শুক্রবার
শুক্রবারেই মানেই সবার আনন্দের দিন। লম্বা ঘুম দিয়ে নামায পড়ার জন্য ইস্তেরী করা ধোয়া উঠা পাঞ্জাবী পড়ে ভাব নেয়ার দিন। আমার কাছেও শুক্রবার গুলান আগে অনেক আয়েশের ছিলো। আয়েশী চালে সকালে উঠেই টিভি দেখার তাড়া ছিলো। ভার্সিটির পড়াশুনার টেনসন উড়িয়ে দিয়ে নিপাট একটা সকালের দিন ছিলো শুক্রবার। কিন্তু এক দেড় বছরে সেমি বেকার থাকা অবস্থায় শুক্রবার মানেই বোরিং। শুক্রবার মানেই সকাল বেলা গোসল করো কারন দুপুরে জুম্মার নামাযের আগে বাসায় ফিরবা কিনা তার কোনো ঠিক নাই। শুক্রবার মানেই এখন চাকরীওয়ালা বন্ধুদের আবদার মিটাতে সকাল বেলা তাদের ফোন দেওয়া যে ফ্রি থাকলে চায়ের দোকানে আয়। তারা দৌড়াতে দৌড়াতে তাদের চাকরী জীবনের নিদারুন বাশ খাওয়ার গল্প আমার হজম করতে হবে। শেষে তাদেরকে উপদেশের সুরে বলতে হবে দোস্ত চাকরী ছাড়িস না ইহা মুল্যবান জিনিস। এখন আবার আমার নতুন বাতিক নিজেদের একটা ক্রিকেট টীম আছে সেই টীম হারতে হারতে পর্যবসিত তাদেরকে সান্তনা দেয়া নিজের খেলা সাথে ম্যানেজারগিরি সব মিলিয়ে অজস্র গেন্জাম এই মরুর রোদে মোকাবিলা করা। যে না আমাদের টিম যাদের জার্সি আছে ভাব আছে খালি নাই খেলা তাই কয়েকটা ম্যাচ জিতে নেয়া ছাড়া সব হারছি। সাধ করে খেলেছিলাম এক টুর্নামেন্ট যার ফাইনালে আজ এলাকার মন্ত্রী নানক আসছিলো। সেই টুর্নামেন্টে বোলারদের বলই চোখে দেখেনা আমগো ব্যাটসম্যানরা। প্রতিটা ম্যাচ আমরা বিশাল ব্যাবধানে হারি। পাবলিক আমাদের হারার অদম্য স্পৃহা দেখে বড়ই খুশি তাই টিমের নাম গ্রীন ফিল্ড লোকজনে ডাকে আবাল ফিল্ড!
অলরেডী দুই জন ভালো প্লেয়ার আমাদের টিম ছাড়ছে কারন তাদের মান সম্মান পায়ের তলায় নেমে গেছে আমাদের হয়ে গেলে। আমি বললাম পায়ে যখন গেছে সেইটা মাথায় তুইলা লাভ নাই আর খেইলো না ফোন দিলেও আইসো না। আমাদের একেকটা প্লেয়ারের শুধু আছে বাংলাদেশের মতো হীরক দিয়ে বাধানো অতীত। অতীতে কি করছে কোন মাঠে কোন বোলারের কোন বলটা কোন ছাদের ট্যাংকিতে পার করছে খালি এই সব বয়ান। একেকটা বয়ানে দেলোয়ার সাহেবের দোকানের ইট খুলে পড়ার দশা কিন্তু মাঠে নামলে প্রথম বলেই আউট। এসে বলবে ভাইয়া বলটা যে এইভাবে আসবে টেরই পাই না। আরে বাবা এইটাকি নোকিয়া ১১০০ সেটের সাপ খেলা নাকি যে টের পাইতে হবে। বল আসবে আমি সে অনুযায়ী ব্যাট চালাবো ভেরী সিম্পল। আর অতীত সবারই মহান। অতীতে আমিও ভালো বোলার ছিলাম কিন্তু এখন কোন বাল্টা ফেলতে পারি বলেন। তাই বলে তো আমি বোলিং করতে যাই নাই কোনোদিন। তাই এই শুক্রবারেই সকাল সকাল একটা ফালতূ টীমের সাথে হারার পর বললাম ভাইয়া আপনাদের টীম আপনারাই সামলান দরকার নাই আমার আর্সেন ওয়েঙ্গার হওনের। প্যাচাল ট্যাচাল পেরে বাসায় গিয়ে দেখি মামা পোলাও আর গরুর মাংস রান্না করতেছে। আল্লাহর দুনিয়ায় কি জানি কপাল নিয়া পাইছিলাম একটা মামারে। এতো ভালোবাসা এতো যত্ন পাবো কোথায়। যাই হোক নামায পড়তে গেলাম কাছেই এক মসজিদে। সেই হুজুর দেখি বাংলা খুতবায় ড্রয়িং রুমে বাঘ ভাল্লুক কুত্তা বিলাই এর মুর্তি নিয়ে ব্যাপক বয়ানে আছেন। হঠাত করেই দেখি বয়ান খতম যে মসজিদের ছয় তলার কাজ চলতেছে দান করেন বেশী বেশী। উনি দান সদকার ফজিলত সম্বৃদ্ধ হাদিস বলতেছেন আর বলতেছেন কোন ভাই আছেন দিবেন ১০০০ টাকা। হ্যায় মুবীন ভাই আমার অত্যন্ত মোহাব্বতের মুসুল্লী তিনি দিবেন ১০০০। জলদি লিখেন আর কোন ভাই আছেন দিবেন ১০০০ তাড়াতাড়ি বলেন সময় খুব সর্ট। এইভাবে কমছে কম ৩০ টা ১০০০০ তিনচারটা ৫০০০ টাকা দেয়ার ক্যানভাসিং শেষে তিনি সুন্নতের টাইম দিলেন। আমার মেজাজটা হলো চরম এম্নিতেই গরম তার ভিতরে এইসব ফালতু কাজ কাম করে সময় নষ্টের মানে কি? এমন তো না যে আমরা মসজিদ মাদ্রাসা কিভাবে চলে তা জানি না। আমি তিন বছর সোসাইটির দুইটা মসজিদের চাদা দেয়া মেম্বার ছিলাম। মসজিদের একটা কিছু শুরু করলে মুসুল্লীদের টাকা লাগে না টাকা আসমান থেকে যোগার হয়ে আসে। কত ধরনের লোক যে কত টাকা দিবে তার হিসাবই পাবেন না। তবুও হুজুরদের এই সব ন্যাকামীর মানে খুজে পাই না। যাই হোক নামাজ শেষে বাসায় ফিরলাম। এসে দেখি কারেন্ট নাই, প্রায় ৪০ মিনিট পর কারেন্ট আসলো সাথে সাথেই মামার রান্না করা পোলাও আর গরুর মাংস খাওয়া শুরু করলাম। এনটিভিতে হইতেছিলো এয়ারটেলের নাটক আমাদের গল্প। আমি ১৪ আর ১৫ এপ্রিলেই নাটকটা দেখে ফেলছি। শুরুতেই ধাক্কা খাবেন কারন মনে হবে কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমার শুরু সেই ঢং সেই কিসিমের নাচ। চিটাগাংইয়া গান এইটা আমার ১২ বছর চিটাগাং থাকা লাইফের জন্য আনন্দের। অনেক শালারে দেখলাম ইউটিউবে কইতেছে তাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানাইছে। এই গানের সাথে এই নাচ যদি হয় সংস্কৃতি তবে তার খেতা পুরি। নাটকের কমিক গুলান ভালো লাগে নাই। নাটকটা একটা সিকোয়েন্সের সাথে আরেকটা একটু বৈসাদৃশ্য। ক্যামেরা কাপে বারবার এডিটিংটাও ভালো না বুঝি না কেনো, নাকি সেইটাও স্টাইল তা জানি না। রন্টি ভাইয়ের মতো এই বিষয়ে আমার জ্ঞান নাই তাই বলতে পারবো না। তবে শেষ ১০ মিনিটটাই অসাধারন। মুনীরা মিঠুর অসাধারন অভিনয় ও তরুনের গাওয়া গানটা। কী যে মনে ধরছে তা বলে বুঝাতে পারবো না। জুনাক ব্যাংককওয়ালারে থ্যাংক্স কারন তার কারনেই গানটায় এতো আকর্ষন বোধ করছি।
সন্ধ্যায় বের হলাম বাসা থেকে চায়ের দোকানে গিয়ে অনেকক্ষন নানান পাব্লিকের বয়ান শুনলাম নিজেও কিছু দিলাম। বাসায় এসে দেখি আবার কারেন্ট নাই ছাদে বসে কিছু সময় মামার সাথে সুখের আলাপ করলাম। তারপর আর কী এই পোষ্ট লিখলাম আর ইউটিউব মিউট করে রাখি লোডীং কমপ্লিট হলে গান শুনি। আরো অনেক কথার লেখার ইচ্ছা ছিলো তা আর হলো না বলা। এইটা বিনয় না এইটা মেধার ঘাটতি!





নাটকটা দেখার পরে মনে হইলো পুরাই থার্ড ক্লাস !! নাটকের গল্প ভালো ছিল কিন্তু ডিরেক্টার সাহেব চাইলে মনে রাখার মত গল্প হতে পারত "ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যায়" নাটকটার মত। কেমন জানি একটা অগোছালো ভাব নটকের মধ্যে। আর ক্যামেরার ব্যাপারটা ইদানিং খুব বিরক্ত লাগতেছে, কোন চ্যানেলে দেখলাম "ব্যাচলার The family " নাটকে ঠিক এই রাকম বিদঘুটে টাইপের ক্যামেরার কাপা কাপি। আমাদের গল্প নাটক ঐ গানের কারনেই যেটুকু চলছে নাইলে কেউ দেখত বইলা মনে হয় না।
খুব কামিয়েছো!! ..............
ভালো বলছো গানটাই প্রান আমাদের গল্পের!
কামাই করতে করতে দিশেহারা এত কামাই খাবো কবে!
আপনের এই ধরনের লাইনগুলো পুরো লেখাটায় একটা শিশুতোষ ভাব নিয়ে আসে। অনেক কিউট লাগে বিষয়টা।
থ্যাঙ্কু ভাইজান। আপনার লেখা আমার তার চেয়েও বেশী ভালো লাগে সত্তিই বললাম!
নাটকটা দেখে আমারও একই অনুভূতি। ক্যামেরা কেন কাঁপাকাঁপি করলো বুঝলাম না। কিন্তু শেষের দশমিনিট আসলেই অনেক ভাল লেগেছে।
গান দুইটা জোশ।
ক্যামেরাও কাঁপাকাঁপি, ঝাপাজাপি করে...
শেষ গানটাই বেশী জোশ!
শান্ত যেনো বহুতদিন বেকার থাকে
আগে ব্যাপারটা খুব ভালো পাইতাম। ইদানীং বেকারত্ব একটু বিরক্তি লাগতেছে!
শান্ত বেকার থাকলে সুন্দর লেখা পাওয়া যায়
থ্যাঙ্কু ভাইজান!
পুলাপাইন বেবাকতে সকার হইয়া এখন বাকিজনের বেকার হইবার দুয়া করে দুনিয়া কি নিষ্ঠুর

অনেকদিন পর নাঈমরে দেখলাম...
ক্যামন আছো?
শহীদ হৈবার পর যেইরাম থাকা যায় সেইরাম আছি

ম্যালা দিন পর তুমারে ব্লগে পাইলাম। ভালো থাকো মামা। শুভকামনাও ম্যালা!
লেখা বরাবরের মতো ভালো পেলাম
আপনে থাকেন কই ভাই?
আপনের টিমের খেলা দেখবার মন চায়!
মন্তব্য করুন