ইউজার লগইন

যোগাযোগ

জনাব যোগাযোগ মন্ত্রী,

আমাদের ফেসবুক জীবন আগের মতো হলে বা আমরা ব্যবহারকারীরা যা ভেবে ফেসবুকিং করি সেরম হলে এই চিঠির কোন মুল্য থাকত না, এই চিঠি আমি লিখতাম ও না। এখন ফেসবুকের প্রতিটি শব্দ অনেক মূল্যবান, অনেক প্রতিক্রিয়াশীল। তাই আমি আশা করব এই চিঠি আপনার নজরে পড়বে এবং আপনি একটু ভেবে দেখবেন। যদিও এই চিঠির কথা গুলো আমার কিন্তু আমি হ্লফ করে বলতে পারি, এর প্রতিটি শব্দ আরও হাজারো ঢাকাবাসীর কণ্ঠস্বর।

শুরু করারা পূর্বে আমি আমার রাস্তার সাথে সম্পর্কের দিকে একটু আলোকপাত করতে চাই। আমি এবং ঢাকার রাস্তা এক সুত্রে গাথা।সপ্তাহে ৫ দিন আমাকে ভোর বেলা উঠে নিজের বেগ গুছিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকি, আশা করে থাকি, ১০ মিনি্টে একটা কিছু পেয়ে যাব, পাই না। আরও অপেক্ষা করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি, ২০ মিনিত, ৩০ মিনিট; না শিকে আমার কপালে ছিড়ে পড়ে না। হাঁটতে থাকি পিছনের দিকে, হয়তো আগে স্টপেজে গিয়ে দাঁড়ালে কোন একটা ব্যবস্থা হবে। না তাও হয় না। হঠাৎ কোন একটা বাস দেখা যায়, দৌড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাই। বাস স্টপেজে আসার আগে ই বুঝতে পারি এইটায় উ্ঠা সম্ভব হবে কি হবে না। তাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাই কোন ভাবে এতে যাওয়ার, যাতে ঝুলতে না হয়। ঝুলে যাওয়া সম্ভব হয় না, কারন ভাবতে হয় পড়ে গেলে আমি শেষ, আমার সাথে আমার পরিবার শেষ। তাই এঁটে না গেলে আর সাহস করে উঠি না। পরের বাস এর জন্য দাঁড়িয়ে থাকি। দাঁড়িয়ে দেখি এসি বাসের দরজায় আমার মতো মানুষ ঝুলছে, কোন না কোন ভাবে গন্তব্যে যেতে হবে, নইলে মাইনে কাটা, মাইনে কাটা মানে মাসের হিসাবে গণ্ডগোল, ধার দেনা। জীবনের চেয়ে সম্মান অনেক বড়। বসের ঝারি প্রতিদিন শুনে যে আত্ম গ্লানি জমে তা শুনলে মাঝে মাঝে মনে হয়, ধরনী দ্বিখণ্ডিত হও।
হ্যাঁ, খুব সকালে সি এন জি পাওয়া যায় কিছু, কিন্তু বেতনে কুলায় না। ওদের ও মিটারে চালিয়ে পোষায় না এই জ্যাম এর কারনে। ঘণ্টা খানেকের প্রচেষ্টায় আমি ঠিক ই কিছু একটা পেয়ে যাই, বা কোথায় না কোথায় এঁটে যাই, গন্তব্যে পোছানর জন্য।

তারপর শুরু হয় নতুন আরেক সময়। আমি যেই রাস্তায় যাই, সে রাস্তায় সিগনাল ঠিক ঠাক চলে। এর আরেকটা কারন হতে পারে, ঐ রাস্তায় অনেক ভি আই পি চলা চল করেন। ট্রাফিক সিগনাল এর নিয়মানুবর্তিতায় যে সময় টুকু বাঁচাই, তার চেয়ে ভু গুন বেশি সময় চলে যায় এই ভি আই পি গাড়িকে পথ ছেরে দিতে গিয়ে। এই ভাবে চলতে চলতে শুক্রবার যে টুকু রাস্তা গারিতে ৩০ মিনট (বাস এ ৫০ মিনিট) এ যাই, সেই রাস্তা পার হয়ে অফিসে পৌছাই দুই ঘণ্টা পর।
পথে যেতে যেতে তাকিয়ে দেখি, উরাল সেতুর উপর ও গাড়ি জমে আছে। আমি উরাল সেতুর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি আর দেখি, ওখানে ৪ টি লেন। ঐ চার লেন বানানর জন্য নিচে ভুমিতে ৩ লেনের সমান রাস্তা দখল করে আছে। তার উপর, উড়াল সেতুতে উঠার মুখে জ্যাম লেগে ভুতলের রাস্তায় ডাবল জ্যম।। ঘেমে নেয়ে অফিসে গিয়ে পৌঁছানো। অফিসে পৌছে মনে হবে আগে একটা গোসল দিয়ে নেই। আবার ফিরতি পথে এক ই ভাবে বাসায় ফিরি। ৫ টায় অফিস থেকে বের হয়ে ৮.৩০ বা ৯.০ টায় বাসায় ফিরি। এ এক অদ্ভুত জীবন, প্রতি দিন ১.৫ ঘণ্টার যাতায়াত সময় শেষ হয় ৪ ঘণ্টায়। অনেক দিন এমন হয়েছে আমি হেটে রাস্তা শুরু করেছি, ৫ স্টপেজ পর আমি গাড়ির আগে পৌঁছে গিয়েছি।
এসি গাড়ি বা ঊড়াল সেতু আমার প্রতিদিনকার পথচলায় তেমন কোন পার্থক্য তৈরি করতে পারছে না। এতো জন সংখ্যার শহরে এটা সম্ভব ও না। প্রতিদিন যতবার এই উরাল সেতু দেখি ততবার মনে হয় ঢাকা শহর উত্তর-দক্ষিন, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর চারটা চারটা ৮ টা রেল লাইন হলে কেমন হতো। না হয় কিছুটা পথ হাটতে হতো, অকর্মণ্য হয়ে রাস্তায় তো বসে থাকতে হতো না। এই এ সি বাস না হয়ে ট্রেন হলে কেমন হতো। ৩০ মিনিট পর পর আমি ৫-১০ টা বাস পেতাম একটা ট্রেনে এ। যে টাকা খরচ করে উড়াল সেতু হচ্ছে, বা এ সি গাড়ি আসছে এই টাকায় কি কম করে হলে ও দুইটা ত্রেন লাইন বসানো যেত না?!!
সোউন্দয্য এবং আরাম দরকার আছে, কিন্তু প্রথমে প্রাথমিক শর্ত পূর্ণ হল কিনা না তা দেখতে হবে। আমি যত সুন্দর কানের দুল ই বানাই না কেন, কান না থাকলে এর কোন দাম নাই, নাক না থাকলে সুয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয়। প্রথমে আমাকে নিশ্চিত করা উচিৎ যে ঢাকার মানুষ, চলতে পারছে, কোথা ও থেমে থাকছে না। তার পর চলার পথ এর চার পাশে বাগান করা, চলার পথকে রঙ্গিন করা।

কিছু মনে করবেন না। আমি উপদেষ্টা না, আমি উপদেশ দিচ্ছি না। আমরা যারা সাধারন মানুষ, যাদের জন্য পথ ছেড়ে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে না, তাদের অবস্থা টা জানালাম। এই অভিঞ্জতা আপনার হয় না তাই হতো বুঝেন না।

ধন্যবাদ।

পোস্টটি ২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.