শেষ চিঠি
প্রিয়তমা,
আজ তোমার বিয়ে। কিছুক্ষন পরেই তুমি পরস্ত্রী হয়ে যাবে। এটাই তোমার কাছে আমার শেষ চিঠি। কারন, আজকের পর তুমি আর আমার প্রিয়তমা নও, অন্যকারো।
জানো সোনা, আজ মা'র সাথে কথা বলার সময় জিজ্ঞাসা করলাম, মা আমি কি অনেক খারাপ মানুষ ?
মা বললো, না, কেন?
আমি বললাম তাহলে আমার সাথে কেন এমন হয় ? সবাই কেন আমায় ছেড়ে দূরে চলে যায় ?
মা বললো, আসলে যে বা যারা চলে যায় তারা তোকে চিনতে পারেনি। তারা কক্ষনো বোঝার চেষ্টাই করেনি তুই আসলে কতটা আলাদা সবার চেয়ে। আর হয়তো তাদের কোনদিনই থাকার ইচ্ছা ছিলো না।
আমি বললাম, তুমি বাড়িয়ে বলছো। সব মায়ের ছেলেই তার কাছে আলাদা।
মা বললো, না এটা সত্যি না। তুই যদি আমার ছেলে নাও হতি তবুও আমি তোকে এই কথাই বলতাম। যে তোর সাথে থাকলো না, তার নিজেরই থাকার কোন যোগ্যতা নেই। আর যে অযোগ্য তাকে ভুলে যাওয়াই ভালো। যে তোর মত হীরার টুকরাকে কাচ ভেবে ফেলে যায় সে নিতান্তই অভাগা।
আমি জানিনা মা বাড়িয়ে বলেছে কি না? হয়তো নিজের ছেলে বলেই বাড়িয়ে বলেছে। তবে যাই হোক, আমি আসলেই অনেক ভাগ্যবান যার একজন মা আছে যে আমায় সম্পুর্ণ বোঝে।
লক্ষিটি, নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয় যখন দেখি আমার সারা জীবনের প্রাপ্তি আমার কতগুলো নি:স্বার্থ বন্ধু। যারা কোন অবস্থায়ই সাথ ছাড়েনি। সবচেয়ে খারাপ সময়েও মানসিক শক্তি হয়ে পাশে দ্বাড়িয়েছে। যেমনটা দ্বাড়ালো আজ আবার। অনেক ব্যাস্ততার মদ্ধেও আজ সবাই এসেছিলো আমায় একটু ভালো রাখতে। কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আনন্দ দিতে। এতে ওদের কোন স্বার্থ ছিলো না। শুধু ছিলো ভালোবাসা। এই ভালোবাসার টানেই নিজেরা আজ প্ল্যান করে আমায় মানসিক শক্তি দিয়ে গেলো।
আসলেই আমি সৌভাগ্যবান তোদের মত বন্ধু আমার আছে। আজ আমার দু:খে কান্না আসেনি এসেছে সুখে। আসলেই তোরা ছিলি তোরাই থাকবি। জীবনটা হয়তো বৃথাই রয়ে যেত যদি তোরা না থাকতি। আবীর, মাসুদ, কামরান শরীরের সবটুকু রক্ত দিয়েও তোদের এ ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া যাবে না। আবারও বিনম্র শ্রদ্ধা আর অসীম ভালোবাসা তোদের জন্য।
হাবলার আম্মু, এই রকম খারাপ পরিস্থিতিতে যেই নারী তার নি:স্বার্থ ভালোবাসায় আমার পাশে থাকলো তার চেয়ে ভালো কে বাসে আমায়? জীবন সঙ্গিনি হিসেবে তারচেয়ে যোগ্য কে আছে? তারচেয়ে আপন কে যে প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা দেখেও ছেড়ে যায়না? আমার পুনর্জন্ম শুধুই তোমার তরে।
এদের জন্যই হয়তো আমি এখনও স্ুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ। আর এত্ত ভালোবাসা যার জন্য আছে, তার একজনের শোকে হারিয়ে যাওয়া মানায় না।
তাই বলছি হে প্রিয়ে, থাকো তুমি তোমার সুখী জীবন নিয়ে। আমি তোমায় ছাড়াও ভালো থাকতে পারবো। তোমায় আজ করুণা করে ফেরত দিয়ে দিলাম তোমার মন। এখন থেকে আমি তাদেরকে নিয়েই বাচবো যাদের ভালোবাসায় স্বার্থ নেই। ভালো থাকবো একজন ছেলে, একজন বন্ধু, আর একজন মনের মানুষ হয়ে।
"তোমাকে যা দিয়েছিনু, সে তোমারি দান,
গ্রহন যত করেছো, ঋনি তত করেছো আমায়,
হে বন্ধু বিদায়। "
তবে হ্যা যাবার বেলায় বলে যাই, আমার মেয়ের নাম কিন্তু আমি পূর্ণতাই রাখবো।
- ইতি
হাবলার আব্বু





বাচ্চু আংকেলের এক গান ছিলো
শেষ চিঠি কেনো এমন চিঠি হয়..
চিঠি লেখা ভালো হইছে দশে আট পাবেন নির্ঘাত!
শেষটা এমনই হয়
হাবলুরআম্মুকে পেয়েছেন? এখনি বান্ধেন, কুথাও যেন যেতে না পারে। আর বলেন বড় হুজুরের থেকে আপনার জন্য পানি পড়া আনতে , আপানি আবার যেন সেই তাকে মনে না করেন।
নাহ, তাকে মুক্ত করে দিয়েছি। সে সুখে থাকুক আপন স্বার্থ নিয়ে, আমি না হয় থাকলাম অতৃপ্তি নিয়ে।
ভুলে যান, ননসেন্স ভাই। এইখানে কেউ কারোর নয়।
আইচ্ছা গেলাম
১. নেক্সট প্রিয়তমারে এইসব বৈলেন্না। । ওরা এইসব কথা শুনলেই লোকজন্রে বাকীর খাতায় ফেলে দেয়।
২. শুধু চেয়ে না থেকে, এইবারের প্রিয়তমার .. -টাকেও ভালোবাইসেন। তাইলে তারে ধরার উদ্যোগ একটা নেয়ার উদ্যম খুঁইজা পাবেন। আবার সব বাদ দিয়া শুধু ওইটাকেই ভালোবাসা স্টার্ট কইরেন্না; সঙ্গে অন্য যা কিছু আছে, সেগুলোকেও ভালোবাসার আওতায় নিয়া আইসেন।
আর তারপরেও যদি পাখি উড়াল দেয়, তাইলে আর যাই করেন না কেন; কোনো প্রকার 'শেষ চিঠি' লেইখেন্না। কারণ দুইন্যার সবকিছুর একটা শেষকথা আছে। সেইটা হচ্ছে- শেষ বলে আসলে কোনো কিছু নাই।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য উপরোক্ত কমেন্ত প্রযোজ্য নয়। ইহা কেবলি উক্ত লেখার একটি প্রতিউত্তর মাত্র। কেহ যদি ইহাকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করিতে চায় কিংবা কেহ যদি পরামর্শগুলো পালন করিতে চায়, তবে নিজ দায়িত্বে করিতে হইবেক।
মনে থাইকবে , পরের বার থেইক্ক্যা
আপনার আম্মুর কথাগুলো চমৎকার।
মা তো মা ই
জগতের সেরা নারী
দুইন্যার সবকিছুর একটা শেষকথা আছে। সেইটা হচ্ছে- শেষ বলে আসলে কোনো কিছু নাই।
শেষ তো তার জন্য আমার দিক থেকে
মন্তব্য করুন