চোরাবালি আসিতেছে
ধানমন্ডী গুলশান শাহবাগের অনেক জায়গাতেই এই চিকা মারা ছিলো অনেক দিন। খবরটা নতুন কিছু না ফারুকী গ্রুপের লোক রেদোয়ান রনি একটা ছবি বানাচ্ছে নাম তার চোরাবালি। ইন্দ্রনীলকে যেদিন আনছে ঢাকায় সেদিন থেকেই শুটিং শুরু সেদিন থেকেই প্রচারনা শুরু পুরোদমে। ইন্দ্রনীলের ঢাকায় কি ভালো লাগে, জয়া আহসান এই ছবি নিয়ে কি বলতেছে, হুমায়ুন ফরিদী মরার আগে কি বলেছে কবে সব পত্রিকার বিনোদন সাংবাদিকেরা ব্যাপক কাভারেজ দিছে বলা যায় অল্প পয়সার মার্কেটিং এজেন্টের জব নিয়ে। এমনকি টিভি চ্যানেল গুলাতেও একটা হাইপ তুলছে, আইটেম সং এর শুটিং খবর দিয়ে মনোযোগ কারছে তাই ব্যাপক প্রচারনার ছবি বলা যায়। রেদোয়ান রনিও চেষ্টার ত্রুটি করে না কলকাতার ইন্দ্রনীলকে এনে চমক দিছে, ইন্দ্রদীপ দাস গুপ্ত বিখ্যাত কলকাতার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ডিরেক্টর তাকে দিয়ে কাজ করাইছে, মাদ্রাজ-বোম্বে থেকে পোস্ট প্রোডাকশন করাইছে নাটক সিনেমার শখানেক অভিনেতাদের কাজ করাইছে। বলা যায় সব দিক থেকেই অনেক আয়োজনের বিগ বাজেটের ছবি। কিন্তু এতো আয়োজনের ছবিতেও নায়ক নায়িকার অভিনয়ের কোনো জায়গা রাখে নাই ডিরেক্টর। সিনেমাটা যদি বলা হয় কার ছবি তবে আমি বলবো শহীদুজ্জামান সেলিমের অসাধারন অভিনয় শৈলী প্রদর্শনের ছবি। আরেক ভাবে বললে মার্লবোরো লাইট সাথে বেনসন রেগুলার আর কুল সেভিং ক্রিম দেখানোর ছবি। ছবিতে এতো সিগারেট জ্বলা বা হাতে নিয়ে ঘুরানোর সিন আছে মনেই হবে না যে ধুমপান একটা ক্ষতিকর কাজ। আমি সমকালে কিছুদিন কাজ করছি জয়া আহসানের এই ধরনের পোষাক আশাক পড়া সাংবাদিক আমি জীবনে দেখি নাই। এই ধরনের সাংবাদিক দেশে থাকলে মাসুম ভাইয়ের আরেকটু কাজে মনে বসতো। খোলা মেলা টপ মডেল রাখা হইছে বানিজ্যিক ছবি মাথায় রেখেই আইটেম গানও একি কারনে রাখা। তবে আইটেম গানটা আমার কাছে ক্লাস লেস লাগছে। আইটেম গানে ক্যামেরার কাজ অতি নিম্নমানের। স্থুল রুচির চিন্তা মাথায় রেখে বানানো দেখলেই বুঝা যায়। আর সিনেমা জুড়ে এতো বেহুদা খুনের সিন যা বিরক্তিকর ও একঘেয়ে ঠেকে। মনে হয় কাজী হায়াতের মান্নাকে নিয়ে কোনো ছবি দেখছি। আর চোরাবালির গান গুলা আগেই শুনা। বাচ্চুর গান বাদে আর একটাও ভালো লাগে নাই। ইদ্রনীলের অভিনয় খারাপ করে না তবে শতাব্দী ওয়াদুদের কন্ঠে ইন্দ্রনীলকে আমার খুব একটা মনে ধরে নাই। তাও তার বডি শেপ ভাল তাই বিয়ারের ক্যান হাতে বা খালি গায়ে গোসল করানো দৃষ্টিনন্দন। সব মিলিয়ে চোরাবালিকে একটা খারাপ ছবি বলা যাবে না। বলা যায় চলে হলে দেখার মতো আর কি। বাংলাদেশে তো এখন সিনেমাতেই ভাটার দিন চলছে তার ভেতরে রনি এতো কষ্ট করে বানাইছে ১৫০ টাকা না হয় যাক। সিনেমাটা মুক্তির শুরুর দিকে গেছিলাম তখন অনেক ভীড় হাউজফুল সব কিছু। আজো দেখলাম ভীড় একটু কম। কিন্তু মানুষ কম বলা যাবে না। তার মানে মানুষ সিনেমাটা দেখছে প্রচার যন্ত্র স্বার্থক যে তারা ছবিটা পাবলিককে গেলাতে পারছে। তবে চোরাবালির যদি প্রশংসা করতে হয় তবে অবশ্যই করতে হবে শহীদুজ্জামান সেলিমের জীবনের সেরা অভিনয়, খায়ের খন্দকারের অসাধারন ক্যামেরা স্কিল আর চিত্রনাট্যের ডায়লগের গুনে। আমি তিন চারজনকে সিনেমা শেষে জিগেষ করলাম কেমন লাগছে তিনজনই বলছে অস্থির লাগছে একজন বলছে মোটামুটি আর একজন বলছে বলাকায় ভালো লাগলো না সিনেপ্লেক্সে মজা পাইছি। তার মানে বাংলাদেশে এই ধরনের সিনেমা চলবে। চোরাবালি যদি থার্ডপারসন সিঙ্গুলারের মতোই বারো সপ্তাহ ধরে চলে তা হলে বলতে হবে সফল কারন নাচ গান মারামারির খুব পরিমিত পর্যায় ইউসের একটা ছবি যদি হলে চলে তাহলে বুঝতে হবে দর্শকরা ছবিটা ভালোবেসে দেখছে কর্পোরেট পাবলিটি দিয়েও ছবি হিট করানো যায়!
আমার সিনেমা গেয়ান একদম। দেখছি আরোকম। রিভিউ লেখার গেয়ান একেবারেই নাই তাও লিখলাম কারন যা দেখলাম তাই লিখলাম। হলিউড বলিউডের খবর রাখতে পছন্দ করি। আপকামিং মুভি বা রিভিউ পড়ি প্রচুর। বন্ধুদেরকে তার সামান্যই জানাই। তাদের ধারনা আমার ছবি সমন্ধে নলেজ বিশাল। তবে পুলকের ধারনা আমি হিন্দী ছবি নিয়ে লিখলে অনেক নাম করবো। কারন হিন্দী ছবি নিয়ে নাকি আমার চেয়ে ও কাউকে দেখে নাই এতো ভালো বলতে। এতে আমি গর্বিত হই যে সিনেমাই কম টম দেখি তাতেই এতো সুনাম দেখলে তো কামল নাহতা বা তরুন আদর্শে পরিনত হইতাম!





শহীদুজ্জামান এর কথা আমার অন্যান্য বন্ধুরাও বলতেছে...সে কি নাকি পুরা ফাটায়া ফালাইছে এই ছবিতে....ট্রেলারে জয়ার গেট-আপ নিয়া আমিও একটু চোখ ছানাবড়া অবস্থাতেই ছিলাম....যাই হোক দেখবো ছবিটা...তখন আরো বলতে পারবো..রিভিউ হইছে রিভিউয়ের মতোই হইছে...
শান্তিতে থাকেন।
থ্যাঙ্কু ভাই। বিদেশে থাকার এই লস দেশের অতি সাধারন জিনিসও মিস করা লাগে!
চোরাবালি দেখতে মন চায়।
লাল-সবুজ বা এই টাইপ নামের একটা মুভি দেখেছিলাম চ্যানেল আই-তে। মাহফুজ আহমেদ ছিলেন। সেখানে নায়িকা সিমলা ছিলেন সাংবাদিক। আমি কলেজে পড়ার সময় থেকে সাংবাদিক দেখছি, রোজ বিভিন্ন চ্যানেলে নারী সাংবাদিক দেখি, তিন বছর ধরে পত্রিকা অফিসে বসে কাজ করছি কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় সিমলার মতো কিংবা মাঝে মাঝে আমাদের কিছু নাটক বা মুভিতে যেসব নারী সাংবাদিক দেখায় তেমন কাউকে চোখে পড়েনি।
এরম ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চা দের মতো টুকটাক ইংরেজী বলনেওয়ালা, উদ্ভট পোষাক আসাক পড়া সাংবাদিক খালি চোরাবালিতেই দেখতে পাওন যাইবো কি আর করা। চ্যানেল আইয়ের ছবিটা আমিও দেখছিলাম এফডিসির ডিরেক্টদের মাথায় সাংবাদিক চেতনা এমনি!
রিভিউ সেরাম হইছে, চালায় যান।
আসলেই,
আজকাল কোন মুভিরেই অত বিগরাপন করতে দেখা যায় না!
সারাদিন দোড় ঝাপ করে টায়ারড ছিলাম তাই অতো ভালো লিখতে পারি নাই। অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য থ্যাঙ্কস। মন দিয়ে পড়াশুনা করো জীবন গড়ো নয়তো আমার মতো চোরাবালিতেই আটকে যাবে!
আপনের কথায় হতাশা মানায় না, ভাই।
দেখতে গিয়ে তো টিকেট পাইনি।দেখার ইচ্ছা আছে। দেখতে পারব কিনা কে জানে! রিভিউ ভালোই লিখছ।
আমি এক শুক্রবার টিকেট পাই নাই তাই গতকাল নান্নায় খাওয়ার ডেট ছিলো তা না খেয়ে চোরাবালি দেখে ফেললাম বন্ধুরা মিলে!
এখনও দেখিনাই। সিনেমা , টিভি এখন আর আমারে টানেনা ।
আপনা হইলেন দেশ বেড়ানো তরুন দল এইসব কেনো টানবে?
রিভিউ ভালই হইছে।
ইচ্ছে আছে চোরাবালি দেখুম মাগার সময় পাইতেছি না!
সময় কইরালান। রিভিউ অতো ভালো হয় নাই আরো ভালো করে লেখে যেতো!
লাইফ অভ পাই দেখো আর দ্যা ইমপসিবল
কেমনে দেখবা? তাদের কি মেকাপ ম্যান আছে না মেকাপ গিয়ান আছে, খ্যাত সব
ভাগ্য ভালো নায়িকা পপির মতো কাউরে সাংবাদিক বানায় নাই। এক ছবিতে পপি আহমদ শরীফের কুকীর্তি ফাস কারী সাংবাদিক থাকে যে নাচানাচি আর ফাইটিং করে তা এফডিসিতেই সম্ভব!
মন্তব্য করুন