ইউজার লগইন

যে গেছে, সেকী আর ফিরে আসবে!!

আজম খানের দরাজ কণ্ঠস্বরের কথা লেখছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। আমি তার সাথে একমত হইতে পারি নাই। দরাজ শব্দটা শুনলে আমার যেই দ্যোতনা তৈরী হয় তার সাথে আজম খানের গায়কীর সামান্যতম মিলও আছে কীনা তা নিয়া আমার সন্দেহ আছে। আজম খান তার রেকর্ডকৃত গানেও বেসুরা হইছেন বহুবার। তার লগে যারা ড্রাম আর ব্যাস গীটার বাজাইতো তারা প্রায়শঃই অস্থির হইয়া উঠতো তাল জ্ঞানের খামতিতে। আজম খানের স্কেইল উঠানামায় কোনো সামঞ্জষ্য ছিলো না কোনো কালে। তিনি গান ধরতেন এক উদ্ভট স্কেইলে।

তবে তিনি কীসের সঙ্গীত শিল্পী যার গানে নিয়মের কোনো বালাই নাই। যা ইচ্ছা তা করার স্বাধীনতা কি শিল্পীর থাকে!? আমাগো এই ভারতীয় উপমহাদেশে তাল-লয়-সুর ছাড়া সঙ্গীতের ধারা বা ঘরানার কোনো স্থান আছে? এমনকি প্রাচ্য-দূরপ্রাচ্য বা পাশ্চাত্যেও কি আছে এমন কোনো সঙ্গীত শিল্পীর স্থান যে নিয়মের ধার ধারে না!?

তবু কেনো আজম খানের গান শুনতাম সেই ছোটোবেলা থেইকাই? রেডিওতে বা বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার গান থাকলে বইপত্র কিম্বা খেলা ফালাইয়া রাইখা নিবিষ্ট হইয়া শুনতাম কেনো!? আজম খান আমার কাছে যতোটা সঙ্গীতের-পপ কালচারের, তার চাইতে অনেক বেশি নিয়ম ভাঙতে শেখার, নিয়মের থোড়াই কেয়ার করার গুরু। স্কুল বয়স থেইকা তক্কে তক্কে থাকতাম কোথায় তিনি গান গাইবেন এই তথ্যের জন্য...আজম খানের কনসার্টে ঢুকতে মারামারি পর্যন্ত করছি। তিনি ডান হাত তুলবেন, আমিও তার সাথে ডান হাত তুলতাম, তিনি বাম হাত তুললে আমিও বাম হাত। আমার কাছে আজম খান মানে গলা খুইলা চীৎকার করতে পারার স্বাধীনতা। আজম খান মানে মুক্তপ্রাণ...এই স্বাধীনতার বোধেই চল্লিশ বছর বয়সেও হয়তো কথিত ইমম্যাচিওর্ড রইয়া গেছি, এই স্বাধীনতার জোশেই যখন যা মনে হয় তা বলার বা করার মতোন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হই। পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চর্চা করতে চাইলেই অভ্যস্ত হইয়া উঠতে পারি না, কেমন খচখচ করতে থাকে মন, অপরাধবোধ কাজ করে।

আজম খান আমার কাছে সেই ঝড়ের পাখি যে কখনো নীড়ে ফেরে না। নীড়ে ফেরা মানুষের মতোন ক্লীশে-সুখী হওয়ার বাসনা কখনো এইসব অমানুষের থাকে না। আবার এই অসামাজিকের গানেই ভালোবাসতে শিখি মানুষেরে...অন্য কোনো পরম পাওয়ার জন্য। এই চাওয়ারে কখনো লাগে মরমী কখনো লাগে বস্তুতান্ত্রিক।

আজকে তার মৃত্যুর দিনেও তার গানের বাণীতেই আছি।

এই বিদায় বেলা কেউ কেঁদো না...

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাইক্যাডালিক অ্যাঁতেল :D 's picture


আজম খান আমার কাছে যতোটা সঙ্গীতের-পপ কালচারের, তার চাইতে অনেক বেশি নিয়ম ভাঙতে শেখার, নিয়মের থোড়াই কেয়ার করার গুরু।

১০০ ভাগ সহমত পোষন করছি

ভাস্কর's picture


আজম খানরে পপ'য়ের গুরু বলার একটা ফ্যাশন আছে...কিন্তু যারা বলে তারা আসলে মিডিয়ার তকমা লাগানি কালচারাল বিক্রিবাট্টার শিকার। আজম খানের সাথে পপ কালচারের চর্চা অনেকেই করছে। আজম খান পপ কালচারে যা করছে ফেরদৌস ওয়াহিদ-পিলু মমতাজগো অবদান তার চাইতে অনেক বেশি।

আজম খান আসলে পপ না, সে তার নিজের ঘরানা তৈরী করছে। নাগরিকতার মধ্যে সে যেনো বাউলিয়ানার মানুষ। যে আসলে কেবল গান গাইয়া মুগ্ধ করে নাই, সে পারফর্ম করছে জীবনের মঞ্চেও। একটা যাপিত অধ্যায়ের মধ্য দিয়া যাওয়া। পরিবর্তনের চিন্তা নাই তার গানে, আছে স্বকীয়তার ডাক...

তানবীরা's picture


পোষ্ট আর এই কমেন্ট দুটোই বেশ ভালো লাগলো

কৌশিক আহমেদ's picture


লেখাটা পড়ে...পুরাটা না পড়ে পারলাম না। এবং তারপরে আমার দীর্ঘ জটিল পাসওয়ার্ড তিনচার ভুল করে লগইন করতে বাধ্য হলাম এই কথাটাই বলতে যে লেখাটা আমার ভীষণ পছন্দ হইছে।

সামছা আকিদা জাহান's picture


গুরুও প্রথম গান শুনেছি খুব ছোট বেলায় ক্যাসেট প্লেয়ার এ। রেডিওতে হয়তো বাজতো কিন্তু মনে পড়ে না। ওরে সালেকা ওরে মালেকা --- খুব ভাল লাগতো। পরে একদিন টিভিতে দেখে তাকে চিনি ইনিই সেই সালেকা মালেকার গায়ক।

লীনা দিলরুবা's picture


অন্যরকম একটি লেখা। +

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


আজম খান আমার কাছে সেই ঝড়ের পাখি যে কখনো নীড়ে ফেরে না। নীড়ে ফেরা মানুষের মতোন ক্লীশে-সুখী হওয়ার বাসনা কখনো এইসব অমানুষের থাকে না। আবার এই অসামাজিকের গানেই ভালোবাসতে শিখি মানুষেরে...অন্য কোনো পরম পাওয়ার জন্য। এই চাওয়ারে কখনো লাগে মরমী কখনো লাগে বস্তুতান্ত্রিক।

আজকে তার মৃত্যুর দিনেও তার গানের বাণীতেই আছি।

এই বিদায় বেলা কেউ কেঁদো না...

রশীদা আফরোজ's picture


একদম ছোটবেলায় দেখতাম আমার বড় ভাই-বোনরা কী দারুণ ভক্ত ছিলেন অঅজম খানের, বড় হতে হতে আমিও...
কান্না তো পায় তবু।

জ্যোতি's picture


এভাবে চলে যাওয়াটা কষ্টের।

১০

ভাস্কর's picture


কোনভাবে গেলে কষ্ট হইতো না? মৃত্যু বিষয়টারে তার প্রকৃতি দিয়া চিনতে চাইলে মনে হয় না লোকটারে চেনা যায়...তিনি যদি বার্ধক্য জনিত কারনে মরতেন তাইলে বিষয়টা কষ্টের হইতো না? একটা লোক কেমোথেরাপি'র কষ্ট সহ্য করতে না চাইয়া বা মৃত্যুরেই কাঙ্খিত মনে কইরা চিকিৎসার মাঝপথ থেইকা উইঠা চইলা আসলো...যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি মৃত্যু। এই মৃত্যুই তো লোকটার প্রকৃতিরে চিনাইয়া দেয়...এই নিয়মবদ্ধ রুচীনির্ভর দুনিয়ায় সে যে আউটস্কার্ট হইয়া যাইতেছিলো এই উপলব্ধিতো তার ছিলো...ফ্রাস্ট্রেশন নিয়া তার একটা গান আছে,

যেদিন চলে গেছে, সেদিন কভূ আর আসবে না
হারানো দিনের কথা মনে পড়ে কেনো জানি না, জানি না, জানি না
জ্বালা জ্বালা জ্বালা শুধু মনেরই
জ্বালা জ্বালা জ্বালা শুধু প্রাণেরই
ফ্রাস্ট্রেশন...
ফ্রাস্ট্রেশন না...

চিন্তারো কোনো পথ নেই
ভুলিবার কোনো শেষ নেই
যা গেছে সে কি আর ফিরে আসবে!?

১১

রামানুজ পুরোহিত's picture


‎আজম খান হলেন স্বাধীনতার অপর নাম।।

১২

সন্ধ্যা প্রদীপ's picture


আমার কাছে আজম খান মানে গলা খুইলা চীৎকার করতে পারার স্বাধীনতা।

১৩

শওকত মাসুম's picture


মনের কথাগুলো যা লিখতে পারতাম না, তা দারুণ করে লিখলেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...