এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে, সন্ধ্যে বেলায় যাবে হারিয়ে...
পোষ্ট লেখার কোনো ইচ্ছে নাই। প্রচন্ড গরমে কারেন্ট থাকে না তার ভেতরে বাসায় সিলিংর উপরে টিন দেয়া বলা যায় গরমে অতিষ্ট অবস্থা। লেখা সেইভ করে লেখা হয় না আর ইউপিএস নাই তাই পোস্ট লেখাটাকেও অযথা সময় নষ্ট মনে হয়। আর কি লাভ এইসব বোকা বোকা দিনলিপির পোষ্ট লিখে? যখন রাসেল ভাইরা জেলে ডাকাতের মামলা আসামীর মতো পুলিশের সাথে ফটোসেশন করা হয় তখন এইসব ব্লগ টগের কি মুল্য থাকতে পারে? তাও লিখছি কারন কিছুই তো করার নেই। কে ধর্ম বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী তা নিরুপন করে দিলো কিছু সারমেয় প্রানী আর তার ভিত্তিতে ডিবি ধরে আনলো তিন ব্লগারকে। কি এক দুর্বিষহ এক দেশে আছি? আমরা আজকে থেকে ব্লগার না সেই পাচ ছয় বছর ধরে ব্লগে দিন পার করতেছি। কিছু ধর্ম বিদ্বেষী পোষ্ট হয়তো দেখতাম তাতে খারাপ লাগতো। ফেসবুকে শত শত স্ট্যাটাস আছে তা নিয়ে কিন্তু সেই ব্লগারদের শত্রু ভাবি নাই কখনও। ভাবছি তার মতামত সে জানাচ্ছে। সে আমার ধর্মের সম্মান দিতে পারছে না সেইটা তার ব্যার্থতা। আমি কেনো তাকে শত্রু ভাববো? ব্লগের প্রথম শিক্ষাই হলো অন্যের মতামত ভালো না লাগলেও তাকে সম্মান জানানো। তাই যেকোনো ব্লগের যেকোনো ধর্মে অবিশ্বাসীর প্রতি ধারনা একি যা আমার মতো হাজারও আস্তিকের প্রতিও। এই সম্মান এই শিক্ষার এখন দিন শেষ। আমি স্রেফ আস্তিক না বলা যায় আমি ভয়াবহ রকমের আস্তিক মানুষ। পাচওয়াক্ত নামায পড়ি। মেনে চলার চেষ্টা করি। মদ গাজা খাই না। সুবোধ বালকের জীবন আমার। মায়ের স্বপ্ন ছিলো আমাকে হুজুর বানাবে। বেচে গেছি আল্লাহর রহমতে নয়তো এইসব হুজুরদের মতোই আমি অবিশ্বাসীদের প্রতি খুন করার বাসনা মনে চেপে রেখে বড় হতাম। মুষ্টিমেয় হুজুর আর জামাতীদের রাজনীতি খেলা বলি হলো রাসেল ভাই বিপ্লব ভাইরা। এই ঘটনার পর থেকে কি যে ভয়াবহ মন খারাপ তা কাউকে বলে বুঝাতে পারবো না। ছোটবেলায় একটা দামি জুতা আমাকে কিনে দিয়ে ছিলো তা একদিনের ভেতরেই আমি হারাই। জুতাটা হারিয়ে আমার এতো কান্না পাচ্ছিলো মনে হচ্ছিলো এই জীবনে আর জুতা পড়তে পারবো না। আজ আমার সেরকম বুক উজার করা হাহাকার লাগতেছে। আমার এই আবেগকে অনেকে বালখিল্য আজাইরা বলবেন। আমার কিছু করার নাই তাতে। কারন নিজের বন্ধু বড়ভাইদের এরকম অপমান নির্যাতন যাদের কাছে সহনীয় লাগে তারা মানুষ হিসেবে আমার কাছে ছাব্বিশ নম্বরেও ঠাই নাই। তাদের জন্য শুধুই আপ্সোস যারা বলে ভালো হইছে নাস্তিকদের ধরছে। নাস্তিকদেরকে যারা ইসলামী সেন্স ধরে তীব্র ঘৃনা করেন তাদের জন্য আমার খালি হতাশা লাগে যে তাদের এতো আমল ইমান সবই বৃথা। ইসলাম যদি এমনি হতো তবে ইসলাম শুধু মদীনাতে থাকতো এই বাংলাদেশে তা আসতো না। ইসলামে আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার ধারনা যাদের নাই তারা ইসলামের বয়ান দেয় কোন সাহসে?
কিন্তু আপসোস হলো পাওয়ারে নাকি আছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। ব্লাসফেমী আইন যদি হয় মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার তবে একাত্তরের চেতনা যত বড়ই হোক তার আমার দরকার নাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাকি আছে এদেশে? আমি তো দেখতেছি দেশে মত একটাই হেফাজতে ইসলামীর মত। আর তাদের উস্কাইতেছে মাহমুদুর রহমানের মতো স্টুপিড দালালরা। অনেক ভদ্রলোকের সংগ্রাম পড়ে দেয়ালে আমি দেখলেই হাক দেই রাজাকারের পত্রিকা। এখন তো দেখতেছি সরকারই সব চেয়ে বড় রাজাকার। কারন তারা সংগ্রামের সম্পাদকীয় নির্দেশনাতেই কাজ চালাচ্ছে। সামান্য মক্তবের হুজুরদের যখন আপনাদের এতো ভয় তাহলে যান জামাতের কাছে পাওয়ার দিয়ে চলে যান। আমার ভাই পুলিশগুলোকে খামাখা ইটের ছেচায় রক্তাক্ত করার কোনও অধিকার আপনাদের নাই। অন্ধকারে যখন পচে মরতে হবে তখন একটু কম বেশীতে আর কি যায় আসে?
প্রতিদিনের মতো আজ ভোর পাচটায় ঘুম থেকে উঠলাম। নামায পড়ে জগিংয়ে গেলাম। আমি আর দুই ছোট ভাই অনিক আর সাইফ। অনেক হাটছি। বাসা থেকে জিয়া উদ্যান সেখান থেকে মিরপুর রোডে ধানমন্ডি ৩২। লেকের ভিতর দিয়ে হেটে মেডিনোভা দিয়ে বের হয়ে হেটে হেটে চায়ের দোকান। ধানমন্ডী ১৫র দিকে তিনটা ককটেল ফুটলো সকাল সাতটায়। আমরা মোটেও ভয় পাই নাই। অতি সাধারন ভাবেই হাটছি আর ভাবতেছিলাম কত সহজ বিষয়টা। তিনটা ককটেল ফুটলো মানুষ জন দোড় ঝাপ করলো। রাস্তা ফাকা রাস্তায় শুধু পুলিশ আর র্যাব। যে পুলিশ- চোখের সামনে ককটেইল বাজদের থামাতে পারে না তারা এখন ব্যাস্ত কটুক্তিকারী ব্লগার খুজতে। তখনো জানতাম না যে রাসেল ভাই বিপ্লব ভাই এরেস্ট হইছে। চায়ের দোকানে আয়েশে ফেসবুকে দেখলাম এই কাহিনী দেখি আর চা খেতে পারছি না। হাত পা কাপছে মেজাজ খারাপে। কোনোরকমে বাসায় এসে শুয়ে ছিলাম। এইটা কিসের আলামত? এমন না যে রাসেল ভাই বিপ্লব ভাইয়ের সাথে আমার খুব খাতির একজন ব্লগার ফেসবুক বন্ধু ছোটোভাই হিসেবে ব্যাপক স্নেহ করতো। এইসব স্নেহময় মানুষদের দিন যাপনকে জাহান্নাম বানালো নরকের কীটেরা। আমার বই মেলায় অনেক বই দেখার আগ্রহ কোনোদিন থাকতো না যদি রাসেল ভাইয়ের এই স্টলে স্টলে যেয়ে বই খোজার বাতিক না দেখতাম। উনার এক বন্ধুর একটা নোট দেখলাম কেবল পড়ে কান্না পাচ্ছিলো। কি অসাধারন একটা মানুষ এখন জেলে চোর ডাকাতের সাথে রিমান্ডে যাবে। এরচেয়ে গ্লানির কিছু নাই। আমার ব্লগ একটা দারুন সিস্টেম নিছে যে ভাবে চলতেছে তাতে ব্লগিংয়ের কোনো মানে নাই।
আগামী দিন গুলাতে আরো কত কি হবে জানি না। তবে প্রচন্ড হতাশা। বাসা থেকে ফোন দিছে ব্লগার ধরতেছে সাবধানে থাকিস। আমি বলতে পারি নাই আপনাদের ছেলের সাহস নাই। বরং তার ভেতরে আছে ব্যাপক হারে আপোষকামীতা ও গা বাচিয়ে চলার কায়দা কানুন। স্রোতের বিপরীতে লড়তে বুকের পাটা লাগে আপনাদের ছেলের তা কখনোই হয় নাই। তাই চায়ের দোকানে বসে থেকে, রোদে অযথা ঘামতে ঘামতে ঘুরে বেড়াই যেনো কিছু সময় ভুলে থাকি। তবুও আজ মানব বন্ধনে যাবো রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ জানাবো এই তীব্র অন্যায়ের। এই দুনিয়ায় নয় ঐদুনিয়ায় এই সব ব্লাসফেমী রক্ষী বাহিনী ও তাদের সেবকদের বিচার হবেই! শিরোনামটা অঞ্জন দত্তের গান থেকে নেয়া। গানটা অসাধারন। আমরা সব কিছু ভুলে যাই আর দিনগুলো শুধু চলে যায়। গানটার একটা লাইন আছে
"মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানাবো গীর্জার ভেতরে"





আজ কিছুই ভালো লাগছে না । এমন অস্থির সময় আর দেখিনি । এমন দেখব ভাবিনি ।
হাবায় মইরা গেছে, কিন্তু এখন হাবার ঝাল বাবাগোর উপরে ঝাড়লে তো মুশকিল ....
কিছুই বলার নাই।
আগে খেলাফতের সঙ্গে চুক্তি করছিল, এবার হেফাজত
আগামী দিন গুলাতে আরো কত কি হবে জানি না। তবে প্রচন্ড হতাশা।
মন্তব্য করুন