সুখে আছে যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা/ দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো এ দুঃখ রইবে না!
হেডলাইন দেখে চমকিত হবার কিছু নাই। ইহা কবীর সুমনের গান। বলা যায় অসাধারন গান। গানের টাইটেল " আমেরিকা প্রবাসী বাঙ্গালীর গান"। গানটার প্রত্যেকটা লাইন অসাধারন। তার ভেতরে আমার ভালো লাগে এই চার লাইন। গানের কথা গুলো অনেক টা এরকম---
আজ জানলার কাচে ডেকে গেছে এক পাখির মতন সকাল
যেনো রাখালিয়া বাশী এই শহুরে গলার ফাসি
বলে সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা
দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো বন্ধু এ দুঃখ রইবে না।।
আমি ভিটে মাটি ছেড়ে এসেছি মহান টাকা পয়সার দেশে
এই দুনিয়া সর্বনেশে এরা সাগর ডিঙ্গিয়ে বোমা ফেলে আসে বীরপুরুষের বেশে
মরে কখনো বাচেনি যারা
আহা তাদের খিদের ইতিহাস এক বিশ্রী অন্ধকারা
বলে সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা
দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো বন্ধু এ দুঃখ রইবেনা .।।
আজ সকালকে ডেকে বলি গাও রবি নজরুল গীতি
তাতে আমার ভীষণ প্রীতি দেখো সুরুচির পরিমিতি
আমি দেশ ভেঙ্গে ভেঙ্গে দুখান করেছি হিন্দু মুসলমানে
মুখের ভাষায় দেয়াল উঠেছে এই জল ওই পানি
আমি সবই মানি সবই মানি
শুধু মানি না যখন রহিম পরান ভাইরা মুক্তি চায়
তারা দুবেলাই খেতে চায়
আহা পাকস্থলীতে ইসলাম নেই, নেই কো হিন্দুয়ানী
তাতে যাহা জল তাহা পানি
বলে সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা
দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো বন্ধু এ দুঃখ রইবে না।।
পাখির মতো সকালটা আজ বড়ো দোটানায় ফেলেছে
বুকের ভিতর যত কথা ছিলো তারা ব্যাকরন ভুলেছে
ষত্ত্ব ণত্য বিধিতে সিদ্ধ আমি শিক্ষিত বাঙ্গালী
আজ দয়ার দুয়ার কাঙ্গালী
কেনো বাশি শুনে খালি ভুলে যাই আমি অন্যের কৃতদাস
আমি বারো মাস তেরো মাস খাটি মরনাস্ত্রের লোভে
ভুখা জনতার বিক্ষোভে
এই হৃদয় কাপে না দুলে না নাচে শুধু রাই বেশে
বলে সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা
দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো বন্ধু এ দুঃখ রইবে না!
http://www.youtube.com/watch?v=rmn8xIHdIHc&feature=related
লিরিকসে হালকা ভুল সাথে এদিক সেদিক আছে। মাফ করে দিবেন আশা করি। অনেক খুজলাম পাইলামনা। সুমন জেঠ্যুর ব্যাক্তিগত ওয়েবেও নাই। তাই নিজের লিখতে হলো। এখন বুঝি বিষাক্ত মানুষ ভাইয়ের কত খাটনি গেছে গানের কথা লিখতে। আগে মেমরি মেলা ধারালো ছিলো একটা গান একবারেই মুখস্থ হতো এখন বলদের ব্রেন নিয়ে ঘুরা ফেরা বারবার শুনেও মুখস্থ হয় না। একটা কারন হতে পারে আগে সন্ধ্যায় গান গাইতাম। পোলাপাইন প্রশংসা করতো। গত পাচ বছর ধরে গান গাই না একদম। বাথরুমেও না। তাই গলার অবস্থা যাচ্ছে তাই আর গান গাইতে পারে সবাই কিন্তু শুনে কয়জন। তাই আমি শুনে যাই!
আমার প্রিয় শিল্পী অঞ্জন দত্ত। তার কারন হতে পারে আমার বড় ভাই মাঝে মধ্যে অঞ্জন দত্তের গান গুনগুনিয়ে গাইতো। সেই সুত্রে একটা ফ্যান্টাসি ছিলো। ক্লাস এইটে পিসিতে যখন গান গুলো শুনি তখন মুগ্ধ হই। কি অসাধারন সহজ কথার গান গুলো। রাজা রায়, রমা, হরিপদ, মালা, বেলা, সাবিনা, জয়িতা, দার্জেলিং, মিস্টার হল, দেবোলীনা, দাস কেবিন পুরানো গীটার সব কিছুই চোখে ভাসে। নিজের মতো করে কল্পনা করে নেই। রিপিট সাপল দিয়ে গান শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। ভাইয়ার মেজাজ খারাপ, বলতো রিপিট দিয়ে গান শুনলে পিসিতে দুই দিন বসতে পারবি না। হইতোও তাই ধরা পড়তাম আর আইন কার্যকর হতো। ক্লাস নাইনে অংকে করলাম ফেইল। আম্মু বলতো অঞ্জন দত্তের গান লিখতে দিলে তো ১০০ তে ৯০ পাবি অঙ্ক কেনো মাথায় আসে না?
নচিকেতার ১০-১২ টা গান ভালো লাগতো সেই সময়।কেউ যদি অঞ্জন দত্তের সাথে নচিকেতার কমপেয়ার করতো সিরিয়াস খেপে যেতাম। আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করলাম অঞ্জন দত্ত তার মতো নচিকেতাও তার মতো কিন্তু মাস্টার অব দ্যা কলকাতা হইলো কবীর সুমন। কি অসাধারন গায়কী। তন্ময় হয়ে শুনতে হয়। মুখস্থ করার চেষ্টা বৃথা। লেদ মেশিনের মতো অবিরাম তিনি গেয়ে যান আর গাইতে থাকেন অসাধারন সব গান। তার কথা শুনতে গেলে খালি শুনার ইচ্ছা জাগে। ইউটিউবে ডিডি বাংলার ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে দেশ টিভির ফোনোলাইভ স্টুডিও সব শুনছি। বারবার শুনি। গান বিষয়ক তার জানা শোনা ইশ্বর সমতুল্য। আমি খালি ইউটিউবে তার গান অজস্রবার শুনে যাই। ১৫ দিনে ৬ জিবি শেষ করি নানা ধরনের গান শুনতে শুনতে। তখন দেখি ৬০ এর এমেরিকান পপ থেকে অবিকল বাঙ্গালীয়ানায় এনেছেন অঞ্জন দত্ত। জীবনমুখী জীবনমুখী করে নচিকেতা গেয়ে চলেছেন জীবনের গান। আর কবীর সুমন আমার ধারনা তিনি মরার পরে রবীন্দ্রগীতির পরেই তার নাম আসবে।
যাই হোক গান বাজনা নিয়ে প্যাচাল সবাই পারে আমিও পারবো সময় চলে যাচ্ছে না। আজকে দিনটা গেলো দূর্বিষহ। মাসের শেষ ৭ দিন পকেটে টাকা থাকে না। আজকেও তাই সেহরি খেয়ে ঘূম থেকে উঠলাম ১০ টায়। দিলাম এক হাটা স্টার কাবাব বরাবর। সেইখানে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে আমার অসুস্থ বন্ধুর জন্য টাকা তুলতে হবে। টিপটিপ বিষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে ঢুকলাম পরিপাটী ব্যাংকে। দেখি কোনো লোক নাই। যিনি রেমিটেন্স দেখে উনি ম্যানেজারের সাথে মিটিংয়ে। পড়া শুরু করলাম নিউএইজ। দেখি লোকজন তাকায় থাকে কিভাবে কি, যে বোতাম ছাড়া পাঞ্জাবী পড়া, পায়ে ময়লা নিয়ে আসা লোকজন নিউএইজ পড়ে । ভদ্র মহিলা আমাকে খূব ভালো মতো চিনে। কিন্তু তার ধারনা আমি অসুস্থ। কারন লিখতে গেলে আমি হাত কাপিয়ে চেয়ার টেবিলে নড়িয়ে লিখি। এইটা ছোটো বেলা থেকেই অভ্যাস। অনেকে ভাবে আমি ভয়ে কম্পিত নার্ভাস। মোটেও তা না। এতো ভয়ই যদি পেতাম তাহলে জীবনে অনেক কিছু করে ফেলতাম। কিন্তু আমি ভয় পাওয়ার লোক না। সব কিছুই সয়ে নেয়ার নিদারুন ক্ষমতা আমার আছে। তাই ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। আজকেই প্রথম তিনি ব্যাক্তিগত প্রশ্ন শুরু করলেন। আপনি পড়াশুনা কতদুর করছেন? বলি মাস্টারসে পড়তেছি। উনার চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। ব্যাগ থেকে আইডি কার্ড বের করি। তারপর উনি বিশ্বাস করে যে কে থাকে বিদেশ? আমি বলি বন্ধু বড় ভাই। উনি বলে বন্ধু আপনাকে টাকা পাঠায়? আমি বলি তার ফ্যামিলী অসুস্থ? উনি বলে তাই বলে প্রতিমাসেই আপনি মোহাম্মদপুর থেকে আসেন? আমি বলি সমস্যা নাই বন্ধুই তো। ক্যাশে যাই টাকা তুলতে এক হিজাব ওয়ালী আমার কাছে কলম চায়। আমি বললাম কলম তো ঝুলানো আছে। উনি বলে উঠে ও! তার স্বর প্রক্ষেপণ পুরাই আমার সাবেক বালিকা বন্ধুর মত। টাকা নিয়ে আবার হাটা। প্রথমে রিক্সা দিয়ে আড়ঙে যাওয়া। তারপর সংসদ ভবন হয়ে হেটে হেটে মনিপুরী পাড়া। টাকা দিয়ে এবার পুরোই হাটা। ৫৫ মিনিট হেটে পুরা শরীর ঝপঝপা ঘামে ভিজিয়ে চায়ের দোকান। তারপর রোজা রেখে চাঁদর দেয়া দোকানে বেরোজদারদের হালহাকিকত দেখা। এই নিয়ে আমার বেচে থাকা আর কবীর সুমনের গানটা মনে করার চেষ্টা
সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবেনা/ দূঃখে আছো যারা বেচে থাকো এ দুঃখ রইবে না!
পোষ্টটা মোটেও যুতের হইলো না। কি আর করা!





~
সব কিছু পড়তে হয় না
যুতের হইছে-ভালো লাগছে ভাইজান!

থ্যাঙ্কু ভাইজান। আপনার নতুন লেখা কই?
হুম !
গানালোচনা ভালই লাগলো।
সামনে আরও করার খায়েস আছে!
ধন্যবাদ ১ বস্তা!
সুমনের গান আমার কাছেও সেরা।
সেরাদের সেরা
পোষ্টটা মন দিয়ে পড়ে কমেন্ট দিতে এসে প্রথম কমেন্ট আর সাথে দুই কমেন্ট পড়ে হাসতে হাসতে যা বলতে চাইছি ভুলে গেছি।
ভালো হইছে!
হেহেহে
গানটা শুনে জানাবো
এরকম যুতের না হওয়া কয়েকটা ব্লগ লিখতে পারলে ধন্য হইয়া যাইতাম!
টাইটেলটায় সুপারলাইক।
মন্তব্য করুন