ইউজার লগইন

বোরিং...

বোরিং। নিজের সমন্ধে এই একটা শব্দই সব চাইতে বেশী যুতসই মনে হয়। বোরিং মানে সব সময় বোরিং ফিল করি তা না। বোরিং মানে বুঝাচ্ছি এন্টারটেইনিং না। বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলে দাঁড়ায় খাপ খাওয়াতে না পারা, কোনো অনুস্টানে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকা, চারিদিকে এত মজা আনন্দ তার দিকে সন্দেহের চোখে তাকানো, অল্প পরিচিত মানুষদের সাথে মিশে গিয়ে হাসি ঠাট্টা না করতে পারা। মোটের উপরে কথা অভ্যস্ত না এমন একটা হাঁসফাঁস আচরন কোথাও গিয়ে করে বেড়ানো। আবার সেই অনুষ্ঠানেই যদি আমার বন্ধু বান্ধবদের এনে দেওয়া যায় তবে আমার চেয়ে লাফালাফি আর কেউ করবে না, আনন্দের অতিসায্যে খেই হারিয়ে ফেলবে। তার মানে কি দাঁড়ালো? তার মানে আমি নিজের জগৎ নিজের বন্ধুময় পরিবেশ ছাড়া যেখানেই যাই ডিসওরিয়েন্টেড বোরিং ফিল করি। এই বিষয়ে ভালো জিনিস বলছিলো আমার বন্ধু অবশ্যই মেয়ে যার সাথে তাম্রযুগে আমার ভাব ভালোবাসা ছিলো। সে বলছিলো "বন্ধুদের সাথে দেখি তোমাকে কথার তুবড়ি ছোটাও, আমার সামনে আসলেই দেখি কোন কথাই খুজে পাও না। আমি যাই বলি শুধু তারই এন্সার দেও।" শুনে আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। আসলেই তো আমি এমন কেন? এমন তো না যে আমি ওর সাথে কথা বলতে পছন্দ করতেছি না তাও খুব একটা কথা বলি না খালি শুনেই যাই। অচিরেই সে আমার মতো বোরিং ছেলের সঙ্গ যথার্থ ভাবেই ত্যাগ করলো। আমি আরো বোরিং হলাম এই শোকে। বন্ধুবান্ধব ছাড়া তখন আমি কথাই বলতাম না কারো সাথে। কম করে হলেও দেড় বছর করমআলীর দোকানে কারো সাথে কথাই বলতাম না। চা খেতাম মাথা নিচু করে তারপর বাসা। এই প্রসঙ্গে মহান চা দোকানদার করমআলী বলেছিলেন "মামা যে কোনোদিন ফ্রি হবেন এতো কথা বলবেন এতো বড় একটা সার্কেল বানাবেন আমি সেই সময় ভাবতেই পারি নাই"। তখন আমার দুনিয়া হলো সামহ্যোয়ার ইন ব্লগ আর ভার্সিটি। আর ভাইয়া পিসিতে বসলে টেলিভিশন। তবে এখন আর সেইরকম নাই। এখন বাহিরই আমার আপন। কারো সাথে পরোয়া না করেই আলাপ জুড়ে দেই। কারন বাপ ভাইয়ের টাকায় ফুটানি আমার, মানুষ দেখে সংকোচ হবে কেনো? কিন্তু সংকোচের জায়গাটা রয়েই গেলো নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে বোরিং সময় কাটানো। আমার বন্ধু আবির বাদে আর বাকী সব বন্ধুকেই আমি দেখছি আমার মতোই। খালি কোথাও গিয়ে আনইজি ফিল করা। তবে আমি সব সময় আমার বন্ধু আবিরের মতো হতে চাইতাম। কারন সে খেলাধুলায় ভালো, মানুষের সাথে দ্রুত মিশে, ১০ মিনিটের পরিচয়েই মানুষের যুগ যুগ চেনার মতন করে কাছের লোক হয়ে যায়, অপরিচিত জায়গায় এমন ঠাট্টা তামাশা করে মনে হবে জন্ম থেকেই সে এদের চিনে, দ্রুত ইনফ্লুয়েন্স করবে, কোথাও নাচ গানের আয়োজন থাকলে সেখানে বিনা দ্বিধায় ধেই ধেই করে রাজেশ খান্নার মতো নাচা শুরু করবে। মানে ফুল ভলিঊম ইন্টারটেইনমেন্ট। আর আমি তার সম্পুর্ন বিপরীত। নানান অনুষ্ঠানে গিয়ে আমার খাওয়া দাওয়ার আয়োজন বাদে আর কিছুই ভালো লাগে না। বন্ধু বান্ধব ছাড়া কারো সাথেই খাতির জমাতে মন টানে না। আর নাচ গান থেকে ১০০ হাত দূরে থাকি। কড়া ভলিউমের অশ্লীল হিন্দি গানে স্রেফ বিরক্তির উদ্রেক হয়। কিছুদিন আগে আবির বললো ও নাকি আমার মতো এখন হতে চায়। চুপচাপ ও বন্ধু ছাড়া কারো সাথে আলাপে নাই এমন। আমার মতোই ফ্লাটিং মাস্তি বিহীন বসে থাকা। আমি বললাম তোর কথা শুনে শান্তি পাইলাম। এই জীবনে কেউ আমার বোরিং অভ্যাসের প্রশংসা করলো।

এইতো ভাই ভাবীর জন্য গত মাসে চারটা অনুস্ঠানের দাওয়াত ছিলো। দুইটাতে গেছি আর বাকী দুইটাতেই পাশ কাটিয়েছি সফলতার সাথে। আর ভাইয়াও আমারে চিনে বোন বাই বোন মানে হাড়ে হাড়ে। তা প্রেশার দেয় নাই মোটেও। যে দুইটাতে গেলাম খুব যে আনন্দ পাইছি তা না। সেই বোর হয়েই বসে ছিলাম। এতো আপন আত্মীয় স্ব্জন নিজের বাবা মা ভাই ভাবী পরিবেস্টিত থেকেও এক কোনায় বসে ছিলাম আর একা একা হাটছি। মনে হয় যেনো অন্তহীন সময় ধরে বসে আছি। ফেসবুকে বডি টারমারিক যন্ত্রনার এরকম স্ট্যাটাস দিয়ে কট খেয়ে একমাত্র ভাবী বলছিলেন নিষ্ক্রিয় অতিথীদের কিছুই ভালো লাগবে না নরমাল। আসলেই তাই আমি চুপচাপ বসে মোবাইল টিপি ভালো লাগে কিভাবে? আর যেই দিন বউভাত ছিলো সেদিন অবশ্য খুব আনন্দ পাইছি মোটেও অনুষ্ঠানে যেয়ে না। অফিসার্স ক্লাবে প্রোগ্রাম ছিলো। বন্ধু শিশিরকে খবর দিলাম। সে সাথে সাথেই হাজির। বিবিএ শেষ হবার পরে দুই দেড় বছর ধরে দেখা নাই। পাশেই প্রভাবশালী আংকেলরা টেনিস নামের কলংক খেলতেছিলো। কলংক এই কারনে বললাম একটা সার্ভ ঠিক মতো করতে পারে না। খালি কোনো ভাবে কোর্ট পার করে তাতেই কি আনন্দ। চেচিয়ে বলে উঠে ট্রিকি মাইর দেখলেন আক্তার সাব! সবাই বিজি তাই আমি শিশির হাটতে হাটতে অনেক গল্প করলাম। সিদ্ধেশরী বেইলীরোডে প্রচুর আড্ডা রাস্তায় বসে হয় তা দেখে শান্তি পাওয়া গেলো। চা খেলাম সমানে। কিপটা শিশির সব বিল দিলো কারন ওর এলাকায় গেছি বলে। শিশির হিন্দু তবে তার গার্লফ্রেন্ড মুসলমান। তাদের প্রেম কাহিনীর আপডেট শুনলাম। শিশির এমবিএও করে না। সমানে ভালো জব খুজতেছে কিন্তু মিলতেছে না। অথচ শিশিরের চেয়ে স্মার্ট ছেলে খুব কমই আছে। বাংলা ইংরেজী এমনকি গালি দিলেও এতো স্মার্ট ওয়েতে কথা বলে যে কারনে ভার্সিটির তা চাহনেওয়ালা মেয়ে কম ছিলো না। সেই নায়কই এখন জব খুজে। সময় কতো নিষ্ঠুর। তাকে বউ ভাতে খুব আসতে বললাম আসলো না। খেয়ে দেয়ে আমি লালন ভাইয়ের সাথে উনার আনা গাড়ীতে বাসায় ফিরলাম। একটা বন্ধুর কারনেই সে অনুষ্ঠানের রাতটা আমার অসাধারণ কাটলো। অথচ ভেন্যুতে বসে থাকলে খালি অস্থির হতাম কখন যাবো কখন যাবো? তবে দেখা গেলো কোনো বন্ধুর প্রোগ্রাম আমাকে নিয়ে গেছে। আমি যেয়ে খেয়ে দেয়ে বন্ধুর সাথে আড্ডা মেরে পুরো মাতোয়ারা। আমার এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিজেই বুঝি না। আসলে বন্ধু বা খুব পরিচিত পরিবেশ বাদে সব জায়গাতেই আমি বোরিং। এয়ারটেলের ভাষায় বলতে হয় বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পোসবিল। আমি বলবো বন্ধু ছাড়া আমার সব কিছুই ইম্পোসবিল!

যেমন আজকে এক বন্ধুর কথা বলি। সে আগে খুব ডিজুস মেয়ে ছিলো। হইহুল্লোর আড্ডাবাজিতে দিন কাটাতো। দারুন মুখরিতঁ সময় কাটছিলো তখন আমাদের। এক ছেলের সাথে প্রেম হলো পরে জানলো ছেলের আরেকটা বউ আছে। ভেরী গুড। সেই শোকে এখন সে বোরকাওয়ালী খেজুর বাগানের হাজী। সে নানান ঠেকায় পড়লে তার উদ্ধারে আমারে খবর দেয়। আমি উদ্ধার করতে পারি না তবে সাথে থাকি। আজকেও সে ছোট্ট একটা ঠেকায় পড়ছে। একজনের কাছে একটা জিনিস নিয়ে তা আবার আরেকজনকে দিয়ে আরেকটা জিনিস আনতে হবে। এই কাজ করার জন্য তার ধারনা পাশে ছেলে থাকলে ভালো। তাই আমাকে ডাক। সে শিয়া মসজিদে আসলো। দেখলাম পায়ে মুজা হাতে গ্লোভস আপাদমস্তক বোরখা পড়ে সে আমারে খুজে। আমি ইচ্ছা করেই দেরীতে ডাকদিলাম যে খুজুক। আষাঢ় মাসের হালকা মাঝারী বৃষ্টি আজ। তার ভেতরেই তার কাজে শেখেরটেক ইকবাল রোড সায়েন্সল্যাব রিক্সা দিয়ে ঘুরলাম। তবে বোরখা দিক আর যাইদিক বান্ধবী আমার আগের মতোই আছে। সেই আগের মতোই খালি প্যাচাল আর প্যাচাল। আর আমার যতো খোজ প্রশ্নকারে নেয়া সম্ভব সব নেয়া শেষ। একটা সময় ও আমাদের বাসায় আসতো সেই উসিলায় আমার খালা মামারও খবর নিলো। আমি মনে মনে ভাবলাম ভেরী গুড। আজ রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম। রিক্সায় ওর প্যানপ্যান আর তার জবাব দিতে দিতে গলা শুকিয়ে কাঠ। ঘুমের এদিক সেদিক হবার কারনে কোমড়ে ব্যাথা এই শুনে সে তার মামার চেম্বার কই, কি বললে টাকা নিবে না, কোথায় টেস্ট করালে তার রেফারেন্সে হাফ তার ফিরিস্তি দিয়ে দিলো। আমি মনে মনে বললাম যাক আসল রোগ গ্যাস্ট্রিকের কথা বলি নাই। বললে হয়তো হাতে বানানো মুড়ি কিভাবে সকালে খেতে হবে তার আলাপ শুরু করতো। যাই হোক তার কাজ কমপ্লিট হলো ফিরতেছি তখন খালি বলে ঐটা খাবা শান্ত সেইটা খাবা! আমি না না করতে করতে মুখ ব্যাথা। আমি খাই নাই কারন চিটাগাং থেকে আমার বন্ধু আসছে। গতকাল রাত্রে রওনা দিছে আজ দুইটায় আমার এখানে এসে উঠলো। ও চায়ের দোকানে আমার জন্য বসা। আমি খালি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসায়ছি যে আমি ৩০ মিনিটে আসতেছি। ত্রিশ মিনিট তিন ঘন্টায় রূপ নিছে। চায়ের দোকানে এসেই বন্ধুরে খাওয়ানো, নিজেও খাওয়া। বিরিয়ানী ছাড়া খাওয়ার মতো কিছুই পেলাম না। খেতে খেতে ভাবছিলাম আমার মতো বোরিং মানুষেরও কি কপাল। কি অসাধারণ সব আমার আপন বন্ধু। বাসায় এসে লিখে ফেললাম এই পোস্ট কারন যতো লিখবো অন্তত কয়জন হলেও তা পড়তে এই ব্লগে এসে ঘুরে যাবে। কাল বিষণ্ণর সাথে দেখা হলো। সে বললো এরকম মরা অবস্থা ব্লগের সে গত দুই বছরে দেখে নাই। আমি রিক্সায় ফেরার সময় মনে মনে ভাবছিলাম মরা তো মরাই। তাই তো অরুপ রাহী গান গেয়ে গেছে মরার দেশে ভালো লাগে না। আমারো এই মরা ব্লগে নিজের বোরিং জিন্দেগীর মরা গল্প বলতে ভালো লাগে না!

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শওকত মাসুম's picture


মরা ব্লগ ছাইড়া দিমু

লীনা দিলরুবা's picture


ছাড়ার আগে একটা ঘোষণা দিয়েন। আমরাও কাগজ-কলম গুটাবো। লেখা সরানোর জন্যওতো একটু টাইম দরকার।

আরাফাত শান্ত's picture


ছাইড়া দিয়েন না। দেখবেন এই মরা ব্লগ বাদে আর কোথাও মন টিকতেছে না। আর লীনাপুর মতোই বলি ছাড়ার আগে এসেমেস দিয়েন, আর রোজায় ডেইলী পোষ্ট লেখবো এই আশায় আছি!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


একটু বোরিং হয়ে নিজের মত থাকতে পারলেও ভালো।

ব্লগ যতই ঝিমাক আর মরুক,
আমি আছি - কোথাও যামু না!

আরাফাত শান্ত's picture


তোমার প্রিয় ব্লগ সচলে ড়াক পেলেও যাবা না? ভেরী গুড দ্যাটস দ্যা স্পিরিট!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


নাহ, সচল যতটা পছন্দ তার চাইতে বেশি অপছন্দ।

আর
এবি ইজ দ্যা অনলি ব্লগ দ্যাট ফিলস লাইক হোম..

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

টোকাই's picture


শান্ত'র দিনলিপি নিয়েই এবি বেঁচে থাকবে

আরাফাত শান্ত's picture


অনেক বড় কথা বলে ফেললেন টোকাই ভাই। আপনার সফর কেমন হলো? তা নিয়ে একটা পোষ্ট দেন।

১০

লীনা দিলরুবা's picture


কি যে লেখ তুমি ! পারলাম না, প্রসংশাটা করেই ফেললাম।

মরা ব্লগেই লেখো, যদ্দিন ধৈর্য থাকে আছি।

১১

আরাফাত শান্ত's picture


যতোদিন পর্যন্ত আপনার মতো পাঠক আছে ততদিন লিখেই যাবো মরা ধরা জ্যান্ত যে ব্লগেই হোক। থ্যাংকস এ লট আপু। আপনার কমেন্টে ভালো লাগা মন্দলাগা শুনার জন্য বসে থাকি!

১২

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ছাড়ি বললেই তো ছাড়া যায় না! Puzzled
ঝিমানো ব্লগ আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক, সবাই ফিরে আসুক। শান্তর দিনলিপি যেমন চলছে চলুক...
ব্যস্ততার মধ্যেও চেষ্টা করব নিয়মিত থাকতে। সবাই ভাল থাকুক।

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া!

১৪

রাসেল আশরাফ's picture


তোমার লেখার কথা তুমি লিখবা। মরা তাজা দিয়ে তোমার কি দরকার?

ইদানিং কিছু কিছু লাইন যা লিখো পুরাই এপিক। আজকে পাইছি এমন দুইটা
''

আর ভাইয়াও আমারে চিনে বোন বাই বোন মানে হাড়ে হাড়ে।

আর এটা

সেই শোকে এখন সে বোরকাওয়ালী খেজুর বাগানের হাজী।

Big smile

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ ভাইয়া Cool

১৬

আহমাদ মোস্তফা কামাল's picture


বোরিং হওয়া কিন্তু ভালো, অনেকের মাঝে বসে একা হয়ে যাওয়া আরো ভালো। কেন ভালো? কারণ, এতে নিজের সঙ্গে কথা বলার স্বভাব তৈরি হয়। আর নিজের সঙ্গে কথা বলা হলো সৃজনশীলতার প্রথম শর্ত।

তোমার লেখাগুলো ঘুরেফিরে পড়ে যাই, লগইন করে মন্তব্য করা হয় না। আজকে একটু ক্রিটিক্যাল অ্যাপ্রিসিয়েশন করবো। রাগ করো না।

একটা আলোচনা ঘুরেফিরে আসতে দেখি অনেকের লেখায় ও মন্তব্যে - এই মরার ব্লগে লিখে কী হবে! এই কথাটার ভেতরে একটা গোপন আকাঙ্ক্ষা আছে - আমার লেখা সবাই পড়ুক এবং মতামত জানাক। এটা এক ধরনের অস্থিরতাও। তাৎক্ষণিক পাঠ-প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য অস্থিরতা। অথচ লেখালেখি ব্যাপারটাই এরকম যে - এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না। এটা ক্রিকেট খেলা নয় যে একটা ছক্কা হাঁকিয়ে কোটি মানুষের হাততালি আদায় করে নিলাম। ওই কাজটা যেমন তাৎক্ষণিক, প্রতিক্রিয়াও তাৎক্ষণিক, ভুলে যাওয়ার ব্যাপারটাও দ্রুত সম্পন্ন হয়। লেখালেখির ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী, প্রতিক্রিয়াও বিলম্বিত। লিখতে লিখতে একসময় নিজের একটা কণ্ঠস্বর দাঁড়ালে দেখবে - পুরনো অনেক লেখার কথা বলবে মানুষ।

'ফল লাভের প্রত্যাশা না করে বৃক্ষরোপন' করে যাওয়ার যে বাঙালি দার্শনিকতা, ব্লগের তাৎক্ষিণক প্রতিক্রিয়া-কালচারে কি সেটি হারিয়ে যাচ্ছে?

তুমি যে একটানা লিখে যাচ্ছো, এটা আমাকে মুগ্ধ করে। এ-ও তো আসলে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা। অন্যরা সেই আত্মমগ্ন ভাবনার প্রতিক্রিয়া জানালো কী না তাতে কী যায় আসে!

তোমার ওভারঅল লেখালেখি সম্বন্ধে আমার মত হলো - তুমি যখন লিখতে বসো, তখন একসঙ্গে অনেক বিষয় এসে ভিড় করে এবং তুমি সবই লিখতে চাও। তাতে করে ফোকাসটা ঠিক কোথায় পড়লো, বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। একটু আগে আহমদ ছফার ওপর তোমার লেখাটা পড়েও একই কথা মনে হলো - বারবার ফোকাস থেকে সরে যাচ্ছো তুমি। হয়তো এক লেখার মধ্যে সবকিছু ঠেসে না ঢুকিয়ে আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে আলাদা আলাদা পোস্ট লেখাটাই ভালো হবে। এবং কণ্ঠস্বর তৈরি করার জন্য ফোকাস নির্ধারণ করা খুব জরুরী ব্যাপার, কথাটা মনে রাখলে তোমার ভালো হবে।

আরেকটা ব্যাপার। তুমি প্রায়ই তাড়াহুড়া করে লেখার কারণ হিসেবে লোডশেডিং/ ইউপিএস না থাকা/ ল্যাপটপ না থাকাকে দায়ী করো। এগুলো খুবই খোঁড়া যুক্তি, তুমি জানো। একটা ওয়ার্ড ফাইল ওপেন করে লেখাটা তৈরি করলেই পারো। আর লিখেই পোস্ট করার দরকার কি? আরেকবার পড়ে দ্যাখো। এডিট করো। লিখেই যাচ্ছো, আবার লেখার মধ্যে অমনোযোগিতার ছাপ রয়ে যাচ্ছে, সেটাকে মাঝে মাঝে গ্লোরিফাই করছো, এটা তো ভালো নয়। এগুলো একটু সংশোধন করে নিলে কি হয়?

এত কথা বললাম, রুষ্ট হয়ো না। আদরটা বোঝার চেষ্টা করো। একবার তোমাকে যতিচিহ্নের ব্যবহার নিয়ে সচেতন হওয়ার কথা বলেছিলাম। পরে দেখলাম - কোনো একটা পোস্টে বলেছ, যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার না জেনে এইসব ভুলভালই লিখে যাবো - এই টাইপের একটা কথা বলেছ। এটাকে গ্লোরিফাই করার কিছু নেই। কথাটা বললে যে ভাইয়া কষ্ট পেতে পারে, সেটিও মনে হয়নি তোমার। আশা করি, আমার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তুমি নিজের লেখা সম্বন্ধে - 'আমার এই সব আজাইরা লেখা, ছাইভস্ম লেখা' - টাইপের কোনো উন্নাসিক কথা বলবে না। আমি তোমার লেখাকে সিরিয়াসলি দেখছি, তোমাকে দেখতে চাইছি পরিণত একজন লেখক হিসেবে - সেজন্যই এত কথা বলা।

গলা শুকিয়ে গেছে। এবার এক কাপ চা খাওয়াও।

১৭

আরাফাত শান্ত's picture


১। অবশ্যই চা খাওয়াবো! কয়শো কাপ খাবেন? Wink
২। এতো মনোযোগ দিয়ে আমার লেখা নিয়ে কথা বললেন এই ঋণ শোধ হবার নয়।
ওয়ার্ড ফাইলে লেখা যায় কিন্তু আমার পিসি ভালো ছিলো না তাই লিখেও সেইভ রাখা যায় না। কেনো তা জানি না। সামনের সোমবার থেকে নতুন পিসিতে লিখবো। আপনার এডভাইস বিশেষ ভাবে মনে রাখবো।
৩। আসলে সামহ্যোয়ার ইনের মতো শত শত কমেন্ট চাই না কিন্তু একটা ব্লগে লেখার পরে আশা থাকে যারা ব্লগার তারা পড়বে। খারাপ হোক ভালো হোক কিছু একটা বলবে। এই সরল আশাবাদ কার না থাকে? তবে তা নিয়ে ওতো ভাবি না। ওতো ভাবলে তো আর সমানে লিখে বেড়াতাম না।
৪। আমি আসলে গ্লোরিফাই করি না ভাইয়া। যা তাৎক্ষনিক ভাবে মাথায় আসে তা লিখে ফেলি। এতে অনেক সময়ে কিছু ভুল লিখে ফেলি যা পড়ে মনে হয় লেখাটা উচিত হলো না। আর ফোকাস করার বিষয়টা কতদুর করতে পারবো জানি না? কারন দিনলিপি লিখতে লিখতে গিয়ে অনেক কথা আসে যা খুব তাড়াহুড়া করে লিখে ফেলতে হয় এইজন্যই এই সমস্যা। চেষ্টা করবো স্থিরতা আনার।
৫। যতিচিন্হের ব্যাবহার জানি অল্প সল্প। কিন্তু লিখতে বসলে তা আর মনে থাকে না। আর আমি এতো অস্থিরতা নিয়ে লিখি মনে হয় খালি অন্যরা বুঝে নিলেই হলো। চেষ্টা করবো আরো স্থির হয়ে লেখার। কিন্তু দিনলিপি লিখতে না পারলে মনে হয় এতো ইভেন্টময় দিনটাই মাটি গেলো তাই আজকের পোস্ট আজকে না দিতে পারলে কেমন জানি বিষন্ন লাগে। তাই এতো সমস্যার শুরু!
৬। আপনার মনে কোন প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকলে খুবই লজ্জিত। আমি ওতো বুঝে কখনোই কাউকে কিছু বলি না আর লিখিও না।
৭। আমার প্রতি আপনার এই অসাধারণ স্নেহ বাৎসল্য দেখে বারবার মুগ্ধ হই। ভালো থাকবেন ভাইয়া!

১৮

জেবীন's picture


কমেন্ট পড়েই আমি থম দিয়ে আছি! শান্ত,আদর দেখ রে বেটা কারে কয়!

শান্ত'র যতিচিহ্নের ব্যাবহার এই বার যদি না ঠিক হয়ে যাবে কই। আর এই ছেলে অনেক পড়ে, চিন্তা গড়পড়তাদের থেকেও বেশ সুগঠিত কিন্তু য্ত বই পড়ে, যা কিছু নিয়ে ভাবে, কথায় বল্লেও লেখার সময়ে সেগুলা নিয়ে শুরু করলেও কেম্নে কেম্নে ঠিকই চায়ের দোকান, পুরানো বন্ধুর তালগোল পাকানো সম্পর্ক - ইত্যাকার বিষয় নিয়েই বেশি মেতে উঠে!

১৯

জেবীন's picture


সেদিন লীনা'পু যখন বল্লো, "আমরা শত্রু" বল্গ নাম দেওয়াই যুক্তিযুক্ত, কথাটা ছ্যাতঁ করে লাগছে! এই যে মরা ব্লগ শুনলাম, সেটাও! হ্যা, এমনি হয়ে উঠাতে আমারো যথেষ্ট অবদান আছে অনেকের মতোই, শয়ে শয়ে অজুহাতেই ভরে রাখছি নিজের পিঠ বাচাঁতে, কিন্তু তাও আমার লাগে ঝুপ করে আবার সব এসে যা্বে, হুড়মুড় করে কথা পিঠে কথা ভাঙ্গানিতে মশগুল হয়ে যাবো আমরা বন্ধু'রা।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!