বাড়ী থেকে ফিরে!
পিসিতে বসে পনেরো ষোলো দিন পরে আজ লেখার সুযোগ পাচ্ছি। আমি সবসময়েই চিরাচরিত ডিলেমার মধ্যে থাকি। যখন মোবাইলে লিখি অজস্র লিমিটেসনের মধ্যে, তখন মনে হয় একটা পিসি পেলে ফাটিয়ে লেখা যেত এখন। আর এখন পিসিতে বসে মনে হচ্ছে মোবাইলে লিখতেই কত আরাম, কত কিছু সহজে এসে যায় আর চাইলে চোখ বুজেও লেখা যায়। কিন্তু পিসিতে তার সুযোগ কই? তবে বাড়ী থেকে এসে পিসি নিয়ে বসতে ভালোই লাগে। মনে হয় অনেকদিন পর পিসিতে বসার সুযোগ পেয়েছি, অনেকটা নতুন বই পড়ার আনন্দের মতো। সেই ২০০৬ সালে যখন প্রথম ইন্টারনেট চালিয়েছিলাম , কিছুটা সেই সময়ের মুগ্ধতাও এসে যায় অকপটে!
তবে এত মুগ্ধতা অযথা ব্যাপার বলেই মনে করা উচিত। কারন অনেক অনেক দিন ধরেই মাসের পর মাস নেট চালিয়েই গেলাম,কিন্তু কাজের কাজ কতোটুকু বলা যায়। অর্জনের ভেতরে আছে শুধু এই ব্লগিং আর বিভিন্ন কিছু পড়া আর জানা। নয়তো পুরাটা ইন্টারটেইমেন্ট। হাত খরচের মাসে খুব বেশী টাকা পাই বলা যাবে না, তার ভিতরেও একহাজার টাকা চলে যায় এই নেট বাবদে মোবাইল আর মডেমে। মোবাইল নিয়ে বসে থাকলে আবার মডেমের অনেক ডাটাই পড়ে থাকে। গান বাদে কিছুই তেমন ডাউনলোড করি না তাও বিশ পচিশ দিন পরে সামান্য ছয় জিবির ২-৩ জিবি ইউসলেস নষ্ট হয়। আর এক মোবাইলে একজিবি আরেক মোবাইলে ২০০ এমবি এই করে অবস্থা কাহিল। ভাগ্যিস দশমাস ধরে ডিসের লাইন নাই থাকলে ৩০০ টাকা বিল সহ চলে যতো মাসে মোট ১৫০০ টাকা। খালি এন্টারটেইনমেন্টের পেছনেই। বই ম্যাগাজিন আর সিডি কেনার খরচ তো বাদই দিলাম। এত বিনোদনের আসলেই দরকার নাই। তাও অভ্যস্ততা আর অভ্যাস। এ কয়দিন বাড়ীতে থাকতে টিভি দেখা ছাড়া কাজ ছিলো না, তাও অনেক বই পড়া হইছে। সময় কম এই কম সময়ের ভেতরেই আসলে অনেক কাজ করা দরকার। আমার ঢাকার জীবনে বেশীর ভাগ সময় গুলো শুধু অযথা চলে গেলো এই ফেসবুক আর ফেসবুক করেই। তাও ঠিক হচ্ছি না মোটেও!
এবিতে যখন প্রথম দিকে লিখতাম তখন এই শিরোনামে পোষ্ট কয়েকটা লিখছিলাম। বাড়ীতে কি করলাম আর কি ভাবলাম ফিরে এসে তার ফিরিস্তি জানানো। এখন প্রায় প্রতিদিনের দিনলিপি জানাচ্ছি ব্লগে ও ফেসবুকে। তাতে নতুন করে বলার মতো কথা তেমন নাই আসলে। তাও লিখে চলা। নিজের কথাগুলোই নানা ঢংয়ে বলার চেষ্টা। এবার বাড়ীতে গিয়ে শুক্রবার আর ঈদের নামায ছাড়া বেরই হয় নি। এটা একটা রেকর্ড। পনেরো দিন যাবত টানা বাসাতেই। বই পড়া, টিভি দেখা, আর খানাপিনার আনন্দতেই মেতে ছিলাম। টিভি নিয়ে আজ লেখার কথা কিন্তু আজ ইচ্ছা করলো। তাও মনে হয় লিখবো, আবার নাও লিখতে পারি। কেউ দেখে না বাংলা চ্যানেলগুলো, তা নিয়ে কষে সমালোচনা করতে মন সায় দিচ্ছে না। কারন মানুষ যা দেখে তা নিয়ে বলা যায়। কেউই দেখে না অনুষ্ঠান যখন, তা নিয়ে আমার বলে লাভ কি। আজ আমি দশজন পড়াশুনা জানা সচ্ছল মানুষকে প্রশ্ন করলাম ঈদে টিভি দেখছেন উত্তরে কেউই দেখে নাই। টিভি নিয়ে তাহলে কাদের জন্য লিখবো। সময় থাকা সত্তেও কেউই মন দিয়ে তো দেখছে না আর আমার মতো।
কাল রাতে বাসায় ফিরলাম রাত দুটায়। প্রায় একশো টাকা বেশী সিএঞ্জি ভাড়া দিয়েই আসতে হলো। ট্রেনের ১৭০ কিমি যে ভাড়া দিয়ে আসলাম আট ঘন্টায়, এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় আসতে তার চেয়েও ১০০ টাকা বেশি লাগলো। দিনের বেলা আসলে লোকাল বাসেই চলে আসতাম। মধ্যরাত বলেই সিএঞ্জির আয়োজন। রাত বাড়ছে, যাত্রী অনেক কিন্তু গাড়ী কম। ২৮ মিনিটেই বাসায় এসে পড়লাম। আহা কি শান্তি ! অবশেষে নিজের ভুবনে ফেরা। রাতে আর ঘুম আসে না। শুয়ে শুয়ে ফ্রুট স্লাইস আর এংরী বার্ড খেলি। আমার গেম খেলতে তেমন ইচ্ছা করে না। তাও করার কিছু না থাকলেই শুয়ে শুয়ে গেইম খেলা। ভেবেছিলাম ঘুম আসবে না। তাও চারটায় ঘুমিয়ে পড়লাম। উঠে দেখি সকাল নয়টা বিশ। কড়া ঘুমেই ছিলাম মনে হয় জার্নির টায়ার্ডনেসে।
সকালে দশটার দিকে বের হলাম। ঢাকায় ফেরার শুরুর দিনটা খুব ভালো কাটে সব সময়। সব কিছুই নতুন নতুন লাগে। মনটাও থাকে ভালো। পনেরো মিনিট হেটে গেলাম চায়ের দোকানে। আমাকে দুর থেকে দেখেই নান্নুর কি উচ্ছাস আর আনন্দ। বসলাম আমিও হাসলাম। সবার খোজ খবর নিলাম। ব্যাবসার আপডেট নিলাম ও ভাইগ্না জুয়েলকে কই পাঠাইছে তার খবর জানলাম। চা খেলাম আহ কী টেস্ট। কড়া লিকারের দুধ চিনি কম, চা নান্নু যা বানায় না মাইরি! পুলক গেছে কোর্টে, আদনান গেছে অফিসে, পোলাপাইন ভার্সিটিতে। অন্য লোকেরা বসা। অবধারিত ভাবে আলোচনার প্রধান বিষয় জোড়া খুন ও ঐশী নিয়ে। আমি চুপ করে শুনে গেলাম। আল্লাহ করিম মসজিদ মার্কেটে দোকান আছে মফিক সাহেব বলে দিলেন তার হেফাজতি স্টাইলেই যে মেয়েদেরকে পুরুষদের সমান অধিকার দিল সরকার, এখন ছেলেরাও কোপায় তাই দেখে মেয়েরাও কোপায়। কয়দিন পরে দেশটাই ইন্ডিয়া কোপ দিয়া নিয়া যাবো। আমার পাশে বসা চাকুরীজীবি লিটন দা বললেন ইন্ডিয়া আর কবে নিবো? সেই তো ৯৬ থেকেই শুনতেছি নেয়ার, নেয় তো না। মফিক সাব বলে বসলেন আপনাদের তো ভালো হবে তখন, বর্ডার ক্রস করে আর গোপনে ভারত যেতে হবেনা। শুনে হলো মেজাজ খারাপ। এই সমস্ত কথাবার্তা বলবেন না, অত্যন্ত রুচিহীন খারাপ ভাষা। এই দেশটা সবার। আমার ঝাড়ি শুনে ঠান্ডা হলো। তারপর বললো দেখেন আমাদের দেশের কত সম্পদ আমরা একটু মাথা তুলে দাড়ালেই দেখবেন দেশ ভারতের আন্ডারে চলে যাবে। আমি বললাম এত সোজা না। সম্প্রসারন ও আধিপত্যবাদ ভারতের তো আছেই নানান দিকে নানান ফর্মে। তাই বলে এমন না যে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম যে দেশ ভারতের! জনি আসলো। ছেলেটারে আমার ভালো লাগে না কারন ছাড়াই। সে এসে শুরু করলো ঐশী কেস, হারাম টাকা কেমনি হারামেই যায়, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানোর কত অনিষ্ঠকর, মেয়েরা এখন কত খারাপ, মেয়েরা কিভাবে ওপেন গাজা সিগারেট খাচ্ছে তার বয়ান। আমি খালি শুনে গেলাম। এইসব অপছন্দের লোকদের সাথে ডিবেটে গিয়ে লাভ নাই। আমি মনে মনে ভাবছিলাম আমি অসংখ্য ঘুষখোরের ছেলেদের জানি যারা অনেক দারুন ভাবে সফল মানুষে পরিনত হচ্ছে। আবার খোজ নিলে মোয়াজ্জিনের ছেলে ডাকাত তাও পাওয়া যাবে! যে যেমন হয় তাতে আমাদের করার কিছু নাই। সময়টাই এখন খারাপ। তবে আজকাল এভারেজে এত হেফাজতি স্টাইলের কথা বার্তা সাধারন মানুষের মুখে শুনে খুব অবাক হই। ইসলামের সাথে সম্পর্ক নাই তাও মনে প্রানে বলনে চলনে হেফাজতীদের গন্ধ। ধার্মিক মানুষদের মুখে ধর্মের কথা আমি শুনতে চাই, অধার্মিক বাটপারসুলভ মতামত পোষনকারী লোকদের মুখে ইসলামের কথা শুনলে পিত্তি জ্বলে। এরকম এক ডায়লগবাজ লোক আমাকে তার মোবাইলে কি জানি এক সমস্যা দেখতে দিছিলো। ভুল করে মেমোরী কার্ডে ঢুকে দেখি মোবাইল ভর্তি পর্ন। মনে মনে তখন ভাবছিলাম আহারে সোনার চানেরা, তোমরা বয়ানে আছো, ইসলামে নাই আছো খালি বিদেশী ইহুদী নাসারাদের পর্নে। হোয়াট এ কম্বিনেশন!
এই সব ঝামেলা এড়িয়ে বাসায় এসে পড়লাম জলদি। সুনীলের ভ্রমন কাহিনী পড়ছিলাম মন দিয়ে। সকালে নাস্তা না করার দরুন পেটে খিদা কিন্তু বুয়ার খবর নাই। দুটোর দিকে মহারানী আসলেন। রান্না করলেন। আমি তেলে ভরপুর তরকারী খেতে খেতে ওলিম্পাস হেজ ফলেন সিনেমাটা দেখলাম। ভালোই একশন। তবে এই ধরনের হোয়াইট হাউজ ধ্বংস মার্কা একশন দেখতে খুব একটা ভালো লাগে না। তবে জিয়াই জো ভালো লাগছিলো । মাসালা একশন মুভি। হিন্দীদের আছে নাচ আইটেম গানের মাসালা মুভি আর এদের আছে একশন মাসালা মুভি। বিনোদন প্রাপ্তি এখানে শেষ কথা। চারটার দিকে লেকচার শীট নিয়ে বসলাম। সাড়ে তিন ঘন্টা ঠাটায়া পড়লাম কারন কাল এক্সাম। আটটায় চায়ের দোকানে গেলাম। পুলকের অনেক জমানো কথা শুনলাম। সবার সাথে দেখা হলো। আমার কালো ঝকমকে পাঞ্জাবী দেখে সবাই প্রশংসা করতেছে আর আমি বারবার বলছি বন্ধু এহতেশাম গিফট করছে। প্রিয় পোষাক বন্ধু গিফট করছে বলে তা পড়ে আমি সবাইকে দেখাচ্ছি আজ। দারুন এক আনন্দ আছে, আনন্দটা হলো আমি একা নই। বন্ধুরা আমার কথা ভাবছে! আজ এতোটুকুতেই থাক। ঢাকাতে এসেই খরচা শুরু। ইন্টারনেটের পেছনেই আজ চলে গেলো সব মিলিয়ে হাজার খানেক টাকা। বাড়ীতে এত দিন ছিলাম একটা টাকাও খরচ হয় নি! ঢাকায় আমার জন্য টাকা উড়ে না, হাতে থাকা টাকা গুলো সব যথা অযথায় ছুটে চলে যায়!





ওয়েলকাম ব্যাক, শান্ত ভাই।
থ্যাঙ্কস বিষণ্ণ!
ঢাকা শুধু টাকা খায়। কি করবেন , মহারথীর কাঁধে ভর করতে হলে চাঁদা'র পরিমান বেশিই দিতে হয় যে!
ওয়েলকাম ব্যাক।
এতদিন মায়ের হাতের মজার মজার খাবার খেয়েছ, কষ্ট তো একটু হবেই!
মামা অনেকবার বলেছে বাড়িতে ঈদ করতে, শুধুমাত্র আসা যাওয়ার কষ্টের কথা ভেবেই ঈদে বাড়িতে যাওয়া হয়না
মজার খাবার খেতে খেতে ভুড়ি বাড়িয়ে এনেছি। আশা করি ঢাকায় এসে কমবে
দারুণ হয়েছে এই বাড়ি থেকে ফেরার পরের লেখাটা। ওয়েব্লগ ধারণাটার সবচে' মোক্ষম ব্যবহার আসলে আপনিই করছেন ভাই।
ওরে বাবা প্রশংসার বানে দেখি ভেসে যাবো
দু:খের কথা শোনো, আমার ফোনের ১ জিবি ৮ দিনেই শেষ হলো। আমি কি ইন্টারনেট খাইছি?
ঢাকায় এসেই তো আবার জলিলের সিনেমা দেখলা। সেইটা নিয়া জলদি পোস্ট দাও।
আপনি তো তাও ভাইবার দিয়ে কথা বলে যোগাযোগ রক্ষা করেন। আমি তো কিছুই না হুদাহুদি নেট গুলান চলে যায়!
ইদানিং দেশের দ্রব্যমূল্যের দাম আর ঢাকায় জীবনযাত্রা মান এতো বেড়েছে, ভাবতে ভয় লাগে যে এই শহরে ফিরে আসতে হবে আবার জীবিকার টানে
কি আর করার!
ফ্রুট স্লাইস কোনটা? ফ্রুট নিনজা? আমার অসাধারন লাগে সব কেটেকুটে ছাড়খার করে দিতে।
পাজল ডাউনলোড করো নাই!!!! আমি আর মেঘ পাললা দিয়ে মিলাই পাজল ---- দারুন
পাজল ভাল্লাগেনা বেশী। একটা গেম আছে বাড়ীর ট্যাবে নাম ক্রিকেট প্র্যাকটিস। ঐটা খেলে মজা পাইছি
ফ্রুট নিনজাই ফ্রুট স্লাইস
মন্তব্য করুন