No Cull Dhaka!
ঠান্ডা আবার ফিরে আসছে। কুয়াশা নেই কিন্তু রাতে ব্যাপক বাতাস। আমারো শরীরটার অবস্থা বিশেষ সুবিধার না। তাও হাসছি ঘুরছি দোড় ঝাপ করছি মন খারাপ হয়ে পড়ে থাকি সব চলছে এক সাথে। সাধারনত দিনলিপির পোষ্ট তাৎক্ষনিক যে দিন গেলো তাই নিয়ে বললেই ভালো। কালকে পোষ্ট দিতাম ভাবলাম চব্বিশ ঘন্টার ভেতরে দুইটা পোষ্ট দেয়া আবার নীতিমালার খেলাপ কিনা কে জানে দরকার কি ঝামেলার কাল তো পড়ে আছেই রাতে বসে লিখে দিবো। আর ব্লগে দেখলাম জেবীন আপু পোস্টাইছে, মীর ভাই পোস্টাইছে, হাসান আদনান,স্বপ্নচারী, শাহরিন রহমান এদেরও দারুন পোষ্ট আরো অনেকে হয়তো পোস্ট দিবে এইটা ভাবতে ভালো লাগতেছে ব্লগটাও আমার মতো। স্লথ গতিতে চলছে থেমে নাই। দেখা যাক কী হয়!
Cull শব্দটার মিনিং আমি শিখছিলাম গত বছরের এই জানুয়ারী মাসে। ধানমন্ডী রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান সায়ান গান গাইবে আপুর মেসেজ আসছে। একা একাই রিক্সা দিয়ে গেলাম। যেয়ে দেখি সবার হাতে হাতে কুকুর। আমি যে উজবুক যে কুকুর নাই সাথে অথচ সামনে বসা। আমার পাশে বসা সাদা চামড়ার দুই লোক কি জানি ভাষাতে কথা কয় বুঝি না। অনুষ্টানের মিনিং বুঝলাম। জলাতংক প্রতিরোধে যে নির্বিচারে কুকুর মারা হয় তা ঠিক না। বেশীর ভাগ কুকুরই কমিউনিটি পালে বলেই থাকে। কুকুরকে একটা ছোটো অস্ত্রপ্রচার করালেই কুকুর শান্ত হয়ে যাবে জলাতংক ছড়াবে না সংখ্যাও কমবে। তাই বিশ্বজুড়ে এই ভাবে কুকুর হত্যা করে না কোথাও। ঢাকাতেও সেই জিনিসটাই ঘোষনা করছে যে নো কাল ইন ঢাকা সিটি। একবছর পরেও আমার অনুষ্ঠানটার কথা মনে থাকার কারন অনুষ্টান টা এতো বিচিত্র বিষয়ের যা ভুলার নয়। সংগটনটার নাম অভয়ারন্য। তাদের আমি চিনি তারো আগে থেকে জাদুঘরে সায়ান আপুর এলবাম লঞ্চিং অনুস্টানে যেয়ে। এই অভয়ারন্য নামটা নাকি সায়ান আপুর দেয়া। তাদের বসিলাতে একটা পশু সংক্রান্ত হাসপাতাল আছে। অনুষ্ঠানটা দুপুরে ছিলো তাই স্বভাব সুলভ পাঞ্জাবী পড়েই হানা দিয়েছিলাম। লোকজন কম ছিলো যারাই আছে তাদের মধ্যে আমার পোষাক আসাক স্যান্ডেলই মলিন। সেই দিন সায়ান আপুর দুইটা মাত্র নতুন গান শুনছিলাম আর তেমন কিছুই শুনতে পাই না। স্বাস্থ্য সচিব আসছিলো তিনি দারুন কিছু রসিকতা করছিলো কুকুর নিয়া। এইতো আর কী ব্যাপার স্যাপার। গতকাল আই মিন ২৬ তারিখ ছিলো তার ১ বছর পুর্তি সেলিব্রেসন কুকুর নিধন বন্ধের।
অনুষ্ঠানটায় যে যেতে পারবো শিউর ছিলাম না। কারন দুপুর থেকেই বন্ধু এহতেশাম আর মাহফুজ আসছিলো আমার চায়ের দোকানে। লম্বা সময় ধরে প্যাচাল পারছি দুই মাঝারী গোছের ইসলামী চিন্তাবিদের সাথে। কত কিছু নিয়া আলাপ সালাপ হলো। দেশ রাজনীতি,যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথা বারতা, টেলিভিশনে কি হচ্ছে তা নিয়ে আলাপ এই করেই কেটে গেলো। চা ও খেলাম সমানে। মাগরিব নামাজের পরে বন্ধু মাহফুজ যাবে টিঊশনী ধানমন্ডি ২৮য়ে আমি ভাবলাম এই তো চান্স। ওকে নামিয়ে রিকসা দিয়ে চলে গেলাম রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান বিকেল থেকে শুরু। ভাবলাম সায়ান নেমেসিস সব মনে হয় মিস। এক গুচ্ছ পাকনা ইয়াং জেনারেশনের সাথে দাঁড়িয়ে থাকলাম দেখি কে আসে। আসলো অর্নব আর ডগ অফ দ্যা ইয়ার। কুকুরটার নাম মেসি নাকি দেসি এরকম কিছু একটা। কত পাব্লিক মেসির ভক্ত তারা হতাশ হয়া কুকুর বিদ্বেষী হবে এইটা কোনো কথা হইলো। তাদের একটা গেঞ্জির কথা বললো জয়ী আপু। যেই গ্যাঞ্জিতে লেখা কুকুরের বাচ্চা এইটা কোনো গালি না কম্প্লিমেন্ট। মজা পাইলাম। অর্নব গান গাইলো তার মতো করেই পাব্লিকের উচ্ছাস কম। একে একে গাইলো হারিয়ে গিয়েছি, ভালোবাসা তারপর, মাঝে মাঝে, সোনা দিয়া, সে যে বসে আছে, তোর জন্য। মধ্যে মজার ঘটনা ঘটলো ভালোবাসা তারপর গাওয়ার সময়। গান গাওয়ার সময় আযান দিয়ে দিলো সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ তাও অর্নব গাওয়া বন্ধ করে নাই একটূ পর বন্ধ হলো গান। আযানের মধ্যেই আবার নেমেসিস ব্যান্ড তাদের ইন্সট্রমেন্ট সেটাপ করে ফেললো। অর্নব আবার গাওয়া শুরু করলো একেবারে শেষে যে গানটা আযানের কারনে মধ্যে থামাতে হইছে সেখান থেকেই গাওয়া শুরু হলো খুব মজা পাইছি। অর্নবের পড়েই আসলো নেমেসিস। নেমেসিসের গান শুনতে শুনতে ২০০৭ য়ে চলে গেলাম। তখন ভাইয়ার কাছে ছিলো লাল একটা মিউজিক প্লেয়ার। তার ভিতরে ভর্তি নেমেসিসের নতুন এলবামে কি যে শুনছি শেষে নষ্টটাও হইছে আমার কারনেই। ভাইয়া কিছু বলে নাই। এই জীবনে আমার নানান কিছুতেই ভাইয়ার যা অবদান তার ফিরিস্তি শেষ হবে না। আমি আর পরাগ রাশিয়ান কালচারে গেছিলাম এক কনসার্টে। নানান পদের আন্ডার গ্রাউন্ড শুনতে শুনতে কানে ব্যাথা তখনি আসলো নেমেসিস। কি অসাধারন লাগছিলো। এখন পরাগ ড্রাগন এয়ারে বসে বসে বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের চেক টেক করে আর আমি চায়ের দোকানে চা খেয়ে দেশ জাতি নিয়া ভাবি। দুই ভুবনে চলে গেলাম কিন্তু থেকে গেলো নেমেসিস। নেমেসিস অসাধারন বাজাইছে গাইছেও। তাদের যা গান গাচ্ছিলো সবই দেখি মুখস্থ মনে মনে পড়ে যাচ্ছে। আমার পাশের ইয়াং জেনারেশন অস্থির অস্থির বলে বাহবা দিচ্ছে। আমি ভাবছিলাম দিন বদলে বাহবা দেয়াও তরীকাও চেঞ্জ। এখন কিছু ভালো লাগলে লোকজন বলে উঠে জটিল, অস্থির আর কঠিন। কারো প্রশংসা জানাতে এইটা কোনো শব্দের জাতে পড়লো। যাই হোক নেমেসিস গাইলো অবচেতন,বীর, অনেষ্বন, বিবর্ন আর কবে পুরাই তথাকথিত কঠিন লাগলো। এলাকা থেকে ফোন আসলো শান্ত তাড়াতাড়ি আসেন আপনারে সবাই খুজে। আমি সায়ান আর লাবিক কামাল তো মিস করছি রেনেসা হাবিবের আশাও ছেড়ে রিক্সা দিয়ে সোজা চায়ের দোকান। এমনিতেই শরীর ভালো না তার ভেতরে ওখানে থাকলে গলা ব্যাথায় পুরা ক্র্যাক হয়ে আসতাম। রিক্সায় আসার সময় খুব ঠান্ডা পাইছিলো চাদর মাফলার কিছুই আনি নাই। আর কান টুপি আমার পড়তে ভালো লাগে না। মাফলার যখন কিনতে যাই তখন মনে হয় শীতই তো শেষ। প্রিন্স বাজারে একটা স্পোর্টস মাফলার চয়েজ করে রাখছি কিন্তু এতো টাকা দিয়ে কিনতে ইচ্ছে করে না। আর সাধারন কোনো মাফলার দেখলে মনে হয় রিক্সাওয়ালার জিনিস। নিজে যে এই পরিমান পাতি বুর্জোয়া হইছি তাও আমার অজানা!
ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের না হয় নির্বিচারে কুকুর হত্যা বন্ধ ঘোষনা হইছে তার বদলে অস্ত্রপ্রচার করে কুকুরের সন্তান ধারন বন্ধ করতে হবে। তা না হয় হলো অদিতি আপুর ভাষ্য মতে দেশে পুরুষের যৌন দুর্ভিক্ষ শুরু হইছে। বাসে ঘাটে টিউশনীতে স্কুলে কোথাও মেয়েরা সেফ না। অনেকেই দেখতেছি স্ট্যাটাস দিতেছে পুরুষ হয়ে নাকি তারা লজ্জিত। আমি তাদের সাথে একমত না। আমি লজ্জিত না। পুরুষরা যদি কুকুর হয় মানুষ না হয়ে তার দায় তো পুরা পুরুষ জাতির না। এই বাংলাদেশে গত চল্লিশ বছর ধরে যে সমাজ আমরা নির্মান করছি সেই সমাজের নাম চটি সমাজ়। এই চটি সমাজে মেয়েদেরকে আমরা শুধু যৌনসঙ্গী হিসেবেই কল্পনা করি এর বাইরে ভাবি না তিনি মানুষ আমার মতোই। আমারো মা বোন ভাবীরা তার মতোই মেয়ে। একটা মেয়েকে আমি ইভটিজিং করবো সাহসী হয়ে ধর্ষন করবো এরা মানুষ তো নাই ই পশুও না। এরা জলাতংক বাহি সে কুকুর যে যারে পায় তারেই কামড়ায়। ছোটোবেলায় বাংলা সিনেমায় দেখতাম নায়িকার বোন রেইপড মারা গেছে নায়ক তার বদলা নেয়। এখন সমাজে কোনো এফডিসির নায়ক নাই তাই কেউ বদলাও নেয় না আর আইন আদালত পুলিশও তাদের খুজে পায় না। সমাজে ধর্ষনকারীরা হিরো আর সেই মেয়েরা তারা হাসির খোরাক। আমরা ভালো মানুষ গিরি পুরুষ জাতিরা এই সান্তনা নিয়ে খালাস এক হাতে তালি বাজে না। কেউ কেউ বলে হিজাব বোরখা চাপালেই সমাধান। এই সব কথা শুনে আমারো একটা সমাধান দিতে ইচ্ছে করে কুকুরের মতো পুরুষ খোজাকরন শুরু হোক তাহলে একটা সমাধান হবে। একাত্তরের এদেশীয় ধর্ষকদের যদি বিচার হতে পারে তাহলে এই নতুন ধর্ষক পশুদেরও বিচার হবে হতেই হবে। দুনিয়াতে এরা সুখে থাকবে আর লজ্জিত ধর্ষিতরা মরে যাবে এই অবিচার কেউ সইবেনা।





একমত।
শুভ সকাল শান্ত ভাই। কেমন আছেন?
আছি মোটের উপরে। দেরীতে ঘুম থেকে উঠে মেজাজ খারাপ! আপনার কি অবস্থা? শরীর মন ভালো?
ইয়াপ। শরীর মন দুইটাই ভালো। ঘুম থেকেও আজকে অনেক সকালে উঠে পড়লাম। এখন যাবো তোপখানা রোডে।
নেন চা
তোপখানা রোড পুরানা পল্টন এই জায়গা গুলো আমার খুব প্রিয়। আগে আমি আর পুলক সময় পেলেই বাসে করে চলে যেতাম বন্ধু শান্ত ভাইয়ের পল্টনটাওয়ারের প্রেস + অফিসে। আর গেলেই কিন্নরীর বিরিয়ানী আর মারিয়ার পেস্ট্রি। এখন আর যাই না তবে সেই এলাকাটার একটা মায়া আছে!
মোহাম্মদপুরে আইসেন দাওয়াত থাকলো!
সহমত।
ধন্যবাদ স্বপ্নচারী ভাই!
তোমার লেখা পড়েও আমি দিনলিপি লেখা শিখতে পারলাম না। সেদিন মোটামুটি অনেকে ঘুরলাম, খেলাম। জেবীন বলছিলো আমাকে পোষ্ট দিতে। তবে আমি আর জেবীন দুজনেই একমত হলাম যে, শান্তর মত এমন সুন্দর গুছিয়ে লেখা সম্ভব না। এবং আমি পারলামই না।
রোজই লেখো। প্রথম পাতায় পোষ্ট ২ টা থাকলে একটা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নিও।
আবার যদি সেই আগের মত ব্লগ পেতাম!
হাহাহা নিজের লেখার প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। যাই হোক এইসব আউল ফাউল দিনলিপি লিখে নিজের একটা লেখার স্টাইল খাড়া করাইতে পারছি আমি তাতেই খুশি। আর এই উসিলাতে যেইভাবে লিখি তাতেই সবার মুখে শুনি ভালো। যাই হোক আপু আপনি এর চেয়ে ঢের ভালো লিখতে পারবেন। লেইখেন পারলে খুব আনন্দ পাই আপনাদের লেখায়!
অসাধারণ
ধন্যবাদ ভাইয়া। বিজি থাকেন অনেক তার ভেতরেও ব্লগে আইসেন আপ্নে আসলে ব্লগটারে ব্লগ ব্লগ লাগে!
পুরা লেখাটা অসাধরণ হয়েছে ।
থ্যাঙ্কু ভাইয়া।
বেশ বেশ..
অনেক দিন পর মুক্ত সাহেবকে পাওয়া গেলো। আপ্নারা কামলা দিতে শহীদ হয়ে গেলেন আর আমাদের কেতো কেউ ডাকেই না কামলার জন্য। অনেক মোবারক বাদ!
এতো গেঞ্জামেও যে টিপসই দিলা তাতে আমি আনন্দিত!
থ্যাঙ্কু ভাইয়া!
থ্যাঙ্কু!
অর্নবের বেশির ভাগ গান ভাল লাগে। সায়ান - নেমেসিস এদের গানে সুরের অভাব লাগে, জেমসের গানের মতো, মনে হয় পেশিশক্তি ব্যবহার করে গান করছে
অর্নবের গান দেখি নারীকুলের সবারই কম বেশী ভালো লাগে। আমার কাছে সবার গানই ভালো লাগে খালি হাবিব থেকে শুরু করে রিদয় খান আরেফিন রুমী মিলা কনা এই গ্যাংটা বাদে। ব্যান্ড হিসেবে নেমেসিসের হয়তো বেসুরো আর হেড়ে গলায় গায় তাতেও কান ঠিক হয়ে গেছে শুনে শুনে আর সায়ানের গানগুলার লিরিক্স এবং গানের প্রতি উনার যে নিবেদন তাতে মুগ্ধ হই। আর জেমস সাহেব তো জনপ্রিয় লোক তার পুরানা গান গুলাই ভালো লাগে।
তোমার হাতে জাদু আছে !
সবই আপ্নাদের চোখের দোষ
মন্তব্য করুন