এই জীবনের মানে তবুও এক আনন্দময় যাত্রা
আজকে এই মুহূর্তে আমার কোনো পোস্ট লেখার ইচ্ছা ছিলো না। কারন গত রাতেই একটা আস্ত পোস্ট লিখে ছেড়ে দিয়েছি তাই অনেকেই হয়তো পড়ে নাই এখনো। একদিনের ব্যাবধানে দুইটা পোস্ট দেয়া খুব একটা শোভন ব্যাপার না। আর এই ব্লগে পোস্ট দিতে দিতে আর আমার পোস্ট পড়তে পড়তে পাবলিকও টায়ার্ড। দুই তিন দিন আগে বিষণ্ণ ফোন করে বলছিলো এবিতে তো আপনার মতো পোস্ট দেয়ার লোক এসে গেছে। সে বুঝাতে চাইছে যে সেই আগের দিন নাই, নতুন নতুন ব্লগাররা এসে নিয়মিত পোস্ট লেখা শুরু করছে, ব্লগে খালি আমি ঘন ঘন পোষ্ট দেই না! নতুন অনেকে আসছে। সব ব্লগেই নতুন ব্লগাররা নতুন জামাই সম। নতুন জামাইকে যেমন সব কিছু ভালো ভালো জিনিস দেখিয়ে খাইয়ে শোডাউন দেয়া হয় ঠিক তেমনি নতুন ব্লগারদেরকে সব সময়ই যথা অযথায় উৎসাহ দেয়া হয়। তবে এবিতে নতুন ব্লগারের সংখ্যা একেবারেই কম। আর এবি এমন একটা ব্লগ যেখানে নতুনরা আসে পোস্ট দেয় অনুপ্রেরনা দেয়া হয় এরপর তারা আর লিখে না। অন্য ব্লগে লিখে। একজন নতুন ব্লগার এবির নিয়মনীতি না জেনেই পোস্ট দেয়। পুরানো লেখা আবার পোস্টায়। মডারেটর গিয়ে বাগড়া দেয়। সব শেষে এবির প্রতি তার তীব্র বিতৃষ্ষ্ণা জন্ম নেয়। আমার কাছে নতুন পোস্ট শুধুমাত্র দেয়া বিষয়টা খুব ভালোই লাগে। কারন পুরানো পোস্ট রিঃপোষ্ট করার অনেক ব্লগ সাইট পাবেন। কিন্তু আমরা বন্ধুতে খুব যত্নের সাথেই শুধু নতুন লেখা ছাপানো হয়। নতুন লেখা অবশ্য সহজ না। যে হারে পুরানো ব্লগাররা লগইন করতে ভুলে যাচ্ছে তাতে নতুন পোস্ট প্রাপ্তি একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর নতুন নতুন ব্লগাররা এসে অসাধারন সব পোস্ট দিবে এই আশাতেও থাকা ভুল। ১০ জন নতুন ব্লগার যদি আসে এদের ভেতরে এক থেকে দুইজনই কেবল টিকে যায় যাদের লেখার আগ্রহ অটুট থাকে। আর বাকীরা হয় অন্য কোথাও লেখে নয়তো লেখেই না। আমার জন্য অবশ্য নতুন লেখা কোনো চ্যালেঞ্জ না। কারন আমি গল্প উপন্যাস কবিতা কিছুই লেখি না। লেখি দিনলিপি। তা এমন একটা পর্যায়ে লেখি যে সারাদিন কিচ্ছু করি না তাও আমি বিশাল একটা পোস্ট অবলীলায় লিখতে পারবো। খালি লেখতেই যা সময় নয়তো আমার ভাবনার অভাব নাই লেখার বিষয়ও কম নাই। খালি একগেয়ে দিন যাপন বলে রিপিটেশনটা একটু বেশী হয়। তাও আমি লিখছি সময় পেলেই। কারো কারো ভালো লাগে জেনে খুশি হয়। অনেকের হয়তো খারাপ লাগে কিন্তু তাতে আমার কিছু করার নাই আমি এমনই!
গতকাল ছিলো বারোই মে। বারোই মে আমার খুব প্রিয় একটা বিষাদময় দিন। অঞ্জনদত্তের গানের সেই কল্পিত মালার জন্মদিন আমাকে বিষণ্ণ করে তুলে। দুই তিন বছর আগে মুরাদ ভাই পোস্টও দিছিলো একটা দারুন, আজ মালার জন্মদিন। আমি কাল রাতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম "এই ট্রাজেডীতে ভরপুর ঘটনাবহুল অস্থির সময়েও আমার কাছে বারোই মে মানেই হলো অন্জন দত্তের গানের সেই মালার জন্মদিনের কথাটাই মনে পড়া। মালার ঝকমারী দামী বিলাসী লাইফস্টাইলের প্রতিটা উপমা একেকটা অন্তহীণ বেদনার সুর হয়ে বাজে আমার মনে। এরকম গান শুধু উনার পক্ষেই গাওয়া সম্ভব। হ্যা জানি বলবেন মুল গান সুর আইডিয়া পিটার স্টারডেটের গান থেকে নেয়া। তাও এরকম ভাবে একটা ইংরেজী গানকে বাঙ্গালী মধ্যবিত্তে রুপান্তরিত সংযোজন আর আবেগ দেয়া শুধু অন্জন দত্তের পক্ষেই সম্ভব। কলকাতা দার্জিলিং কিছুই আমি দেখি নি তবুও উনার কারনেই আমার মনে হয় কতদিনের চেনাজানা আপন নিজের চৌহদ্দি। মিস্টার হল, রমা, বেলাবোস, জেরোমী, সাবিনা, হরিপদ, গোবিন্দ, দাস কেবিন, দিগামার ব্রেড, জনি, জয়ীতা, রুবিনা, ববি রায়, মিসেস মুখার্জী, রন্জনা, সুখাই চাচার স্কুল, খেলনাওয়ালার বাশির আরো যতো যা আছে সব আমার দিন যাপনের যন্ত্রনা গ্লানি বিষাদ ভুলিয়ে দেয় সব এক নিমিশেই। বেচে থাক এই ভালো লাগা, বেচে থাক অন্জন দত্ত!"
বারোই মের ঠিক পরের দিনই একটা বিশেষ দিবস। তবে কি কারনে বিশেষ তা আজ সারাদিন ভেবেও মনে আনতে পারি নি। সমাধান করে দিলো ফেসবুক। আজ আমার একমাত্র ভাবীর জন্মদিন। আমার মোবাইলে বাংলা লেখা যায়। মোবাইলেও ভাবীর নাম্বার এক মাত্র ভাবী নামেই সেভ করা। সব চেয়ে আজব ব্যাপার হলো আমি অনেক দিন ভাবীকে আপু বলেই ডেকেছি। তাতে ভাবী হয়তো দুঃখ পেতে পারে কিন্তু আমার কাছে মনে হইছে ভাবী ডাকার আগে ভাবী তো ছিল আপুই। আপু ডাকা খারাপ কি? কিন্তু এতো দিনে আমি বুঝতে পারছি ভাবী আর আপু হাজার গুনে ফারাক। আপু অনেকেই হতে পারে কিন্তু আমার ভাবী একজনই। অনেকে ভাইয়ের বউকে মেনে নিতে পারে না ফ্যামিলী থেকে তখন নাকি আপু বা নাম ধরে ডাকে। কিন্তু আমার মাথায় সেইরকমের কোনো চিন্তা ছিলো না। আমার কোনো বোন নাই। তাই ভাবীকে আপু ডেকেই কাটিয়েছি অনেক দিন। ভাবী হয়তো তাতে খুব আপসেট হইছেন। তবে আশা করি তিনি আমাকে মাফ করে দিয়েছেন। আর আমার বুদ্ধির দোড় সমন্ধে ভাবীর যথেস্ট ধারনা আছে। তাই বোকা বলেই হয়তো এতো গুরুতর অন্যায় করেও পার পেয়ে গেছি। যাই হোক থাক সে কথা। ভাবী আমার সমন্ধে কি ধারনা পোষন করেন তার ডিটেইলস আমি জানি না তবে আমি ভাবীকে একজন অসাধারন মেয়ে হিসেবেই ধারনা করি। আর অসাধারন না হবার কোনো কারন দেখি না। কারন আমার ভাইয়াও সাধারন কেউ না আমার কাছে। এই দুইজনই আমার জীবনে খুব স্পেশাল। আব্বু আম্মু তো আপন হয়েই থাকে। তাদের ভালোবাসার বাধন এতোই শক্ত তা নতুন করে বলার কিছু নাই। ভাইয়াও তাই। অনেক অনেক ভালোবাসে আমাকে। তাও ব্যাতিক্রম কিছু না। অন্য সবার ভাইই তার একমাত্র ছোটভাইকে পাভেলের ভাষায় বলি পিতৃসুলভ স্নেহ করে আমি তা অনেক বেশী পেয়েছি। কিন্তু সম্পুর্ন নতুন একটা রিলেশন আমার ভাবী যে আমাকে তাদের মতোই আদর স্নেহ আশকারা দিবে তা আমি কখনোই ভাবি নাই। ভাবী সব দিক থেকে অসাধারন। আমার ভাইয়ার যেমন শাসন সুলভ ব্যাপক আশকারা আছে, তেমন আছে ভাবীর থেকেও। বিবিএর পরেই অনেক ছেলে মেয়ের চাকরী হয়ে যায়। আমার হয় নি। তাও এই এমবিএ ও সেমি বেকার জীবনে ভাই ভাবী সব সময় অনুপ্রেরনা দিয়ে গেছে। আমার আম্মু আমাকে সবসময় আমার ফিউচার নিয়ে দুশ্চিন্তা গ্রস্থ। আমার জড়তা স্মার্টনেসের সংকট নিয়ে হাহাকার করে গেছে। কিন্তু ভাবী সব সময় আমার সাইডে থেকেই কথা বলছে। শান্তর হবে চিন্তা কইরেন না মা এই কথাটা বারবার বলে গেছে। যদিও এখনো আমার কিছুই হয় নি, হবে কিনা জানিও না। তবুও যদি কোনোদিন কিছু হয় তবে তা ভাইয়া ভাবীর নিদারুন আস্থার ফসল। ভাবী খুব সহানুভুতিশীল একজন আত্মীয় বান্ধব মানুষ। আমি কিংবা ভাইয়া আত্মীয় স্ব্জনদের কেনো জানি ভালো লাগে না কিন্তু ভাবী কোনো সময়ই আমাদের মতো অসহিষ্ণু না। যে অল্প কয়দিন তিনি দেশে ছিলেন সবাই কে আপন করে নিছেন। ভাবীর বই পড়ার আগ্রহ, গানের রুচি, নানান বিষয় সমন্ধে পরিশীলিত অভিমত আমাকে মুগ্ধ করে। এই ছয় বছরে খুব কমই ভাবী আমি আড্ডা দিছি। তাও যখনি কথা হইছে উনার মতামতের ভীষন ভক্ত হয়ে যাই। ভাবীর সাথে আমার স্কাইপি তে কথা হয় না। কখনো ভিডিও দেখা দেখি হয় নাই। মাহদীয়া কে দেখার ওতো আকুলতা আমার ভেতরে কাজ করে না। তা নিয়ে হয়তো ভাবী আমার উপরে মেজাজ খারাপ হতে পারে। কিন্তু ভাবীকে কখনো বুঝাতে পারবো না কি পরিমান মিস করি উনাদের। ভাই ভাবী ও তাদের মেয়ের ছবি আমার ডায়রীতে খুব সযতনে রাখা। মাঝে মধ্যেই আমার জীবনের উপরে খুব গ্লানিবোধ জন্ম নেয়, মনে হয় ছাদ থেকে লাফ দেই। কিন্তু আম্মু আব্বুর কথা চিন্তা করি, ভাইয়া ভাবী আর মাহদীয়ার ছবিটা দেখি আমার সব আজাইরা চিন্তা বিদায় নেয়। মাহাদীয়ার ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভাবি আমি যদি না থাকি তবে যতোই না চিনুক একমাত্র চাচ্চুকে পাবে কই? আর আমি মানুষটাই এমন। যাদের ভালোবাসি তাদের বুঝাতে পারি না সারাটা ক্ষণ তাদেরকে কি ভীষন মিস করি। নিজেকে প্রকাশ করতে না পারার এই ব্যাকুলতা আমাকে খুব ভাবায়। তাই এতো বেশি দিনলিপি লিখি যেন নিজের কথা গুলো অন্তত কিছু লোক কোনোদিন জানতে পারে!
ভাবী বলতে ছিলো আমার লেখার হাত নাকি প্রশস্ত হচ্ছে। উনি আমার প্রতিটা ব্লগ লেখাই খুব মন দিয়ে পড়েন। এরকম ভাবী আসলেই বিরল। কিছুদিন আগে ভাইয়ার এক কাছের এক বন্ধু বলতেছিলো শান্ত বাইচা গেছো তুমার ভাই দারুন এক ক্লাস মেট বন্ধুকে বিয়ে করছে। অন্য কেউ হলে বুঝতা ফ্রীল্যান্স বুদ্ধিজীবি গিরি ছুটাইতো? জানি না অন্য কেউ কি করতো ? তবে আমি ভাবীর জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে ভাইয়ার বউ হবে তা এখন ভাবতেই পারি না এখন। এই পোস্টে লিখলাম ভাবীর জন্মদিন উপলক্ষে অথচ খালি নিজের কথাই বলে যাচ্ছি। আমি আসলে মানুষটাই এমন। নিজের ভালো লাগা মন্দলাগা নিয়েই পড়ে থাকা। তবে যেখানে নিজের বুঝ সবাই বুঝে নেয় সেখানেই খালি আমি অপটু। জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ভাবী। মাহদীয়া ভাইয়াকে নিয়ে অনেক অনেক ভালো থাকেন। আপনি আমাকে নিয়ে খুব চেষ্টা করতেন দাওয়াত খাওয়াতে আত্মীয় স্বজনদের বাসায়, কথা দিচ্ছি এবার আর মিস করবো না আর সেই যাবো না বলে ভাব ধরে বসে থাকবো না। সামনেই আপনি দেশে আসবেন। নিজের আপন ভাইয়ের বিয়ে তাই অনেক ব্যাস্তই থাকবেন, সেই আগের মতোই হয়তো কথা কম তারপরেও বলবো ভাবী আপনি আমার ভাইয়ার মতোই অসাধারন। আপনাদের খুব মিস করি। আপনি লিখতেন এক সময় ব্লগে। এখন লিখেন না কেনো জানি না? হয়তো জবের ব্যাস্ততা তারপর মাহদীয়াকে সময় দেয়ার তাড়ায় আপনার লেখা হয়ে ঊঠে না। এই জন্মদিনে চাইবো আপনি আবার লিখেন যেখানে মন চায় নিজের মতো করে!





ব্লগে পরিচিতদের লেখা কমে গেছে অনেক...
সবাই ফিরে আসুক, আবার জমে উঠুক ব্লগ আগের মত।
ভাল থেকো শান্ত, আনন্দে কাটুক প্রতিটি মুহুর্ত।
দেশের উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি আসলে সবকিছু থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে... সাভার... মতিঝিল... পুরাই ব্যারাছ্যারা অবস্থা...
আসলেই
ভালো থাকেন ভাইয়া। রিয়াসা আর তার মাকে নিয়ে আনন্দে কাটান দিন!
দেখেন ভাই
আমি কি বুঝাইতে চাইছি আর আপনে কি বুঝছেন তা ঠিকঠাক বুঝতে পারতেছি না।
তবে নতুন কেউ এসে নিয়মিত লিখলে আমার ভালোই লাগে।
আর কোন একদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে যদি দেখি প্রথম পাতার সবকটা লেখাই আপনার,
আমার চাইতে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।
শান্ত ভাই এর ভাবী
ব্লগের সবার ভাবী।
সো
শুভ জন্মদিন, ভাবী।
বুঝাবুঝির ব্যাপার একটাই সবাই আমারে ভুল বুঝে!
ভালো থাকো
আনন্দে দিন কাটাও
শুভ জন্মদিন, ভাবী।
আপনি যেনো না ভুলেন!
শান্তর ভাবীরে শুভ জন্মদিন
লেখা যথারীতি শান্তর মতোই হইসে।
ভাইয়ার কাছের সেই বন্ধুটা কিডা? তবে যেই হোক, যা কইসে পুরাটাই একশভাগ সত্যি কইসে।
থ্যাঙ্কস এ লট
নাম বলা যাবে না!
ভাবীকে জন্মদিনের শূভেচ্ছা একটু দেরীতেই দিলাম । ভাবীর ভাগ্যটাও অসাধারণ, এমন ভাইয়ের মত অসধাধারণ এক দেবর পেলেন । এই যুগে এমন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা বিরল ।
দোয়া করি শান্ত তোমার জীবনের সবগুলি মানুষ এমন ভালোবাসা, মায়া, শ্রদ্ধা পেয়ে ধন্য হোক । আর হতাশ হইয়ো না । জীবন এখনো অনেক বাকী । নিশ্চয়ই অনেক ভালো কিছু হবে।
থ্যাঙ্কস আপু। ভালো থাকবেন। আপনারও সব টেনশন কমে যাক। জলদি জলদি ফিরে আসেন আমাদের এই পাড়ায়!
মন্তব্য করুন