আমি বেচে আছি আমার সময়ে!
কাহিনী সেই একি। একটা বিরতির পর পোষ্ট লেখতে বসলাম। পোষ্ট লেখার হুজুগ ছিলো প্রতিদিনই কিন্তু মাতি নাই। কারন এই সব দিন লিপি দেখিতে দেখিতে একি কথা পড়িতে পড়িতে পাঠককুলকে আর কত বিরক্ত করিবো। তাই অতো পোষ্ট দেয়াকে উত্তম কিছু বলে মনে হলো না। ভাবলাম একটা গল্প লিখি কিন্তু গল্প কবিতায় অনেক খাটনি। এই দুধ চা খাওয়া মাথায় এতো কিছু কুলায় না। আর গারমেন্টসে হত্যা এতো এতো মরন দেখে কিছুটা ধার্মিক মাওলানায় রুপান্তরিত হয়েছে। ইদানিং রাস্তা পার হতে সিড়ি ভেঙ্গে নামতে সব কিছুতেই খালি এই ভয়ে থাকি। যদি এই মুহূর্তে চলে যাই তবে বাবা মার কি হইবে? আর আল্লাহপাকের কাছেই নিজের অসীম পাপের কি জবাব দিবো। আস্তিকরা যতই আশ্বাস দিক আল্লাহ মাফ করে দিবে চাইলেই নাস্তিকরা যতই তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলুক। আমার মনে খুব ভয় হয় এই যে এতোদিন যাবত এতো পাপে ডুবে থাকলাম তার বিধান কি হবে। তবে এই চিন্তা সাময়িক। কারন আওয়ামীলীগের মতোই আমি ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে ভরপুর। নামায শেষেই হেডফোন কানে গুজে গান বাজনা শুনি। তবে আল্লাহর হাতেই আমরা সব ছেড়ে দিছি এই জাতির। অপরাধ করে মানুষ মেরে টাকা মেরে কারো বিচার হয় না হবেও না কোনোদিন এইখানে। এই বাংলাদেশ তাহেরপুত্রদের দেশ যাদের ফাসি যাবজ্জীবন সব মওকুব হয় অতি সস্তায়। যত বিচার আচার সব গরীবের জন্য। তাহারাই আসামী শুধু কেউ জামিন পায় কেউ পায় না। তাই এতো হেডমওয়ালা গার্মেন্টস খুনীদের বিচারের কোনো পসিবিলিটি আমি দেখি না। আর কোন পুলিশ তাদের ধরবে যে পুলিশের গাড়ীর স্পন্সর বসিলা গার্ডেন সিটি বা আদাবর থানার সুশীল জনগন সেই পুলিশ দিয়া হিন্দু ছেলেকে শিবিরের কর্মী বানায়া পরে প্যান্ট চেক করে ৫০০০ টাকা খেয়ে ছেড়ে দেয়ার কাজটাই করানো যেতে পারে। তবে পুলিশ সব একরকম না। অনেক ভালো মানুষ পুলিশ হয় নিশ্চই নয়তো এই সরকারের লাঠিয়াল বাহিনীটাও টিকে থাকতো না। তাই আশাবাদী হবার সুযোগ নাই। না নিজেরে নিয়া না এই দেশটা নিয়ে। রাত্রী শেষে যে দিন আসে তার প্রতিটা ক্ষণ শুধুই দুঃসংবাদ শুনার আশায়। আর যেদিন নিজেই সেরকম হবেন সেই দিন আর কিছুই করার থাকবে না। তাই এই দেশে ভালো থাকার উপায় আমাকে আমার মতো থাকতে দাও এই গান গাইতে গাইতে নিজের মতো থাকা। নিজের সুখ শান্তি মতো সময় কাটানো। নিজের আয় উন্নতি বাড়িয়ে নিজের একটা সার্কেল বানিয়ে থাকাই সুখ। তখন শুধু গা বাচিয়ে চলার উপায়টা জানা থাকলেই ৬০-৭০ পার করা অসম্ভব কিছু নয়। তারপরে পুত্র কন্যা ওল্ড হোমে পাঠাবে নাকি গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার ডায়বেটিসে মরিবেন তা সময়ই বলবে।
চিটাগাং থেকে এক বড় ভাই আসছিলেন। ফেসবুক বড় ভাই। সেই উসিলাতেই তিনি নান্না নিরবে খাইয়েছেন তাতে খুশীর সীমা নাই। তার সাথে প্রানবন্ত আড্ডা ও কথায় এতো হাসছি যে হাসতে হাসতে চাপা ব্যাথা। আজিজের বিদিত বা চায়ের দোকান আর এম্বিএ ক্লাস এই ভাবেই সপ্তাহ কাটে। এই ডিসেম্বরেই সেমিস্টার ফাইনাল আবার এই মাসেই দুই বেলা করে বিসিএস বড়ই পেরেশানিতে আছি। তবে পড়ি না পড়ার ভানও করি না। তবুও পার পেয়ে যাচ্ছি কিভাবে জানি। শুধু একটা আয়ের পথ ধরলেই আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে তা আর হচ্ছে কই? ক্লাস মেট বন্ধু বান্ধবদের আমি ছিলাম এই লাইনে সবার আগে। কতজনের শেয়ার ব্যাবসায় লাভের মুখে আনছি তারা গ্রিল চাপ খাওয়াই তো খালাস। আমি জবলেস টাকা নাই তাই পড়ছি ফান্দে। আমার আর আমার বন্ধু অভির কত কি করার কথা। অভি আইনে মাস্টার্স করে এখন ব্যাংকের এমটিও। কি আজব এই দেশের ক্যারিয়ার সিস্টেম। পড়াশুনা করো তারপর মেডিসিন বেচা চকলেট চানাচুর বেচার জব করো কি যে এক বিপদ। সেই জবেও শান্তি নাই প্রতিমাসে ঝুলিয়ে দেবে টার্গেটের মুলা। জীবন যৌবন পুরা নাভিশ্বাস হয়ে গেলো এই সব দেখতে দেখতে। চায়ের দোকানে জুনিয়র ছোট ভাইরা আসে তাদের বুদ্ধি দেই মন দিয়ে পড়ো আর ফ্রীল্যান্স আউটসোরসিং করো ডলার কামাও। বাবা মা খুশী সবাই খুশী। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ো আর এসিসিএতেই পড়ো টারগেট বিদেশ। রেমিটেন্স পাঠাও দেশ ধন্য বাবা মা খুশী আল্লাহও খুশি। আমার মতো বেকায়দায় পড়লে বুঝবা মাস্টার্সের মাজেজা আর দেশে থাকার কেরামতি। তবে আমার বাবা মা ভাই ভাবীর প্রেশার নাই কোনো। যা প্রেশার আমারই। খুব দরকার পার্টটাইম হলেও কিছু করা এই টানাটানির জীবন বোরিং লাগে খুব। তবে শেষমেশ এই সব ভাবনা শুধুই ভাবনা। কারন ৬০-৭০ বছর এদেশে পার করার জন্য খুব বেশী যোগ্যতা লাগে না। এম্নিতেই চলে যাবে। আর ঘটনা অপঘাতে মরলে তো বেচেই গেলেন। ফেসবুক জুড়ে মাতম হবে আর পরকালে বেম্বো খাবেন কাহিনী সিম্পল। তাই কাটুক সময় আমার মতোই খালি কারো যেনো বোঝা না হয়ে দাড়াই এটাই বড় ভাবনা। দেখা যাক কি হয়। মাস্টার্স ছাড়া তো কোনো ভালো জব নাই। তাই ১ টা বছর আগে শেষ করি। তারপরে দেখা যাক আমারে দিয়া কি হয়। এরভেতরে হতাশা আশাতেই দিন কাটুক আমার সময়। তবে সমস্যা হলো ইদানিং আউট বই পড়ছি না। পেপার আর পিসিতেই সময় কাটে। কাল মাঝরাতে মামা চৌরাসিয়া শুনে ফিরছে খুব আনন্দিত। মামা বলতেছে আমার চোখের সামনে চৌরাসিয়া বাজায় এইটা ভাবতেই মনে কাটা দেয়। আর কি অসাধারন বাজালো। মামাও বাশি বাজায় দারুন। আমি চিন্তা করতেছি আমি তো এমন কিছুই করিনা। যা ছাইপাশ ব্লগ লিখি তাও সেটা ডায়রী লেখার মতোই জঘন্য। আগে পড়ার একটা অভ্যাস ছিলো তাও মেইনটেন করি না। গান বাজনা শুনতাম অনেক তাও এখন বাদ দিছি তাহলে মাইর খায়া গেলাম জীবনে। কে জানে! দেখি এই মাসটা যাক সব কিছুই শুরু করতে হবে আবার।
সাধু চলিত ভাষার মিশ্রন দুষনীয়। তাও এই কাজটাই করলাম। গল্প কবিতা বা তেমন দারুন কিছু লিখতে পারলাম না তাই বন্ধু সাইফ আর মামার কাছে ক্ষমা চাই। এই বছরে পারি নাই তাতে কি। দুনিয়া যদি ধবংস না হয় তবে সামনে বছরেই অনেক কিছু পারবো এই আশাতেই বাচতে হয়। তখন বলতে পারবো এই সময় আমার সময়!





২য় প্যারাটায় নিজের সাথে মিল থাকার কারনে বেশি ভালো লাগলো। আপনি লাকি, চাকরির ব্যাপারে ফ্যামিলির কোন প্রেসার নাই, কিন্তু আমার উপর আছে, আমার অবস্থা আপনার চেয়েও খারাপ। ইনশাআল্লাহ আপনি খুব ভালো একটা চাকরি তাড়াতাড়িই পাবেন। হতাশা খুব খারাপ একটা জিনিস। হতাশা খুব বেশি চলে আসলে আর পড়াশুনাও করতে পারবেন না, সবকিছুই খারাপ লাগবে। হতাশা কে দুরে রাখেন, ভালো-ভালো খান, সকালে হাঁটা অথবা ব্যায়ামের একটা রুটিন করেন। চাকরিবাকরি সংক্রান্ত চিন্তাগুলোতে পজিটিভিটি নিয়ে আসেন।
"এই দুধ চা খাওয়া মাথায় এতো কিছু কুলায় না।" - লাইনটা পছন্দ হইছে।
এতো কষ্ট করে পোষ্ট পড়ার জন্য তুমারে থ্যাঙ্কস। আশা করি আমার মতো বেকারের বেকায়দা অবস্থায় তুমি পড়বা না। মন দিয়ে পড়ো। কমেন্ট করেই তো বিপদে পড়লা। সব পোষ্ট লিখে এখন থেকে তুমারে জানাতে হবে। না পড়লে তাগাদা দেয়া হবে পড়ার জন্য। কি যে মুসিবতে পড়লা নিজেই বুঝো নাই করলা!
এই কথাটায় ডাবল লাইক
নতুন পোষ্ট কই আপনার জলদি জলদি লিখেন!
আপ্নারে সব সময় লাইক!
শেষ প্যারার কথাগুলোকে আকড়ে ধরেই তো আমাদের বেঁচে থাকা
লেখাটার সবচেয়ে সুন্দর লাইন "রাত্রী শেষে যে দিন আসে তার প্রতিটা ক্ষণ শুধুই দুঃসংবাদ শুনার আশায়।"
লিখেন, আরও লিখেন, যা লিখতে মন চায়, তাই লিখেন।
শুভকামনা থাকলো।
আপনাদের জন্যই তো লেখি। শুভকামনা ভাইয়া!
থ্যাঙ্কস আপু।
আলবত। ২০১৩ এ তোমার কোবতে পড়ার আশায় রইলাম। শুভ'র কবিতা পইড়্যা বোর হয়ে গেছি
কবিতা লেখার চান্স কম। অনু গল্প টল্প লিখতে পারেন। চৌধুরী আলমের সামনের কিস্তি হবে আসবে?
আমাদের নতুন আশা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে, একদিন সুদিন আসবেই।
ভাল থাকেন ব্রো...
কি আর আশা করব বুঝি না । অস্থির সময় । তবু আশা থাকুক ।
তোমার লেখা সবসময়ই ভালো লাগে । মনে লাগে ।
এই বছরে পারি নাই তাতে কি। দুনিয়া যদি ধবংস না হয় তবে সামনে বছরেই অনেক কিছু পারবো এই আশাতেই বাচতে হয়। তখন বলতে পারবো এই সময় আমার সময়!
শেষ অংশ টা ভাল লাগছে অনেক।
এত গ্যাপ দিতাছেন কেন লেখায়?
মন্তব্য করুন