নাম নাই তাই দাম নাই এই দিনগুলোর!
শেষ দিন হয়তো আজ কাল যে সকালে আমি চা খাচ্ছি। আবার এক মাস পরে হয়তো ঈদের দিন প্রথম সকাল বেলা চা খাবো। মাঝখানের এক মাস কাটবে রোজায়। এইসময়ে আমি হা করে ঘুমাবো, কারেন্ট থাকবে না, দুপুরে এতো জ্যামের ভেতরে ক্লাসে যেতে হবে আর ইফতারীর আগে ফিরতে পারবো কিনা তা নিয়ে টেনশন। প্রথম সাত আট দিন জনগনের তীব্র ইসলামী ভাবাবেগ। রোজা বাড়ার সাথে সেই আবেগ ফিকে হয়ে শপিং মলের দিকে ধাবিত হওয়া এই করেই চলছে বছরের পর বছর। আমি অবশ্য অনান্য ওয়াক্তের নামায বাসায় বা মসজিদে পড়লেও তারাবী মোটেও পড়ি না। তারাবী পড়তে মোটেও ভালো লাগে না কোনো কালেই। বরং তারাবীর সময়টা আড্ডা মেরে কাটাতে খুব ভালো লাগে। বারবার মনে পরে বাল্যকালের তারাবীর সময়ের যতো দুষ্টামি করছি সেই সময়ের গল্প। এই সব গল্প অবশ্য আগের বছর অনেক করছি। খুজে দেখলাম আগের বছর রোজা উপলক্ষে আমার মেলা পোস্ট। সেই পোস্টে ঘুরে ফিরে এইসব আলাপ আসছে বারবার। এই সব ব্যার্থ দিনলিপি ছাড়া লেখার মতো কিছু খুজে পাই না। ভাবছিলাম বই নিয়ে লিখবো তাও গত কয়েকদিন ধরে পাবলিক লাইব্রেরীতে যাই না তাই লেখাও হয় না। রোজার ভেতরে পুরাই বেকার বেকার দিন কাটবে ক্লাস ছাড়া। তখন চাইলেও পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়া হবে না। কারন সকাল নয়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আমি সারারাত জেগে ঘুমাবো পাচটার সময়তে। দুপুরে উঠে আর যাবার সময় নাই। তাই বাসা আর ক্লাস ছাড়া করার কিছু না। পড়ার মতো বেশীর ভাগ বই শেষ বাকী আছে খালি মাহমুদুল হকের পুরা সিরিজ যেইটা কিনছিলাম এই মেলায়- সেইটা রিভাইস দেয়া। আরো কয়েকটা বই থাকতে পারে তা কোথায় রাখছি খুজে পাচ্ছি না। এরকম আমার প্রায় হয়। বই যত্নে রাখতে পারি না। আর মেস বাসায় তার স্থান পাত্রও অপ্রতুল। তাই আমি নিজের পছন্দের বই বিলিয়ে দেই অকাতরে। কারন অন্যে কেউ পড়ে যদি বইটা তাহলে কাজে লাগবে। আমার কাছে থেকে থেকে ইদুরে কাটবে অযথাই। বাসায় জায়গা নাই থাকলে সেলফ কিনতাম অবশ্যই। কিন্তু সেলফ নাই তাই কতো বই যে পড়া শেষে অযত্নে কার্টুনে পড়ে আছে তার হিসেব কে রাখে? আমি এতো অভাবেও প্রচুর বই কিনি প্রতি মাসেই কিনি। তবে মানুষের কাছে এইসব বই পুস্তকের খুব একটা মুল্য নাই। মুল্য ব্যাংকার্স রিকুর্টমেন্ট গাইড, সাইফুরস ভোকাবুলারি, বিসিএসের বই, কি টু ব্যাংক জব, ইসলামী ব্যাংক গাইড, জিয়ারই জিম্যাটের বই। আমার কাছে এগুলা বইও মেলা ছিলো। লোকজনকে দিতে দিতে এখন নাই আর কিছুই। নিজেই পড়তে পারি না। তাও পোলাপানের আবদার মিটে না। তুই ওমুককে দিলি, আমাকে দিলি না। এরকম নালিশ শুনি। ভেবে মনে হয় টেকাটুকা দিয়ে সাইফুর থেকে বই এনে ডিপো বানিয়ে বিলি করি। আমার অবশ্য এই ধরনের পড়াশুনা একদমই ভালো লাগে না। তাও মনে হয় পড়া দরকার। আর কতোকাল এইভাবে চলিবে?
আরেকটা বিসিএসের প্রিলিতে টিকলাম। টিকবো সেই আশা ছিলো না। না পড়ে হেলায় ফেলায় এক্সাম দেয়া। এমনকি প্রশ্নও আনি নাই। দিয়ে দিছি আরেকজনকে। প্রশ্ন সহজ হইছিলো। ধারনা ছিলো না যে টিকবো! তবে টিকছি তাতে আনন্দ পাওয়া গেলো। খুব যে আনন্দ পাইছি তা বলা যাবে না। কারন গতকালকেই আরেক বিসিএসের ভাইভা দিয়ে আসলাম। হলো মোটামুটি। ছোটোবেলা থেকেই আমার নার্ভে এক রোগ আছে। হাত পা কাপে অযথাই। তবে কাল আশ্চর্যজনক ভাবে আমার মোটেও হাত পা কাপে নি। একটু নার্ভাসও লাগে নি। মনে হচ্ছিলো আমার প্রিয় টিচার তাহের স্যারের কথা। "যে এইসব বিসিএস টিসিএসের ভাইভায় কোনো টেনশন নেয়ার কিছু নাই। কারন দুনিয়ার সেরা ভাইভা দিলেও তোমারে ওরা নিবে না আবার বাজে ভাইভা দিয়েও হয়ে যেতে পারো। তাই সব কিছু কপালের হাতে ছেড়ে দাও। হলে হবে না হলে নাই। আমি সকাল বেলা সিএঞ্জি নিয়ে এই ভাবনাই ভাবতে ছিলাম। তাই পোলাপানের সিরিয়াসনেস, পাবলিক থেকে পড়ছে তার হামবরা ভাব, সস্তা পারফিউমের গন্ধ কিছুতেই আমি বিরক্ত হই নাই। বরং মজা পাচ্ছিলাম। সবার মুখেই শুনলাম তাদের ভাইভা ভালো হইছে, আমারো খারাপ হলো না। তাই মনের কোনে আশাবাদ। হয়ে গেলে বেঁচে যাই। আর কিছু খুজতে হবে না। মুখ বুজে চাকরী করেই দিন যাবে। মনের হাউস মতো দিনলিপি লিখে যাওয়া যাবে। কিন্তু সব আশা হয় না পূরণ। জীবনের প্রথম বিসিএস টিকে যে মেধার এক্সামপেল সেট করার চান্স তা হারালে হয়তো মেজাজ খারাপ লাগবে। দেখা যাক কি হয়। ওয়েট এন্ড সি!
রোজায় অনেক পোস্ট লেখার ইচ্ছা। অনেক দিনলিপি লেখার ইচ্ছা। কিন্তু ভালো দিনলিপি লেখার জন্য একেকটা ব্যাস্ত দিন থাকা চাই, সমানে টিভি দেখা চাই, সিনেমা দেখা চাই। টিভি দেখি না নয় মাস যাবত, পিসি নতুনটা আসে না, আর পনেরো ঘন্টার রোজা ক্লাস বাদে কি আর করবো ভেবে পাচ্ছি না, জানি না কি লিখবো, আর সবাই বিজি তাই চায়ের দোকানে যে বসে বেঞ্চ ফেলিয়ে আড্ডা মারবো সেই সুযোগও নাই! সময় এখন আসলেই দুর্দিন। আজ যে ভয়াবহ গরম তাতে কারেন্ট যাচ্ছে সমানে। জানি না রোজায় কি হবে? তবে সরকার প্রতিশ্রুতি দিছে সেহরী ইফতারী তারাবীর সময় নাকি কারেন্ট থাকবে। আমার প্রশ্ন বাকী সময় কি মুড়িঘন্ট রান্না করবো আমরা? আগে রোজা হতো বছরের শেষের দিকে কিংবা শুরুতেই। কি আনন্দের দিন ছিলো! সেহেরী খেতাম সকালে খেতাম, দুপুরে খেতাম, ইফতারীও করতাম। স্কুল কলেজে যাবার বালাই নাই। এবার রোজার ভেতরেও নাকি হরতালের লস পোষাতে ক্লাস হবে। পোলাপান রোজা রাখবে না সমস্যা নাই কিন্তু মায়েদের তো রোজা রাখতেই হয়। রোজা রেখে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা বাসায় রান্না বান্না, নামায পড়া কি যন্ত্রনার দিন পার করতে হবে! তার চেয়ে আমার জীবন কতো আনন্দের। ইফতারী থেকে সেহেরী অবধি জেগে থাকবো। ভোরে ঘুমাবো উঠবো দুপুরে তারপর বই পত্রিকা পড়া, চায়ের কস্ট দুপুরের না খেতে পারার কস্ট হজম করে ইফতারী করবো ভাইয়ার অফিসে। খেতে খেতে টায়ার্ড হয়ে চায়ের দোকানে ফেরা। আরামের জিন্দেগী। তবে আগে আমি রোযা রাখতো না তাদের দিকে খুব হীনমন্ন ভাবে তাকাতাম। এখন আর তাকাই না। না রাখতেই পারে। সারা বছর আল্লাহ খোদার নাম নাই এক মাসের জন্য পেটরে কস্ট দিয়া লাভ কি? যে সংযমের কথা বলা হইছে তার ধার কাছেও কেউ থাকবে না রোযা রেখেও। তাই যারা রোজা রাখে না ইচ্ছে করেই তারা খারাপ কিছু করে না। আমার মতো তারা ভণ্ড না। যে এক মাসের জন্য ভাব নিবে। তবে রোজার দিনে পর্দায় চায়ের দোকানের ব্যাবসা দারুন জমে। চিটাগাংয়ে আগে রোজার সময় একটা হিন্দু হোটেল ছাড়া আর কোনো খাবারের দোকান ছিলো না। ঢাকায় প্রথম দুইদিনই যা ভাব নেয়ার। তারপর সব ওপেন। তবে আমি এই ওপেনের পক্ষে। মুনতাসীর মামুনের বইতে পড়ছিলাম ঢাকায় কোনো কালেই রোজায় হোটেল খোলা নিয়া আপত্তি ছিলো না। আপত্তি ও সামাজিক কড়াকড়ি শুরু হয় এরশাদের আমল থেকে। তখন নাকি অনেক মানুষ ঢাকা ভার্সিটি এলাকায় আসতো কারন সেখানেই দোকান খোলা একমাত্র। এই কথা পড়তে পড়তে আমার এরশাদের রোজা থাকার গল্প টা মনে পড়ে গেলো যা মাসুম ভাই মারফত শুনা। গতবছরেও এরশাদের এক ইফতার পার্টিতে নিজে খাইছে কাচ্চি ও এতীম পোলাপানরে খাওয়াইছে ছোলা মুড়ি। এই হলো গিয়া আমাদের ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম বানানে ওয়ালা পতিত স্বৈরশাসকের ইসলাম পালন! তার আবার কতো আবাল ফ্যান।
তাই যার যা মন চায় তা করুক। ভোগে মত্ত থাকুক। আড়াই তিন লাখ টাকার লেহেঙ্গা কিনুক থাকুক যে যার মতো। বলিউডি নামের জামা কাপড়ে ভরে যাক দেশ। আমি যে আগামী এক মাস রোজার উসিলায় সকালে চা খেতে পারবো না সেই দূঃখটাই বড়। আর কতো ঈদে বাসা থেকে টাকা নিয়ে চলবো তাও বড় প্রশ্ন। তাও জানি ভাইয়া বলবে কি কি লাগবে তোর টাকা পাঠাই, আব্বু বলবে কিনে ফেল আমি বলবো আমার কিছুই লাগবে না। কারন পচিশে এসে আমার এখন আর নিজের জন্য কিনতে ভালো লাগে না। যদি কিনে নিয়ে যেতে পারতাম তাহলে নান্নুর ভাষাতেই নিজেরে সাবাশ দিয়ে বলতাম শান্ত মামা বেডাই একটা! আর রোজার শেষ দিকে তো বাড়ী যাওয়ার বিশাল ভোগান্তি আছেই, জানি না কি হয়!





ছোটোবেলা থেকেই আমার নার্ভে এক রোগ আছে। হাত পা কাপে অযথাই। তবে কাল আশ্চর্যজনক ভাবে আমার মোটেও হাত পা কাপে নি। একটু নার্ভাসও লাগে নি।
রনজানা নামের কোন পানজাবি কি বাইর হবে
অবাক হবার তাতে কিছু নাই!
রুজা রমজান নিয়া তুমার তো দেখতাছি ভালই টেনসন..
মেলা টেনষনে আছিরে তাইনুন মেলা টেনষন!
রোজায় সময় তো এমনিতেই কম, সারাদিন শেষে ঘরে এসে ইফতার, একটু রেস্ট নিয়েই আবার তারাবি, তারপর যদি একটু সময় মেলে!
কেনাকাটার লিস্ট দেখে বাজেট ঘাটতি পূরণের উপায় খুঁজছি!
রোযার মাসে ঢাকার ইফতার খুব মিস করবো।
আইসা পড়েন
ভালো যাক দিনগুলো!
থ্যাংকস!
আমাদের শান্ত ক্যাডার অফিসার হবে। শান্ত দাপটের সাথে কাজ করবে। তার রোজকার রোজনামচার বিষয় বদলে যাবে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আপনার আশাবাদে আশা রাখলাম। হয়ে গেলো তো বাঁচি!
কিন্তু হবে কিনা জানি না
কাল থেকে আবার চা খাওয়া শুরু
হ আরামের দিন আবার শুরু। ঈদের শুভেচ্ছা আপু! আনন্দে কাটান উইকেন্ড
মন্তব্য করুন