মায়েরা যেমন হয়!
মায়েরা যেমন হয় এই নামে পোষ্ট কেন লেখছি তা জানি না। অনেকক্ষণ ব্লগের পাতা খুলছিলো না। অভিসম্পাত দিচ্ছিলাম ব্লগকে। কানে বাজছিলো শিলাজিতের গান। হঠাত্ করেই দেখি ব্লগ পেজের খোলা গেল। ঈদসংখ্যা আরো দুটো শেষ তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করছে না। তাই এই পোষ্টটা লিখতে শুরু করলাম শুয়ে শুয়ে মোবাইল দিয়ে। জানি না আদৌ প্রকাশিত হবে কিনা! এই ছোট পরিসরে আম্মুকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো লেখা ঠিক হবে কিনা জানি। তাও লিখছি কারন মা কে নিয়ে ছোট বড় পরিসরে যে যেভাবেই লিখুক কথার শেষ হবে না। এক বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসের মতোই অনেক কথা বলে ফেলা যায় খুব সহজেই। আর মায়েদের ভালোবাসি না বাসি, আমাদের জাতির আদিখ্যেতার তো শেষ নাই মাতৃভক্তি নিয়ে। তাই সেই চিরচেনা স্নেহ ভালোবাসার কথাগুলাই লিখতে বসলাম!
আমার এক ফেসবুকের পরিচিত বন্ধু আছে মেয়ে। একনিষ্ঠ বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত। লং মার্চ থেকে শুরু করে বিক্ষোভ সমাবেশ সব কিছুতেই সে প্রথম সারিতে। সামনা সামনি দেখলে মনে হবে আট দশটা মেয়েরা যেমন ও একদম বিপরীত। আমার চেয়েও প্রচুর স্ট্যামিনা আর কঠিন চেহারার মেয়ে। মেয়েটার মা মারা গেছে অনেক আগেই। তার মাকে নিয়ে যখন হঠাত্ হঠাত্ ফেসবুকে স্ট্যাটাস পড়ি তখন চোখ ভিজে যায়। কি অসীম বেদনার ভেতরে দিয়ে সে দিন পার করে। তার ভেতরেই সে মিটিং মিছিল করে এই তপ্ত মরুর মত দয়া মায়াহীন শহরে। বাড়ীতে কম যায় কারন মাকে ছাড়া তার বাড়ীতে মন টিকে না। আমার আরেক বন্ধু ছিলো স্কুলের। জন্মগত ভাবেই সে খুব খাটো। ক্লাস সিক্সে সেভেনে থাকতেই সিএমএইচের ভুল চিকিত্সায় আন্টি মারা যায়। কলোনী জুড়ে সবাই তাকে খুব আদর করতো। আমাদের মত মেইনস্ট্রিম ব্যাচের সাথে ও খেলতো না। ও খেলতো ক্লাস ফোর ফাইভের বাচ্চাদের সাথে। যখনই দেখতাম তখনই মায়া লাগতো। বেচারার মা নেই তাই সকালে ওর বাবা নাস্তা বানায় ভাবতেই আমার অল্প বয়সী মনে খুব খারাপ লাগতো । পিঠাপিঠি ওরা তিন চারটা ভাইবোন ছিল। আংকেল অনেক কষ্ট করে এদের সবাইকে বড় করে তূললো। বড় হয়ে এরা সব উচ্ছন্নে গেল। তার বাবাও হাল ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিয়ে করলো এক দুই নম্বর মেয়ে মানুষকে। সবাই তখন বলতো মা না থাকলে এমনি নাকি হয়। আমি তা অবশ্য মানি না। মা থেকেও সন্তান অমানুষ হতে পারে। আবার মায়ের আদর সোহাগ ছাড়াও অনেক ছেলে মেয়েকেই খুব সফল হতে দেখি। এইটা আসলে ডিপেন্ড করে। তবে আমি নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকালে দেখি মা বাবা ভাই ভাবী ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। অসাধারন বন্ধুরা আছে, বড় ভাই বড় আপুরা আছে, পরিচিত শুভাকাংখী অসংখ্য। তাও হিন্দী ছবির ডায়লগের মতোই মনে হয়- মেরে পাস মা হ্যায়!
আম্মু যে কি জিনিস তা আরো
ভালো ভাবে বুঝি এই সাড়ে তিন বছরের ঢাকায় থেকে। এইসব গল্প অবশ্য আগেও অনেকবার বলা। তাই নতুন করে আর কি বলবো! তবে এই যে জামালপুরে আসি এত কষ্ট করে তা শুধু মা বাবা থাকার কারনে। আমার আম্মু খুব সন্দেহ তাদের দুনিয়া প্রস্থানের পর নাকি আমরা এই বাড়ী ঘরে আসবোই না। আমি হাসি কথাটা শুনে আর বলি আপনারা আর কই যাবেন, আমি ভাইয়া বেচে থাকলে আপনারা থাকবেনই। আমার এইসব ছেলে মানুষ কথা শুনে আম্মু হাসে। এই গল্পটা আগেও বলছি আবার বলি ০৯য়ের শেষ দিকে যেদিন আম্মু আব্বু ট্রাক বোঝাই মালপত্র পাঠিয়ে দিয়ে বিকেলের ট্রেন ধরার জন্য যাবে আমার কি জানি হলো বলদের মত খালি কেদেঁই চলছি। কান্নাই থামে না। একবারও ভাবি নাই আমার এই কান্নাকাটি আম্মুর মনে কি প্রভাবটাই না পড়বে! সারা ট্রেনে আম্মু থম মেরে শুধু বসেছিল। পনেরো দিনের মধ্যেই বাড়িতে গিয়ে দেখি। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত আম্মু কি দারুন ভাবে এই মফস্বলের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। যেনো আবার নতুন করেই সব শুরু হচ্ছে। ঢাকা বা চিটাগাং বা খুলনায় আব্বুর বদলী হয়ে আসলেই আমাদের এভাবেই সব আবার শুরু করতে হতো। আম্মু সব কিভাবে জানি খাপ খাইয়ে নিতো। এই অখ্যাত জামালপুরে এসেও উনাকে দেখে মনে হলো নতুন বদলী হয়ে নতুন আবাসস্থলে। চার পাচ দিন থেকেই জামালপুর থেকে ঢাকায় ফেরার সময় আমার আবার কান্নাপর্ব। আব্বু অবশ্য দিলো একটা বকা। যাওয়ার সময় কেউ এইভাবে কান্নাকাটি করে? এরপর থেকে আমার মানিয়ে নেয়া শুরু। আর আমি যাবার সময় কথনই কাদিঁ না। তবে কান্নাকাটি ছাড়াই মনে যে তীব্র কষ্ট থাকে তা কাউকে বুঝাতে পারি না। বুঝে যাই আসলে মা বাবা এতো আদর স্নেহ ফেলে ঢাকায় থাকার কত যন্ত্রনা! জামালপুর বাড়ী না হয়ে যদি আরো দুই জেলা আগে গাজীপুরে বাড়ী হতো তবে মনে হয় প্রতি মাসেই পাচ সাত দিন করে বাড়ীতে থেকে যেতাম। তবে সামান্য এই ১৭০ কিমি পথ ট্রেনে কিংবা বাসে আসতে যে ভোগান্তি তা চিন্তা করলেই আসতে ইচ্ছা করে না। জামালপুর থাকলে বোর লাগে। বন্ধু ছাড়া এই স্বর্গটাও কেমন জানি ছাড়া ছাড়া! তবে এই তিন চার মাস পর বাড়ীতে আসলে যে কি আদর আপ্যয়ন পাই তার অতুলনীয়।যেমন মিষ্টি আমি অতো ভালোবাসি না তাও মাঝে মধ্যে খেতে ভালো লাগে। একদিন খালি বললাম আম্মু ফ্রিজে মিষ্টি নাই? বলে নিজেই গেছি ভুলে। একদিন পর ফ্রীজ খুলে দেখি বুড়ির মা দোকানের মিষ্টি। জামালপুর শহরে উনার মিস্টির দোকানটা খুব প্রসিদ্ধ। এরকম যখন যা চাইতেছি ফ্লেক্সি থেকে শুরু করে যা চাই পাই। মায়ের হাতে পোলাও বিরিয়ানী আমার খুব পছন্দ, এই খুশীতে টানা ছয় দিন খালি এগুলাই খেলাম। বিকেলে নাস্তায় কাবাব, নুডুলস কিংবা পিয়াজু আমার খুব পছন্দের। সন্ধ্যা হতে হতেই দুই আইটেমের নাস্তা হাজির। বাহ কী আরামের জিন্দেগী এত আদর আপ্যায়নে আমি তো খালি বিমোহিত হই। এতদিন বাড়ীতে, একদিনও বের হই না। সারাটা সময় ধরে বাড়ীতে। টাইলস লাগানো হচ্ছে বাড়ীতে তাতে মারাত্বক শব্দ। এই শব্দ সহ্য হয়ে যায় যখন দেখি সবাই আমার প্রতি দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে তাকিয়ে থাকে আমার কষ্ট হচ্ছে বলে। এত ভিআইপি ট্রিট পেয়ে ভুড়ি বাড়ছে, সামান্য কথাতেই রিএক্ট করছি। সবই এই অপথ্য আদর আপ্যয়নের ফল। আমি কিছুই করতে পারি নাই, তাও কি স্নেহ আদর পাচ্ছি মা বাবার কাছ থেকে!মায়েরা তো এমনি হয়!





এইসব খাওয়ার গল্প লিখে বলাতেই আনন্দ বেশী
খাওয়ার জন্যে ২ ঘন্টা শুকনা বক্তৃতা শুনে রাস্তায় লেবু পানি খাওয়ার বাস্তবতার সাথে এইসব বুড়ির মায়ের মিস্টির কোনো তুলনা চলতে পারে না।
খাসা বলেচেন দাদা। আমরা তো এমনি!
তোমার বাড়ির পোস্টগুলো পড়লে খালি বাড়ী যেতে ইচ্ছা করে। এই সাত সকালে এখনই বাড়ি যেতে ইচ্ছা করছে
আহারে ভাইয়া। আপনারে সেন্টু খাওয়ানোর জন্য দুঃখিত!
যার মা নাই সে জানে কি ব্যাথা
।
মা নাই , বাবা নাই , তবুও দেশে যেতে োনেক ভাললাগে।
এটা দারুন একটা গুন আপনার!
আম্মু সেদিনও বলতেছিলো "আমি ছাড়া অন্য কেউ তরে কিছু বললে আমার মেজাজ খারাপ হয়। সেইটা যদি তোর আব্বু হয়, তাইলেও..."
আম্মুরা অলয়েজ আম্মুদের মতই...
আহ কি আদর! আম্মুরা তো এমনি!
আমি কিছুই বললাম না ..................
(
বাড়ি গেলে চিললাচিললি করি মায়ের সাথে আবার ফিরে এসে মন খারাপ
আপসোস!
দারুণ লিখছেন
ওরে বাবা তাই নাকি? ধন্যবাদ ভাইয়া!
আম্মু তো আম্মুই।
লেখা ভালো হইছে।
থ্যাংকস। বাড়ীতে ভালো কাটুক দিন
মায়ের তূলনা শুধুই মা।
যার মা নেই সে-ই কেবল বোঝে মা না থাকা কতটা কষ্টের! ভাল থাকুক সকল মায়েরা।
ঠিক বলছেন ভাইয়া, ভালো থাকেন!
হুম, মায়েরা 'এমনই' হয়
হুমম। খুব সুইট একটা পোষ্ট ঐটা!
মন্তব্য করুন