অনুভুতি শুন্য থতমত এই শহরে!
শিরোনামটা অযথাই রাখা। একটা না একটা শিরোনাম তো রাখতেই হবে কিছুই করার নাই। আবার শিরোনামহীন রাখবো তারও উপায় নাই। সাধারনত রিয়েল লাইফ বন্ধুদের ব্লগ কোনো কালেই পড়াই না। কারন ভালো লাগে না। নিজের যা ছাইপাশ লেখা মাঝে মাঝে বুধবার নিউএজে ছাপতো তারও খবর কাউকে জানাতে ইচ্ছা করতো না। নিজের প্রচার করতে ভালো লাগে না কখনোই। খুলনা নেভী স্কুলে তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন এমনি প্রতি বিকেলেই মুখস্থ করা গান বন্ধুদের শুনাই। বন্ধুরা খুব তারিফ করে। ক্লাসে সবার সামনে গাইতে বললেই বন্ধুদের শত অনুরোধেও সবার সামনে দাড়িয়ে গান গাই নি। সেই থেকেই শুরু। ঢাকায় এসে তা সামাজিক অনুষ্ঠান বর্জনে রুপ নিলো। আমার এখনো মনে আছে ভাবীর যে গায়ে হলুদ হলো তাদের বাসায় সেখানেই আমি যাই নি। নিজের ভাইয়ের বিয়েতে বন্ধু বান্ধব নিয়ে মোটামুটি এক কোনা তেই পড়ে ছিলাম। অথচ কত আয়োজন আমারই ভাইয়ের বিয়ে। যেদিন ভাইয়ার গায়ে হলুদ বাসায় শত শত কাজ। সেইদিনেও আমি ভার্সিটি গেছি। ক্লাস শেষে দুপুরে বাসায় আসছি তখন ভাইয়া বলে আজকেও তোর ভার্সিটি যেতে হলো। আমি মুখ ফসকে বলে উঠলাম কাজ তো নাই আমার তাই বাসায় থেকে কি করবো? ভাইয়ার সেই কঠিন চোখে তাকানো এখনো চোখে ভাসে। বিয়ের পরে অনেক দাওয়াতে যেতো হতো ফ্যামিলী সহ খুব কমই যেতাম। একদিনের কথা বলি ২০০৭ সাল ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ চলে। নামিবিয়া বাংলাদেশের ম্যাচের অজুহাত দেখিয়ে গেলাম না ভাবীর বাসায় দাওয়াতে। ভাবী কত চেষ্টা করলো পারলো না নিতে। এই সব ঘটনাকে কি বলা যায়। প্রচারবিমুখতা নাকি এবনরমাল তা আমি জানি না। আবার বাসায় যখন অনেক মেহমান আসতো তখন আমি হাসিনের বাসায় বা পরাগের বাসায় চুটিয়ে গল্প করছি। এমন না যে প্রচুর মানুষ দেখে আমার ভয় লাগে কারন এমন অনেক দাওয়াত খেয়েছি বন্ধুদের সাথে যেখানে বন্ধুরাই দুরের গেষ্ট। আমাকে সঙ্গে নিয়ে গেলো আর আমি আড্ডার মুডে খেয়ে আসলাম। জানি না এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কারন কি? এহতেশাম ও পুলক এতো জানের বন্ধু তাও তাদের বাসায় কখনোই যাই নি। শত চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারে নাই আমাকে। অথচ বন্ধুদের নানান ধরনের কাজে কত সময় ব্যয় করছি। চায়ের দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা কত অজস্র দিন পার করছি। সারাদিন না খেয়ে পাবলিক লাইব্রেরীতে বই পড়ছি। মোট কথা নিজের যখন যা ভালো লাগছে তা করছি। নিজেই এটার নাম দিছি সময় উপভোগ। বন্ধুরা কত নানান জায়গায় নানান প্ল্যান করছে খেয়াল খুশী মতো গেছি। তাতে অনেকেই দুঃখ পাইছে কিন্তু তাতে আমার কোনো আপসোস নাই। পরিচিত ভালো বন্ধুরা অবশ্য আমাকে চিনে ফেলছে। ভালোবাসে বলেই হয়তো মেনে নিছে। কি আর করার। তবে লোকজনের আমাকে নিয়ে এতো উচ্চ ধারনা দেখে মুগ্ধ হই। বাবা মা ভাই ভাবীরও এক ধরনের প্রশ্রয় আছে জানি না কত দিন থাকবে। এসব নিয়ে বেশ আছি বলা যায়। নাম দিয়েছি ব্যাক্তি সাতন্ত্র্যবাদ!(বানান ভুল)
ভালো নেই মোহাম্মাদী হাউজিং সোসাইটির এক ডোবায় মরে থাকা মানুষটি। লোকটা নাকি মৃগী রোগী। পানিতে পড়ে যাওয়ায় নাকি এই মরন। লাশ দেখতে দলে দলে গতকাল ছুটে আসছে মানুষ। টিভিতেই লাশ দেখতে ভালো লাগে না আমার। বাস্তবে তা আরও বীভৎস। ক্লাস নাইনে থাকতে আমার নানু মারা যায়। বাড়িতে গিয়েই দেখি নানু মাটিতে শুয়ে। কাদতে পারি নাই কেমন জানি স্তব্ধ লাগছিলো। আম্মুর জন্যই সব চেয়ে মন খারাপ হচ্ছিলো। তখন খালি মাথায় আসছিলো ইস যদি আমি মরতাম আম্মু কেমন কাদতো তা আর দেখা হবে না। কোনো সুস্থ মানুষ এই ভাবে চিন্তা করে বলে আমার মনে হয় না। যাই হোক তারপর অসংখ্য জানাযার নামায পড়ছি কিন্তু কখনো লাশ ধরা লাশ দেখা মাটি দেয়া এই সবের কাছে কুলেও থাকি নাই। কিন্তু জীবনে এই ছাড়া গতি নাই। নিজে মরলে তো নিজেই গেলাম। কিন্তু নিকটাত্মীয় কেউ মারা যাবে লোকজন আমাকে সান্তনা দিতে আসবে এরপর দাফনে আমার উপস্থিত থাকতে হবে এরকম একটা দিনের কথা ভাবতেই আমার গা শিরশির করে। কিন্তু এই ঢাকাতে কোনোকিছুই ব্যাপার না। সবাই সব কিছু সহ্য করার ক্ষমতা মায়ের পেটে থাকতেই শিখে নিয়ে আসে মনে হয়। তাই হতভাগ্য লাশের থেকে ধান্দা করার জন্য পুলিশ বসে থাকে। নারী শিশু সবার কাছে উৎসবের মতো মনে হয়। মনে হয় কোরবানীর পশু কেনার হাট বসছে। এই সুযোগে অসংখ্য ফকিরের আগমন। লাশকে সামনে রেখে তাদের চাহিদা। তারপর লাশ কবরস্থ করার প্রশ্ন আসে তখন দু তিনটা মাদ্রাসার রেডিমেট ছাত্র নিয়ে চলে চান্দা নেয়া। কি একটা আজব শহর! সেই খান থেকে আমার মতো গা বাচানো লোকেরা কেটে পড়ে। অযুহাত ক্লাসের সময় হয়ে গেলো। ক্লাসে বিবিএর পড়াশুনা দেখতে দেখতে ক্লান্ত। বিবিএই যদি পড়ায় তাহলে এমবিএ নাম কেনো। ডাইরেক্ট রিক্সায় চায়ের দোকানে ফিরে শরীরটা গুলিয়ে আসে। চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মরা ড্রেনটাকে মনে হয় কোন সময় ভেসে উঠে লাশ। যাই হোক বিভিন্ন মানুষের অনুভুতিহীন জীবনের গল্প শুনি। এন্ড্রয়েডে খোজ নিয়ে জানতে পারি এমেরিকার সেই ছেলেটার কথা। তার জন্য মায়া হেইট কোনোটাই হয় না। এক ধরনের আনন্দই পাই। মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি এই ভেবে যে দেশে থেকে পচে মরাও এর চেয়ে ভালো। সারাদিন গোসল করি নাই কেমন জানি গা টা গিনগিন করে। সেই সকালে একজনকে পাওনা টাকা দিতে যেয়ে ফার্মগেট অবধি হাটি। তাও তার দেখা পাওয়া যায় না। লোক মারফত দিয়ে যাই। আবার বাসে উঠে আসাদগেটে নেমে দেখি রিক্সা নেই না। তাই আবার হাটি। এই জামানায় আমার মতো এরকম আজাইরা হাটে এমন ছেলে পাওয়া যাবে না হয়তো। তবে হিমুগিরির জন্য হাটি না বা উপভোগ করতেও না। নিজের বাস্তবিক অবস্থা অনুধাবন করতে ও নিয়তিকে দোষারোপ করতে করতে হাটি। তবে হাটতে হাটতে মাথায় অনেক চিন্তা পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে। জোরে একাগ্র চিত্তে হাটি যেনো পরিচিত কেউ ডাকলেও শুনতে না পাই। এইভাবেই চলে যায় একটা আস্ত শুক্রবার।
এবার শনিবার মানে আজকের দিনের কথা বলি। আজ সকাল থেকেই মন ভালো। জানি না চেষ্টাও করি নাই। সম্ভবত রাতে একটা ভালো স্বপ্ন দেখছিলাম। যে অনেকেই আমার কাছে বিচার নিয়ে আসছে। চায়ের দোকানে বসে সেই বিচার গুলার অসাধারন সমাধান দিচ্ছি। বিচার শেষে সবাই খুশী হয়ে আমাকে লাল লাল ১ হাজার টাকার নোট দিতে দিতে চলে যাচ্ছে। সাড়ে তিনটায় ঘুমিয়ে ৯ টায় ঘুম ভাঙ্গলো। সকাল সকাল বলা যায়। নেটে বসে পত্রিকা পড়া শেষে চায়ের দোকানে যাবার জন্য রিক্সা নিলাম দেখি পকেটে মানিব্যাগটাই আছে আর কিছুই নাই। রিক্সা ভাড়া দিলাম চায়ের দোকান থেকে। সাধারনত চায়ের দোকান থেকে আমি বিস্কিট চা ছাড়া কিছু খাই না। কি মনে করে কলা রুটি পাটিসাপ্টা পিঠা পেটিস তারপর চা খেলাম। পুলক গেছে গাবতলিতে। তার খালাকে তুলে দিতে। বললো বসেন আসতেছি আর আসে না। কারন নয়টার কুস্টিয়া গামী বাস ছাড়ছে ১ টায়। দোকানদার নান্নু তার বাপের চেয়েও বেশী আমারে ভালবাসে। একবার যদি বলি চা খারাপ হইছে সাথে সাথে ব্যাপক তদন্ত করা শুরু করে। যখন যা বলি খুব মানার চেষ্টা করে। কি আর করা বসে বসে বাতেন বংশের ছেলে সাজ্জাদ, বেয়াদব অনিক, ভদ্র বালক তানভীর গায়েবি গিটারিস্ট সাইফ এদের নানান প্যাচাল হজম করলাম। বাকীতে চা সিগারেট খাওয়ালাম। নিজের নাই টাকা বাকিতে মানুষরে না চাইতেই খাওয়াই। এমন না যে জনম বাকী তাই এই ব্যাপক বাকীর টাকা আমাকেই শোধ করতে হয় প্রতি মাসে। ভাগ্যিস সিগারেট খাই না তাহলে না আরও কত টাকা হতো। বাসায় ফিরে শুটকি মাছের তরকারী দিয়ে ভাত খেয়ে দেই এক ঘুম। আমার মতো দুপুরে ঘুমাই এরকম বেকুব খুব কমই আছে। পাচটায় উঠেই ক্লাসে চলে যাই। ফেরার সময় শ্যামলী থেকে পুলকের সাথে রিক্সা করে ইবনে সিনা ধানমন্ডি ১৫ তে যাই। পথে মুসলিম সুইটস থেকে চিকেন পেটিস খাই। পুলককে বলতে থাকি ক্লাস থ্রিতে আব্বুর কাছ থেকে টাকা সরিয়ে পেটিস খাবার গল্প। পুলক বলে তার ২০০৭ সালের কোনো একদিন রিক্সা ভ্রমনের গল্প। যেইখানে ফারুক নামে এক চালক পুলককে মনে করে বড় সন্ত্রাসী। বলে উঠে ভাই আপ্নেরে দেখে মনে হয় আপ্নে আমগো লাইনের লোক। পুলক কোনো ভাবেই বুঝাতে পারে না যে সে ছাত্র। চুল দাড়ি বড় রাখার কারনেই তাকে এমন লাগতেছে। সারাটা পথ জুড়ে সে বলতে থাকে নানান গল্প যার ভেতরে একটা মজার গল্প হলো শীর্ষ সন্ত্রাসী আক্কাসের সলিমুল্লাহ রোডে রুটির দোকান দেয়ার গল্প। পুলকের মুখে এই সব গল্প দারুন লাগে। হাসতে হাসতে ফেটে পড়ি। রাজাকারদের ডায়গনস্টিক সেন্টারে যাই। পুলকের আওয়ামিলীগ মনকে নানাভাবে খোচা দেই। কাস্টোমাইজ সব মেয়ের আনাগোনা। এতো এতো মানুষ রিপোর্ট নিতে দিতে ও দেখাতে আসছে এই ভেবে অবাক হই। জামাতীরা ব্যাবসা ভালো বুঝে। পুলকের যে ডাক্তার তার দেরী হবে। রিক্সা দিয়ে চলে যাই চায়ের দোকান। চায়ের দোকানে অনেক নতুন নতুন ছেলে দেখতে দেখতে ভাবি একদিন চায়ের দোকান থাকবে দোকান দার থাকবে আর পড়ে থাকবো আমি এই অনুভুতিহীন থতমত শহরে!





অসাধারন সময় উপভোগ!!
লেখা সেইরাম হইছে।
একসময় শুধু চায়ের দোকানগুলোতেই হবে অনুভূতির চর্চা। লেখা ভালো হইছে।
অনুভুতিশুন্য হতে পারলে ভাল হইতোরে...
পুরো লেখায় ঘুরাঘুরি দেখলাম, অসুস্থতা দেখলাম না।
তবে, স্বপ্নটা ভাল লেগেছে। আপনার সবকিছুই তো মহৎ। খালি স্বপ্নগুলো বাস্তববাদী।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর......!!! বিচিত্র সেই সব দিন আমার অনুভুতি শূণ্য থতমত সেই শহরে..............লেখার বুনন বেশ হইছে..
মনটাই খারাপ হয়ে গেলো । দৈনন্দিন ঘটনাগুলো এত টাচি করে লেখো তুমি!
ভালও লাগলো।
পুরাই মচমচে...চলুক...
~
নাও থাকতে পারো, হয়তো অন্য শহরে থাকা হবে
শহর টা বড়ই অনুভূতি হীন ।
যে মানুষ টা এত সহজে সব বলে ফেলতে পারে - তার সাথে কোনো একদিন - কোনো সস্তা চায়ের দোকানে দেখা হয়ে গেলে মন্দ হয়না.
অসামাজিকতার একটা বড় সুবিধা হইল নানা উটকো ঝামেলার হাত থিকা বাইচা থাকা যায়!
মন্তব্য করুন