মেঘলা দিন যাপন
এই প্রখর রোদের দিন গুলোতে কামনা করতাম একটাই কবে আসবে সেই মেঘলা বর্ষনমুখর দিন। বর্ষনমুখর দিন না আসলেও গত দুইদিন চমৎকার মেঘলা ঠান্ডা ঠান্ডা দিন পার করে মন মেজাজ দারুন । কারেন্ট থাকতেছে ভালোই। নানক সাহেব পদোন্নতি পেয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হইছে। আগে তিনি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। তাতে মুহাম্মদপুরে আওয়ামিলিগওয়ালারা খুব খুশি। মিষ্টি খাইলাম ভালোই। কিন্তু বুঝলাম না নানক মিয়ার পদোন্নতিতে পাতি নেতারা এতো খুশি ক্যান? নেতারা বললো তারা খুশি কারন নানক হাউজিংরে খুব ভালো পায় তার পাওয়ার মানে হাউজিং এর পাওয়ার। দেশের রাজনীতি কিভাবে সাধারন মানুষকে টাচ করে তার একটা প্রমান পাওয়া গেলো ভালো ভাবেই। তবে নানকরে যতই গালি গালাজ করি লোকটা ভালো। আমি যে চায়ের দোকানের কথা সব সময় বলি। তিনি মাঝে মধ্যেই তার পাজোরো থামায়া চা সিগারেট খায়া যান। কাজ কাম ভালোই হচ্ছে এলাকায়। রাস্তা কাল্ভার্ট ড্রেনেজের অভুতপুর্ব উন্নয়ন করছেন তিনি। তবে এই কাজ করতে যেয়ে দুই বছর খুব ভোগান্তিতেও রাখছেন। যাই হোক সামনের বার ইলেকশন যদি হয় বিএনপি যদি থাকে তাহলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালই পার হবে যত কাজই করুক না কেনো। এইটা বাংলাদেশের সিস্টেম। আলাল আর নানক দুই জনই বরিশালের লোক। নির্বাচনের আছে ইংরেজী পাক্ষিক প্রোব এই আসন সম্পর্কে বলছিলো দ্যা বরিশাল ফ্যাক্টর। জানি না মোহাম্মদপুরে শেরেবাংলা নগর আদাবরে কত বরিশাইল্লা আছে কিন্তু ভোলা বাসী যে প্রচুর আছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। রাস্তা ঘাটে যেদিকেই যাবেন ভোল্লাইয়্যার শেষ নাই। ভোলা জেলায় ভার্সিটি বন্ধু হাসিনের কল্যানে যাবার কপাল হইছিলো। অসাধারন জায়গা। কারেন্ট যায় না একবারও। আর চারিদিকে খালি পানি আর পানি। টাকা পয়সা হইলে ভোলায় একটা রিসোর্ট বানাবো। দারূন হবে তখন জায়গাটা। ভোলা বাসীর কথাও খুব ইন্টারেস্টিং। ৫০% নোয়াখাইল্লা ২৫%
আর বাকী ২৫ ভাগ শুদ্ধ বাংলাভাষার মিক্সারে কথা বলে। শুনতে অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে তারা কোনোদিন ব্রাক কে ব্রাক বলতে পারলো না এইটাই আপসোস। সারাজীবন বেরাকই বইলা যাবে!
এই সব আলাপ বাদ দেই। দিন যাপনের কথা বলি। দিন যাইতেছে ভালোই। পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যাস্ত সময় কাটায় বেকাররাই। তাই আমিও খুব ব্যাস্ত। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফজরের নামায না পড়ার যন্ত্রনা নিয়ে উঠি। তখন ওযু করে কাজা নামাজ পড়ে নেই। খুব অল্প সময় নেটে বসি পত্রিকা ফেসবুকে চোখ বুলায়া নেই। বের হয়ে যাই চায়ের দোকান। চায়ের দোকানে এখন আবার হোটেল খুলছে। সেখানে গত দু দিন যাবত চমতকার পরোটা আর মুগের ডাল দিয়ে নাস্তা করি। আর সাথে ন ডিম মামলেট। পরোটা গুলো ৮-১০ টা হোটেলের মতো নরমাল না। তাওয়া থেকে ডাইরেক্ট প্লেটে দেয় কি অসাধারন টেষ্ট। নাস্তা শেষে চা খাই। পত্রিকা পড়ি। ৫-৬ জন একত্রিত হয়ে সোনম কাপুর থেকে শুরু করে ক্রিস গেইল, ইউনুস থেকে শুরু করে হালাল হারাম সব নিয়ে বসে পড়ি। ১ টা বাজলে আলোচনা শেষ বাসার দিকে যাই। গোসল করে যোহর নামাজ পড়ি। ভাত খাই তারপর পড়তে বসি এমবিএ সাথে আউট বই তো থাকেই। ক্লাস থাকলে ক্লাসে যাবার জন্য বের হই। না থাকলে বিকালে একটা ঘুম দেই। সন্ধ্যায় বাইরে বের হয়ে আবারো ম্যারাথন আড্ডা। তবে এখানে একটা গেঞ্জাম হইছে এরভিতরেই দুইটা আলাদা সাইড আছে। আমরা এক সাইডে আরেক গ্রুপ আরেক সাইডে। গেঞ্জামটা শুরু করছে ওরা আর আলাদা হইছি আমরা। কারন এই সামান্য চায়ের দোকানে এসে কেউ টাকার গরম দেখাবে তা আমাদের পছন্দ না। বা কেউ এসে তার অফিস ব্রাক ইপিএলের গল্প করবে তাও আমার পছন্দ না। তাই আমরা প্রলেতারিয়েত বেকার ছাত্ররা একদিকে আর তারা বড়লোক চাকরীজীবি ও বেয়াদব ছাত্র শ্রেনী এক দিকে। তারা আবার দোকানের স্পন্সর। দেলোয়ার সাহেবরে তারা বিপদে আপদে টাকা পয়সা দেয়। আমরা কিছুই দেই না খালি বাকিতে খাই আর অনেক সময় পার করি। আমাদের সাইডে সবারই ডেম কেয়ার ভাব। কাউকে বাটার মেরে চলিও না আর কারো কাছে কোন ঠেকাও নাই। মন চাইতেছে তাই আসি যখন চাইবো না তখন আসবো না। মাইনশের টাকায় তো আর খাই না চলিও না।
এই হলো গিয়ে চায়ের দোকানের পলিটিক্স। আজ সারাদিন ভালো কাটলো। দুপুরে ভার্সিটি গেলাম। চারটায় নুরুল কবীর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অনুষ্ঠানে আর সি মজুমদার লেকচার থিয়েটারে। ভালো লাগলো করপোরেট মিডিয়া ও পুজির প্রভাব নিয়ে আলোচনা। বন্ধু এহতেশাম আর আমি রিক্সা দিয়ে গেলাম চানখারপুল। হাজি মোহাম্মদ নান্নার বিরিয়ানী খাইলাম পেট ভরে। বাসায় আসলাম ডাইরেক্ট রিক্সায়। কত গল্প যে হলো দুই বন্ধুতে কথা বলতে বলতে গলা শুকায় যায় বারবার। নামলাম চায়ের দোকানে। সেই আড্ডা আগের মতো। বাসায় এসে গেস্ট্রিকের অসস্তি। রেনেটিড খাইলাম। তারপর লিখে ফেললাম এই দিন যাপনের ব্লগ!





Bah!darun lekha.emon lekha choluk.tomar protidin valo katuk.
Aj bikal ta osadharon chilo.mugdhotay katalam.
সব বিকাল এই রকম কাটুক!
আড্ডা দেবার এই সময়টা হারিয়ে ফেলে আমি যারপরনাই দু:খিত। তাও কিছুকাল আগেও দেশে আসলে জম্পেস আড্ডার সুযোগ হত। আজকাল বন্ধুদের প্রায় কেউই দেশে নাই। মজা করা দুস্কর এখন দেশে। হাতেগোনা যে কয়জন আছে তারাও চাকরি বাকরি নিয়ে ব্যস্ত। এদের এক করতে বিরাট নোটিশ লাগে। এমন হ্যাপা করে আড্ডা হয় নাকি। আড্ডা হবে আজাইরা দিন কাটানোর সময় সারাদিন ধরে। আহা, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। সকালে বেরোও, বিকেলে চারটার দিকে একদেড় ঘন্টার জন্যে বাসায়, তারপরে আবার বেরোও রাত দশটায় আসা, আহা, কি সব দিনগুলি।
সেই দিন গুলো খালি চলেই যায়। হয়তো আমারো আসবে তা ভেবে লাভ কি? চলুক এই আড্ডামূখর দিন গুলো!
ধন্যবাদ!
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই, আজ আর নেই !!!

কিছুই করার নাই দিন খালি চলেই যায়!
লেখা ভালু লেগেছে।

বেশী ভালো হয় নাই!
সাবলিল লিখেছেন; আমার পছন্দ হইছে উস্তাদ!!

সাথে আছি।
সাবাশ !

ওয়েল্কাম!
যতোদিন এগুলোতে সুখ পাবা, ততোদিনই সুখী থাকবা
লেখা ভাল লেগেছে।
বেশি দিন পাইতে চাই না। কারন সুখে থাকলে নাকি ভুতে কিলায়!
চায়ের টং টা কোন জায়গায়?
মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের ঢালে সোসাইটি ৮ এ! চলে আসেন এক দিন!
আপনেরে খুইজা পামু ক্যাম্নে?!
যায়া শান্ত নাম বলে খুজলেই আশা করি আমারে পাইয়া যাবেন!
মন্তব্য করুন