নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ ছয়!
আমি ইদানিং খুব ভালো প্রাক্টিক্যাল মিথ্যে কথা বলতে পারি। আগেও পারতাম। কিন্তু এখন তা পারফেক্টশনিস্টের পর্যায়ে চলে গেছি। আব্বু আম্মুর সাথে প্রতিদিন দেখা যায় ডজন খানেক আংশিক মিথ্যা বা পুরোটাই মিথ্যাতে বলে চলে যায়। এই তো গত পরশু দিন আব্বু ফোন দিলো'শাহবাগে যাস? আমি বললাম না ভার্সিটিতে ব্যাস্ত তাই যাই না আর কি। আব্বু বলে ওইদিকে অনেক গেঞ্জাম, সারাদিন তো পাঞ্জাবী পড়োস, তোকে শিবির মনে করে যদি ধোলাই দেয়, সাবধানে থাকিস' আমি বলি ' না আব্বু আমি গেঞ্জামে যাই না তবে ইন্টারনেট থেকে সংহতি জানাই। আব্বু বলে তাই ভালো। ভাইয়া বলে আন্দোলোনে যাস? আমি বলি আমাদের আন্দোলন আমরা যাবো না কেন? প্রতিদিন যাই। ভাইয়া বলে সাবাশ। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর কাকে বলে? আমি নিজেও এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে আটকানো। এমন অনেক কথা বলি যা মাঝে মধ্যে নিজেই খুব একটা বিশ্বাস করি না। তাও বলি বাবা মা বন্ধুদের খুশী করতে। যাপিত জীবনে সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে হলে মিথ্যে বলার বিকল্প নাই। তবে আমি তা সর্বোচ্চ মাত্রায় বাবা মায়ের সাথেই প্রয়োগ করি। আর বন্ধু বান্ধবদের সাথে যতো কমে পারা যায়।
কাল ছিলো পহেলা ফাল্গুন। এইসব বিশেষ দিনে আমার একা একাই ভালো লাগে এবং তা ঘরেই। বাইরে বের হয়ে প্রানউচ্ছল তরুন তরুনীদের দেখে ওতো বেশী ভালো লাগে না। চেষ্টা তদবির করলে আমার যে গার্লফ্রেন্ড থাকতো না এখন তা না। কিন্তু সেই চেষ্টাটাই করি নাই। সেই কবে কোন কালে এক মেয়ে আমাকে ইনম্যাচিউরড নার্ভাস বলে চলে গেছে। আমি সেখানেই অবস্থান করি। একা থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারার সুখ সবার কপালে সয় নাই। আমার কোনো খেদ নাই কারন একা আছি একাই থাকতে চাই। কোনো ইমোশনাল এটাচমেন্টে আটকালেই জীবন জাহান্নাম। সকালে এখনো খাও নি? কেনো এতো চা খাও? এতো বাইরে বাইরে কি? চাকরী খুজছো না কেনো? হেন করো নাই কেন? তেন বললা কেন? এই সব জবাব দিহি আমি আমার বাপ মায়ের কাছেই করি না আর কোথাকার কোন মেয়ে আমার এই সব ফিরিস্তি নিবে? আর আমিও তার উপর ডমিনেট করতে উঠে পড়ে লাগবো। তাই এইসব ফিরিস্তি পুর্ন জীবনের চেয়ে একা থাকাই অনেক ভালো। যেভাবে যাচ্ছে দিন তাই ভালো অতো ন্যাকামী পুর্ন এটাচ মেন্টে দরকার নাই। এমনিতেই আমি আবেগের গোডাউন নিয়ে ঘুরি ফিরি পরে কোন এক উত্তরাধুনিক মেয়ে আমারে বয়ান দিবে আর তা ভেবে আমি কেদে কেটে গাল ভাসাবো সেই সময় আর নেই তাই বেশ আছি। এর চেয়ে ভালো থাকা সম্ভব নয়।
কাল শাহবাগ সেভাবে যাওয়া হয় নি। ক্লাস ছিলো। যখন বাস থেকে নেমে শাহবাগ ক্রস করছিলাম হেটে। তখন নিজেকে মনে হচ্ছিলো এক অসভ্য মানুষ। যে এতো স্লোগান ভেদ করে, বইমেলা টিএসসির এতো কিছু মিস করে ক্লাসে যায়? কিন্তু কি আর করার। এই আন্দোলোনের কারনে এমনিতেই তিন চারটা ক্লাস মিস গেছে। এক এপ্লিকেশন সাথে দুই নম্বর মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিলাম তাতেই কাইত। তাতেই এতো টাকার ফাইন থেকে মুক্তি। ক্লাস করলাম। লেকচার শীট এসাইনমেন্ট গুলান গুছালাম। সামনের সপ্তাহের ফাস্ট মিড আমি পড়াশুনা থেকে শতভাগ দূরে আছি। তারপর আর কি শাহবাগের দিকে হাটা দেয়া। এক বন্ধুরে বললাম চলো। সে কইলো বিজি। আমি তারে কইলাম তোমার চেয়ে হাজারগুনে বেশী ব্যাস্ত লোকেরা শাহবাগে যায় আর তুমি কোন হিন্দী চুল? থাকো মিয়া আমি গেলাম। একাই হাটলাম। হেটে মেইন মঞ্চের কাছে আসলাম। দেখি শিরোনামহীনের তুহিন মাফ চায় অতীতের জন্য। ভালো লাগলো শুনে। তার হেড়ে গলায় স্লোগান আর গানের মুখ গাওয়ার চেষ্টাও খুব ভালো লাগলো। যাই হোক সব ছাগু প্রেমিকরাই এই ভাবে লাইনে আসবে। ভীড় বাড়ছে স্লোগান চলছে। সার্কেল জুড়ে ক্লান্তিহীন স্লোগান। বিনায়ক সেনের আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যটা নিয়ে ভাবলাম। আমি গেলাম ছবির হাটের দিকে। সারা সন্ধ্যা থেকে কোনো চা খাই নি। অনেক বন্ধুই আমাকে ফোন দেয় আমি কারোর ফোনই খুব একটা ধরি না। কারন এতো গেঞ্জামে কথা বলার কোনো ইচ্ছা থাকে না। তার ভেতরে কতিপয় গ্রুপ কিছু বিরক্তিকর সাউন্ড সিস্টেমে কি সব গান শুনায় তাতে গা জ্বলে। কোনো হিন্দী গানের সুরে শাহবাগ জাগরনের গান আমি শুনতে চাই না। রেকর্ডিং করা স্লোগান আমি শুনতে চাই না শাহবাগে। তাই শুনতে হয় এখন। মনে হয় এ যেনো ইদ চলতেছে তাই ও মোর রমজানের ঐ গানের মতো করেই সব জায়গাতেই বাজাতে হবে। কত অনেক সারকেল স্রেফ শুধু মোমবাতি আর ব্যানার দিয়ে কত প্রানবন্ত স্লোগান দিচ্ছে। আর এই বেচারারা সাউন্ড সিস্টেম মাইক এই সব এনে রেকর্ড করা স্লোগান বাজিয়ে নাচানাচি করে। চারুকলার পাশ দিয়ে দারুন সব ছবির একটা বিশাল ব্যানার। দেখতেও সুখ। ছবির হাটে বসে ছিলাম। পরিচিত অনেক মুখ দেখি কাউকে ডাক দেই না। থাকুক যে যার নিজের মতো। রোমানের সাথে দেখা হয়। ব্লগের এই ছেলেটা বিদেশ থেকে এসেই আন্দোলনে এতো সময় দিচ্ছে দেখে দারুন লাগে। আমাকে বলে লতা আপু তো অইদিক চলেন। আমি বলি থাকুক আপনি যান আর লতার ফোন ধরছি না কোন মুখে যাইয়া আডডা মারি। বন্ধু নুর ফয়জুর রেজা আসলো। সে আজ ব্যাস্ত ছিলো। তার ক্লাস মেট বান্ধবী আসছিলো তাদের সাথে ঘুরলো মজা করলো আর আইসক্রিম খেলো। আমি বললাম চা খাও নাই? ও বললো আমার কি দুর্ভাগ্য বলো কতো মেয়ের সাথে ঘুরি ফিরি কিন্তু কেউ আর চা খাওয়ায় না। আমি বললাম তরুনীরা কারিনা কাপুর হতে চায়। ছোটোবেলায় কারিনা কে কে জানি বলছিলো চা খেলে আর রোদে গেলে তুমি কালো হয়ে যাবা। এই ধারনায় কারিনা প্রায় উনিশ বিশ বছর পর্যন্ত চা খাই নি আর রোদেও ঘুরে নাই। আমার এই কথায় নুর ব্যাপক খুশী। ইমনের দোকানের উপর মারাত্মক মেজাজ খারাপ। রং চা দুরে থাক দুধ চা চাই তাই দেয় না। শালার আমরা চায়ের দোকান পয়দা করি আর আমগোরে দেয় না চা! এখন তাই ওর বেঞ্চে বসে ওর্ডার দেই অন্য দোকানে। নুরের সাথে অনেক কথাই হচ্ছিলো। তার সলিমুল্লাহ হলের গল্প শুনে হিংসায় পুড়ে যাই। কেনো চান্স পেলাম না। তবে এখন আর এইসব ভেবে লাভ কি? যা হইছে তাই দারুন। সামিয়া এসে এসএমএস যে তারা আসছে। জাদুঘরের ওইদিকে খুজি তারপর পুবালী ব্যাংকের আশেপাশে। না পেয়ে হাল ছেড়ে দেই বলি পরে আরেকদিন দেখা হবে। দেখা হয়ে যায় ভার্সিটির এক বন্ধুর সাথে সংগে তার গার্লফ্রেন্ড। আমাকে দেখে বলে দারুন আছিস তো দেখি। তা তোর পাঞ্জাবী কই? তার পর তার বান্ধবীকে শুনিয়ে বলে এই ছেলেটা তাবলীগ না করেও যে ভাবে পাঞ্জাবী পড়ে ইউনিভার্সিটি আসতো তা অবিশ্বাস্য। আমি হেসে সায় দিয়ে বলি অথচ আজ তুই পাঞ্জাবী পড়া আর আমি টিশার্ট। বিদায় নিয়ে রিক্সা খুজি। হুট করেই মেজাজটা খারাপ ছিলো প্রচন্ড। ভেবেছিলাম হাটবো কিন্তু ৭০ টাকায় একজন রাজী হয়ে গেলো। চলে গেলাম বাসা। আহমদ ছফা রাষ্ট্র সভা একটা পত্রিকা বের করে। লিফলেটের আদলে। দারুন উদ্যোগ। আমি শালা এক পাবলিক যে কিছুই করি না।
আজ ভালোবাসা দিবস। মৌচাকে ঢিলের বিশেষ সংখ্যার দাম ৭০ টাকা এখন দেখেও কিনি নাই। আমার কিশোর বেলায় যায়যায়দিনের ভুমিকা অনস্বীকার্য। আগে আমি এই ১৪ই ফেব্রুয়ারীতে শুধু মানব মানবীর প্রেম নিয়েই ভাবতাম মানতাম। কিন্তু ঢাকায় এসে জানলাম এই দিন এরশাদের হাতেও শহীদ হয়েছে ছাত্ররা এইদিনে। দেশের জন্য প্রান দেয়ার জন্য যে পরিমান ভালোবাসা থাকতে হয় তা সবার থাকে না। যাদের থাকে তারা সময়ের সেরা মানুষ। তবে ভালোবাসা দিবস এখন আমার কাছে কোনো মুল্য নেই। কারন প্রত্যেকটা দিনই ভালোবাসার। কারন ভাইয়া ফোন এসেমেস দিয়ে সব সময় খোজ নেয় কিংবা ভাবী আমাকে যে স্নেহ করে অথবা যে মা আমি কি দিয়ে খাচ্ছি তা জানতে উদগ্রীব হয়ে থাকে আর যে বাবা আমার ফিউচার নিয়ে উদ্বিগ্ন, এই সব তুচ্ছ সামান্য ভালবাসার কাছে মানব মানবীর প্রেম ধোপেই টেকে না। মানব মানবীর প্রেম আমার কাছে কেমন জানি কায়েমী স্বার্থবাদী ব্যাপার মনে হয়। কখন কে কার উপর কি স্বার্থ চাপাচ্ছে তাই নিয়েই এতো কেচ্ছা কারবার। তার চেয়ে যে বন্ধু আমাকে ভালো পায়, যে ছোটো ভাই আমাকে মিস করে, যে ভাই আপুরা আমাকে এতো স্নেহ করে তার কাছে ইত্যকার প্রেম পীরিতি খুব সহজেই মার খেয়ে যায়। এই বিভিন্ন মানুষের ভালোবাসার জন্যই আমার দুনিয়ায় বেচে থাকা!
জানি লেখাটা কোনো যুত হলো না। তাও লিখলাম সকালের নাস্তা না খেয়ে ঘুম থেকে উঠেই। এই লেখাটা নিবেদন করলাম তাদের প্রতি যারা আমার লেখা লগইন করে বা অতিথি থেকে পড়ে নিয়মিত। আর বারবার বলে দারুন হচ্ছে আর কেউ কেউ বলে এই সব দিনলিপি লেখা বাদ দিয়ে সিরিয়াস কিছু লেখ তাদের সবাইকে একসাথে। তাদের ভালোবাসাতেই তো এই সামান্য লেখার চেষ্টা। সবাইকে শুভেচ্ছা। যাই লিখি লিখে যাবো। কারন প্রকাশ করার আর জায়গা কই নিজেকে?





ভালো আছো বেশ আছ। কিন্তু আবেগের গোডাউনঅলার প্রেম নাই এইটা এই ভালোবাসা দিবসে কেম্নে মাইনা নেই !
মাঝে মাঝে কিছু মানুষ দেখি খাইতে যাওয়ার আগে ফোন দেয় 'তুমি খাইসো? খেয়ে নাও, না আমিও খাই নাই। এখন খাবো' --- হাস্যকর এইটা ক্যান জিগায় না তুমি টয়লেট গেসো?? এখনো যাও নাই ক্যান ---
আরে আমাকে উৎসর্গ করা হইসে দেখি!!
বাহ্ বাহ্ ধন্যবাদ
একদম ঠিক।
পোস্টটা আমাকেও উৎসর্গ করা হয়েছে।
সময় আবার নিস্ফলা হয় কেমনে? লেখা ভাল হচ্ছে, চালিয়ে যাও
রেকর্ডেড শ্লোগান আসলেই অসহ্য। মহা বিরক্তিকর।
আগের থেকে অনুশীলন থাকা ভাল, বিয়ে করলেওতো একই কাজ করতে হবে
ডেটিং করার টাইম নাই,
রাজাকারের ফাঁসি চাই।
মন্তব্য করুন