কোরবানীর মেহেরবানী!
এন্ড্রয়েডে মায়াবী বাংলা কিবোর্ড দিয়ে পোষ্ট আগে কেউ লিখছে কিনা তা আমার জানা নাই। এই জটিল ঝামেলা পুর্ন কাজে চায়নিজের মালের উপরে আস্থা রাখলাম কি আর করা। তবে টাচে লিখতে আমার কাছে সবসময় ভেজাল লাগে তাও মনে হলো শুয়েই তো আছি লিখে ফেলি হাবিজাবি। আর আমার নোকিয়া সি টুতে টাকা নাই থাকলে সেটা দিয়েই লিখতাম এতো টাচের গেন্জামে যায় কে? দেখা যাক আদৌ পোষ্টটা শেষ করতে পারি কিনা। বাড়ীতে শীত পড়ছে। ঢাকা থেকে সাথে নিয়ে আসছি ঠান্ডা সর্দি এলাট্রল খাই আর শরীরটা রাত থেকেই ঘুম ঘুম ক্লান্ত লাগে। তার ভিতরেই লিখছি বানান বাক্য গঠনে ভুল আর টাইপো হলে ক্ষমা করবেন। কোরবানী লইয়া আম জনতার মতো আমার অতো ফ্যান্টাসী নাই। গরুর মাংস খেতে ভালো লাগে খাই। তাই পোলাও কিংবা চাউলের আটার রুটির সাথে আম্মুর হাতের রান্না মাংস বা বট-কলিজার আইটেম খেতে খুব ভালো লাগে। এই স্বাদ অতুলনীয়। বছরের পর বছর ধরে এই খানা দানার সাথেই আমার সখ্যতা। এতোটুকুই আমার কোরবানী ঈদের আনন্দ। গরু নিয়ে আমার বিন্দু মাত্র ফেসিনেশন নাই। সেইটা আমাদের দুই ভাইয়ের কারোই নাই। বছরের পর বছর যাবত আমার আব্বু একাই এই কাজটা সুচারুরুপে করে। আমার মনে পরে আজ থেকে ১০ বছর আগের এক ঈদের কথা। আমি আর ভাইয়া শুয়ে ঘুমাচ্ছি অবেলার দুপুরে আব্বু মাংস কাটাকুটি শেষ করে আনলো। আমাদের উদ্দেশে কিছু প্যাচাল পেরে চলে গেলো আমরা দুই ভাই আগের মতোই শুয়ে থাকলাম। আসলেই এই জীবনে মাঝে মধ্যে দাড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো রুপ গরু খাসী কাটাকাটির কাজ করি নাই। আগে ভাগের কোরবানী থাকতো তখন প্রেশার কম থাকতো আব্বুর। এখন একার কোরবানী তাও আমার তেমন উত্তেজনা নাই। বাসায় বসে থাকি টিভি দেখি ভালো মন্দ খাই দাই ফেসবুকে স্টেটাস দিয়া বেড়াই। অথচ আমার সমবয়সী বন্ধুরা গরু জবাই টবাই করে শীনা রান কলিজা ভুরি মাংস হাড্ডি কাটাকাটি আলাদা করতে কত পারঙ্গম। অথচ কিছুই আমার ভালো লাগে না। কখনো আগ্রহ দেখায়নি আব্বুও জোর করে নাই। গরু নিয়া এলাকা পদক্ষিন ছিলো চিটাগাং বা খুলনা কলোনীর প্রধান আনন্দ। সেই কাজ আমি কখনোই করি নাই। তাই কোরবানীর দিনগুলো যাইতো আমার বিরক্তিকর বাসায় থেকে বা বন্ধুদের গরুর সামনে দাড়িয়ে আড্ডা দিতে। তবে গরুকে আমি গরুর মতোই থাকতে দিতে চাই। কোরবানীর আগে তাকে মালা পড়িয়ে ফুর্তি করতে চাইনা বা রক্ত জবাই এই সব করে সুখটাও পাই না। জানি না কতদিন এই রকম চলবে তবে চলুক দিন। গরুর মাংস খেতে খুব ভালো লাগে। আর এই সময় এতো মাংস খেয়েও আমি বিরক্ত হই না। যাই হোক যাক দিন মাংস খেতে খেতে। আমরা বাংগালীরা গোশত খাওয়াকে খুব ইসেনসিয়াল মনে করি। অনেক লেখায় গরীবি হাল বয়ানের জন্য লেখক বলে উঠে বছরে দুই ঈদে মাংস খাওয়া ছাড়া আর কখনো মাংস খেতে পারতাম না। এইটা নিয়ে আপসোসের কি আছে কত অজস্র মানুষ মাংস না খেয়ে বেচে তাদের হিসাব তো কম না। তাই মাংস স্রেফ একটা খাওয়াই এইটা নিয়ে কাতর হবার মানে নাই। অনেক নাস্তিকেরা আবার পশু প্রেমীতে পরিনত হয়ে কোরবানী বিরোধী প্যাচাল ক্যাচাল শেষট কেএফসি পিত্জা হাটে চিকেন নাগেটস ফ্রাই ব্রোষ্ট খাবে। কি সার্কাসটিক এই দেশের মানুষ। বন্ধু নুর ফয়জুর রেজাকে মনে হয় বলছিলাম কথাটা যে সামহ্যোয়ার ইনে হিট ব্লগার হবার সহজ বুদ্ধি যে কোরবানীর দিনে পশু হত্যা বিরোধী একটা পোষ্ট দিবে তারপর কিছু হালকা চালের গালিগালাজ। বাস তুমি সুপার ব্লগার। বাড়ীতে আসলে মসজিদে যাই। হুজুররা চামরা বেচার টাকা আদায় করার জন্য খুব তত্পর।সব জায়গাতেই এই অবস্থা। কোরবানী মানেই গরীব হুজুরদের পকেটে এতীমদের নাম ভাঙ্গানো কিছু টাকা আর জবাই করে কিছু হাদিয়া আর পান্জাবীতে রক্ত লাগানোর ফেস্টিভাল। যাই হোক এবারো টিভি যতটুকুই দেখি লিখবো। বাড়ীতে একগেয়ে দিনকাল নিয়েও লিখবো আর মীর মেজবাহ এই দুই ভাইরে খুব মিসাই। তারাও কি ব্যাস্ততায় ব্লগ ত্যাগ করলো! এই পোষ্টটা নিবেদন করলাম মানুষ ওরফে রমজান ভাইরে তিনি না থাকলে এই মোবাইলে লেখা যেতো না!





ঈদ মোবারক!!
ঈদ মোবারক
যাক, অন্তত কিছু একটা তোমার ভাল লাগে। গরুর মাংস।
ঈদের পোষটের আশায় আছি
মায়াবী কিবোর্ডে লেখা খুব ভেজাল লাগতেছে আমার কাছে, আ-কার ই-কার গুলা অক্ষরের পরে চইলা যাইতেছে মহা গ্যাঞ্জামে আছি....
আমি ত্যাগ করি নাই, তয় মেজবাহ ভাই মুনয় ত্যাগ করসেন। তারে দেখা যায় না লক্ষ-কুটি দিন হয়ে যাইতেসে
ঈদের আগেরদিন দেখা হইছিল। বলছে, ব্যাস্ততা কমছে। এখন আবার ব্যাক করবেন!
মন্তব্য করুন