শ্রেষ্ঠ সময়ের ক্রান্তিকাল
খুবই মন খারাপ। এরকম মন খারাপ খুব একটা হয় না সচারচর। এতো গুলো মানুষ মারা গেলো, মরছে ভাবতে অসহ্য লাগতেছে। ভোর বেলাতেই উঠে বসে আছি আর ভাবছি কি হবে দেশটার? ৩৭-৪০ জন মানুষ গতকাল মারা গেছে। এর ভেতরে পুলিশ আছে শিবিরের কর্মী আছে হয়তো আমজনতাও আছে। মৃত্যু আমার কাছে খুব কঠিন জিনিস মনে হয়। অথচ এই দেশে মানুষ কতই না সহজ ভাবে মারা যায়! কেউ জীবন দেয়, কেউ জীবন নেয়। সার্কেল চলছে। অথচ পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যূ খবর শুনলে আমরা কত বিচলিত হই, ভাবি এর চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু আর হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে সকাল বিকাল নাস্তা করার মতই সহজ ব্যাপার যে আজ কয়জন মরছে আর কিভবে মরলো? এই যে আমরা বেচে আছি এতো আনন্দ ফুর্তিতে দিন যাপন করতেছি তার জন্য কত মানুষ মরে প্রতিদিন মুল্য দিতেছে তা কি আমরা ভাবি? এরকম সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে মনে হয় যেকোনো দিন আমি আপনে যতই সতর্ক থাকি আঘাত আসতে পারে। কারন বুলেট বোমা এইসব মানুষ দেখে হয় না!
অথচ কি অসাধারন দুপুর ছিলো গতকাল। আমাদের সবার মনে আনন্দের বন্যা। বেয়াল্লিশ বছর জুড়ে এই দেশ যে গ্লানি বইছে তার মুক্তির আনন্দ। সাঈদীর ফাসির রায় দিয়ে দিলো। কাচ্চি খাওয়ার ধুম। এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ রায় আর কি হতে পারে? শিবির মরিয়া হবে দু চার জন মারা যাবে এইটা এক্সপেক্সটেড। কিন্তু এরকম গোটা চল্লিশেক মানুষ মরবে, শত শত মানুষ আহত হবে, হিন্দুর বাড়িতে আগুন জ্বলবে এইটা আমি একেবারেই ভাবি নাই। পুলিশ মারা গেছে এইটা যেমন খুব দুঃখের তেমন শিবিরের ছানাপোনারও মরতেছে মারতছে এইভাবে কষ্টের। কারন শিবির হোক আর যাই হোক আর যতো জঘন্য কাজটাই করুক, মা বাবার বুক খালি করে সন্তান চোখের সামনে মরবে এইটা সবসময় খুব কষ্টের। তারা হয়তো ভাবতেছে এইটা শাহাদাত বরন। কিন্তু এইটা কোনোভাবেই শহিদী মরন হতে পারে না। কোনো ভাবেই না। কারন ইতিহাসের এক জঘন্য পাপী ব্যাক্তির জন্য মরে, অকাতরে প্রান দিয়ে আর যাই হোক শহীদ হওয়া যায় না। কিন্তু ছেলেগুলা জানে কিংবা জানে না যে তারা কোন সংগঠন বা কাদের জন্য এতো দামী প্রানটা দিলো? মন খারাপের পাশাপাশি আমার খুব করুনা হচ্ছে এইসব ১২-২৫ বয়সী ছেলেদের জন্য যে কত বোকা মানুষ হতে পারে এরা?
কিছুদিন আগে আমার আরেক প্রিয় লেখক ফরহাদ মজাহার পত্রিকায় জানালেন যে রাজীব মরাতে তার খুব কষ্ট লাগছে, এরকম কষ্ট শিবির মরলেও নাকি উনার লাগে? কিন্তু সুখের বিষয় হলো এই দেশে মজাহার সাহেবরা মরবেন না কোনোদিনও। তাদের তত্ব কপচানো চলবে আর সেই আস্কারাতে সাধারন গরীব ছেলেরা প্রান দিবে। এই সাধারন ছেলেদেরকে আমি সলিমুল্লাহ খানের ভাষায় বলতে পারি রুচি নাই যার। এরা হয় স্থুল যে পড়াশুনার ধারে কাছে নাই নয়তো এদের সব পড়াশুনাই বক ধার্মিকদের ধর্ম পুস্তক থেকে আসা। এই রুচিহীন জেনারেশনরাই ফেসবুকে অশ্লীল নানান পেজে লাইক মারে আবার এরাই ধর্মের বড় কন্ট্রাকটর। দেশে এখন এই স্থুল রুচির বাম্পারে ফলন চলছে। এই সব মুর্খরা স্লোগান দেয়, সাঈদী হুজুরের কিছু হলে/ জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। সাঈদীকে নিস্পাপ মানুষ দাবী করে পথে ঘাটে। আর তাদেরকে সংগঠিত করে জামাতের মতো নরকের কীটের প্রান দিতে মাঠে নামায়। আমি চিটাগাংয়ে যে পরিবেশে বড় হইছি সেখানে শিবিরের ব্যাপক তৎপরতা। আমার অনেক বন্ধুই শিবির করতো তাদের বাইতুল মাল নাম একখান ফান্ড আছে তাতে ১০-২০ টাকা দিতো। আমি দেই নাই কারন আমি জানি জামাতে ইসলামী কি জিনিস? এরা কি করে? কেনো করে? তখনি আমার মনে হতো এই ব্রেনওয়াশ ঠেকাতে গেলে সবার অংশগ্রহনে সচেতনতা জরুরী। এইসব কিশোর কন্ঠ, জুবিনাইল ভয়েসের বিপরীতে পালটা সংঘবদ্ধ শক্তি দরকার! কিশোরদের উপযোগী সুলভ মুল্যে অনেক বই দরকার যাতে তারা উন্নত রুচির হয়। এই কাজ করা না গেলে শিবিরের এই তরুন সেনারা খালি খালি এই ভ্রান্ত পথের চোরাবালিতেই আটকে যাবে!
দারুন মাস ফেব্রুয়ারী চলে গেলো। বই মেলাটা এবার কেমন কেমন জানি হয়ে গেলো। আগুনে পুড়ে ঝলসে গিয়ে, মানুষ জন কম বিক্রি নাই, অস্থিতিশীল দেশ, ল-ডিসিপ্লিনের অবস্থা বারোটা, কি একটা অবস্থা যে গেলো! এক প্রকাশকের মুখে কাল শুনলাম গত চার পাচ বছর ধরেই বই মেলায় ক্রমাগত বিক্রি কমছে বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহও কমছে। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করলেন লেখার মান ও লেখকদের রাবিশ খাওয়ানোর প্রবনতা। ভদ্রলোকের সাথে আমি শত ভাগ একমত। কারন এই বই পুস্তকের সাথে যোগাযোগহীন পাশ করা তরুনেরাই জাতির বিপদ। কারন বই না পড়ার কারনে এদের রুচির সংকট চরম। তাই যতো অশালীন ও মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনার মেলবন্ধনে এদের জীবন যাপন প্রায় গুহার জীবন। এই তরুনেরাই বিপদগামী কারন এদের দ্বারা সব সম্ভব। আমরা সবাই না হলেও অনেকেই যদি বই কিনতাম, একটা পড়াশুনার সমাজ যদি থাকতো তাহলে প্রকাশকেরাও ভালো ভালো বই বের করতো পাঠকরাও আলোকিত হতো। বই পুস্তকের সাথে যোগাযোগ হীন মানুষদের দিয়াই সম্ভব যতো অন্যায় আছে সব করার। তাই আমি চাই আরেকটু সুলভ দামে ভালো বই আর আলোকিত বিপুল পাঠক শ্রেনী। এরাই রুখে দাঁড়াবে সব অপশক্তির বিরুদ্ধে! এই মৃত্যু উপত্যাকা আমার দেশ না!





লেখাটার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করলাম।
আসলে কাল সন্ধ্যা থেকে প্রচণ্ড মনটা খারাপ।
এত মানুষের মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে।
বই মেলার কথাটা পড়েও মনটা খারাপ হয়ে গেল।
একটা জিনিষ খুব সত্যি, আজকাল এত বেশী বেশী বই আসছে বাজারে.....কিন্তু মান সম্মত লেখা বোধ হয় সেই হারে আসছে না।
কি যে হবে? শান্ত!!! আর ভালো লাগে না।
কি আর করার আছে আপু। আমাদের আপসোস জানানো ছাড়া!
কাল রাতে আর টিভি দেখতে পারছিলাম না । এত যে খারাপ লাগছিলো বলার মত না । তারপর ভয়, আতংকেও অস্থির লাগছে । এদেশে সবসময় সাধারণ মানুষেরাই মরে, এটাই সত্যি ।
মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক । জানোয়ারের জন্য এমন ঝরে না পড়ুক ।
বইমেলা এবার তেমন যাওয়া হলো না । যে কয়টা বই কিনলাম তারমধ্যে একটা পড়ে ব্যপক হতাশ ।
সময়ই তো পাইলেন না এবার যাবেন কিভাবে?
রকমারী আছে সমস্যা নাই। ভালো থাকবেন আপু। টেনশন কমান!
কাল দেলু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে, বাঙালী জাতির কলঙ্কমুক্তির সূচনা হয়েছে। জামাত শিবির সারা দেশে শুরু করেছে সহিংসতা। ইতিমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যূর খবর শুনেছি। অবাক লাগে, একজন রাজাকারের জন্যে কেন এতগুলো মানুষকে তাদের জীবন বিসর্জন দিতে হল!
সব মৃত্যুই বেদনার, আমরা এ ধরনের আর কোন মৃত্যু চাই না।
সব মৃত্যুই বেদনার, আমরা এ ধরনের আর কোন মৃত্যু চাই না।
লেখাটি পড়ে ভাল লাগলো, ঠিক যেনো মনের কথাগুলো আপনি লিখেছেন। আপনার, আমার, সবারই এখন মনের অবস্থা এমনই। যে দেশকে আমরা এতো ভালবাসি, তারই বুকে আজো এমন জঘন্য ও নরপশুদের সন্তানেরা যে আমাদের আশেপাশে থাকে ভাবলেই অবাক হই। আমার মনে হয় কোথাও না কোথাও এমন অন্তরায় আজো রয়ে গেছে যার কারণে এই তরুণ সমাজের একাংশ আজও সাবাধীনতা বিরোধী। এর বড় কারণ হিসাবে বলতে পারি যথা সময়ে যথার্থ ব্যক্তিদের যথাযোগ্য শাস্তি না হওয়াকে তার থেকেও বড় সিংহাসনের লোভ।
সহমত
ভালো লাগলো....আসলে আপনাদের বয়স থেকে অনেক ছোটো.তাই এত সঠীক ভাবে বলতে পারিনা। কিন্তু আপনি সহ যারা লিখছেন সাধুবাদ।।কাল যা হয়েছে তা বেদনার।এত মানুষের মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে।আমরা এ ধরনের আর কোন মৃত্যু চাই না.।.
থ্যাঙ্কস ভাইয়া, নিয়মিত পড়েন ব্লগ আশা করি ভালো থাকেন!
লেখাটার বুনন বেশ হইছে....তালটা পাঠক হিসাবে বেশ আরামপ্রদ....
আর দেশের অবস্থা নিয়ে আর কি বলবো.....শুধু বলি মৌমাছির চাকে ঢিল মারার আগে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় ... কোন কারণে জায়গামত ঢিলটা না লাগলে উল্টো মৌমাছির আক্রমণে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়....
আরামে থাকেন ... নিরাপদে থাকেন ....
ধন্যবাদ ভাইয়া, কষ্ট করে এসে পড়ে যান
নিরাপদেই আছি। আপনিও ভালো থাকেন!
ভাল লাগতেছে না কিছু।
সামনে আবার টানা তিন হরতাল, না জানি আরও কত কিছু হয়।
সামনের দিনগুলোতে যে কি আছে?
অশনি সংকেত
ছাত্রশিবিরের এইসব নাদান মূর্খরা জানে না যে, তারা শিরক করল । শহীদ তাদের বলে যারা আল্লাহর রাস্তায় জী্বন দেয়। এরা তো একজন অপরাধীর জন্য জীবন দিল । এরা তো মুসলমান হয়েও মরতে পারল না।
ভাল বলছেন!
বই এবং বইমেলা নিয়ে তোমার কথাগুলো খুবই যুক্তিযুক্ত।।
থ্যাঙ্কস আপু। এতো ব্যস্ততা এতো টেনসন সব কিছুর পরেও পোস্ট পড়ে সহমত জানানোর জন্যে
লেখাটার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করলাম
বই এবং বইমেলা নিয়ে তোমার কথাগুলো খুবই যুক্তিযুক্ত।।
পড়া ছিল আগেই। মোবাইল থেকে আমি বাংলা লিখতে পারি না তাই কমেন্ট করা হয় নাই
মন্তব্য করুন