এই সব রোজকার দিনে!
মামা আজ বাসায় নাই। মামা থাকলেই যে প্রতিদিন চুটিয়ে আড্ডা দেই এমন না, তাও থাকলে ভালো লাগে। মনে হয় আমি একা নই। কিন্তু মামা যখনই থাকে না তখন মনে হয় একা একা দিন রাত্রি যাপন। কেমন জানি লাগে। খারাপ না আবার ভালোও না। আজ সকালেই ঘুমের ভেতরেই শুনলাম মামা বলতেছে গেলাম শান্ত। আমি ঘুমের ঘোরেই বললাম আচ্ছা মামা। এই সকালে ঘুমাতে আমার মোটেও ভালো লাগে না। রোজা বলেই ঘুমাই। নয়তো যে করেই হোক রাতেই ঘুমাতাম। সকালের ঘুমগুলো কেমন কেমন জানি! ছাড়া ছাড়া লাগে। ভোর পাঁচটায় ঘুমাতে গিয়ে দশটাতেই ঘুম ভাঙ্গে। তারপর চলে ঝিম পর্ব। কিছু সময় ঝিমাই, কিছু সময় মোবাইলে ব্লগ ফেসবুক দেখি- তারপর আবার ঝিমাই আবার উঠি এই খেলাতেই চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। উঠে গোসল করা, নামায পড়া হয়। তাও কেনো জানি ঝিমঝিম লাগে। বই নিয়ে বসি। গত দুইদিন ধরে পড়ছি শাহাদুজ্জামানে 'কেশের আড়ে পাহাড়' আর 'কয়েকটি বিহবল গল্প'। 'কয়েকটি বিহবল গল্প' আমার অনেক কাল আগেই পড়া শেষ তাও নিয়ে সময় কাটানো। তবে আলসেমীতে 'কেশের আড়ে পাহাড়' শেষই হচ্ছে না। ইচ্ছে করেই হয়তো। আর বই নিয়ে বসলেই আমার নেটে হাতি ঘোড়া ছাতা মাথা দেখতে মন চায়। কিন্তু অজস্র সময় অপাত্রে নষ্ট করে দেখি হাতি ঘোড়া কিছুই নাই। আজ অবশ্য একটা ছবিও দেখলাম। নাম জলি ভাই এলএলবি। আগেও দেখতে বসছিলাম প্রিন্ট ভালো ছিলো না। আজকেরটা প্রিন্ট ভালো ছিলো। সিনেমাটা মজার। কোর্ট কাচারী নিয়ে হাস্য রসিকতা। তবে সব চেয়ে মজা লাগছে শেষ অংশে জাজের কথাটাই। "যে আমি মামলার শুরু থেকেই জানি কে দোষী তাও খালি এভিডেন্স খুজে যাচ্ছি। জানি পাবো না, সেই আশাতেও থাকি না। খালি দেখে যাই উকিলদের খেলাকে"। প্রসিকিউশন লিখতে গিয়ে এরশাদ ওয়ার্সি প্রস্টিটিউশন লিখে দেয়া, বটতলার উকিলদের জীবন, হাই প্রোফাইল উকিলের হম্বিতম্বি, আর যেহেতু হিন্দী ছবি তাই নায়িকা আর তাই গানের আয়োজন। তবে খুব চমৎকার লাগলো সিনেমাটা। টাইম পাস হলো দারুন। কোন সময় যে বিকেলটা চলে যাচ্ছে তা টেরই পেলাম না!
চলে গেলাম অফিসে ইফতারী করতে। সেইখানেও মামা নাই মামা নাই গন্ধ। তাও কি কিছু থেমে থাকে? যেমন থেমে থাকে না ব্যাপক ইফতারী খাওয়া। ইফতারী দেখলে আর হুশ থাকে না আমার। যেমন আমার সন্ধ্যার পরেই এক জায়গায় দাওয়াত। ইফতারী কম খাওয়া দরকার ছিলো। কিন্তু মন তো মানে না। তাই সমানে খেলাম। খেয়েদেয়ে যখন ভাইয়াদের সাথে চায়ের দোকানে গেলাম দেখি চা ই আর ঢুকে না। বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম পারভীন আপুর বাসায়। বিরিয়ানি খেতে যাবো। এরকম দাওয়াত প্রতিদিন পাওয়া দরকার। তবে ব্যাপক ইফতারী খেয়ে রিকশাতেই আরাম করে বসতে পারতেছিলাম না। পাঞ্জাবী ভেদ করে ভুড়ির উকি ঝুকি দেখতেছি। রিক্সা ওয়ালাটা মুরুব্বী টাইপের। একে তো জ্যাম তারপর তিনি আস্তে আস্তে চালান তাই অনেক গানই হেডফোনে শুনতে হলো আর ঢাকা শহরের নারী জাতি রাস্তায় নেমে গেছে। যেই রিকশাতেই তাকাই খালি নারীকুলদের আনাগোনা। ঈদে শপিং করার চেয়ে বোরিং কিছু নাই আর। আমার কাছে ঈদের একমাত্র শপিং সর্বোচ্চ একটা ঝাক্কাস পাঞ্জাবী ক্রয় আর ইদ সংখ্যা কেনা। নিজের টাকাতে কিনলে তাই সর্বোচ্চ কিনতাম। আর বাবা মা ভাই ভাবীর জন্য কেনার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বাপ ভাইয়ের আদেশে কিনতে হয়। তাই কিনতে হয় জুতা ও জামা। অবশ্য খারাপ লাগে না। এই বয়সেও এরকম বিজনেস ক্লাস ট্রিট পেতে। বাটা বলে প্রতিবার ঈদে চাই নতুন জুতো তাই একটা স্যান্ডেল হয়তো কিনবো এবারে এতোটুকুই। তবে আশায় আছি কেউ কিছু গিফট দেয় কিনা! আগের মতো আর না না করবো না। চুপ করেই হাসিমুখে নিয়ে নিবো। ঈদ সংখ্যা গোটা চারেক গিফটের আশায় থাকতেই পারি। আমি তো আর বেশী দামি কিছু চাই না।
যাই হোক রিক্সা দিয়ে চলে গেলাম পারভীন আপুর বাসায়। আপুদের এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটা বড়োই পছন্দ আমার। কেমন জানি কলোনী কলোনী স্টাইল। আমি অবশ্য কখনোই লিফটে উঠি না। সিড়িতেই উঠি নানান বাসার জানলা দেখতে দেখতে মজাই লাগে। আর গেলেই আপুর ওখানে খেতে হবে তাই খিদা লাগানো 
আপু দেখি টিভিতে সংবাদ দেখে ড্রয়িং রুমে। জমিয়ে আড্ডা শুরু হলো দারুন, চা ও খেলাম না চাইতেই। টিভিতে কতো আজাইরা অনুষ্ঠান হয় তা অনেকদিন পর কিছু সময় টিভির সামনে বসেই টের পেলাম। এটিএনে ডিবি পুলিশ নামে এক নাটক হচ্ছে পুরাই সি আইডির অনুকরনে। ডি এ তায়েব তো এক জঘন্য। হালায় একটা পিস। পুলিশের জব করে, মডেলিং করে, টিভিতে অভিনয় করে, নাটক বানায় খালি গানটা গায় না মনে হয়। কে জানে হয়তো শুনবো সামনে গান নাচেও সে এক্সপার্ট! তার ভেতরে মডেল হীরা না রুহি তারে বানাইছে ডিবি অফিসার, ড্রেসের কি ছিরি! এরা নাকি ডিবি! এরকম ডিবি দেখলে পাবলিকের মাইর খাওয়া ছাড়া গতি নাই এদের বাস্তবে। তারপর চ্যানেল পাল্টিয়ে গেলাম এশিয়ান টিভিতে। দশ মন মেকাপ মেরে ফারজানা ছবি আর বাধন। কি অবস্থা! হিন্দি সিরিয়ালেরও একটা ছিড়ি থাকে। নকল করতে যেয়ে কি অবস্থা নাটক গুলার তা ভেবে কুল পাই না। আগে আমরা ডায়লগ দিতাম আমাদের নাটক ওয়ার্ল্ড ক্লাস। এই এখন তার নমুনা। এরচেয়ে অনেক কাল আগে চিটাগাং থাকতে, বিটিভিতে ১ ঘন্টার জন্য চিটাগাং সেন্টারের অনুষ্ঠান হতো। ওইসব নাটকের মান এগুলার চেয়ে অনেক ভালো। দেখলাম এশিয়ান টিভির সেই নাটকের পরিচালকের নাম মইনুল হাসান খোকন। এইতো কিছুদিন আগেও এই খোকনরা দুই নাম্বার গানের মিউজিক ভিডিও বানিয়ে সংসার চালাতো। এখন তারাই নতুন নতুন গজে উঠা চ্যানেলে ডেইলী সাবান বানায়। যাই হোক গেলাম সনি তে। ইন্ডিয়ান আইডল জুনিয়র হয়। বিচারকেরা সবাইরে ভালো কয়। কারোর মন ভাঙ্গে না। এমন দয়া মায়া নিয়ে কি আর জাজ হওয়া যায়! হয়তো শিশুদের অনুষ্ঠান বলেই এই পলিসি। এসেজ দেখলাম কিছু সময় ইংল্যান্ড পুরা ছাই বানাইতেছে অস্ট্রেলিয়াকে। তার ফাকে বিটিভির এক নাটক চলতেছে। শাহেদ বলদটা এখনো নাটক করে বেড়ায় কি আজব এই দেশ। তবে বিটিভির একটা উন্নতি হইছে এখন প্রচুর সিন সেটের বাইরে আউটডোরে করে। হয়তো বাজেটও বাড়ছে। কিন্তু প্রাইভেট চ্যানেলের কিছুই হলো না। খাওয়ার সময় হয়ে গেলো। পেটে জায়গা নাই। তাও খেতে বসলাম। দারুন বিরিয়ানী রান্না আপুর বোনের। ভাবছিলাম অন্যদিন হলে রোস্ট টোস্ট আর বিরিয়ানী খেয়ে ভাজ করে দিতাম সব। কিন্তু আজ খেলাম অল্পই। ফিস কাবাবটাও জটিল। খেয়ে দেয়ে আর পেটে জায়গা নেই এক ফোটাও। পানিও খেলাম কষ্টে। তবে আপুর গল্প শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। নারায়নগঞ্জের গল্প, উনার ভার্সিটি লাইফের গল্প, উনার স্কুল জীবনের গল্প, সব দারুন। আমি হলে কতো যে পোস্ট দিতাম। আমি তো লেখার মতো গল্পই খুজে পাই না তাই দিনলিপি লিখে বেড়াই। আরো কিছু গল্প করে বিদায় নিলাম এবার। আবারো সিড়ি দিয়ে নামা, গেটেই রিক্সা পেয়ে গেলাম। চায়ের দোকানে পুলকের সাথে একটা কাজ ছিলো হলো না। রাত অনেক। বাসায় ফিরলাম এক কাপ চা খেয়েই। শেষ হয়ে গেলো আর একটা দিন।
জানি কমেন্ট পাবো ১-২ টা তাও আমি লিখে যাই। নিজের জন্য। কেউ না পড়লে সেইটা তাদের দোষ! তবে কেউ বলবেন না যে সময় পান না। কারন ফেসবুকে অজস্র সময় আমি কতোজনকে বসে থাকতে দেখি আর পাঁচ মিনিট পড়ার সময় হয় না একটা সামান্য ব্লগ!
এই পোস্ট নিবেদন করলাম আপুকেই!





মামা কই গেছে?
এইবার রোযায় ব্যাপক ঘুমাইতেছি। রাত জাইগা সেহরি কইরা ফজরের পর ঘুমাইতে ঘুমাইতে পাঁচটা। উঠতে উঠতেই দুপুর। একটু পরেই দিন শেষ। পুরাই রামাদান লাইট যাইতাছে আমার এইবার।
লীনাপার ব্লগে কোন লেখাই নাই। কারন কিছু জানেন?সুন্দর একটা সিরিজ চমত্কার চলতেছিল, হঠাত্ সব লেখা নাই। ভালো লাগতেছে না..
জানি না রে ভাই। ব্যাপারটা আমিও খেয়াল করলাম!
মামা গেছে হবিগঞ্জ। অফিসের কাজ। আজ কালের ভিতরেই ফিরবে!
দিন তো ভালোই কাটলো, খাওয়া দাওয়া আড্ডায় । এমনি কাটুক সব সময় ।
আপনারও ভালো কাটুক দিন আপু!
বিরিয়ানি খাবো
আপনে তো সময়ই পান না। আসতে বললেও আসেন না
কই আসুম, কবে আসুম?
জানানো হবে তখন দেখা যাবে আপনার দোড়!
হাজি'র বিরানি খাইতে ইচ্ছা করতেসে। কলাবাগানের মামা হালিম কতদিন খাইনা
নিউইয়র্কে ভালো বিরিয়ানী পাওয়া যায় না? টিভি তে কতো সুন্দর রেস্টুরেন্টের এড দেখায়?
না ভাই, এখানে সবাই পয়সা'র জন্য বিরানি বেচে, খাওয়ায়ে তৃপ্তি দেয়ার জন্য না। ঢাকার বিরানি হইলো তেতুল, মনে হইলেই জিব্বায় পানি আসে।
পয়সা কামাতেও তো ভালো টেস্টের জিনিস খাওয়াতে হবে পাব্লিকরে
আপনাকে মনে রাখতে হবে যে বিদেশে কারা আসে, দেশের ব্যর্থ মানুষেরা। ওদের উদ্দেশ্য কখনই ভাল হয়না।
বেশী জেনারেলাইজ হয়ে গেলো না। অনেকেই যায় তো যায় সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য!
হ্যাঁ সেটা ঠিক। একবার আইসা দেইখা যান। কুত্তার লেজ যেমনেই রাখেন সোজা হয়না।
আপনে এতো দিন বিদেশে থেকেও বইদেশ প্রীতি হলো না কেন?
সবাই কি আর একরকম হয়?
তাও ঠিক
ভালো তো!
মন্তব্য করুন