লটকন
খুব অল্পবয়সে কাব্যপ্রতিভা দেখা দিলে যা হয় আর কি- আমার নামডাক বেশ ছড়িয়ে পড়লো। বিশেষ করে ইয়ারদোস্তরা এই প্রতিভা দেখে মুগ্ধ!
সম্ভবত ক্লাশ ফাইভেই হবে- কী করে কী করে যেন বুঝে গেলাম ছড়া লেখা খুব একটা কষ্টের ব্যাপার না। হাতির সাথে ছাতি, ডলার সাথে মলা ইত্যাদি শেষ দিকের শব্দগুলোর মধ্যে একটা মিল থাকলেই সহজে ছড়া লেখা যায়। ঠিক সেই সময়েই একটা ছড়া পড়ি যার লাইনগুলো মোটামুটি এরকম- চলে হনহন/ছোটে পনপন/বায়ু শনশন/ফোঁড়া কনকন...। এই ছড়া পড়ে আমার সেই ধারণা আরেকটু পোক্ত হলো।
সুতরাং শেষ শব্দের মিল নিয়ে কোনো ভাবনাই রইলো না। ছড়া লিখতে গিয়ে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারলাম, শেষ দিকের শব্দে বেশ সহজেই মিল দেয়া যায়, ঝামেলা বাধে তার আগের শব্দগুলো নিয়ে। তারপরও ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় একটা ছড়া নামিয়ে দিলাম। আমাদের বাসায় বাবলুদা লজিং হিসেবে থাকতেন। খুব পড়তেন। তাকে নিয়ে লিখলাম, “বাবলু পড়ুয়া...”। এই মুহূর্তে আমার লেখা এই প্রথম ছড়ার আর কোনো লাইন মনে নেই। 
বাবাকে ছড়া দেখালাম। বাবা খুব উৎসাহ দিলেন। ফলে পরবর্তী কয়েকটি বছরে আমি মোটামুটি মোহনগঞ্জের অন্যতম সেরা ছড়াকার বনে গেলাম। আমার প্রথম ছড়া প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে বের হওয়া নবারুণ পত্রিকায়- তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। এরপর নিয়মিত নবারুণ, সচিত্র বাংলাদেশ, শিল্পতরু ইত্যাদি ম্যাগাজিন ও আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ ইত্যাদি নানা পত্রিকায় নিয়মিত ছড়া বের হতে থাকে।
এদিকে আমার ছোট বোন আমার সব কাজের ন্যাওটা। আমার নানা প্রতিভায় সে শুরু থেকেই মুগ্ধ! প্রথম ছড়া লেখার পর তার আবদারে তাকে নিয়ে একটা ছড়া লিখে দিতে হলো। এটি আমার জীবনের দ্বিতীয় ছড়া এবং প্রথম ছাপার অক্ষরে (নবারুণ পত্রিকায়) প্রকাশিত ছড়া। ছড়াটি হলো-
ছোট্ট মেয়ে মৌসুমী
সারাদিন দুষ্টুমি
স্বপ্ন দেখে ঘুমি ঘুমি।
এক যে রাজার পুত্র
ধরে মাথায় ছত্র
যাচ্ছে চলে যত্রতত্র।
এই ছড়া দেখে মৌসুমী তো মহামুগ্ধ। সে আর কিছু পারে না; কিন্তু গড়গড় করে এই ছড়া বলতে পারে। দেখতে হবে না কার লেখা! তার দাদার লেখা না! :
মোহনগঞ্জের তখন বেশ কয়েকজন ছড়াকারের নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। রইসউদ্দীন আহমদ, রানা, নাসের, সুবল বণিক জলের মতো ছড়া লিখেন। বিশেষত সুবল বণিকের দুটো ছড়া বেশ আলোড়ন তোলে আমাদের এলাকায়। একটি হলো এরশাদবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে লেখা:
হাড়হাভাতের ছা
ভাতের যুদ্ধে মিছিল করগে
গুলি খাগে যা!
... (আর মনে নাই, কিন্তু এটি বেশ আলোড়ন তুলেছিল।)
আরেকটি হচ্ছে মোহনগঞ্জের বিখ্যাত ট্রেন নিয়ে লেখা। যারা ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জে ট্রেনে কখনো যান নি, তারা এই ছড়ার মর্ম বুঝতে পারবেন না।
মোহনগঞ্জের রেলে চড়া সাত জনমের পাপ
চড়বে যদি ভাববে তুমি এ কোন অভিশাপ!
আমি তখন সবেমাত্র তবলা বাজানো শেখা শুরু করেছি, আর সুবল বণিক ভালো তবলা বাজান। আমি তখন সবেমাত্র ছড়া লেখা শুরু করেছি, আর সুবল বণিক ভালো ছড়া লিখেন। সুতরাং সুবল বণিককে আদর্শ ধরে আমিও পুরোদমে ছড়া লেখা শুরু করলাম। (আফসোস, আমার ছড়ার খাতাটা কীভাবে যে হারিয়ে গেল, অনেকদিন ধরে খুঁজে পাই না।
)
এর মধ্যে কালীপূজা এসে গেল। বাবা তখন ভোরের কাগজের মোহনগঞ্জ সংবাদদাতা এবং মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। সিদ্ধান্ত হলো প্রেসক্লাব থেকে কালীপূজা উপলক্ষ্যে একটা ম্যাগাজিন বের হবে। আমাকে বাবা ছড়া দিতে বললেন। আমিও বেশ উৎসাহ নিয়ে লিখে ফেললাম-
ত্রিনয়নী দেবতা তুমি
সবার পূজারী
তোমার দর্শন পেয়ে মন
ধন্য সবারি।
...(অন্য অনেক ছড়ার মতো এটারও এই কয়টা লাইন মনে আছে।)
ইতোমধ্যে মোহনগঞ্জে ছড়া, কবিতা, গল্প লেখক মোটকথা সাহিত্যিকরা মিলে একটা মঞ্চ গড়ে তুলেছেন, নাম মুক্তস্বর। রইসউদ্দীন স্যার হলেন সেটার প্রাণপুরুষ। আমরা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবলিক স্কুলের মাঠে বসে সারা সপ্তাহে যা উৎপাদন এবং পুনরুৎপাদন করতাম, তা সবাইকে পড়ে শোনাতাম, অন্যরা সেটা নিয়ে আলোচনা করতেন। মোটামুটি আমার কাব্যপ্রতিভা বিকাশের সমস্ত সুযোগ অবারিত হয়ে পড়লো।
এ সময়ে মোহনগঞ্জের সমস্ত কবিসাহিত্যিকসাংবাদিক মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন একটা ম্যাগাজিন বের করার। আমাকে বলা হলো ছড়া দিতে। মোহনগঞ্জ যেহেতু মাছের এলাকা, তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মাছ নিয়ে একটা ছড়া লিখবো। বাজারে গিয়ে একদিন অনেক মাছের নাম লিখে নিয়ে আসলাম। তারপর ম্যাগাজিনে যে ছড়াটা বেরুলো তার প্রথম লাইনগুলো এরকম-
মাছ আছে হরেকরকম
শিং, মাগুর, চেলা
আরো আছে মজার স্বাদের
বাইম, গজার, ঢেলা।
পাবদা, পুঁটি, কাচকি মাছ
পোয়া, ফলি, চিতল
সব মাছই ঢাকা যায়
হয়ে বরফ শীতল।
... (আর মনে নেই...)
ব্যাস, আমার কাব্যপ্রতিভা এবার তুঙ্গে। ইতোমধ্যে শিল্পতরুতে আমার কয়েকটি ছড়ার একটা রিভিউ বের হয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, নামডাক হলে যা হয় আর কি, মাটিতে পা পড়তে দিই না, বেশি বেশি জুতা ব্যবহার করি!
*
মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে এতোক্ষণ আসলে ভণিতা করলাম! স্বভাবদোষ! মূল ঘটনা হলো, এক সময় আবিষ্কার করলাম ছড়া শুধু লিখতেই পারি না, অনেকক্ষেত্রে মুখে মুখে ইনস্ট্যান্ট ছড়া বানিয়ে ফেলতে পারি। ফলে যা হওয়ার তাই হলো, ইয়ারদোস্তরা আরেকটু খাতির করতে শুরু করলো। ক্রিকেট খেলায় ব্যাটটা আমার বলে ওখানে আমি যা বলতাম তা-ই হতো কিন্তু একটু দৌড়ালেই হাঁপিয়ে যাই বলে আমাকে ফুটবল খেলায় নিতে চাইতো না, মুখে মুখে ছড়া বানাতে পারি বলে আমাকে গোলকির দায়িত্ব দেয়া হলো (পরে অবশ্য আন্তপাড়া ফুটবল প্রতিযোগিতায় সেরা গোলকিপার হয়েছিলাম, কিন্তু সেই গল্প অন্যদিন)।
আম-কাঁঠালের দিনে আমরা বের হতাম দলবেঁধে। এ সময়টায় নানা ধরনের ফল গাছে আসলেও আমাদের মূল টার্গেট ছিল আম। পাড়ার অনেকের বাড়িতেই যেমন ডেফল, গাব, আতা ইত্যাদি নানা গাছ থাকলেও ওগুলোর দিকে আমরা ফিরেও তাকাতাম না! আমাদের বাড়ির পেছনে যেমন ছিল একটা লটকন গাছ। ওটার নাম যে লটকন তাও জানতাম না; আমাদের এলাকায় বলে ভুবি। ছোটরা তো আর আম পাড়ার প্রতিযোগিতায় আমাদের সাথে পারতো না, তারা তখন এসব ভুবি-টুবি খেতে যেত। ওদেরকে ব্যঙ্গ করে তাই একদিন একটা ছড়া বানিয়ে ফেললাম মুখে মুখে:
আমরা খাই আম-কাঁঠাল
তোরা খাস ভুবি
আমরা হলাম বড়লোক
তোরা গরীব খুবি।
ব্যস, ছড়া তো দারুণ হিট। অছ্যুৎ ফলগুলো কেউ ধরলেই আমরা সমস্বরে কিংবা একাকী (যখন যেটা প্রযোজ্য) এই ছড়া বলতাম। কে আর গরীব হতে চায়, ফলে আমাদের গাছের ভুবি গাছেই পাকতো, গাছের নিচেই নষ্ট হতো।
**
আমি এখন মারাত্মক আফসোস করি সেই ভুবির জন্য, সেই গাছটার জন্য। সেদিন লটকন কিনতে গেলাম, বললো একদাম ১২০ টাকা কেজি। যে আমি কোনোদিন আম কিনে খাই নাই বাড়ি থাকতে, লটকন নামের ভুবি মোটামুটি অছ্যুৎ হিসেবেই পায়ে ঠেলেছি, সেই আমি কিনলাম মাত্র আধা কেজি ভুবি। গ্রাম আর শহরের পার্থক্য, কিংবা ছোটবেলার এবং বড়বেলার পার্থক্য কিংবা সময়ের পরিবর্তনে মানুষের চাহিদার পার্থক্য কেমন যেন একইসাথে করুণ আর নিষ্ঠুর লাগে!
এই আমি এখন ভুবি পেলে কী করি তা বোধহয় নিচের ছবিটা দেখলেই বুঝা যায়!

ক্যাপশন: এই হলো ভুবি খাওয়ার দৃশ্য, আমাদের এক বন্ধু সুমন ভাইয়ের বাড়ি নরসিংদীতে।

ক্যাপশন: ভুবিতে আর আনন্দ ধরে না!





আমাদের গ্রামের বাড়িতে একটা বাগান বাড়ি আছে। শুধু সব্জি আর ফল করা হয় সেখানে। আমার দাদু নিজে হাত দিয়ে টিপে টিপে সীজনে সীজনে তার পাঁচ ছেলের বাড়িতে ভাগ করে পাঠাতেন সে সব। তখন কি ক্ষ্যাত লাগতো এগুলো। ডেওয়া, গাব, ভুতি জাম, বেথুন, বেতফল, চালতা, করমচা, চুকাই (এগুলোর শহুরে নাম আমি জানি না, এগুলো কুমিল্লার নাম)। ফিরেও তাকাতাম না। আমার ঘরে অনেক সময় ফলের ঝুড়ি রাখা হতো, গৃহকর্মীরা যাতে খেতে না পারে সেই চিন্তা থেকে। আমি যে কি বিরক্ত হতাম। ছুয়েও দেখতাম না সেসব। আর এখন কি দাম দিয়ে জলপাই, পেয়ারা কিনে খাই এখানে।
লটকন জাতীয় একটা ফল মেক্সিকো, কেনিয়া থেকে এখানে ইমপোর্ট হয়। বেশ মিষ্টি স্বাদ। কিন্তু দেশের টকটক লটকন খুব মিস করি। আমাদের দেশের মতো লুক এ লাইক অনেক ফল সব্জি এখানে পাওয়া যায়, স্বাদে পার্থক্য হয় এই যা।
তাতাপু, বেথুন>বেতফল...আমরা তো বেতফলকে বেথুন বা বেতুন বলতাম। দুইটা কি দুইরকম নাকি...
আমার মা সেদিন চুকাই নিয়ে এসেছিলেন। এই জিনিস ঢাকায় আমি পাই না। ফলে চুকাই দিয়েই আমি সেদিন সব ভাত খেয়েছিলাম।
কতো জিনিস যে এখন মিস করি!
চুকাই কোনটা? দেখতে কেমন? আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?
চুকাই দেখতে কেমন এটা যে কেমনে বুঝাই! দেখি কোনো ছবি দিতে পারি কিনা!
আমার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে।
চুকাই কি বিলিম্বি? ঐ যেটা ডালে-ডুলে দেয়, আবার এমনিও খাওয়া যায়।
বিলিম্বি কিনা তা তো জানি না। তবে ডালে দেয়। আলাদা তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায়- টক টক লাগে। অনেকে মাছদিয়েও চুকাই রান্না করে।
চুকাই একধরনের পাতা? খয়েরি রঙের ফল হয়? আমরা এই পাতার টক রান্না করি আর ফল দিয়ে মজাদার জেলি বানানো হতো দেখেছি আমাদের ছোটবেলায়। এই পাতাকে আমরা বলি, চুকা (টক) পাতা। ঢাকায় মাঝে মাঝে বাজারে পাওয়া যায়। আমি কিনেছি।
নেত্রকোণার সাথে আমাদের ফেনীর আঞ্চলিক ভাষা এবং রান্নায় কিছু কিছু মিল আছে।
আর বিলিম্বি এক ধরনের ফলমতো। দেড়-দুই ইঞ্চি সাইজের হয়। লটকনের মতোই ঝোপা ঝোপা করে গাছে ধরে। এটা সম্পর্কে আর কিছু মনে পড়ছে না।
ফলটা খয়েরি/লাল আর কর্নারে একটু হালকা সবুজ থাকে। পাতা অবশ্য আমাদের এখানে খায় না; কিন্তু ফল দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF
http://www.agrobangla.com/index.php?option=com_content&view=article&id=85&Itemid=61
বিলম্বি কুমিল্লায় প্রচুর পাওয়া যায়। সেখানে নানা তারকারিতে বিলম্বির ব্যাবহার হয়। দেখতে অনেকটা পটলের মত কিন্তু ছোট। লাস্ট এবি পিকনিকের স্পটে এই গাছ ছিল। অনেকে খেয়েছে ও।
যাকে বলে এক্কেবারে হাতেকলমে শিক্ষা।
আপনার ছড়া প্রতিভার কথা শুনে আমি মুগ্ধ।
ফলের মজা আমি এই সৈয়দপুরে এসে পেলাম। ঢাকা শহরে আমরা এর সব কিছু থেকেই বঞ্চিত। যদিও আমাদের বাসায় একটি করে আম, কাঁঠাল, নারিকেল ও পেয়ারা গাছ আছে। সেখানে ফল হয়, দুই তিনটা করে, আম হ্য় লিচুর সাইজের আর টক লেবুর মত।
লটকন কিনে খাই ৬০টাকা কজি।
অঃটঃ--কানাডা হাউজের সামনে দিয়ে গেলেই মেইন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি, মনে হয় এই বুঝি গৌতম বের হয়ে আসবে?
ধন্যবাদ ধন্যবাদ।
অ.ট. আমি তো মাঝে মাঝেই যাই! দেখলেও দেখতে পারেন। পরিচয় নেই বলে হয়তো চিনতে পারি না।
য়াম, কাঠাঁলের পর লটকন। পরে কী? ভুবিটা সবচেয়ে দারুন হয়েছে।
হ আপনে তো দেখা যায়, নিখিল বঙ্গ ফল আমদানীকারক সমিতির ভাত মারবেন।
ক্যাম্নে? ...তবে আমি তাদের ফল মারতে চাই।
ভুবি?!!! হা হা হা!!! আমাদের ছোটবেলায় এটাকে বলতাম, ভিত্তের রসা (বেতরে রসালো বলেই বোধহয়)!!!
ফলশব্দভান্ডারে নতুন শব্দ যুক্ত হলো - ভিত্তের রসা।
গাব ফলটাকে সচক্ষে আমি এখনো দেখিনি গৌতম দা! লেখাটা ভালোই লাগলো।
আজকাল তো গাবও কিনতে পাওয়া যায়। নেটে অবশ্য সার্চ করে পেলাম না।
পোস্ট গুলো কিন্তু চমৎকার ভাবেই চলছে...
চলুক ...
থ্যাংকু
আগে লটকন তেমন খেতাম না। দাম জানার পর খাই। আমার ছেলে মেয়েরা তো আমের চেয়েও বেশি লটকন পছন্দ করে
ডেফল কি? আর চুকাই?
গাব আমার দুইচোক্ষের বিষ। আরেকটা আছে, আতা, পিটাইলেও খাইতাম না। গাবের ছবি এইখানে
দাদাবাড়ির ফল ছিল পেয়ারা, সফেদা আর আমড়া, নানাবাড়ির বড়ই, কামরাঙা আর ডাব। টক খাইনা, তাই চালতা গাছ থেইকা চালতা পারা, সেইটাকে পরতে পরতে ছাড়ায়ে খাওয়াটা অবাক হয়ে দেখতাম শুধু। চালতার ফুল আর পাতা যে কি সুন্দর! দক্ষিনে, তাই আম, জাম বেশি হয়না ঐদিকে। তারউপর যাওয়া হইতো ডিসেম্বরে ফাইনালের পর, ঐসময়ে এমনিও বোধহয় ফলের আকাল থাকে। তবে সবজীর জন্য এইটার উপর সিজন নাই। এখনো ঘরের চালের উপর থেকে নেয়া সীম দিয়া পুকুর থেইকা ধরা মাছের ঝোলমাখা মোটকা মোটকা লাল লাল ভাতের কথা মনে পড়ে।
আপনার ভুবি-র ছড়া দেইখা সুকুমারের হিংসুটিদের গানের কথা মনে পড়ল :প
ডেফল একটা ফল। কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙের আর কষ থাকে। খাওয়া যায় না। পাকলে হলুদ হয় কিন্তু প্রচণ্ড চুকা।
আমাদের বাড়ির ঠিক সামনে একটা চালতা গাছ ছিল। কিন্তু চালতা তো বড়ই বদ! দেখে দেখে সে টুপ করে মানুষের মাথায় পড়ে, মাথা ফাটায়। তাই একদিন চালতা গাছটা কেটে ফেলা হলো।
ভিতি জাম, চুকাই কোন ফল?
সব ফলের গাছের সাথে মডেল হইয়া ছবি দিতেছেন সেটাও মজা লাগতেছে!
ফল সমগ্র পোষ্টগুলা মজার হইতেছে!
হে হে হে... ফল আমার বিশেষ প্রিয় কিনা!
চুকাইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম জানা নাই। থাকলে ছবি দিতে পারতাম।
আপনে তো চামে চামে ভালোই নিজের ঢোল পিটায় নিলেন।

একমাত্র আপনিই লেখার মূল উদ্দেশ্যটা ধরতে পেরেছেন।
নেত্রকোনার বালিশ ! আহারে, কী সু-স্বাদু !!
জীবনে ২ বার খাইছিলাম। একবার বিপুল শাহ আরেকবার সাকী খাওয়াইছে।
নেত্রকোনায় বাইরের জেলার কেউ বেড়াইতে গেলে বালিশ না খাওয়াইলে সেইটা নেত্রকোনাবাসী কিঞ্চিত অপমানবোধ করে !
নেত্রকোনায় আসেন, বালিশ দিমুনে।
লটকন, ডেফল আর গাব নামটা কমন পড়ছে। তার মধ্যে খেয়েছি শুধু লটকন আর ডেফল।
পারলে চুকাইটা খেয়ে নিয়েন। বেশ লাগবে।
মন্তব্য করুন