়ে অর্হনিশি উপচে পড়ছে। নিজের সৌভাগ্যে নিজেই ইর্ষান্বিত সে। ছোট বাগানঘেরা মায়া ভরা এই বাড়ির একজন সে। যাকে ছাড়া এবাড়ির কেউ কিছু ভাবতে পারে না।
(চলবে)
তানবীরা
৩০.০১.২০১১





ভাল লাগলো । পরের পর্ব দ্রুত চাই ।
ধন্যবাদ আপনাকে।
অঃ টঃ আপনাকে ঠিক চিনলাম না। আপনার অন্য ব্লগের কোন রেফারেন্স আমাদের দিতে পারেন?
ঠিক বুঝলাম না, সকলের প্রতিনিধি হয়ে আপনি কি জানতে চাচ্ছেন । তবে আমার কোন ব্লগ নাই আর আপনাদের ব্লগের সদস্য হয়েছি বলে কি কোন সমস্যা হয়েছে নাকি? আপনার এমন কোয়ারি আমাকে খুবি কষ্ট দিয়েছে ।
সকলের প্রতিনিধি হয়ে জানতে চাইছি, এটা কোথায় লিখেছি আমি ভাই?
অন্যান্য যারা কমেন্ট করেন তাদের নিক থেকে চিনি, আপনাকে চিনতে পারছি না বিধায় জানতে চাইলাম, আপনি যদি অন্য কোথাও লিখেন তার লিঙ্ক থাকলে আপনার সম্পর্কে জানতে পারতাম।
কেনো দুঃখিত হলেন বুঝলাম না যদিও তবুও দুঃখ দেয়ার জন্য দুঃখিত।
বকুলের সুখী (!) সমৃদ্ধ জীবন নিয়ে ভাবিত হইলাম। সময় যেখানে দ্বন্দ্ব এনে হাজির করে।
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন নীড়দা, আপনি অভিজ্ঞ লোক।
দারুন প্লট। চমৎকার লিখেছেন ।
আরে মেজর দেখছি আমারে আপনিও বলে
তারপর বকুলের কি হলো? তাড়াতাড়ি লিখো, আর অহনার কি হোলো?
বকুল আর অহনার কি হলো আপনি জানেন না
কী নিখুঁত ছবি! কীভাবে পারো! শিগগির পরের পর্ব দাও।
সুমির সঙ্গে একমত হয়ে অহনাকেও টোকা দিয়ে গেলাম।
টাইপো আছে কিছু, দেখে নিয়ো আরেকবার।
হুমম টাইপো না "বানাম বুল"। বসবো ভুল বানান নিয়ে এখন
ধন্যবাদ সই
দারুণ! আসলেই তানবীরা'পু, কিভাবে পারেন? আজকাল কি কী-বোর্ডে হাত দিলেই ঝরঝর করে লেখা বেরোয়?
আহাহাহা আআহাহাহাহা, কে কারে বলছে।
তবে বললেন দেখে হ্যাপি স্যাপি হলাম, আপনারা বললে ভালো লাগে
কমেন্টের উত্তর এক চমৎকার করে দেন যে সেটাও ভালো লাগে। থ্যংকিউ
আরে মীর সেদিন পুরনো পোষ্ট গুলো ঘাটতে ঘাটতে আপনার একটা কমেন্ট পড়লাম, মোষ্ট প্রবাবলি আমার মেঘ পিওনের পোষ্টটাতে। যেখানে আপনি আমার অনেক গুনের উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমি যে খুউউউব ভালো রান্না করি সেটা আপনি উল্লেখ করেন নাইতো। যান কমেন্ট এডিট করে দিয়ে আসুন।
আমার সর্বজন স্বীকৃত গুনটাই আপনি উল্লেখ করেন নাই
রান্না আমিও খারাপ পারি না। তাই ঐটা সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হওয়ার কালে নিষ্পত্তির জন্য তুলে রাখার পক্ষে মত দিলাম। অবশ্য সর্ষে ইলিশ বা রেজালার মতো কঠিন রান্নাগুলো পারি না এখনো।
আপনার পুরান পোস্টে মাঝে-মধ্যেই ঘুর ঘুর করি। আপনেও যে যান, জেনে ভালো লাগলো।
ঠিক হ্যায়, লাড়কে লেঙ্গে শিরোপা। লেখা দিয়েতো পারবো না, রান্নাই সই
হুমম, খুব একলা মুহূর্তে পুরানো স্মৃতি ঘাটাঘাটি করি
লেখা দিয়ে তো পেরেছেনই, তবে রান্নায় কি হবে সেটা আগে থেকে বলতে পারতেসি না। ছেলেরা প্রকৃতিগতভাবেই কুকিংএর কাজে একটু বেশি পারদর্শী হয়। সেদিন পাঁচমিশালী ছোটমাছের দোপেঁয়াজা করেছিলুম...lol
ছোট মাছ খাই না, শুধু শুধু সময় নষ্ট। আমার জন্যে করবেন বড় গলদা চিঙড়ি, ইলিশের পেটি ভাজা হলেও চলবে, শিং - মাগুর।
আমিও ছোটমাছ খাইতে ভয় পাই।কিন্তু এবার জমিয়ে খাচ্ছি।আমার জন্য বেশী করে পিয়াজ হালকা আলু টমেটো ধনিয়া পাতা দিয়ে ছোটমাছের পুরপুরি করো।আর রুই-কাতল রান্না করো না।ঐ মাছ খাই না।

আমি পুরপুরির গন্ধ সহ্য করতে পারি না, পুরপুরি বনধ
ছোটমাছ কেন ভাল্লাগে না সেটা তো বুঝিই। আমার তো কুটা-বাছার ঝামেলা করা লাগে না। ওগুলো করেন একজন মহিয়সী নারী। যার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। থাকার উপায়ও নেই। যাউক্গা, পুরপুরি কিন্তু রান্নার একটা রকম। সেটার কোনো আলাদা গন্ধ নাই। আর আপ্নের জন্য চিংড়িই রান্ধুম। ধইন্যাপাতা দিয়া।
এখানে মাছ কেটে বেছেই পাঠায়। কিন্তু কাঁটা কাঁটা জিনিসের প্রতি আমার ছোটবেলা থেকে অরুচি। প্লাস অতো কাঁটা বেছে যেটুকু মাছ বের হয় তা পরিশ্রম অনুপাতে রেন্ডাবল না আমার জন্যে।
কিন্তু হাড্ডিওয়ালা মাংস আবার আমার অনেক পছন্দ
আর সব কাজ করে দিলে সব মা'রাই বোধহয় মহিয়সী।
যাক চিংড়ি খাওয়ার আশায় রইলাম, আমরা মা মেয়ে দুজনেই চিংড়ি ভক্ত, বেশি করে রান্না করো কিন্তু
দোয়া করি আরো কিছুদিন বেকার থাকুন।
রাগেন ক্যান?এতদিন পর একটা কমেন্ট দিলাম।
(
(
কমেন্ট কোথায়, অভিশাপ দিছো, শত্রু কোথাকারের
তানবীরা আপু চার হাতে লিখতে পারছেন, এইটাই আনন্দের বিষয় !
লেখার ফুল ফুটুক নিয়ত ।
আরশি ভাইয়া, আপনার বই নিয়েও রইলো আমার তরফ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা
মন্তব্য ১-৮ এর সাথে একমত ।
াহাহাহাহাহা, হুদা ভাইকে ধন্যবাদ
নতুন একটি সিরিজ। চমৎকার লাগলো। পরবতী পবের (রেফ দিতে পারলাম না) অপেক্ষায় রইলাম।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
চমৎকার ডিটেইল। কোন পুরুষ হাতে বের হত কিনা সন্দেহ
হাহাহাহাহা। পুরুষের হাতে হয়তো বের হতো তবে ............।।
বকুলকথা পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিলো অন্য এক তানবীরাকে পড়ছি। এ সিরিজটা অহনা সিরিজের মত জমে পায়েস হয়ে যাক- শুভকামনা।
শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ আপা। ভালো আছেনতো?
এত অনায়াসে সুন্দর করে লেখো কিভাবে আপু ?
তুমি হলে ছুপা রুস্তম। সেদিনের গল্প পড়ে তোমার আমি বিমোহিত। নতুন লেখা কোথায়?
সেদিন ঝর্ণাদিকে বলে মেহেদী রঙে ডাই করেছে নিয়েছে চুল
পরিচ্ছন্ন থাকতে বকুল খুবই ভালোবাসে।
-সে নিয়া ভাবিত আছি।
আর এই গল্পটা বেশি পছন্দ করলাম। দেরি হইলেও পাঠক হিসাবে বুকিংও দিয়া রাখলাম!
আমি খুবই সম্মানিতবোধ করছি
মন্তব্য করুন