বিজয় পথে যাও অনাদিকাল!
চে সাহেবরে ধারনা করি প্রথম দেখছিলাম খুলনায়। তখন আমি বালক। তাই বালক সুলভ ইসলামের চেতনা টনটনে। গেঞ্জীতে মানুষের ছবি দেখে মেজাজ খারাপ হইছিলো। বন্ধুরে জিগেষ করছিলাম এই লোক কে? সে কইলো র্যাম্বোর মতো শক্তিশালী হলিউডের নায়ক। আমি সরল বিশ্বাসে তা মেনে নিয়েই দিন পার করছি। চিটাগাংয়ে থাকতে জানলাম চে র কথা। চে কি করে? তিনি একজন বিপ্লবী। তখন বিপ্লব বলতে আমার কাছে একটা রহিম করিমের মতোই নাম। বিপ্লব মানে প্রমিথিউস ব্যান্ডের ভোকাল। যাই হোক দিন চলে গেলো রাশি রাশি। ঢাকায় এসেই পড়াশুনার গতি বাড়লো। নানা কিছু চিনলাম। চে নিয়া বাংলায় বই পুস্তক পড়লাম অনেক। ভাইয়ার বুদ্ধিতে দেখলাম দ্যা মোটরসাইকেল ডায়রী। শ্রাবন থেকে ২০০৭ এ কিনে আনি পোস্টার। আম্মুর কারনে লাগাতে পারি নাই কোথাও পরে এক দরজার উল্টো দিকে লাগিয়ে রাখি। এরপর দেখা শুরু করলাম যাপিত জীবনের নানান জিনিস জুড়ে চে সাহেবের ছবি লাগানো। হোক সে আজিজের ১৫০ টাকার গেঞ্জী বা নিউ মার্কেটের কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ, ম্যানি ব্যাগ বা আনডার গার্মেন্টস কিছুতেই বাদ নাই। পুজির দুনিয়ায় সাম্যবাদী চে র বাজার মূল্য অনেক চড়া। লেখকের নাম মনে নাই বাংলাদেশী চিটাগাংয়ে থাকে। তিনি প্রতি দশজন চে ছবি বাহিত গেঞ্জীওয়ালাকে জিগেষ করছিলেন ইনি কে? তাদের ভিতরে সাতজনই নামটা বাদে আর কিছুই বলতে পারেন নাই। এই সাত জনের ভিতরে দুই জন তাকে কাবিল বলে বকাবকি করে। যাই হোক এই পোষ্ট চে র প্রতি তরুন সমাজের প্রভাব নিয়ে না। এইটা সিম্পল একটা মনের ভাবনা উনাকে নিয়া!
আজ সারাদিন চে চে করেই কেটে গেলো। চে র মরন দিবস সকাল বেলা পত্রিকায় অনেক গুলা সম্পাদকীয় পড়লাম। কোথাও এমন কিছু নাই যা আগে জানা নাই। সবই কমন কথা। এই সমস্ত কমন কপি কাট কথা আমার পছন্দ না। কারেন্ট টা চলে গেলো। ইদানিং প্রচুর কারেন্ট যায়। দিনে ৬-৭ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না প্রতিদিন। কি যে একটা অবস্থা। যত ভাবি চায়ের দোকানে কম যাবো। বাইরে কম ঘুরবো। তত বেশী বাইরে যাই তত বেশী সময় চায়ের দোকানে কাটে। সকালে যে রোদ উঠে তার ভিতরে নাস্তা না করে ২০ মিনিট হেটে চায়ের দোকানে যাওয়ার কস্ট বাসে করে অফিসে যাবার চেয়ে কম না। যেয়ে দেখি চায়ের দোকানেও রোদ। পুলিশ গত পরশুদিন চায়ের দোকান থেকে বেঞ্চ উঠায় দিতে বলছে। কারন চায়ের দোকানটা বড়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গায়। রাস্তার এক পাশে মসজিদ আরেক পাশে গির্জা। যার গল্প করছিলাম আগে একবার। পুলিশ দোকানই তুলে ফেলতো কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক লীগের দোকান। পুলিশের এই তোরজোর রামুর ঘটনার পর থেকে। কিন্তু আমি জানি মোহাম্মদপুরে খ্রীষ্টানদের খুব সম্মানের সাথেই সবাই দেখে। এবং তাদের উঠ বস সবার সাথেই। তাই পুলিশেরও সাহসে কুলায় নাই। যাই হোক এই সব সীন পার্টের সময় আমি থাকি না। আর রাতে চায়ের দোকানে এখন থাকি কম। তাই জানি না বিস্তারিত ঘটনা। চায়ের দোকানে গিয়েই এখন এই সব জিনিসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। পুলক আসলো বললো ইউসুফের দোকানে যাবে। ইউসুফ আমাদের বন্ধু ভাবাপন্ন। বাকীতে মোবাইল সংক্রান্ত জিনিসপাতির কারবার করা যায়। তবে কিছু খুচরা টাকা পায় অলসতায় যাওয়া হয় না টাকাও দেয়া হয় না। রিক্সা দিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি নোয়াখাইল্লা বয়ান দিয়া কাস্টমার ঠান্ডা করতেছে ইউসুফ ভাই। পুলক বসুন্ধরা সিটি থেকে নতুন কেনা ম্যাক্সের এক সেটের একচেন্জ নিয়া দেন দরবার করতেছে। তখন দেখলাম সিম্ফোনীর এন্ড্রয়েড সেট। সাধারনত ইউসুফের দোকান জুড়ে কমদামী সেটের আঁকড়া। কিন্তু এই সাড়ে সাত হাজার টাকার সেট দেখে ফাজলামি শুরু করলাম। বললাম কততে দিবেন? উনি বলে বসলো সাত হাজার টাকা নগদে দিলে এখনি ৪০০ টাকা লসে আপনারে দিবো। সেটটা কেনার খায়েশ ছিলো। এক বন্ধুর টেকা পকেটে ছিলো সাথে এই মাসের হাত খরচের টাকাটা পুরো দিয়ে দিলাম। সেটটা কিনে মনে হলো কি করলাম। এমনিতেই বন্ধুদের ছোটোখাটো অনেক লোনের উপরে দিন যায় তার ভেতরে এই কাহিনী কেন করলাম। পুলক বললো শান্ত ভাই কিনছেন যখন রেখে দেন। ভালো না লাগলে বেচে দিয়েন ইউসুফের কাছেই। যাই হোক সেট নিয়ে চায়ের দোকানে ফিরলাম। মনে মিশ্র অনুভুতি। একদিকে স্মার্ট ফোন চালানোর খায়েশ পুরন অন্যদিকে টাকা গুলো সব চলে গেলো চলবো কেমনি? এই করেই বাসায় ফিরলাম। সেটটা ভালোই। বিশেষ করে টাচটা চরম। যাই হোক। দিনের সব চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কাজের সময় হলো। ভাত খেয়ে গোসল করে পুলকের বাসায় গেলাম। দুই ভন্ড চে ভক্তের চে সংহতি অনুষ্ঠানে যাওয়া। টিপটিপ বিষ্টির ভেতরে ভ্যাপসা গরম। রিক্সা দিয়ে গিয়ে দেখি অনুষ্ঠান শুরু হতে মেলা দেরী। বাবু সাহেব সাউন্ড চেক করে। মাহামুদুজ্জামান বাবু এক কালে আমার খুব পছন্দের মানুষ। তার গান সব শুনা। টিভিতে লাইভ হলেও শুনার চেষ্টা করি। কিন্তু এখন আর সেই প্রেম নাই। তিনি বললেন তাদের অতিথি আসে নাই। খালি প্রথম আলোর লোকজনেরা আসছে। চিন্তা করলাম জাহীদ রেজা নুর থেকে শুরু করে আবুল মকসুদ আনিসুল হক এতো লোক আসলো। মাসুম ভাই আসলে কত ভালো হতো। এবার সংহতি অনুষ্ঠানটা গেলো বাবুদের ব্যান্ড মৃত্তিকার গান শুনতে শুনতেই। তাই ভালো হইছে। তাদের ব্যান্ডের নিজেদের গান, চে নিয়ে গান, মহিনের ঘোড়াগুলির একটা গান শুনার ফাকে দিয়ে মকসু্দ, জাহীদ রেজা নুর, পারভেজ চৌধুরী দের কথা সাথে আবৃত্তি ভালোই লাগছে। পুরা রবীন্দ্র সরোবরে আমাদের মতো মুগ্ধ শ্রোতা খুব কমই ছিলো। আনিসুল হককে বাই ডিফোল্ট আমার পছন্দ না। জানি না কেনো! তবে তার কথাই সব চেয়ে ভালো লাগলো। উনি বিপ্লবী না ছিচকাদুনে তা জানালেন। এবং মুক্তিযুদ্ধ সাথে ৪০ বছরের দিন যাপন সাথে রামুর ঘটনা নিয়ে দারুন আবেগাক্রান্ত বয়ান দিলেন। চোখে পানি আটকালাম অনেক কষ্টে। তবে মুক্তিযুদ্ধাদের কথা বলতে গেলেই উনি শুধু রুমি আজাদদের কথা কেনো বলেন তা জানা নাই। আরও কথা মুক্তিযোদ্ধা আছে তাদের কত অসাধারণ গল্প আছে তা কোনওদিন উনাকে বলতে শুনলাম না। তারপরও তার কথা গুলো অসাধারন। শুনার পরে মনে হয় কি করলাম এই তারুন্য দিয়ে। না করতে পারলাম দেশের জন্য কিছু। না করতে পারলাম বিপ্লব, না করতে পারলাম পূজিবাদী হয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জল। জীবনটা আপদওমস্তক ফাকি। খালি বড় বড় কথা বলেই দিন গুলো চলে গেলো। আনিসুল হকের সব চেয়ে দামী কথা হলো প্রতিবাদ করা শিখতে হবে। খালি ফেসবুকের লাইক দিয়ে কিচ্ছু হবে না। ভদ্রলোকেরে আমি অনেক গালি গালাজ করি কিন্তু তার পাচ মিনিটের কথায় অবাক হয়ে গেলাম। যে কত ঠুনকো আমার ধারনা গুলো। তারপর এমপি আসাদুজ্জামান নুর আসলো। তার পলিটিক্যাল কথা বারতা পছন্দ হয় নাই। এই গা বাচানো আওয়ামিলিগ মার্কা কথা শুনতে শুনতে ফেড আপ। কিন্তু পুরা ধানমন্ডি ৮ কাপিয়ে যখন উনার কন্ঠে নুরুলদীনের সারা জীবনের পাঠ শুনলাম। তখন মনে হলো পুরা শরীর টগবগ করছে। মানে পুরো মাথায় ঝিম ধরে আছে। এরকম কবিতা শুনার জন্য না খেয়ে দিনের পর দিন থাকা যায়। তারপর চে নিয়ে বাবুর গান শুনলাম। দারুন লাগছে। দেখি এক মাত্র আমি আর পুলক বাদে খুব কম তরুনই গান গুলোর সাথে পরিচিত। গলা টলা মিলিয়ে রিক্সা দিয়ে চায়ের দোকান। সেখানে আমার এন্ড্রয়েড কেনা নিয়ে সবার দফায় দফায় পচানি। সয়ে রয়ে ঘরে ফিরলাম। চে র বিখ্যাত লাইন থেকেই শিরোনামটা নেয়া। এই ব্যার্থ তারুন্যের দিন রাত্রীতে চে র কথা ভেবেই না হয় দিন কাটুক!





ধুর মিয়া!
আগে কইতেন, তাইলে আমিও যাইতাম!
মনে ছিলো না!
রবীন্দ্র সরোবরে গেছিলা?
জি আপা!
লোকজন কত ঘুরাঘুরি করে রে !!


আফসুস! সকাল-সন্ধ্যা অফিস করে আমাদের আর সময় মিলে না।
ব্যর্থ তারুন্যের দিন রাত্রির বয়ান ভাল লাগলো ভাইয়া।
এই টা আর কী ঘুরাঘুরি বাসা থেকে বের হয়ে ৩৫ টাকা রিক্সা ভাড়ায় রবীন্দসরোবর যাওয়া আসা!
ব্যর্থ তারুণ্যের বয়ান পড়ে অনেক ভালো লাগলোরে বন্ধু। এই ব্যর্থতাতে আছে যেমন ইচ্ছে চলার সুখ। (সেট উপলক্ষে খাওয়াটা পাওনা রইল)
থ্যাঙ্কস রেজা। তুমার সামুতে ব্লগিং সুখের হোক! অলসতা বাদ দিয়ে বেশী বেশী লিখো!
দিনলিপি তো ভালোই এগুচ্ছে
হুটাহাট কইরা মোবাইল কিনার পাগলামিটা অতীতে আমি ও কয়েক বার করছিলাম
..কাজেই আপনার টক ঝাল অভিজ্ঞতা টাও আমার কাছে বেশ পরিচিতই
কোন এক বিচিত্র কারনে চে টাইপ মানুষেরা কোন কালেই আমাকে আকর্ষন করতে পারে নাই..হয়তো আমার মধ্যে বিপ্লবের সেই বারুদটাই নাই......
যাই হোক, দিনলিপি চলুক....ব্যাচেলর লাইফটা খুব একটা কাটানো হয় নাই....আপনার দিনলিপি পইড়া তার কাছাকাছি একটা স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে...মন্দ কি!!
ভালো কাজ করছেন ভাইয়া। ব্যাচেলর লাইফ বেশী ভালো না!
কষ্ট করে এসে পড়ে যান এই ভালোলাগা শোধ দেবার ক্ষমতা নাই! ভালো থাকেন ভাইয়া শুভকামনা!
জীবনটা আপদমস্তক ফাঁকি
~
হ কি আর করার।
লেখা চমতকার হইছে।
চে'র ল্যাটিন এখন কথা বলছে দুনিয়াতে!
বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।
ধন্যবাদ ভাইয়া। ভালো আছেন তো?
শুভকামনা!
শান্ত ভালো আছি।
একদিন টং দোকানে চা খেতে আসেন।
এফ বি তে নাম্বার দিয়ে দিয়েন-দাওয়াত দিমুনে।
সাথে বিড়ি ফ্রী।
মোহাম্মদপুর-শিয়া মসজিদ এই দিকে যখনি আসবেন আমারে পাবেন আশা করি। জুকারবুকে আওয়াজ দিয়েন। যামু ইনশাল্লাহ!
মানুষ এত ভাল হৃদয়ছোঁয়া পোষ্ট লিখে কেমন করে?
থ্যাঙ্কস মামা। কিন্তু তুমি অনেক অনেক ভালো লিখো যে কোনও কিছুই তার তুলনায় এই সব কিছুই না!
এইভাবে ওপেন স্পেসে বাঁশটা না মারলেও পারতা।
বাশ না মামা রিয়েলিটি।
আজকাল তোমার প্রশংসা করলেই দেখি বাশ ভাবো। তা ঠিক না। অন্তর থেকেই তা করি। যাও আর করবো না তাও!
মোবাইলে পড়ছিলাম, কমেন্ট করা হয়নি তাই। লেখাটা বেশ ভাল্লাগছে! এইযে দিনমানের খুটখাটের কথন,নিজের কতো কি নিয়েও ভাবায়।
থ্যাঙ্কু মেঙ্কু।
লিখেন বেশী বেশী সময় সুযোগ পাইলে!
চে'র আইডিওলিটা ভালো লাগলেও তারে নিয়ে হুদাই এত মাতামাতি ভালো লাগে না। তোমার নয়া ফোনের ব্যাটারি লাইফ কিরাম?
ইউটিউব বন্ধ তাই গুতাই একটু কম তবে খারাপ না। ১ দিন খুব ভালো মতো যায়!
মন্তব্য করুন