সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা!
এবি ব্লগের লোকজন খুব ফিল্ম বোদ্ধা টাইপের। অনেকের অনেক পোষ্ট আছে সিনেমা নিয়ে। কত সিনেমার নাম যে জানছি মাসুম ভাইয়ের কাছ থেকে। সেই সামুর আমল থেকেই তিনি জানাচ্ছেন। এখনো এবির মাধ্যমেই সিনেমা নিয়া বলছেন। সামুতে আরো কিছু ব্লগার ছিলেন যারা সিনেমা নিয়ে প্রচুর পোষ্ট দিছে। তখন সেই সব সিনেমার নাম মুখস্থ রাখতাম আর ক্লাসমেট লোকজনকে বলতাম দেখিস। সবাই অবাক হতো তুই কত সিনেমা দেখিস! আমি মনে মনে হেসে বলি দেখি নাতো কিছুই, খালি নেই আতেলের পার্ট। যখন ভাবলাম সিনেমা দেখা উচিত তখন দেখি পিসিতে সিডি প্লেয়ার খালি ডিভিডি প্লেয়ার নাই। আর সিনেমা দেখতে হলে পেন ড্রাইভে করে আনতে হবে। সে এক গেঞ্জামের কাজ। কারন পেন্ড্রাইভ এমন এক জিনিস যা হারাতেই পছন্দ করি আমি। তাও নিজের না বন্ধুদের গুলা। বন্ধুরা রাগ করে কিন্তু কিছু বলে না কারন একটা ডায়লগই দেই "যে সামান্য একটা ডিভাইসের জন্য রাগ করা তোর উচিত হবেনা। আরও বড় কিছু হারাই তখন রাগিস"। আর পুলাপানের সিনেমা রুচি ভালো না। যা টিভিতে দেখাবে সামনের দিন গুলাতে তাই যদি পেন্ড্রাইভ নিয়ে দেখতে হয় দরকার কী এত ঝামেলার।
তাই লোকজন যখন চারিদিকে সিনেমা নিয়ে উথাল পাতাল অবস্থা তখন আমি সিনেমার খোজ খবর রাখাতেই সীমাবদ্ধ। খুব মন দিয়ে পত্রিকার বিনোদন পাতা পড়ি। মন দিয়ে হিন্দী বাংলা ইংলিশ বানিজ্যিক সিনেমার খোজ খবর রাখি। সিনেমার অনেক গান ডাউনলোড করি শুনি ভালোলাগে। তাই জানাশোনায় অনেক কিছু জানা হয়ে যায়। আর সিনেমা যে একদম দেখি না তা না। টিভিতে হিন্দী সিনেমা দেখি। মাঝে মধ্যে স্টার মুভিজ জি স্টুডিওতে ইংরেজী সিনেমা দেখি। তবে টিভিতে সিনেমা দেখা আর সত্যিকার সিনেমা দেখার ভিতরে আকাশ পাতাল ফারাক। তবে হলে গিয়ে চার পাচটা সিনেমা দেখছিলাম। জাগো, মনের মানুষ, গেরিলা, মেহেরজান(এবি ব্লগারদের সাথে) আর ফিরে এসো বেহুলা। এগুলার ভিতরে জাগো আর গেরিলা দেখেই খুব ভালো লাগছিলো। কিছু সিনেমা দেখার ইচ্ছা থাকার পরেও অর্থনৈতিক কারনে দেখা হয় নাই। অনেকেই বলবেন বলাকায় সিনেমা দেখতে আর কয় টেকা লাগে? কিন্তু আমি রিকশায় চড়ে বলাকায় যেতে আসতে সাথে সিনেমা দেখা ৩০০ টাকা খরচ। সাথে সঙ্গী সাথী না থাকলে কেমন জানি একা একা লাগে। তবে টিভিতে কোনো নতুন ছবি বাংলা হিন্দী যাই হোক ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার দেখার খায়েশ থাকে। কিন্তু এতো এতো এডের ভীড়ে সিনেমাটা ঠিক দেখা হয়ে উঠে না। হইলেও খালি কাহিনী জানা হয় এইটুকুই লাভ।
তবে ইদানিং পুলকের কারনে ভারতের দক্ষিণী ছবি, হিন্দী ছবি আর কলকাতার বাংলা সিনেমা নিয়ে অনেক জানাশোনা। সেই জানার পিপাসা মিটায় উইকি পিডিয়া। উইকি পিডিয়াতে এতো সিনেমা নিয়ে পরিচয় দেয়া আছে তাতে অবাক হই। বক্স অফিস রিপোর্ট জানতেও খুব ভালো লাগে। আর কোন সিনেমা কোথা থেকে মেরে দিছে তার হদিস পেলেও শান্তি লাগে। এখনো ডিভিডি প্লেয়ার নাই। তবুও আমি অনেক অডিও এল্বাম কিনি। ডিভিডি কিনে লোকজনকে দেই সময় কাটাক ভালো কিছু দেখে।
মামার সাথে বাংলা সিনেমা নিয়ে অনেক কথা বলি। কেনো লোকজন এখন আর হলে যায় না? কেনো সিনেমা চলে না তা নিয়ে রাতবিরাতে অনেক আলোচনা হয়। আমার মামা খুব বাংলা সিনেমা প্রেমিক লোক। অনেক বাংলা সিনেমা তার শুধু দেখা না পরিচালক গান বাজনা সব চেনা জানা। আমি সিনেমার ট্রেইলার দেখতে খুব পছন্দ করি। হিন্দী ইংরেজী সিনেমার ট্রেইলার পিসিতে বসে দেখার মজাই আলাদা। তারপর তা নিয়ে মন্তব্য মানুষের ব্যাক্তি আক্রমন গালা গালি সবই পড়ি। এই সবের কারনে আমি বাজি ধরে বলতে পারি প্রথমালুর রুম্মান রশীদ খানের চেয়ে কোন কিছুতেই পিছায় নাই আমি জানার দিক দিয়ে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ফিল্ম ফেয়ার সব কিছুই পড়ার চেষ্টা করি। আনন্দোলোক তো পড়তে পড়তে তাদের ফিচার বলার ভঙ্গি বানানরীতি সব ঠোটস্থ। এসব নিয়ে বিব্রত হই মাঝে মধ্যে যে আপনি পাঞ্জাবী পড়ে থাকেন হুজুর মানুষ এই সব কেন পড়েন? আমি খুব একটা পাত্তা দেই না জানতে খুব ভালো লাগে। জানার আনন্দের সাথে কিছুরই তুলনা চলে না। তবে সেই একি কথা এতো জেনেও সিনেমা দেখা হয়ে উঠেনা। আমার বন্ধু সাইফ তার বুয়েটের ছোট ভাই প্রচুর সিনেমা দেখা লোক। তেমন প্রচুর রিভিউ পরে। ওর পিসি সাথে ল্যাপটপ ভর্তি সিনেমা। চিন্তা করি একদিন টাকা হবে পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ব্যাগে নিয়ে ঘুরবো। তখন একদিন ওর কাছ থেকে এক দেড় হাজার সিনেমা নিয়ে দেখা শুরু করবো। তানভীর মোকাম্মেলের সেই প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা দিছিলাম ক্লাস করি নাই। আবার ভর্তি হয়ে নিবো ফিল্ম এ্যাপরিসিয়েশন কোর্স। তারপর কারো সাথে কাজে নেমে পড়বো, তার কিছুদিন পর বানানো শুরু করবো টিভি নাটক। তখন একটা টিভি চলচ্চিত্র নিয়ে পত্রিকা চালাবো। যেখানে মিডিয়া নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন হবে। নাটক সিনেমা নিয়ে হবে নানান ধরনের রিভিও। তবে এই সব কিছুই কল্পনা। এই ধরনের শত হাজার বাসনার সিরিজ মনে আছে। কিন্তু তা বাস্তবে আনার জন্যে যা করার দরকার তার কিছুতেই আমি নাই। আগুনের গানের কথার মতোই আমার স্বপ্নগুলো কেন এমন স্বপ্ন হয়? কারন আমি জানি এই সব কেবলি খোয়াব। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সাহেব লিখে গেছে জ্বাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল। তেমনি এই সব কল্পনা। সবই মিছে বাসনা। যতই আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ সাহেব বলুক মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। আমি তা মানি না। আমার কাছে এই সব ফ্যান্টাসী ছাড়া কিছুই না। যাইহোক সেহেরীর সময় হয়ে গেলো। সেহেরী খেয়ে ঘুম আর আসে না। চমৎকার একটা ভোরের জন্য চেয়ে থাকি। ভোর হয় তারপর ঘুমাই। ঘুম থেকে উঠি ২ টা ৩ টায় আর ভাবি আমার মতোন সুখী কে আছে? কাটুক না জীবন এই ভাবেই আলসেমীতে!
{এই নাজমুল হুদা টাইপের ব্লগ পোষ্টটা রন্টি ভাইয়ের নামে উৎসর্গ করলাম!}





যাউক... হুদা সাহেব্রে রন্টি নানারে দেওনের লাইগ্গা তোমারে জাঝা
থ্যাঙ্কু ভাইয়া। ভালো থাকেন শুভকামনা!
জীবনটা যদি আসলেই এই আলসেমীতে পার করা যেতো।
সম্ভব না। তবে চেষ্টা করতে দোষ কি? নেপোলিয়ন বলে গেছে অসম্ভব বোকাদের ডিক্সেনারীতে থাকি আমি তো বোকা না!
কী চমৎকার একখান জীবন কাটাইতেছো মিয়া তুমি ...
তা মিথ্যা না। তবে আপনার মতো ৬৪ জেলা ঘুরে ফিরে এখন বিদেশে যাইতে পারলে শান্তি পাইতাম!
শান্ত, মুভি বানাইতে নাইমা যাও।
দেখি কি করা যায়! আপ্নারে এই পাড়ায় দেইখা অবাক হইলাম। ভালো থাকেন ভাইয়া!
নাজমুল হুদা বিরক্তিকর প্রানী মাগার পোষ্ট ভালু হইছে।
আপনি ব্যাস্ত নাকি? নতুন লেখা কই?
নাজমুল হুদা মানেই বেহুদা!
হিন্দি মুভি দেখা হয় না আজকাল, কোয়ালিটি অনেক ডাউন খাইছে- তাই।
হিন্দী মুভি দেখা ভালো না। কোয়ালিটিও খারাপ। তবে খোজ খবর রাখা পাবলিক ডিমান্ড তাই রাখি!
সকালে অফিস যাওয়ার পথে এই পোস্টটা পড়লাম। কি সুন্দর গুছিয়ে লেখো তুমি! লেখা চালিয়ে যাও। আর এমন সুখী জীবনই কাটুক তোমার।
আপনার লেখাও খুব মিস করি। ভালো থাকেন আপু!
বাদশাহি জীবন ।
হালকা পাতলায় নবাবি ওতো বেশি না!
আলহামদুলিল্লাহ...
ফেসবুকেও দেখি না ব্লগেও থাকেন না। জানানো হয় না হয়তো হবেও সত্যি তুমাকে মিস করি।
ভালো থাকো!
সুখী জীবন। দারুণ লেখা। ভাল ছেলে।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
মন্তব্য করুন