কাফন দিয়ে কেনা আমার পতাকার স্বরাজ!
শাহনাজ রহমাতুল্লাহর গান থেকে শিরোনামের লাইন টা নেয়া। এই গানের অরজিনাল ভার্সন আমি শুনি নাই। কনক চাপার একটা ভার্সন শুনছিলাম সেইটা ভালো লাগে নাই তবে মনে গেথে আছে শুধু সায়ানের গায়কীটাই। সেই সামুর আমলে ২০০৮ য়ের দিকে পোষ্টও দিছিলাম গানটা নিয়ে। এখন যখন অনেকের প্রিয় পোস্টের ভীড়ে সেই গানটার পোস্ট দেখি অবাক লাগে। তখন মনে হয় ব্লগিং করে এতোদিনের এই অযথা সময় নষ্ট পুরোটা কখনোই মাঠে মারা যায় নাই। তবে মাঠে মারা গেলো না গেলো না তা নিয়ে ভাবি না কখনো। আমি আমার সময়ে যা করার উচিত ছিলো তাই করার চেষ্টা করছি মাত্র। আমার সময়ে সব চেয়ে কম ছিলো মানুষের দেশপ্রেম, কাজের কাজ কিছু করতে না পারলেও নিজের বুকে তা ধারন করেছি। যে দেশে জন্মেছি তার জন্য অপরিসীম মায়া অনুভব করি এইটাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। আর কিছুর দরকারও নাই। সকালে উঠে ফজর নামায পড়েই হাটতে বের হই সংগী হিসেবে একজন বা দুই জন ছাড়া কেউ নাই বলা যায় ইদানিং একা একাই হাটি। ভোরের নির্মল বাতাস যখন আমার গায়ে এসে বাধে তখন শুধু জাতীয় সংগীতের লাইনগুলাই মনে হয়। আল্লাহর কাছে ধন্যবাদ জানাই বারবার যে এমন একটা দেশে আমাকে জন্ম দিয়ে বাচিয়ে রেখোছো এতো দারুন ভাবে এতো ভালোবাসায়।
তবে জিয়া উদ্যানে গিয়েই হয় মেজাজ খারাপ। মেজাজ খারাপের কারন জিয়া উদ্যানে সকাল বেলা ট্রাউজার জার্সি পড়া লোকেরা কেউই কাঠমোল্লা না আমি শিউর তারা নিজেদের জীবনে ইসলামেরও সেরকম প্রাক্টিস করে না। কিন্তু জিয়া উদ্যানের লেকের ঐ লনে বসে তারা শুরু করবে আলোচনা "যে কেনো ইসলামে সেক্সের এতো ইম্পোরটেন্স আর পানিশমেন্ট দেয়া হইছে? কেনো নারীদেরকে চাকরি করতে নিরুৎসাহিত করা হইছে তার যতো আজাইরা ফিরিস্থি। দেখলাম যারা এই ফিরিস্থি দেয় তারাই এই জিনিস না মেনে বউ নিয়ে আসছে হাটতে বউরে বলছে তুমি চক্কর মারো আমি চাপা পিটাই। কি যে রাগ লাগে এই সব হিপোক্রেসীর। ধর্ম মানুষকে সুপথে সত্যের সন্ধান দেয় এদের কি দিলো। আমি চিন্তা করে বের করছি এই সমস্ত লোকদের এইটা এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা। যে নিজে যেইটা মানে না করেও না দল বেধে তা নিয়ে আলোচনা করে নিজেরে ধর্ম নিয়ে খুব কর্নসার্ন দাবী করানো। এরাই বেশীর ভাগ আমার দেশের পাঠক। আমার তখন ব্রান্ডিং করতে সুবিধা হয় বিএনপি মনস্ক জামাতের লোকেরা সব এমনি। আমি সামনে আরো কয়দিন এদের ফলো করবো জানতে চেষ্টা করবো এই আংকেল শ্রেনীদের পেশা বা আয়ের সুত্র কি। তবে আমি শিউর এরা সব অসদুপায়ে উপার্জিত টাকা পয়সার মালিক হয়েই এতো ফাপড় নেয়। এখন সান্তনা খুজে ইসলামী ভরংয়ে মুখ গুজে। আনু মুহাম্মদের একটা লেখার সুত্র ধরেই বলি ইসলাম নিপীড়িতের ধর্ম আর শাষকের শোষন করার হাতিয়ার। তবে আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদের এক লেখায় পড়লাম যে যাদের বাবা চোর ঘুষখোর তাদের একটা বড় সুবিধা হলো খুব সহজে তারা তাদের বাবার পথের দিশারী হয় না তাই তাদের জন্য আলোকিত মানুষ হওয়া তুলনামুলক সহজ।
আন্ডারগ্রাউন্ড জীবন সমগ্র নামে একটা বই এবারের বই মেলায় এক প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে উপহার পেয়েছিলাম। আগুনে ঝলসানো পাঠক সমাবেশ স্টলের ভিজে যাওয়া বই। ৩৫/৪০% কমিশনে কেনা। বইটা এতো দিন পড়া হয় নাই। যে দাম ছিলো কেনাও হয় নি। মাসুম ভাই পোস্ট দিচ্ছিলো তাই গোগ্রাসে গিলছিলাম। গতকাল থেকে পড়া শুরু করলাম আজকেই শেষ হয়ে যেত হয়তো দারুন ইন্টারেস্টিং বই। কিন্তু শেষ হওয়া তো দুরে থাক এখনো প্রথম অংশ মানে ১১০ পাতা পর্যন্তই শেষ হলো না। কারন বইটাতে যে পাইকারী হারে বিপ্লবী গলাকাটা ও চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের বর্ননা আছে কিছু দুর পড়ার পরই নিজেরে সিক মনে হয়। এমনিতেই শরীর ভালো না তারপর এই গলাকাটার নৃশংস বর্ননা পড়লেই মনে হয় বমি আসবে পেটের নাড়ি ভুড়ি বেরিয়ে যাবে এক্ষণই। কি একটা অবস্থা। আমি আসলে মানুষকে দুই ভাগেই ভাগ করি মানবিক আর নির্মানবিক। অমানবিকতাকে হাতিয়ার বানিয়ে যতই মহৎ কর্মই করুক তা আমার কাছে এক ধলা থুথুর ঘৃনা সব সময়।
আজ এমন একটা মানুষের জন্মদিন যিনি এই দেশের আমার মতোই একজন সাধারন মানবিক দেশপ্রেমিক মানুষ। বই পড়তে খুব পছন্দ করতেন। যুক্তিশীলতা ও জ্ঞানের চর্চাই ছিলো যার কাজ। দুনিয়ার অন্যতম সেরা দেশ থেকে পড়াশুনা করে এই জরাজীর্ন নিজের দেশেই ফিরে এসেছেন। পুত্র স্নেহে আকন্ঠ নিমজ্জিত এই মায়াবী মানুষটা ছিলেন আমাদের এই ব্লগের অন্যতম গুনী ব্লগার। যার প্রতিটা পোষ্ট শৈশবের প্রত্যেকটা গল্প আমাদেরকে দারুন ভাবে মুগ্ধ করতো। বইমেলা, রাজনীতি, সমাজ প্রত্যেকটা বিষয়েই তার ভাবনা চিন্তার পরিধিতে খালি বলতাম মুগ্ধ হতাম সেই মানুষটা তথাকথিত নাস্তিক ব্লগার হিসেবে জেলে। সেই ছয় সাত বছর আগে উনি সামুতে হয়তো সেটায়ার লিখেছিলেন যা তিনি নিজেই আরো তিন চার বছর আগে ড্রাফট করে রাখছিলেন সামুর কুকুরেরে মতো সরকার ভক্তি ও করিৎকর্মা ডিবির কারনে সেগুলাই হয়তো এখন প্রমান হিসেবে দাড় করানো হবে। কি নিম্ন মানের ষড়যন্ত্র। ধিক এই সরকার এই রাষ্ট্র ব্যাবস্থা তথাকথিত ধর্মানুভুতি। যে কথাটা বারবার বলি, অনেকে বলে কেনো বলি তাও আবার বলি অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে আমি বেশী ধার্মিক। সাধারন প্রত্যেকটা আমার দেশ পাঠকের চেয়ে আমি বেশি ধর্মের প্রতি অনুগত। কিন্তু আমার তো সেই ছয় সাত বছর আগেই এই সব পোষ্ট দেখতে দেখতে বড় হওয়া। কই আমার তো লাগে নাই। কারন আমি বিশ্বাস করি মতামতের মর্যাদায়। কেউ আমার বিশ্বাস আমার আস্থার মর্যাদা দিলো না তার মানে এই না যে ধর তক্তা মার পেরেক সুলভ ভাবে বলে উঠবো নাস্তিকদের ফাসী চাই। আমি ফাসী চাওয়ার কে? তারা তো মানবতার বিরুদ্ধের কোনো সামান্যতম অপরাধও করে নি। আমার যেখানে বিশ্বাস ভরসা তার সেখানে আপত্তি তার ভেতরে কয়েকজন উগ্র গোড়ামী সেখান থেকেই এতো কিছু। এই সামান্য আপত্তি যদি আপনাদের ওযু নষ্ট করে দেয় তাহলে এরকম লেইম লোকদের ধার্মিক হয়েও লাভ কি? যাই হোক আজাইরা প্যাচাল। যে জেলে থাকে যে রিমান্ডে থাকে বা গ্রেফতার আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার যন্ত্রনা আমরা এই জীবনে টের পাবো না। আমি তো সুখেই আছি। তালাশ সিনেমার গান তুমি নেহি হো শুনে শুনে দিন যায় রাত আসে। তবে রাসেল ভাইরাই ব্যাতিক্রম। তারা সক্রেটিসের মতোই। যে যৌবনের আবেগে নয় বা কোনো প্রাপ্তির আশায় থেকে নয় সেচ্ছায় নিজেদেরকে এই নির্যাতন রিমান্ডে জেলে নিজেদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গুলো দিয়ে ফেলতেছে অকাতরে। আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদের বইয়ে উনার ছাত্রীর একটা লেখা আছে সক্রেটিসের সংলাপ বইটা নিয়ে। দারুন লাগছিলো। সেরকম ভাবেই বলি এরকম অমৃতের মতো মধুর একটা জীবন যারা নিজের মতবাদ নিজের মতামত প্রকাশের কারনে যায় যায় অবস্থা সেরকম জীবন শত জনমেও শত শতাব্দীর অনেক মানুষ শত আরাধনাতেও পায় না।
পরিশেষে আবার জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমি শিউর সামনেই মুক্তি পাবেন। আপনার মতো মানুষরা জেল খানা থেকে এসে বড় মুক্তির সন্ধান পায়। তখনো দমে যাবেন না। কারন এই জাতি হিপোক্রেটদের জাতি। আর হিপোক্রেটদের কাছে খারাপ মানুষরাই আসল মানুষ যাদের ভক্তি করে বেড়ায়। আপনার ছেলে মেয়ে ওয়াইফ অচিরেই আপনার সেই চিরচেনা ভালোবাসায় মুগ্ধ হবে সেই প্রত্যাশায় থাকলাম। আপনার দুই বন্ধুর দুই স্ট্যাটাস আমার চোখে পড়লো যা দেখে কান্না আটকানো দায়।
কৌশিক আহমেদ:
আমার বন্ধু রাসেল পারভেজ এর আজকে জন্মদিন। একটা রুমের ভেতরে, যেখানে বিছানা নাই সেখানেই কাটাচ্ছে এক সপ্তাহ যাবত। কোনো কম্পিউটার নাই, লিখতে পারছে না কিছু - কিন্তু জানি সে মাথার মধ্যে লিখে রাখছে সবকিছু অবিরত।
আমার বন্ধু রাসেলের জন্মদিন আজ। প্রচন্ড বই পড়ুয়া আমার বন্ধুটি কোনো বই ছাড়া পড়ে যাচ্ছে প্রতিটা মিনিটের ইতিহাস। নির্মম রোজনামচা রচিত হচ্ছে বদ্ধ রুমে।
রাসেলের সহধর্মীনি লিপি, তার পুত্র ঋক, কন্যা ঋত - আজকে বাবার জন্য উইশ করবে। তাদের শুভকামনায় মিশে থাকবে অশ্রুবিন্দু। থাকবে আমাদেরও। জলদি মুক্ত হয়ে ফিরে আসো রাসেল। তোমাকে ছাড়া নিজেদের বন্দী লাগছে।
মাহবুব সুমন ভাইয়ের:
শুভ জন্মদিন Rasel Pervez স্কুলে থাকতাম পাশাপাশি হাউসে , বাড়ী পাশাপাশি জেলায় , সামনি সামনি মনে হয় দেখা হয়েছিলো সেই ২২ বছর আগে, অনেক মতান্তর - অনেক মিল - অনেক ঘৃনা - অনেক ভালোবাসা।





ব্লগ-ফেসবুক এড়িয়ে চলছিলাম। মাঝে-মধ্যে ঢুঁ মেরে গেলেও মন্তব্য প্রকাশে ভয়ানক বিরক্তি ভর করেছে। নিজের শরীরটাও ভালো নেই। এই লেখাটা পড়ে কথা না বলে পারলাম না।
রাসেল বাংলা ব্লগ জগতের একটি মেধাবী মুখের নাম। রাসেলের নম্র-ভদ্র ব্যবহার, রাসেলের অসাধারণ উদার মানসিকতা, রাসেলের নির্লিপ্ত মুখোভঙ্গি আমার বড় প্রিয়। আর রাসেলের লেখার কথাতো দশ কিস্তিতে লিখলেও শেষ হবার নয়। আমাদের সেই প্রিয় রাসেল আজকে যে কঠিন সময় পার করছে, যাদের জন্য তার এই পরিণতি, আমি জানি, এসব নষ্ট মানুষেরা এর জন্য শাস্তি পাবে। পাবেই।
রাসেল, প্রিয় বন্ধু, প্রিয় সুহৃদ- শুভ জন্মদিন।
কিছু বলার নাই আপু। খুবই মন খারাপ। আজো খুব আশায় ছিলাম যে জামিন হবে তাও হলো না। আমার মনের সুখে কতো কি করে বেড়াচ্ছি আর দুনিয়ার সব চেয়ে নিম্ন স্তরের জাহান্নামে তারা দিন পার করতেছে ভাবতেই বিষন্ন লাগে। আপনার কমেন্ট এক্সপেক্ট করি কম।পেলেই খুব শান্তি লাগে। জানি পড়েন পোস্ট তাও কমেন্ট কইরেন। আপনার উপস্থিতি অনুপ্রেরনা। তবে গুটিয়ে থাকাই ভালো কারন ফেসবুক ব্লগে এখন তেমন আর ভালো কিছু নাই!
ভালো থাকবেন। টেক কেয়ার। শরীর মন ভালো থাকুক!
শুভ জন্মদিন, রাসেল ভাই।
শুভেচ্ছা!
রাসেল ভাইয়ের সাথে শাহবাগে দেখা হত, তার হাসিখুশি মুখটা চোখে ভাসছে। শুভ জন্মদিন রাসেল ভাই, দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসুন এই কামনাই করছি।
সেই কামনাই!
প্রিয় রাসেল ভাই শীঘ্রই ফিরে আসুক । অসাধারণ এই মানুষটার এই অবন্থা অপ্রত্যাশিত । কিছুই বলার নেই আমাদের ।
শুভ জন্মদিন রাসেল ভাই । শুভকামনা নিরন্তর ।
শুভকামনা
শুভ জন্মদিন রাসেল, শুভকামনা নিরন্তর।
শুভকামনা নিরন্তর।
মন্তব্য করুন