চোখে নিয়ে স্বপ্ন আর বুকে নিয়ে অনেক অনেক কথা, আমার বয়স বাড়ে, আমি বাড়ি না...
শৈশবে টিচার জিগাইলো বড় হইলে কে কী হইতে চাও? তখনো আমি আসলে জানতাম না আমি কী হইতে চাই, তাই বেশিরভাগ বন্ধুর জবাব অনুসরণ কইরা বলছিলাম পাইলট হবো টীচার! পাইলট হইতে চাওয়াটা মনে হয় তখনকার পোলাপাইনের কাছে ফ্যাশনের মতোন ছিলো। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতো সেই আমলের শিশুরা...তখনো আমার তেমন কোনো স্বপ্ন তৈরী না হইলেও আমিও পাইলট হইলাম। কিন্তু আসলে তখন থাকতাম একেবারেই নিজের ভেতর। একটা ছোট্ট নিজের রাজ্য ছিলো, সমব্রানিয়া। সেই রাজ্যের ত্রাতা ছিলাম আমি।
তখন আমরা ফুলস্কেইপ কাগজ কিনা সেইটারে ভাজ কইরা কইরা ছোট ছোট খাতা বানাইতাম। খাতা সেলাই করতে শিখছিলাম মায়ের কাছে। পছন্দমতোন মলাট দিতাম। আমার বেশ কয়েকটা এমন ছোট ছোট খাতার মধ্যে প্রধান ছিলো একটা কালো খাতা। সেইখানে সমব্রানিয়ার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার পরিকল্পণা লেখা হইতো (যদিও সার্বভৌম শব্দের সাথে তখন পরিচয় ঘটে নাই)। আর বাকী খাতাগুলিতে থাকতো শিশুসুলভ ছড়া। সেইসব ছড়ায় অন্ত্যমিলের প্রয়োগ দেইখা আমার অভিভাবকেরা অতিশয়োক্তি করতেন, আত্মীয় স্বজনেরা আমার সৃজনশীলতায় মুগ্ধ হইয়া যাইতেন। এইটুকুন একটা ছেলে এমন লিখে! এই টাইপ একটা অভিব্যক্তি ফুটতো তাদের চোখেমুখে। সেইসব লেখালেখির কোনো আরকাইভ রাখা হয় নাই। কারণ বয়স যতো বাড়ছে আমার ঐরম সব লেখালেখিরে বালখিল্য্ মনে হইতে শুরু করছে। কৈশোর কালে গিয়া আমি লেখালেখিতে থাকলেও আর লেখক হওনের স্বপ্ন দেখি নাই আর।
কৈশোরে আমি কী হইতে চাইছিলাম? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁইজা পাইতেছিনা ঠিক এই মুহুর্তে। আমার কেবলি মনে পড়ে, তখন আমি শুধুই হয়তো বড় হইতে চাইতাম। ক্রিকেট খেলতাম, এলোমেলো একা একা ঘুরতাম। কিন্তু নামজাদা খেলোয়াড় কিম্বা গ্লোব ট্রটার হওয়ার শখও তেমন ছিলো বইলা মনে পড়ে না। এখন মনে হয় আমি তখন এসএসসি পাস করতে চাইতাম শুধু। তারপর নিজের মতোন কইরা একটা জীবন যাপন করা যাবে বইলা ভাবতাম।
আসলে বড় হইয়া ওঠার কোনো সীমারেখা নাই। এসএসসি পাস কইরা আমি টিউশনি শুরু করছি। এইচএসসিকালে আমি বাড়ির বাইরে রাত কাটানোর স্বাধীনতা জোর কইরা আদায় করছি। খাদ্যাভ্যাস-পাঠাভ্যাস তৈরী করছি ইচ্ছামতোন, কিন্তু তবুও কেমন আটকা আটকা লাগে। কোনো লক্ষ্যস্থির করতে পারি না। তবে তখন কিছু বিপ্লবের গল্প পড়া হইছে, মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস জানা হইতেছিলো। তারমধ্য দিয়া নিজের ভেতরে ছোট্ট একটা বাসনার পাখি তার ডানা মেলতে শুরু করছে। সমাজ বিপ্লবের বৃহৎ ক্যানভাসে ছোট্ট একটা বিন্দু হইতে চাইতাম মাঝে সাঝে...
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইলাম। সেইখানে পুরাদস্তুর নিজেরে সম্পৃক্ত করলাম রাজনীতির সাথে। অনেকের মধ্যে একজন হইয়া কখনো সখনো কবিতা লেখা, কখনো সখনো সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে বিলীন হবার স্বপ্ন দেখা...এইভাবেই গেছে ঐ সময়টায়। এরমধ্যে থিয়েটার করছি, সিনেমা এক্টিভিজমেও ছিলাম। এই সময়টাতেই আমি প্রথম সত্যিকারের কিছু একটা হইতে চাইছি। বিপ্লবী! আসলেই আমি বিদ্রোহী হইতে চাইছিলাম!
সেই রাজনীতিতেও থাকা হয় নাই আমার। কিছু মুল্যায়ণের গ্যাঞ্জামে আমি দলগত সেই বিদ্রোহের চর্চাতেও আবদ্ধ রাখতে পারি নাই নিজেরে, আর ওমনেই শেষ হইছে বিদ্রোহ করবার যূথবদ্ধ প্রচেষ্টা স্বপ্ন। এরপর আরো সাতঘাটের জল খাইয়া বিজ্ঞাপনি সংস্থায় চাকরী টাকরী শেষে এখন সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখি। হয়তো এই স্বপ্নও আগের মতোই মুখ থুবরাইয়া পড়বো। কিম্বা এতোদিনের গইড়া তোলা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারবো...জানি না। কিন্তু স্রোতে গা ভাসাইতে না চাওয়ার একটা ডেলিবারেট অভ্যাস তৈরী হইয়া গেছে এতোদিনে। যদি দেখি স্রোতের প্রাবল্যে আর নিজেরে স্থির রাখতে পারতেছি না, তাইলে বুঝবো এইবার নিজেরে ধ্বংসের সময় সমাগত...
তবে ফ্রাস্ট্রেশন তৈরী হইছে কিম্বা হয়; এমন অস্থির স্বপ্নে স্বপ্নে জীবনের প্রায় চল্লিশ বছর কাটাইয়া দিতে দিতে মনে হয়...জীবনে আসলে কিছুই করা হইলো না। এখনো জন্মদিবসের প্রাক্কালে অন্যরা কিভাবে স্মরণ করে তার প্রতি লক্ষ্য রাখি। আমার জন্মদিবসে মানুষ কেক-কোক খাইতে চায় এখনো...কিন্তু এই সময়ে তো বাকীদের আমার জন্মদিবস পালনের আয়োজন করার কথা ছিলো। যদিও বাকীদের সেই প্রেরণার জন্য আজো তেমন কিছু করতে পারলাম না...
কয়দিন ধইরাই একটা গান শুনতেছি, অঞ্জন দত্তের, তুমি আসবে বলে তাই। আপনারাও শুনতে পারেন।





সব স্বপ্ন বৃথা গেলেও সিনেমা আপনি তৈরি করতে পারবেন মনে হয়। তবে ভাল ছবি বানায়েন। আর জন্মদিনটা উল্লেখ করে দিয়েন।
আপনে এমন সাইধা খাওয়াইলে আমরা না করতে পারি!!
শুভ জন্মদিন। কেক-কোক কবে খাবো?
সাইধা খাওয়ানের কোনোই আগ্রহ আমার নাই...আক্ষেপ আছে। এখনো জন্মদিনে মানুষ তার আয়োজন নিজেরা না কইরা আমার কাছেই খাইতে চায় বইলা। এই বয়সেতো বিখ্যাত হইয়া যাওয়ার স্বপ্ন ছিলো...আর কয়দিনই বা বাঁচুম।
আমদের সময়ে আমাদের সবার ডাক্তার হইতে চাওয়ার নিয়ম ছিল। বাসা থেকে শিখায় দিতো কি হতে চাবো
কয়দিন আগে ডাচ টিভিতে একটা প্রোগ্রাম দেখাচ্ছিলো, বাংলাদেশে ওদের দেয়া সাহায্যেতে বাচ্চারা পড়াশোনা করছে ইত্যাদি। সেখানে যে বাচ্চারেই জিজ্ঞেস করে কি হতে চাও, সেই ডাক্তার হতে চায়। ডাচ যে ভদ্রলোক ইন্টারভিউ নিচ্ছিলো সে ডাচে বলছিল, আর্শ্চয ব্যাপার, দেশভর্তি সব বাচ্চা, সিঙ্গার, এক্টর, শিক্ষক কিছু হতে চায় না, সব শুধু ডাক্তার হতে চায়।
আমিতো তখন হাসছি.।.।.।.।.।.।.।আর ভাবছি অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল .।.।.।
আমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল অনেক বড়লোক হব। কীভাবে? কোথাও হঠাৎ একটা গুপ্তধন পেয়ে।
আপনাকে তো আয়োজন করে খাওয়াইছেই, আফসোস করেন কেন?
জন্মদির নাকী! শুভ জন্মদিন ভাস্কর দা।
শুভ জন্মদিন।
মা যদি হও রাজি বড় হলে আমি হব খেয়া ঘাটের মাঝি।
হেপী বাড্ডে ভাস্করদা'। কেমন আছেন? নতুন একটা সিরিজ শুরু করেন্না।
অবচেতন মনে শিশুকাল থেকে যারা অনেক কিছু হতে চায়, তারা আসলে তেমন কিছুই হয়ে উঠেনা.....
আমারও যে তেমন ইচ্ছা ছিলো 

জন্মদিনের শুভেচ্ছা আগেই জানাইছিলাম বস। আরেকবার জানাইলাম। ভালো কামনা বার বার করলে দোষের কিছু নাই
মন্তব্য করুন