ইউজার লগইন

টিভি দেখা না দেখা বাসি হয়ে যাওয়া ঈদের কথা!

এই পোষ্টটা কাল একবার লিখছিলাম। পোষ্ট যখন করবো ক্লিক দিলাম বলতেছে এক্সেস ডিনাইড। লেখাটাও উদাও। ভুলে গেছিলাম যে আমি দেড় ঘন্টা যাবত লিখতেছি ট্যাব খুলে দেখা উচিত ছিলো এখনো লগ ইন কিনা। এই সামান্য ভুলের জন্য কত বড় একটা বিপদে পড়লাম। দুই ঘন্টা যাবত লেখা একটা জিনিস এডিট করা শেষ কিন্তু পোষ্ট দিতে পারলাম না। পিসিতেই এই সব কাজ হয় মোবাইল দিয়ে লিখলে এই সব সমস্যা নাই। লেখা অটোমেটিক ড্রাফটে থাকে। যাই হোক দুঃখের কথা বলে লাভ কি? জীবনজুড়েই আমার এসব বোকামীর দন্ড গা সওয়া হয়ে গেছে। সমস্যা হলো আমি এমএস ওয়ার্ডে লিখি না ডাইরেক্ট ব্লগে লিখি তাই একটু কিছু হলেই লেখা উদাও।

যাই হোক দিন গুলো যাচ্ছে দারুন। মন মেজাজ ফুরফুরে। পোষ্ট দেয়া উচিত ছিলো চার পাচ দিন আগেই। কিন্তু এসে সময় পাইনা। আর যখন সময় পাই তখন বেহুদা নেটে বসে ফেসবুক গুতাই। বাড়ী থেকে এসেই ব্যাস্ত। বিকেলে চায়ের দোকানে গিয়েই দেখি সবার উষ্ণ ভালোবাসা। লোকজনের আগ্রহপুর্ন খোজ খবর নেয়া ও কুশলাদি বিনিময়। সন্ধ্যায় এসে পড়লো সার্কেলের পোলাপাইন। সবার একিই কথা খুব মিস করছি আপনেকে। কখন কল দিছে ধরি নাই কেন এই সব কিছুর ফিরিস্তি। দোকানদার নান্নু মামা সবাইরে থ্রেটের উপরে রাখছে যে শান্ত মামা আসুক উনার কাছেই বিচার দিবো। লোকজন ও বন্ধু বান্ধবের এই ভালোবাসায় বলা যায় আপ্লুত। জীবিত অবস্থাতেই এরকম সবার পছন্দের মানুষ হওয়া কপালের ব্যাপার। অনেক বার সিদ্ধান্ত নিছিলাম যে চায়ের দোকান যাবো না প্রোডাক্টিভ টাইম লস। কিন্তু এই এতো ভালোবাসার জন্যই বারবার ফিরে যাই আবেগের জায়গায়।

ঢাকায় এসেই নানা জনের সাথে দেখা করতে হলো। সেই সুত্রে আড্ডা খানাদানা। দারুন দিন কাটছে। তবে যখন যেখানেই যাই নাই কেন বাসায় আগে ফিরি না চায়ের দোকান হয়ে ফিরি। এই সব গল্প শুনে পোলাপাইন বলে শান্ত ভাই আপনে পারেনও। তারপর ক্লাস এসাইনমেন্টের ব্যস্ততা। শুক্রবারে ওয়ান ব্যাংকের রিক্রুটমেন্ট এক্সাম। দুই ক্লোজ বন্ধু চিটাগাং থেকে আসলো। একজন প্রেমিক পুরুষ একজন ইঞ্জিনিয়ার একেএসে জব করে। তাদের হঠাতকরে এই ব্যাংকে যাবার সখ হলো কেনো জানি না! যাই হোক রাত ১২ টায় তারা আসে বাসায়। সারারাত ঘুমাই নাই কত যে প্যাচাল পারলাম আর শুনলাম তার হিসেব নেই। তেজগাও কলেজে এক্সাম আমি দেই নাই। গিয়ে দেখি লোকে লোকারন্য। ফরসা কালো, গরীব ধনী, গাড়ীওয়ালা হেটে আসা হাজারো তরুন তরুনী। এদের বেশীর ভাগই বেকার। আবার কেঊ আকার সে আকারটাকে আরেকটু বড় করতে এখানে আসা। আমার চেনা জানা স্কুল কলেজ ভার্সিটি এমন সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০জন। এদের অনেকের সাথে আমার ৬-৭ বছর পরে দেখা হচ্ছে। তবে অনেকের হাতেই সময় নাই তাই দেখা আর কী করছিস এখন এই কথা ছাড়া কথা হয় না। সবার ভীষন তাড়া। যাই হোক এরকম রিইউনিয়ন পেয়ে মন ভালো হলো। এখন থেকে চিন্তা করছি নিজে না দেই এক্সাম কলেজে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো কত জনের সাথে দেখা হবে। আমরা তিন বন্ধু মিলে বাসের টিকেট খুজলাম সব জায়গাতেই নাই। খালি টি আরের এসি ছাড়া। আমি বললাম দশটার সময় সায়েদাবাদ যাবি একটা না ব্যাবস্থা হবে। দরকার হলে কুমিল্লা ফেনীর বাসে উঠবি গেলেই হলো যেহেতু তোদের এত তাড়া। সন্ধ্যায় আরও দুই তিন জন স্কুল ফ্রেন্ড আসলো। সবার সুবিধার জন্য ফার্মগেটেই জড়ো হলাম। জনবহুল এক এলাকায় দারুন এক আড্ডা হলো। বাসে করে বাসায় ফিরলাম দিন শেষ। গতকাল চায়ের দোকানের সার্কেলের খানা দানার ব্যাপার ছিলো। মামার হাতের রান্না সবাই খেলো আমার এই একরুমের বাসায়। অসাধারন সময় কাটছে। এই ভাবে দিন গুলো আকাজে গেলেও দারুন যাচ্ছে উপভোগ হইচইয়ের ভিতর দিয়ে।

এবার আসি টিভি দেখা নিয়ে। এবার ঈদে তুলনামুলক কম দেখছি টিভি। কাজিনের বিয়ে ছিলো। বাড়ী জুড়ে মেহমান আর ব্যাস্ততা। যদিও আমি কোনও কাজই করি নাই তবুও মানুষের ব্যাস্ততা দেখলে নিজেরও একটু ব্যাস্ততার ভান করতে হয়। আর আমার আব্বু যে ব্যাপক খাটাখাটনি করছে তার অবসর বলতে আমি। আমাকে অনেক সময় নিয়ে টিভি দেখা অবস্থাতেই পাইলে তার কথা একটাই আর কত দেখবি? দেখতে দেখতে তো চোখে ছানি পড়ছে আর রিমোট টিপতে টিপতে তো হাতের আংগুল খুইলা পড়ার কথা। আব্বুর এই বয়ান শুনে টিভি বন্ধ করে রেডিও ফুর্তি শুনি। তবে দেরীতে হলেও খুব বেশী দেরী হয় নাই। কারন গত থাস্টডেতে দেখলাম বিনোদন ফিচারের সাথে টিভি নিয়ে ক্রিটিক লিখছে। আমি না হয় তার চার পাচ দিন পড়েই লিখলাম। যদিও আমার আলোচনা মোটেও যুতসই কিছু না। তাও বলার জন্য বলা। আর টিভিতে নানান রুচিহীন অনুষ্ঠান। ব্যাপক এডের ছড়াছড়ি ফালতু সব নাটক এই সব তো বছর ঘুরে চলছেই। দেশ চালায় গাধার বাচ্চারা আর টিভিতে শুধু উজবুকের মেলা!

ঈদের আগের দিন চাঁদ দেখার তো কোনো ব্যাপার স্যাপার নাই। ঈদের দিনের নাটক টাটক সব সজল ময়। এক রাতেই দেশের যতো পলিটিক্যাল ক্যাচাল সংবাদ আলোচনা ভুলে টিভিতে খালি ঈদের কথা বারতা। চ্যানেল আইতে একটা নাটক দেখলাম নাম ম্যাজিক ম্যান। নামটাই যা ভেতরে খালি বকোয়াস। নাটকের নায়িকা মে বী লাক্স চ্যানেল আইয়ের আবিস্কার। সজল কি খারাপ অভিনয় সজলের চেয়েও খারাপ। নাটকের কাহিনী হলো নায়িকার বিয়ে ঠিক মধ্য বয়স্ক জর্জের সাথে। সজল সেই ঘরে আশ্রিত আত্মীয়। নায়িকা সজলকে চায় আবার চায় না এই সিম্পল জিনিস দেখাতে দেখাতেই নাটক শেষ। জর্জ নায়িকাকে সজলের হাতে তুলে দেয় ম্যাজিকের মতো এই হলো কাহিনী। এরকম নাটক দিনে ২০০ টা বানানো যায়। পাচ মিনিটের একটা প্লটকে টেনে টেনে লম্বা করা। এরপর দেখা সজলের আরেক ফালতু নাটক নাম জনি আংকেল। এই খানে সজলের নায়িকা বিন্দু। নাটকের কাহিনী হলো বিন্দুকে ভালোবাসে সজল। কিন্তু বিন্দুর বিয়েও হয় ডিভোর্সও হয় কিন্তু সজল আগের মতোই থাকে। সজল পাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলে মেয়ে দেখে টাংকি মারে এই হলো অবস্থা। ওদের ফ্যামিলী দ্বায়িত্ব দেয় বিন্দুকে বিয়েতে রাজী করানোর। সজল বিন্দুকেই বিয়ে করতে চায়। শেষে বিষ খাওয়ার নাটক করে পরিনতি বিন্দুর সাথে বিয়ে। কি ফালতু কাহিনী সজল যত নাটক করছে সব ফালতু। এগুলার কাহিনী একটা একটা করে বলতে গেলে ১০ টা পোষ্ট দিতে হবে। আমি কাহিনী বেশী আর বলবোনা খালি নাটকের নাম ধরে মন্তব্য করে যাবো। ঈদে টিভি নাটকের প্রোমো গুলা খুব ভালো হয়। কিন্তু প্রমো যতো ভাল বুঝে নিবেন নাটক তত খারাপ। এই থিউরীটা খারাপ না। মীরের অনুষ্ঠান চলছিলো রিপিট। একটু দেখছি। উপস্থাপকের সাজুর বলদামী খাদেমগিরি দেখে ক্লান্ত। তবে আব্বু আম্মু যে সাত পাকে বাধার প্রেমে পড়ছে জী বাংলায় তা আরো জঘন্য। নায়িকার স্টোর রুমে অসুস্থ নায়ককে সেবা দেয়া হচ্ছে তারভিতর থেকে ভিলেন নায়িকা মেঘা নায়ককে কিডন্যাপ করার জন্য ডাক্তার আনছে। কী একটা অবস্থা এই করেই করেই এক সপ্তাহ পার করতেছে। তার তুলনায় টাকলা সজল খারাপ কি?

ঈদের সকালে নামায পড়া ছাড়া আমার আর কাজ নাই। সকালেই দেখি কেকা আন্টি ব্যাক ইন দ্যা একশন। মডেলদের দিয়ে নাচা গান করাচ্ছেন গেম শো চলছে। পুরুস্কার হিসেবে পাচ্ছে ওভেন প্রেশার কুকার ইস্ত্রী। ভাগ্যিস সব চ্যানেল তার ভাই সাগরের না। থাকলে যে কি হতো আল্লাহ মালুম। তখন ভালো মন্দ খাচ্ছিলাম দেখি টিভিতে খালি ডিপজল শাকিব খানের সিনেমা। হিন্দী তামিল কলকাতার পথ ডিঙ্গিয়ে একেকটা সিনেমার গল্প। যে গুলা তা না সেগুলার গল্প আরো দারূন। একটা কথা বলি ধনীর মেয়ে অপু সৎ মায়ের কারনে নাকি কোন কারনে জানিনা বাসায় তার মান সম্মান কাজের মানুষের মতো। তার মান ইজ্জত বাচাতে আরেক বিশাল বড় লোকের ছেলে শাকিব কাজের ছেলে সাজে। ইংরেজী নভেল পড়ে ভালো গান গায়। বাজার করতে দিলে শাকিব নিজের গাড়ী নিয়ে ঘুরে আসে। পথে দেখে এতিম দের দিয়ে হাত পাতাচ্ছে সুপারেন্ডেন্ট। ব্যাপক মাইর দিয়ে ঘোষনা দেয় এই মাদ্রাসা তার বাপ বানায়া গেছিলো। কালকেই তুমাদের নতুন ইনচার্জ আসবে। কি ফালতু সব গল্প। বৈশাখী টিভিতে নাকি কোথায় হচ্ছিলো হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ। অনন্তর এখানে ডাবিং তাই বিনোদনের অভাব। আর ক্যামেরা ঝকঝকে ভালো গানের সাথে অনন্তকে ফাসির হাত থেকে বাচানোর জন্য নাজিল হয় মেমোরী কার্ড। দিতির অভিনয় পুরোই ১৩ নম্বর বাসের মতো। এনটিভিতে হয় টেলিফিল্ম তোমার হৃদয় পাগল। হাসি আসে না তাও হাসানোর চেষ্টা। আর অপুরবকে টলারেট করা কঠিন কাজ। আমার মতো বেকুবরাই এসব দেখে। তবে জেনীর অভিনয় সাবলীল। ফেরদৌস হাসানের ডিরেকশন খুব একটা ভালো হয় নাই। চ্যানেল আইতে হলো প্রেমের ফাদ পা্তা ভুবনে। নাটকজুড়ে পরকীয়া খেলা আর নেপাল দেখানো। তবে স্ক্রীপ্ট গল্পের কোনো মা বাপ নাই। দেখাই সময় নষ্ট। আরমান ভাই এবারেরটা একেবারেই মান হীন রুচি হীন হাসি হীন। জাহিদ হাসানের সারকাস্টিক ডায়লগ আর জঘন্য কাহিনী দুয়ে মিলে অতি নিম্ন মানের। এতো এড যে চা বানাবো খাবো তারপরেও একটা বিরতি শেষ হয় না। সেই তুলনায় মোশারফ করিমের সুখটান ভালো। তিন চারটা পর্ব দেখেই ভালো লাগছে এনটিভিতে। আর মাসুদ সেজানের ডিরেকশনের ভালো দিক হলো হাসি থাকে সাথে গল্পটাও থাকে। হানিফ সংকেতের নাটক দেখতে ভালোই। এড একেবারেই কম। কিন্তু বেশী মেসেজ মেসেজ দিতে যেয়ে নাটকটা বিটিভির সুখী পরিবারের যে নাটক তা মনে হয়। আর এটিএমের অতি অভিনয় ভালো লাগে না। একুশে টিভিতে আখম হাসান আর লারার নাচে গানে ভরপুর নাটক পুরাই ফাউল। ঢাকাইয়া ভাষার ইজ্জত সম্মান আর কিছু থাকলো না। এনটিভিতে বিপাশা হায়াত আর ফারুকের অভিনীত অনিমেষ আইচের নাটকের কিছু পার্ট দেখলাম। খুব ভালো। যে লুক আর যে অভিনয়টা করছে বিপাশা খুব আপ্সোস হইছে নাটকটা টোটাল না দেখার। রাতে ফেরদৌস হাসানের মিস্টার লুডু মিস দাবা। নাটক বানাতে বানাতে রানা সাহেবরা চুলে ফেলে দিলেন তাও তাদের প্রোডাকশন এতো খারাপ। নাটক জুড়ে মডেল রাখির চোখ পিটপিট করা টাইট ফিট পোষাক আর সজলের গাধাগিরি ছাড়া দেখার মতো কিছু নাই। ভাবতে অবাক হই আবুল হায়াতের মতন অভিনেতারা এমন নাটক কিভাবে করে? রাতে লাইভ দেখি না তাতো আগেই বলছিলাম।

ঈদের সেকেন্ড দিন থেকে টিভি কম দেখা শুরু। বাড়ীতে খালি মেহমান আর মেহমান। একা একটা রুম নিয়ে টিভি দেখতে নিজেরই শরম লাগে। তাও ছেড়ে দেই নাই অনেক দেখছি একটু দেরীতে ঘুম থেকে উঠে দেখি শাকিব খানের সিনেমা। মিশা সওদাগর পজেটিভ রোল। অপু নায়িকা। অপুরে দেখলেই মনে হয় মেয়েটা সিনেমা করার আগে খুব কম খেতে পারতো টাকার অভাবে। তাই সিনেমা করে কয়টা টাকার মুখে দেখেই সারাদিন খালি ভালো মন্দ খায় আর খায়। আর হাতির মতো শরীর। লালটিপের কিছু অংশ দেখলাম। প্যারিস দেখতে ভালোই লাগছে কিন্তু সিনেমা অতীব নিম্নমানের। মাঝে মাঝে বিটিভিতে গিয়ে দেখি পুরান পুরান সব অনুষ্ঠান। গান হলে দেখে নেই। সাবিনা ইয়াসমিন আর কনকচাপার একটা কফি উইথ করন মার্কা টকশো হইছে মাছরাঙ্গাতে ভালোই লাগছে। নায়িকা মৌসুমী আর সজলের একটা নাটক হলো। মৌসুমিকে ইয়াং ইয়াং একটা লুকে ছিলো কিন্তু নাটকটা অতি খারাপ। গল্পে চায়ের উপস্থিতি থাকলেও নাটকটা পুরাই পানসে। বিকেলে মামা আসলো। মামাকে নিয়ে ঘুরলাম চাদের রাতে জেলাশহরের রাস্তায় খুব ভালো লাগছে টিভি দেখি নাই আর। বাসায় ফিরে একজন জাহিদ হাসান অনুষ্ঠানটা দেখলাম ভিশনে। খারাপ না তবে তানিয়ার মতো অর্বাচীনকে এঙ্কোরিং করায়া অনুষ্ঠানটা পুরা ভ্যালুলেস করছে। তবে জাহিদ হাসানের উপমা গুলো ইউস করছে দারুন। চ্যানেল আইতে আলাউদ্দিনের ফাসি নাটকটা ভালো ছিলো হুমায়ুন আহমেদের লেখা। জামালুদ্দিন আর শহিদুজ্জামান সেলিমের অভিনয় খুব ভালো হইছে। আমি নিশ্চিত হুমায়ুন বানালে এদের কাউকে রাখতো না।

ঈদের তিন নাম্বার দিনে কাজিনের বিয়ে। বর যাত্রী আসার কথা ছিলো ১০০ আসছে ২৩০য়ের উপর এই নিয়ে ক্যাচাল। হাউকাউ। আমি বসে ছিলাম যেখানে রান্না করে সেখানে। গ্রামের লোক ওদের মেহমান সব মিলিয়ে বাড়ি জুড়ে লোকে লোকারন্য। অব্যবস্থাপনা সত্তেও মোটামোটি ঠিকঠাক ভাবে শেষ হইছে তাই বড় কথা। টিভি তো দেখি নাই কিন্তু ফেসবুক তো হাতে অনেকেই দেখলাম তাহসানের মনসুবা জংশন নিয়ে খুব কথা বলতেছে। ঈদের চার নম্বর দিনেও বাড়িতে অনেক লোক। যদিও যত্নের কমতি নাই তবুও টিভি দেখার পরিবেশ নাই। পিচ্চি পাচ্চারা টিভিতে সিনেমা দেখতে চায় দেখুক কি আর করা। আমি স্টেশনে গেলাম পেপার কিনতে পেপার নাই। পেপারের দোকানদার যেহেতু বন্ধু মানুষ তাই সে কই থেকে জোগার করে দিলো বাংলাদেশ প্রতিদিন আর জনকন্ঠ নিয়েই বাড়িতে ফিরলাম। সময় টিভিতে খেলার তারা মোরশেদুল ইসলামের প্যাচাল একাত্তর টিভিতে প্রেম নিয়ে টকশো ভালোই লাগলো। ঈদের পঞ্চম আর ষষ্ট দিনে ব্যাপক টিভি দেখছি। একদিন বাবা মা গেছে ময়মনসিং কাজিনের বউ ভাতে আরেকদিন আব্বু ছিলো না। এই দুইদিনের মধ্যে গোলাম সোহরাব দোদুলের ডার্ক রুম টেলিফিল্মটা ভালো ছিলো। তারিক আনামের অভিনয় ও জেনীর সাবলীলতায় মুগ্ধ হইছি। মম সজলের এক ঢাকাইয়া ভাষার নাটক পুরাই ডাকাত মার্কা। খালি মমকে স্মার্ট লাগছে আর আমজাদ হোসেনের অভিনয়টা দারুন হইছে। এনটিভিতে দুই বন্ধু নামের নাটকটা খুব ভালো হইছে। কাহিনী সাথে জিতু আহসানের অভিনয় ভালো। জিতু আহসানের আরেকটা নাটক আবুল হায়াতের বানানো সেটাও ভালো। জিতুর অভিনয় মুগ্ধ করছে। সজলের একটা নাটক হইছে দিল লজিক্যাল। ব্যাকগ্রাউন্ডে খালি হিন্দী ছবির গান। নাটকের কাহিনী হলো বন্ধুর ফিয়ন্সে বাসায় আসছে। বন্ধু নাই, তাই সজল টাংকি মারে। সারিকার সুরসুরি ময় ড্রেস নাচা গান অতি জঘন্য। মিলনের নাটক না স্বজনী। চয়নিকার বানানো চার মিনিটেই যে গল্প খালাস তারে চল্লিশ মিনিট কিভাবে টানতে হয় সে বিদ্যা বউদি চয়নিকা এখনো শিখে নাই। জয়িতা আপুর বুদ্ধিতে দেখছিলাম নিস্তব্ধতার কিছুক্ষণ। অন্তহীণ সিনেমার গল্প আর অপরাজিত তুমির গান সব কলকাতা থেকে মেরে দেয়া। প্রভার কড়া মেকাপ আর সুবর্না মোস্তফার স্লিভলেস ব্লাউজ ছাড়া নাটকে দেখার মতো কিছু নাই। তিশার একটা নাটক চ্যানেল নাইনে খুব ভালো গল্প ছিলো। টুয়েন্টিফোরে সি শারপ একটা ভালো প্রোডাকশন। নাইমুল ইসলাম খানের টকশো আর এটিএনে কমেডি হাওয়ার হিমুর উপস্থাপনায় দুটোই একে বারে যাতা। কমেডী আওয়ারে হাসির নামে বস্তাপচা জোকস আর ছাগলামি। সপ্তম দিনে সজলের এক টেলিফিল্ম। মেবি সেটা রিপিট। সজল একেক্টা মডেলের প্রেমে পড়ে আর নাচ গান করে। যারা নাটক সিনেমায় বলিউড মার্কা শুরসুরি চান তাদের জন্য সেরা। কারন একেকটা মডেলকে শুধু সে কাজেই মোহন খান নাটকে নিছে। চ্যানেল আইতে ৩য় মাত্রা হয় রাজনীতি বিদদের বউ পোলাপান নিয়ে। বউ পোলাপান তাদের সোয়ামীর স্তুতি জানায়। দেশে যদি এত ভাল লোকেরাই দেশ চালাতো তাহলে কি এমন হয়! এরপর কারেন্ট ছিলো না দেড় দিন টিভি দেখা লাটে!

যাই হোক লেখলাম অনেক। হাত ব্যাথা করতেছে। তবে কালকে যে পোষ্টটা গায়েব হইছিলো সেটা অনেক ভালো ছিলো। তথ্যগত ও বানান টাইপো ভুল থাকতে তা ভুলে যাবেন আশা করি।

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


ভালোবাসায়, বন্ধুত্বে থাক সবসময়। সময়গুলো বদলে না যাক।
ঈদে আমিও ধুমাইয়া টিভি দেখছি। তবে কি যে দেখছি ! এটিএম এর অভিনয় আমার মজাই লাগে। তবে সজলের ছাগলামি বিরক্তিকর।
ভালো লাগছে ঘেটুপুত্র কমলা। বাজে লাগছে মুন্নী সাহার অনন্ত জলিলকে পচানো।
শান্ত রক্স।

আরাফাত শান্ত's picture


আসলে নিজের স্মৃতি থেকে লেখা তো তাও কতদিন আগের তাই অনেক কিছু নিয়েই লিখবো ভাবছিলাম কিন্তু মনে নাই। যেমন ফিডব্যাকের মাকসুদের একটা ব্যান্ড টেন্ড নিয়ে ডকুমেন্টারি ছিলো যেটা সময় টিভিতে হইছে দারুন। একাত্তর টিভিতেও একটা নারীদের সৌন্দর্য চেতনা নিয়ে ডকুমেন্টারি সেটাও দারুন ইনফরমেটিভ। বিভিন্ন চ্যানেলে এলআরবি আরেফিন রুমি ন্যান্সী রিদয় খানরা গান গাইছে যা দেখি নাই। টেলিভিশন চ্যানেল গুলা তাদের চ্যানেলে কি কি টিভি অনুষ্ঠানে ভরপুর তা নিয়েও একটা অনুষ্ঠান আছে কী আনন্দ চারিদিক। আর অনেক চ্যানেল আসে না বাড়ীতে তাই সেগুলা নিয়ে বলি নাই। আর রিমোট টেপার উপরে থাকার পরেও এডের কারনে অনেক কিছুই মিস হইছে। এখন অবশ্য ডিসের লাইন নাই। বাসায় নষ্ট লাইন চলে তাই বিল দেই না বলে কেটে দিছে। টিভিতে কি হয় কিছুই জানা হয় না এখন। ভালো থাকবেন আপু!

নাঈম's picture


কোপা সামছু

আরাফাত শান্ত's picture


কোপা কুপির উপরেই আছি মামা!

রুম্পা's picture


টিপ সই

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস আপু!

নুর ফয়জুর রেজা's picture


টিভি রিভিউ ভালো হইছে। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


বেশী ভাল হয় নাই আরো ভালো লিখতে পারতাম!
ধন্যবাদ দোস্তো

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ভালো লিখেছেন। Smile

এবার ঈদে আমি টিভিই দেখতে পারিনি। Big smile

১০

আরাফাত শান্ত's picture


না দেখেই ভালো করছেন আপু!
আপনার লেখা ভালো লাগে বেশী।

১১

রাতিফ's picture


জীবিত অবস্থাতেই এরকম সবার পছন্দের মানুষ হওয়া কপালের ব্যাপার ....... পুরোপুরি একমত আমি।

ঈদের প্রোগ্রাম নিয়া আমারও খুব লেখবার মন চায়...কিন্তু আলসেমির কারণে আর হয় না লেখা...

যাই হোক লেখাটায় যেই প্রোগ্রাম গুলার আলোচনা সমালোচনা হইলো তার বেশীর ভাগই আমি দেখছি এবং আপনার মতামতের সাথে সহমত ।

পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম

১২

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া।
আপনে এত দূরে থেকেও অনেক খোজ খবর রাখেন টিভির এই ব্যাপারটা আমার খূব ভাল লাগে। ওল্ড ভারসেস নিউ নাটক নিয়ে কিছু বলা উচিত ছিলো মনে ছিলো না। যাই হোক। ভালো থাকেন কষ্ট করে এসে পড়ে যান সময় পাইলে লিখেন এই ব্লগে!

১৩

রেকজ's picture


এতো দেখি বিরাট সমালোচনা। এত সমালোচনা মনে রাখতে হলে তো অন্তত ডজন কাপ চা গিলতে হয়।
টিভিতে এবার নাটকের দুরাবস্থা পুরা হতাশ করেছে। মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে জি বাংলার ভয়ংকর সিরিয়াল গুলা দেখতে হইসে। শান্তর সজল বিরোধী মন্তব্যগুলা যৌক্তিক। তাকে বেশী বেশী দেখসি। কি এক অবস্থা।

তবে, প্রতিবারের মতো আমার একটা ব্যপার মিস হয় নাই। আম্মার সাথে বসে বসে হজ দেখা। Smile

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


বাড়িতে চা খাওয়ার উপর কড়াকড়ি আছে দিনে ২-৩ কাপের বেশী না তাও আবার আমি রং চা ই খাইছি বেশী তাই অনেক কিছু ভুলে গেছি। ঢাকায় ফ্রিডম অফ লাইফ যা খুশি তাই করে বেড়াই। হজ আমিও দেখছি। হজ নিয়া এখন দেশে একটা মজার জিনিস। বাংলা টিভি চ্যানেল গুলান কই থেকে জানি সব মাওলানা ধরে আনে যাদের দিয়ে বাংলায় হজের গ্রান্ড মুফতির বক্তব্য বলার চেষ্টা করে। বলতে বলতেই তাল গোল পাকিয়ে ফেলে তখন নিজের মন মতো সেন্টেন্স মিলিয়ে নিয়ে বড় মজা পাইছি।

ভালো থাকো বন্ধু। তোমারে বড় ভালো পাই!

১৫

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এত টিভি কেম্নে দেখেন ভাই??!

তাও আবার, চশমা না নিয়াই!!

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


চশমা নিলে আতেল আতেল লাগবে ভালোই লাগবে তখন। এমনিতে চশমা ছাড়া ভালোই আছি। তুমি মন দিয়ে পড়াশুনা করো। সময় কিন্তু অল্প!

১৭

আসমা খান's picture


ভালো লাগলো লেখা Smile

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ আপু!

১৯

গ্রিফিন's picture


টিবি কি জিনিসগো ভাইছা? কলেরা বসন্তের লাহান কুনু অসুক নি কোনো?

২০

আরাফাত শান্ত's picture


ওরকম কিছু একটা না দেখাই ভালা!

২১

মানুষ's picture


ভাল হইছে আমার টিভি নাই।

২২

আরাফাত শান্ত's picture


আমার বাসাতে এখন ডিশের লাইন নাই সামনে আসারও সম্ভাবনা দেখছি না!

২৩

মীর's picture


সজলটা ছোটবেলায় খানিকটা কিউট ছিলো। ইদানীং ভালগার হয়ে গেছে।

২৪

আরাফাত শান্ত's picture


আপনি বলেন ভালগার প্রথমালো বলে পরিশ্রমী
নতুন পোষ্টের জন্য থ্যাঙ্কস!

২৫

তানবীরা's picture


একটা কথা বলি ধনীর মেয়ে অপু সৎ মায়ের কারনে নাকি কোন কারনে জানিনা বাসায় তার মান সম্মান কাজের মানুষের মতো। তার মান ইজ্জত বাচাতে আরেক বিশাল বড় লোকের ছেলে শাকিব কাজের ছেলে সাজে। ইংরেজী নভেল পড়ে ভালো গান গায়। বাজার করতে দিলে শাকিব নিজের গাড়ী নিয়ে ঘুরে আসে। পথে দেখে এতিম দের দিয়ে হাত পাতাচ্ছে সুপারেন্ডেন্ট। ব্যাপক মাইর দিয়ে ঘোষনা দেয় এই মাদ্রাসা তার বাপ বানায়া গেছিলো। কালকেই তুমাদের নতুন ইনচার্জ আসবে। কি ফালতু সব গল্প।

এটা দুইটা আসলে তিনটা হিনদী সিনেমার নকল। আসলটায় ছিল রাজেশ খাননা - জয়া ভাদুরী , বাবুরচি সেটা নকল করে তারা নিজেরা যেটা করেছিল সেটায় আছে গোবিনদা আর কারিশমা (নাম মনে নাই), আর বাকিটা হলো জুহি চাওলা আর রিষি কাপুর। সাজান কে ঘার টাইপ নাম। আমিও দেখেছি এন টিভিতে Big smile

২৬

আরাফাত শান্ত's picture


গোবিন্দরটা দেখছিলাম সেট ম্যাক্সে। রাজেশ খান্নার টা দেখি নাই। এই ভাবে মেরেই চলতছে সব কিছু তবে শাকিব খানেরটায় মনে হয় কমেডি কম একসন বেশী!

আর নাটক টাটক নিয়ে আপনার কী কথা?

২৭

মেহরাব শাহরিয়ার's picture


ছোটবেলায় ঈদে ঘটা করে অনুষ্ঠান দেখতাম । এখন শয়ে শয়ে অনুষ্ঠানের ভীড়ে দু'চারটা দেখে অভিজ্ঞতা খারাপ । বস্তাপচা নাটকের ভয়ে এখন আর বেলগাছ মুখো হই না। গত ঈদে রেকমেন্ডেশন পেয়ে দু'টো নাটক দেখেছিলাম - মেইড ইন চিটাগাং আর মনফরিঙের গল্প । ভাল লেগেছিল দু'টোই ।

এবার একটাই কেবল চেষ্টা করেছিলাম - মনসুবা , ২০ মিনিট দেখে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি , জানিনা পরের অংশটা কেমন ছিল। গানটাও এবার সুবিধার লাগে নাই ।

এর বাইরে আর রেকমেন্ডেশন পেলাম না। আপনি ভাল সাজেশন দিতে পারবেন , আমাকে কিছু নাটক রেফার কইরেন

২৮

আরাফাত শান্ত's picture


মনসুবা জংশন নাটকটা আবার অনেকের কাছেই ভালো লাগছে জানি না কেন!
সুখটান( ৭ পর্বের), ডার্ক রুম (টেলিফিল্ম ) সীসার্প, দুই বন্ধু, লোকটা তার বঊকে খুব ভালোবাসতো এই সব নাটক মন্দের ভালো। দেখতে পারেন তবে না দেখলেও তেমন কিছু মিস হবে না। কারন মিস করার মতো কোনো নাটক দেখি না কোথাও!

টিভিতে হালকা পাতলা সংবাদ দেখা আর খেলাতেই যা বিনোদন পাওয়া যায় এছাড়া টিভি আর কোনো কামের কিছু নাই! ছোটো বাক্সের দুর্দিন চলিতেছে।

ভালো থাকবেন ভাইয়া। শুভকামনা!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!