আমি ৩ জুলাইয়ের হরতাল সমর্থন করি...
আমি কস্ট রিকভারী'র অংকটা আদৌ বুঝি না। তামিম সাহেব থেইকা শুরু কইরা দেখি ব্লগ লেখকদের অনেকেও ২+২=৫ এর অনেক হিসাব মিলাইয়া বুঝাইয়া দেয়। এতোদিন শোনা ৮০% আর ২০% ভাগাভাগির অংকটা অনেকরে মিলাইতে দেখি আরো জটিলতায়। তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি আরো বাড়ে। আমরা আশান্বিত হইতে শুরু করি, অন্ততঃ ২০% তো না! ২৭% পাওনের সম্ভাবনা আছে। আবার ২০% আর ৮০%'এর অংকটা কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিলে উত্তর শুনি ঐটা কেবল এলএনজি'র বেলায় ঘটবো। আমি এলএনজি বুঝি। দীর্ঘদিন সিটি করপোরেশনের বাইরে থাকনের অভিজ্ঞতায় বুঝি তরল গ্যাসে নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবন চলে। বড়লোকেদের জন্য পাইপ বসাইয়া বায়বীয় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এই এলএনজি'র লেইগা পাইপ লাগবো না এই সুসংবাদও অনেকে শোনায়। কিন্তু এলএনজি'র দাম কিরম হবে? তারবেলায় দেখি সকল কবিরাই নীরব।
নীরব কইলে অবশ্য ভুল হয়। তারা চামে চিকনে এইটাও কওনের চেষ্টা করে যে এত্তো বড় সম্মানআলা কোম্পানী কনকোফিলিপস আসছে তারা কি হুদাই এইখানে জনসেবা করবো!? পৃথিবীতে তাগো কতো বড়বড় প্রজেক্ট আছে। বাংলাদেশের সমুদ্রতটে আর কয় টাকার গ্যাস থাকবো! তারা আসছে, তাগো সম্মান করতে হইবো। এইটাই একবিংশ শতকের নিয়ম। তয় ইতিহাস কয় অন্য কথা। এগো চাইতেও নামকরা কোম্পানী আসছিলো। কেয়ার্ন এনার্জি আধাখেচরা কাম কইরা বাংলাদেশরে বিপদে ফালাইয়া দিয়া চইলা গেছে এর আগে। পরে আমাগো গরীবানা হালের পেট্রোবাংলা'র সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সেইখানে কারিগরী খাটাইয়া আবার সম্ভাবনা দেখানের পর আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেই নাকি উৎসাহী হইছিলো। কিন্তু আমেরিকান লবি'র প্রেশারে টেন্ডারবাজীতে সফল কনকোফিলিপস।
কনকোফিলিপসের লগে চূক্তি নিয়া সরকার লুকোছাপা খেলে। তারা ২০০৮ সালের কি আইওসি আর পিএসসি'র কথা কয়। আমি এইসব বুঝি না। তয় শুনি ঐখানেই এই কস্ট রিকভারী অংকের উল্লেখ আছে। পোলাপাইনে সংগ্রহ কইরা আপলোডাইলো, ডাউনলোড কইরা সেইটা পড়লাম, কিন্তু এইসব পিএসসি/আইওসি বোঝা আমার কম্ম না সেইটা বুঝলাম। যারা বুঝাইয়া দিতে পারবো তাগো মূখাপেক্ষি হইতে গিয়া দেখি তারা আমাগো দেশের নেতা-নেত্রী-কর্মকর্তাগো সততার উপর বেশ আস্থাশীল। কনকোফিলিপসের কাছ থেইকা ন্যায্য দামে গ্যাস কিননের কথা তারা শোনায়। তারা শোনায় কনকোফিলিপসের উপর নাকি আমাগো নেটিভ বাদামী চামড়ার কর্মকর্তারা ছড়ি ঘুরাইবো এইবার। তারা যট্টুক উত্তোলন করতে কইবো সেইটুকেই সন্তুষ্ট থাকতে হইবো কনকোআলাগো। নিয়মের বাইরে তারা এক পা'ও দিবার পারবো না।
আমি কস্ট রিকভারীর অংক বুঝি না। আমি আইওসি/পিএসসি বুঝি না। আমি মেইজারিং প্লেইস বুঝি না। আমি আন্তর্জাতিক এক্সপ্লোরেশন আইন বুঝি না। কিন্তু বুঝি এইভাবে আমাগো দেশে দুর্নীতির আরেকটা ক্ষেত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলে। তামিম সাবে আসছে সাতসমুদ্রতেরোনদী পার হইয়া। তার অন্তরে এই দেশের সমুদ্রতটে আমেরিকান সাম্রাজ্যের পতাকা উড়ানির বাসনা আছে। সেই ২০০১ সাল থেইকাই সে এই পায়তারা কষতাছিলো, এখনো তাতেই আছে। আর আছে আওয়ামি আলারা, যারা ক্ষমতায় থাকনের লেইগা যাইচ্ছাতা করবার পারে। বিএনপিআলারাও তত্ত্বাবধায়ক নিয়া এত্তো ফালাইতাছে, কিন্তু গ্যাস বিক্রী নিয়া তাগো কোনো মন্তব্য নাই।
আমাগো শহর এলাকার জমির মালিকরাও এপার্টমেন্ট ডেভেলপারগো লগে আজকাল ৫০%-৫০% চূক্তিতে যায়। সেইখানে কস্ট রিকভারী তত্ত্ব কেমনে কাজ করে জানি না। কিন্তু গ্যাসের ডেভেলপাররা আমাগো মাল আমাগো কাছেই বেশি দামে বেচনের নকশা বানায়। পৃথিবীতে এইরম ঘটনা খালি আফ্রিকাতে ঘটছে শুনছি। সেইখানে যুদ্ধবিগ্রহ আর রাজনৈতিক কোন্দলেই যায় এখন। এইসব তেল-গ্যাস কোম্পানীরা সেইখানে কীসব করে তা নিয়া পশ্চিমারাই বহুত উপাখ্যান লেখছে। এখন আফ্রিকা সাফা। তেল-গ্যাস কোম্পানীগুলির নজর পড়ছে এশিয়ার দিকে। এইখানে বিদ্রোহ হয় না বহুকাল...
কিন্তু এইসব তেল-গ্যাস আলারা ভুইলা গেছে বাঙালি জাতি যুদ্ধ কইরা ভাষার অধিকার নিছে শাসকগো থেইকা, যুদ্ধ কইরা তারা স্বাধীনতা অর্জন করছে। এতো সহজে তেল-গ্যাস-কয়লা তারা নিয়া যাইতে পারবো না। আমাগো সম্পদে আমাগো ভাগই থাকতে হইবো বেশি। কনকোফিলিপসরা হইলো কন্ট্রাক্টর। ফাটকাবাজারীর এইসব কন্ট্রাক্টরগো লগে দালালি চূক্তি এই জাতি কখনোই মাইনা নিতে পারে না।
আসেন ৩ জুলাইয়ের অর্ধদিবস হরতালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়া আমরা বুঝাইয়া দেই। দেশের সম্পদের মালিক এই দেশের ক্ষমতালোভীরা রাজনীতিবিদেরা না, এই সম্পদের মালিক আমরা, জনগণ...এই সম্পদের ভাগযোগ কি হইবো সেইটা জনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হইতে হইবো।





সংহতি
আমরাও বাসায় এটা নিয়ে কথা বলছিলাম। তেল - গ্যাস কেন পানি বিক্রি করে দিলেও কারো কিছু আসবে যাবে না। "আমরা মরি কি আসে যায় - মহাজনে পাওনাটা চায়
কালকে খবরে দেখলাম মীর্জা ফখরুল এতোদিনে রুমানারে দেখতে হাসপাতালে গেছে, চারধার নীরব হয়েছে পরে। যেয়েও রাজনীতির বক্তৃতাই দিচ্ছে
হরতালের সাথে একমত। এটা হবে জনগনের হরতাল, রাজনীতির নয়
সত্যিকারের জনগনের হরতাল ।
আরেকটা আশির দশক লাগবো
ঐ এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকার ক্ষেত্রেই বা কি সিদ্ধান্ত ! আসল চুক্তির চেহারাও এখোনো দেখলাম না।
আমিও ৩ জুলাইয়ের হরতাল সমর্থন করি, আমাদের সবার উচিত করা।
আমিও
এই বিষয়ে লিখেছিও
একুদির কমেন্টে লাইক
৩ জুলাইয়ের হরতাল আমিও সমর্থন করি

এশিয়াতেও তারা বহু আগে থেকেই আছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগতো এশিয়াতে।
তবে আপনি এলএনজি আসলেই বোঝেন না।। । ঢাকার বাইরে যে তরল গ্যাস চলে সেটা এলপি গ্যাস।
এলএনজি তরল রূপে রপ্তানী হয় পরে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে সাপ্লাই দেয়।
যা বুঝলাম এলএনজি গ্যাস কি এইটাও আমি বুঝি না। টেকনিক্যাল বিষয়ে আমার অজ্ঞতা ক্ষমা করবেন আশা করি। তবে রাজনৈতিক ইতিহাস জানবার কারনে কন্সপিরেসীর বিষয়গুলি বুঝি।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আরব জাতীয়তাবাদের কারনে ৫০-৬০'এর দশকে একভাবে এইসব তেল কোম্পানীর এবং মার্কিনী সাম্রাজ্যের কুটকৌশলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়াতে তারা আফ্রিকান দেশগুলির মতোন কইরা অনুপ্রবেশ করতে পারে নাই। যেই দ্বন্দ্ব এখনো অনেকটাই ক্রিয়াশীল। বাংলাদেশ, ম্যাকাও, কম্বোডিয়ার মতোন দেশগুলিতে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারনে বিষয়টা এই মুহুর্তে তুলনামূলকভাবে সহজ। যার সুযোগ তারা নিতে সচেষ্ট হইতেছে।
আমিও -- আমি কাল রাজপথে থাকব।
হোক হরতাল
হোক হরতাল
হোক হরতাল
~
একটা জরুরী লেখা....
সমুদ্রে কনকোফিলিপস আর ভ্রান্ত তথ্যের সমুদ্রে তরুণদের জিজ্ঞাসা
জুলাই ২, ২০১১
হরতাল কিন্তু ভালই হইছে।
...কিন্তু পত্রিকা পড়ে তো মনে হলো দেশে হরতাল বলে কোনো শব্দ ছিল না ৩ তারিখে।
মন্তব্য করুন