নীল,সাদা,হলুদ - দলগুলো আজ একটি বিভীষিকার নাম
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় "মুক্ত জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র"। কিন্তু কোথায় আজ জ্ঞানের দিশারীগণ ? আজ প্রায় দুই মাস ধরে সেই জ্ঞানের লীলাভূমিতে কোন কাঁক পক্ষীও দেখা যাচ্ছে না। কোন একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে আজ লন্ডভন্ড হতে চলেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা । আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কী দোষ করেছে এই শিক্ষার্থীগুলো যাদের এমন শাস্তি পোহাতে হচ্ছে । হ্যাঁ, দোষ একটা করেছে তারা যে জন্ম নিয়েছে এই তথাকথিত সোনার বাংলাদেশে ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জ্ঞান চর্চার জন্য আমাদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ । কিন্তু আজ সেই শিক্ষকরাও নীতি থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন । তারা আজ ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা না করে ভাগ হয়েছে দুই বা ততোধিক ভাগে । ভাগ গুলোর নামও বড় মধুর। অমুক দলের "সাদা দল", তমুক দলের "নীল দল" । এছাড়া আরো বাহারি বাহারি নাম তো আছেই। এক দলের শিক্ষকরা ক্লাস নিতে চান, অন্য দলের শিক্ষকরা নিতে চান না । তাদের এই রেষারেষিতে পিষ্ট হচ্ছে কিন্তু সেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা । যারা ক্লাস নিচ্ছেন তারা হয়তোবা বিরোধী দলে থাকলে ক্লাস নিতে চাইতেন না কিন্তু এখন যেহেতু নিচ্ছেন তাই তাদের ধন্যবাদ। আর যারা ক্লাস নিচ্ছেন না তারাও হয়তোবা বিভিন্ন কারণ হাজির করছেন কিন্তু তাদের কাছে জানতে চাই, এই দুই মাসের বেতন নিবেন কি ? যেহেতু ক্লাস পরীক্ষা নিচ্ছেন না, সুতরাং বেতন নেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না ।
আপনারা শিক্ষক রাজনীতি করছেন ভালো কথা কিন্তু যাদের জন্য শিক্ষক হয়েছেন তাদের কথাটাও একটু ভাবা উচিৎ নয় কি? বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষক পেশাটাকে কিছুটা হীন চোখে দেখা হয়। এর কারণ কিন্তু এই ঘৃণ্য শিক্ষক রাজনীতি এবং কিছু শিক্ষকদের চরিত্রের অবক্ষয় । শিক্ষা এবং রাজনীতি - দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটির কাজ মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং অন্যটির দেশের মানুষের দেখভাল করা । দয়াকরে, এই বিষয় দুটিকে মিলিয়ে ফেলবেন না ! শিক্ষকরা আমাদের পিতা, আর পিতা কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করতে পারে না ।
মহামান্য শিক্ষকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ, আপনারা রাজনীতি করুণ কিন্তু আমাদের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না । লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের কষ্ট কিন্তু সৃষ্টিকর্তার নজর এড়িয়ে যাবে না।





একমত
মন্তব্য করুন