মরুময় এই শহরে রোদে পোড়া দিন রাত্রী!
আমি সিগারেট খাই না একেবারেই। কিন্তু এই গরমে আমার খুব সিগারেট খেতে ইচ্ছা করে। মনে চায় মনের সুখে বেনসন টানি। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না, তার সম্ভাবনাও নাই। কারন এতোদিন খাই নি এই বুড়ো বয়সে সিগারেট টানার কোনো মানেই হয় না। সামান্য চা খাই তাতেই দাতের অবস্থা বারোটা। ভাইয়া দেশে এসেই বলে শান্ত চা খাওয়া কমা নয়তো চা খাওয়ার পর কুলি করে নে"। আমি তো বুঝাতে পারি না যে আগের চেয়ে অনেক কম চা খাই। সেই দুরন্ত ভার্সিটির দিন গুলোতে দিনে বারো তেরো কাপ চা খাইতাম। এখন চা খাই চার থেকে পাচ কাপ। তবে আমার চা খাওয়ার জন্য নান্নুর চায়ের দোকানে কাপটা একটু বড়। তাই পাবলিক ভাবে ঐ কাপে আমি সমানে শুধু চা খাই। কিন্তু এক কাপ চা খেতে যেয়ে যে আধা ঘন্টা লাগাই তা দোকানদার ছাড়া আর কেউ বুঝে না। আবার চা না খেলেও বিপদ। আমাদের ওয়ার্ডের যে আওয়ামীলীগ সভাপতি তিনি হাসতে হাসতে বলবেন শান্ত মামা আগের মতো চা খান না কেন? কোনো টেনশনে আছেন নাকি? আমি কি করে বুঝাই আগের মতো চা খাওয়া আর হয়ে উঠে না। ওতো অবসরও নাই। আর আম্মু আব্বু ভাই ভাবী মনে করে আমি আগের মতোই সমানে চা সাটাই। ভাইয়ার সেই সাজেশন মতো দাতে ক্যাফেইন জমানো ঠেকানো যায় না কারন আমি চা খেয়ে পানি খাই না তাতে চায়ের যে সতেজতার যে আমেজ মুখে লেগে থাকা তা কেটে যায়। আর ক্যাফেইন জমতে জমতে দাতে দাগ পড়ে যাচ্ছে। যতই ব্রাশই করি তা উঠে না। সিগারেট না খেলেও আমি পোলাপান বন্ধু বান্ধবরে দেদারসে সিগারেট খাওয়াই। তবে সবাই তা খেতে চায় না কারন আমি নিজেই তো সিগারেট খাই না। কিন্তু এই বাজেটের আমলে যখন সিগারেটের দাম আকাশ সমান তখন সবাই আমার থেকে খুজে খুজে খায়। আসলে সিগারেটের দাম বাজেটে না যতো বাড়ায় বা প্রস্তাব দেয় সেই উসিলাকে কেন্দ্র করে সিজনাল মজুদদারেরা ব্যাপক মাল স্টক করে দাম বাড়ায়। নিম্নবিত্ত চায়ের দোকানদারেরা এতো টাকা আর পাবে কই? তাই তারা আনেও কম সিগারেট, বেচেও কম। তার ভেতরে নান্নুর দোকানে নানান কাস্টোমারের যে হিউজ বাকীর ভলিউম। বিয়েশাদী করে এতো বাড়বাড়ন্ত খরচে বেচারা বিয়ে শাদী করে দিশেহারা। তবে আমি এই জীবনে ভাবি নাই যে বেনসনের দাম নয় দশটাকা হবে। দশটাকা এই জন্যে বললাম কারন নয়টাকার সিগারেট দশই রাখে হাতে একটা মিস্টার ম্যাংগো চকলেটের মিস্টার মোখলেস বানিয়ে। বেচে থাকলে এই শহরে ২০-৫০ টাকাও একেকেটা সিগারেটের দাম দেখে যেতে হবে।
যে গরম এখন ঢাকা শহরে আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং আগামী মাসে রোজার দিনগুলোতে কি অবস্থা তা ভাবতেইও কষ্ট লাগে। প্রত্যেকটা দিন যায় নাতো মনে হয় একেকটা মরু বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। তার ভেতরে আগে কারেন্ট কম যেতো। এখন শেখেরটকে মাঝরাতেও এক ঘন্টার জন্য কারেন্ট থাকে না। সারাদিন রাত তো যাচ্ছেই। এই পোস্টটা কালকেই প্রায় শেষ করে ফেলছিলাম লেখা কিন্তু কারেন্ট চলে গেলো লেখা সেইভ নেই আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম রাত ১ টায়। তবে আগের পোস্টগুলোতে যা বলছিলাম তার সাথে সুর মিলিয়েই বলি এতো তীব্র দাবদাহের দিন আমার খারাপ যাচ্ছে না। নানান কিছুতে ব্যাস্ত সময়ই পার করছি। আরো ব্যাস্ত সময় পার করতাম হয়তো কিন্তু ভাই ভাবীদের কোনো কাজে কর্মেই লাগছিনা বা করতে পারিও না। তবে এই সপ্তাহের হরতালের দিনটা দারুন কাটলো। দেড় বছর পরে আমাদের ফ্যামিলীর ছোটোখাটো রিইউনিয়ন। আমি ভাইয়া ভাবী মাহদীয়া হরতাল উপেক্ষা করেই লক্কর ঝক্কর এক হরতালে সুস্থ মানুষদের সার্ভিস দেয়া এম্বুলেন্সে চলে গেলাম উত্তরা। ড্রাইভার সাব অতি ব্যাস্ত। সমানে সাইড টাইড কাটিয়ে ৩০ মিনিটেই উত্তরা। কিন্তু যা হয় প্রতিবারই ঠিকঠাক মতো ডিরেকশন দিয়ে পথ চেনানো গেলো না। আমার এই জিনিস প্রতিবারই হয়। যখনি মামার সাথে আসি তখন তো কিছুই চিনতে হয় না। আর যখন নিজে আসি তখন রিক্সাওলাই নির্ভুল ভাবে নিয়ে যায় খালার বাসা। আর গাড়ীতে গেলে ডিরেকশন দিতে হয় তখনই ভাবনায় পড়ি এই রাস্তা না এই রাস্তা। আর উত্তরায় এতো নতুন নতুন বিল্ডিং হচ্ছে আর দোকান পা্ট ঠিক মতো মনে যে রাখবো তাও অসম্ভব। এই জন্যই আই হেইট উত্তরা। এই মোহাম্মদপুর ধানমন্ডী শ্যামলী এইসব জায়গায় থাকার যে আনন্দ তা উত্তরাবাসী কোনোদিনই টের পাবে না। যেয়েই আম্মুর আব্বুর ভাইয়া ভাবীকে পেয়ে যে কি আনন্দ। দেড়বছর পরে দেখা। গল্প হলো। আমার ভাতিজির জ্যাটল্যাগের ঘুম এখনো বিদ্যমান। তাই একটু ঘুমিয়ে নিলো। উঠেই এতো এতো মানুষ দেখে বিব্রত। তবে আমার ছোট্ট এক খালাতোবোন আছে তার সাথে মিশে গেলো দ্রুতই। তবে ভাষা একটা বড় সমস্যা। আমার ভাতিজী ঐদেশের ডেকেয়ারে দিনের একটা ভালো সময় পার করে তো তাই ওর কাছে ইংরেজীর একটা জগত। স্ট্রবেরী, কিউকাম্বার, ওয়াটার মেলোন এইসব তো আর আমার পিচ্চি খালতোবোন ওতো ভালো মতো বুঝে না। তাও ভালোই দোড় ঝাপ করলো। আর আমি কি, আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলে বসেই ছিলাম ভাবতেছিলাম লাঞ্চ টাইম হয় না কেন? সকালে নাস্তা করি নি পেটে ব্যাপক খিদা। খালার রান্নার হাত অসাধারন। চিংড়ী, মুরগী গরু পোলাও মাছ সব খেয়ে দেয়ে অস্থির অবস্থা। খেয়েদেয়ে কিছুসময় বসে ছিলাম। হিন্দী সিরিয়াল দেখছিলো আরেক খালতো বোন সেখানে কিছু টেনশন সিন দেখলাম। একজন কাজের বুয়া কি জানি মিথ্যা বলতেছে তা নিয়ে বারবার ঠাডা পড়ে। বিছানা আমাকে ডাকে দিলাম ঘুম। ঘুম টুম দিয়ে টিভি দেখতে বসলাম। খালুর প্রিয় টিম ভারত তা অনেকদিন থেকেই। তা নিয়ে কিছু সময় গুনকীর্তন শুনলাম করলাম। ভাবলাম সাউথ আফ্রিকার খেলা তো চারটা থেকেই কিন্তু আসলে ছয়টায়। দুইটা ঘন্টা সঞ্জয় মাঞ্জেকারের ভেজর ভেজর শুনলাম আর চ্যানেলের খবর হাবিজাবি দেখলাম। খালুর সামনে তো আর হিন্দী গান দেখা যায় না কি আর করার। গাড়ী এসে পড়লো ভাবীদের। গাড়ীতে করে আটটায় বাসা। কিন্তু বাসাতে আর গেলাম না। গেলাম চায়ের দোকান। আড্ডা ফাজলামী হাসতে হাসতে এগারোটা বাজালাম। বাসায় যেয়ে দেখি বুয়া নাই। কি আর করা। দুপুরের ভালো মন্দ খাওয়ার গল্প মনে করতে করতে শহীদুল জহির পড়তে পড়তে ঘুমায় পড়া।
গতকালকেও গেলো ব্যাস্ততায়। এক ছোটোভাই বাইক কিনবে। আমারে সাথে যেতে হবে। পাশকাটানোর চেষ্টা করছি লাভ হয় নাই। বলে মুরুব্বী একজন সাথে থাকা ভালো। ভাগ্যের কি পরিহাস শান্তও এখন মুরুব্বী। এই কয়দিন আগেও নানান জায়গায় গেলে শুনতাম পিচকা পোলাপান বুঝো টা কি? এখন হয়ে গেলাম মুরুব্বী কি বিপদ। গেলাম ব্যাংকে টাকা তুলে বাইকটা কিনে আনা। বিক্রয় ডট কমের এড দেখে এক্সপার্ট দল আগেই বাইক দড়দাম করে আসছে। কিনে আনলাম। খারাপ না বাইকটা। এপাচি আরটিয়ার। তবে আমার পোলাপানের মতো কখনোই বাইক বা গাড়ী প্রীতি নাই। রিক্সার চেয়ে ভালো আর কোনো যানবাহন লাগে না। ঠেকায় পড়লে বাসে উঠা আর বাড়ীতে যেতে রেল। আমি এমনই থাকতে চাই সারাজীবন এই শহরে রিকশায় করেই দাপিয়ে বেড়াতে চাই। দুপুরে বাসায় গেলাম। এই গরমে ডিম দিয়ে ভাত খেয়ে এমনিতেই মেজাজ খারাপ তারপর আবার কারেন্ট গেলো। কি আর করা ভাবলাম বাসায় যদি সিদ্ধ হই তার চেয়ে ভালো বাইরে গিয়ে সিদ্ধ হওয়া। যেই কথা সেই কাজ। চলে গেলাম রিক্সায় ঘামে ভেজা জামা কাপড়েই মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড। সেখান থেকে এটিসিএল বাসে শাহবাগ। বাস তো না যেনো দোযখে যাওয়ার বোরাক। বাসে লোকে ঠাসাঠাসি গরমে ঘেমে মেয়ে ছেলে সব একাকার। এখন বাসে একটা জিনিস ভালো মেয়েরা দাঁড়িয়ে থাকলেও বসে থাকা ব্যাটারা তা গভীর পর্যবেক্ষনে নামে না আর। সবাই একরকম মেনে নিছে। ভরদুপুরের গরমে রাস্তা ঘাট ফাকা। চলে গেলাম নিমিষেই। দেখি পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে মেলা বসছে দুইটা। এডর্ন আর ঐতিয্যের। মেলায় ভালোই বই উঠছে আর ছাড়ও মন্দ না। কিন্তু কিনলাম না কারন এখানো অনেকদিন আছে কেনা যাবে সামনে। আমি এডর্ন থেকে ক্লাসিক বাংলা রাইটার দের বই কেনার ইচ্ছা পোষন করলাম। যা নিজের জন্য না অন্যদের পড়তে দিবো। কারন যারা পড়ে তারা অনেক পড়ে যারা পড়েনা তারা কিছুই পড়ে না। এই কিছুই না পড়া বন্ধু টন্ধুদের জন্যই আমার এই উদ্যোগ। চলে গেলাম সেমিনার রুমে সেখানে এডর্নের প্রকাশিত সেরা তিন নতুন উপন্যাস নিয়ে আলোচনা। মাহবুব সাদিক কথা বলছিলো। ভালোই চুলচেড়া বিশ্লেষন। কিন্তু শেষে গিয়ে বসে দেখি আশে পাশে মানুষ ঘুমায় গরমে এসির ঠান্ডা পেয়ে। আমি আর কি বক্তব্য শুনছি আর মোবাইল টিপছি। আহমেদ মাযাহারের বক্তব্যটা খুব ইন্টারেস্টিং। উনার মতো পাঠক সমালোচক এই দেশে বিরল। আতা সরকার, কবি ফারুক, সুব্রত বড়ুয়া এনাদের কথা ওতো ভালো লাগে নাই। তবে শুভাশিস সিনহা আর আনিসুজ্জামানের সরল অভিব্যাক্তি ময় আলাপে খুব শান্তি পাইছি। আর দলীয় করন আত্মীয় করনের বাংলাদেশে মোস্তাক শরীফের কথা উনাকে নিয়ে কোনো আলোচকের প্রশংসা তাতো ভালো লাগবেই। এরভেতরেই নিজের ভাইয়া এসেমেস দিলো একটা জিনিস কিনতে। আমি বের হয়ে গেলাম আজীজে দেখি মার্কেট বন্ধ। নিউমার্কেটও বন্ধ কারন টুইস ডে। কি আর করা আবারো আসলাম অনুস্টানে এসে দেখি প্রোগ্রাম শেষ। শরীফ ভাইয়ের আশে পাশে অনেক মানুষ যেয়ে আর কথা বলা হলো না। সবাই দেখি লেখকদের নাম্বার নেয়। লেখকদের নাম্বার রেখে লাভটা কি আসলে বুঝি না। অনেকেই আবার চা বিস্কুট পেয়ে সমানে গিলতেছে। আমার কখনোই কোনো সেমিনারের এই মাগনা চা বিস্কুট সিংগারা পুরি খেতে ভালো লাগে না। আশেপাশে কিছু মানুষদের দেখলাম দেখে মনে হলো শরীফ ভাই লীনাপুর আত্মীয় স্ব্জন। যেয়ে আর জিগেষ করা হয় নি। কারন পরিচয়ের যে সুত্রপাত সেই স্তম্ভ না থাকলে অচেনা কারো সাথে কথা বাড়ানো আমার কাজ না। যাবো চায়ের দোকানে বাসে দেখলাম ব্যাপক ভীড়। রিকশা ঠিক করলাম অসম্ভব ভাড়া। অনেক খুজে টূজে আশি টাকায় সোসাইটী যেতে রাজী হলো। রিকশায় যেতে ভাবছিলাম আমার দ্বারা আসলেই কিছু হবে না। কামাই নাই এক পয়সার কিন্তু ফুটানির শেষ নাই। অযথা টাকা খরচ করতে করতে এমন অবস্থা যে ধার করে হলেও খরচ বন্ধ না। এই অলস অকর্মন্য জীবন লইয়া কি করিবো? কালকেও অনেক ইভেন্ট ফুল দিন পার করলাম লিখলাম না আজ। কারন এক পোস্ট লিখতে হইছে তিনবার কারেন্ট যায় বলে তাও কেউ এই সমস্যার সমাধান করে দিলো না!





ভাল লাগলো রোদে পোড়া দিনলিপি
থ্যাঙ্কস বস!
এটার মানে হলো এ জায়গাটা ইমপরট্যানট, কালকের জন্যে মনে রেখো
বই কিনবে না পড়বে না, ফেবুতে ঢুকতে চাইবে আর চাইবে নাম্বার। ফাজিল বাংগালী
লল
যাহ বাবা! আর তানবীরা আপার নাম্বার চাওয়া যাবেনা।
আসলেই ফাজিলের দল
শান্ত ভাই এর সাথে চা খাইতে মঞ্চায়!
আইসা পড়বা এনি টাইম!
শান্তরে একটা ল্যাপটপ, একটা রিক্সা আর একটা চায়ের দোকান কিনে দেওয়া দরকার
বুদ্ধিটা খারাপ না। তাইলে আরো সুন্দর সুন্দর লেখা পাব।
আপাতত ল্যাপটপ হলেই চলে যায়। চায়ের দোকান রিক্সার দরকার নাই!
মন্তব্য করুন