বিস্রস্ত জর্নাল থেকে কিছু জার্নাল- শেষ পর্ব
কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে, সপ্তাহ খানেক ধরে লিখি না কিছুই। মামার বিয়ে কিংবা দিনলিপি বা হরতাল নিয়ে পোষ্ট লেখা যেত কিন্তু মাথা খাটাতে ইচ্ছা করছে না। পুরানো এক পোষ্ট খুজতে গিয়ে হঠাৎ এই সিরিজটার কথা মনে পড়ে গেল। ভাবলাম আরো কিছু লেখা যায় বিস্রস্ত জর্নাল বই থেকে। কিন্তু সমস্যা হলো বই পাচ্ছিলাম না। বইয়ের হজবরল অবস্থা দেখে মামা সব বই কার্টুন বন্দি করেছে আমার এবসেন্সেই। তাই জমিয়ে রাখা বই ছাড়া সব গুলাই বাক্সবন্ধি। তবে কিভাবে জানি এই বইটা খুজে পেলাম বিনা পেরেশানীতেই, তাই লিখতে বসলাম আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিস্রস্ত জর্নাল থেকে টুকে নেয়া কিছু লাইন!
২২৭। আমার কোনো এক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে একজন বক্তা সহৃদয় আক্ষেপের সঙ্গে বলেছিলেন, টেলিভিশনে গিয়ে আমি আমার জীবনের মুল্যবান সময়ের অপব্যায় করেছি।
আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই।
আন্তরিক ভাবে মানুষ যা করে তা কোনোকিছুই নষ্ট হয় নয়।
কেন অপচয় বলব? শরীর নির্ভর শিল্প পৃথিবী থেকে মরে যায় এই জন্যে? শিল্পমুল্য ছোট তাই?
কিন্তু আমি কি করতে পারি। আমার ভেতরে আছে যে ব্যাপারটা। সাহিত্যের বা সামাজিক বেদনার মতো এইরকম অত্যাচারীভাবেই যে আছে!
২৩৪। বাড়ী মাথায়- করা লুনার তিরিক্ষি মেজাজের মুখ ঝামটা আজো কানে বাজে-
সব বাড়িতে ছেলেমেয়েরা করে সমস্যা, বাপ-মা তাদের নিয়ে করে টেনশন। আমরা এমন এক বাড়ীতে জন্মালাম যেখানে বাপ নিজেই সমস্যা পাকায় আর তাই নিয়ে টেনশন করে মরতে হয় সবাইকে!
২৩৫। সেদিন আয়নায় নিজের মুখটার দিকে তাকিয়ে মনে হল একজন মানুষ ভালোবেসে এতগুলো বছর ধরে মমতার আদরে এই মুখটাকে দেখেছে, হয়তো বেশী দিন আর দেখবে না।
২৩৬। পৃথিবীতে সব মানুষই স্বপ্নের চেয়ে ছোট, আমি হয়তো একটু বেশী ছোট।
২৩৬। মায়া হচ্ছে ভীরুতা। ( স্যারের এই কথার সাথে আমি মোটেও একমত নই)
২৩৯। মানুষ বৃদ্ধ হলে এসে দাঁড়ায় তাঁর বাবার যৌবনের বিশ্বাসে।
২৪০। জীবনকে দামী বা মুল্যবান মনে করা মানুষই ভীরু মানুষ। সাহসী হচ্ছে এর উল্টোরা।
২৪২। আমাদের দেশের প্রত্যেকটা মানুষই আজ মাস্তান, যে যার জায়গায়।
২৪৩। মানবিক হওয়া মানেই আধুনিক হওয়া।
২৪৬।আজো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংগঠনের নাম 'ব্যাক্তি।
২৪৭। স্বপ্ন হচ্ছে গন্তব্য।
২৫০। সারাটা জীবন আকুতি ছিলঃ জীবন যেন কষ্টকর না হয়। আজকে সেই প্রার্থনা মৃত্যুর জন্যে।
২৫১। মৃত্যুর সামনে মানুষ জীবনের পাওয়াকে ভুলে যায়।
২৫২। বৈষয়িকতা আর ধার্মিকতা দুটোই ইন্দ্রিয়জাগতিক ব্যাপার। একটা ইহাকালের, একটা পরকালের।
২৫৪। জীবনে সমস্যা আর সংগ্রামের সাথে যে যুদ্ধ করে সেই নায়ক। ভিলেন সে, যাকে এটা করতে হয় না।
২৫৫। অবৈষয়িক মানুষই ধার্মিক মানুষ। জীবনের মতো ধর্মের ব্যাপারেও এদের আকাঙ্ক্ষা প্রাপ্তি নয়, প্রেম।
২৫৬। একটা যুগে যত 'ভালো লেখক' থাকে 'ভালো সমালোচক' তার দশভাগের একভাগও থাকে না। প্রতিভাবানদের বুঝতে অনেক সময় যে যুগ যুগ পার হয়ে যায় তার কারন এটাই।
২৫৭। সাধারণ মানুষ অসাধারণ মানুষের চেয়ে ছোট নয়, বিপরীত।
২৫৮। কোন যুগই নায়কবিহীন নয়। সবচেয়ে অনটনকবলিত কালেও সে যুগের হাস্যকর ভাঁড়দের ভেতর থেকে তাঁর যুগ নায়কদের তৈরী করে নেয়।
২৫৯। আমার ছেলেবেলা এদেশ ভরা ছিল গরীব মানুষে। আজ ভিখিরিতে।
২৬০। হাস্যরস এক ধরনের ক্ষমা। অস্তিত্বের স্বার্থ্যে জীবনের নিষ্ঠুর বৈষম্যকে প্রানখোলা হাসিতে ক্ষমা করে নিজেকে বাঁচানো।
২৬২। আমি নৈতিক নয়, নান্দনিক। আমার কাছে যা অগ্রহনযোগ্য তা অনৈতিকতা নয়, সৌন্দর্যহীণতা।
২৬৩। আশাবাদী ও নৈরাশ্যবাদীর পার্থক্য এই যে আশাবাদী দুর্ভাগ্যকে সাময়িক ব্যাপার বলে মনে করে, নৈরাশ্যবাদীরা তা চিরস্থায়ী ব্যাপার বলে।
২৭১। সিদ্ধান্ত 'সর্বোচ্চ ভালোর' পক্ষে নেওয়া হয় না, নেওয়া হয় 'তুলনা মুলক ভালোর পক্ষে'।
২৭২। প্রাক্তন সুন্দরীদের সুবিধা এখানে যে তাদের চেহারার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রেমিকদের দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে আসে।
২৭৩। ইতিহাস তো আসলে সাম্প্রতিকতম সময়।
২৭৪। বিশ্রাম মানে কাজ না- করা নয়, অন্য কাজ করা।
২৭৫। যার দানের কথা অন্যে জানে, সে দেয় না,নেয়।
২৭৬।আজকের বাংলাদেশে বড় মানুষ তারাই যারা মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসে।
২৭৭। কেবল স্বকালের যুবকদের কাছে নয়, পরের প্রজন্মের যুবকের কাছেও একই রকম সুন্দরী থাকতে চায়- এটাই হল সুন্দরীশ্রেষ্ঠাদের ট্রাজেডী।
২৭৮। নিয়ম মানে কোনো কাজকে সবচেয়ে সহজে, লাভজনকভাবে ও সর্বোত্তমভাবে করতে পারার উপায়।
২৭৯। মৃত্যুর দরজা ওধারে। কতটা মর্যাদার সঙ্গে এখন একে মোকাবেলা করা যাবে, এটাই দেখার বিষয়।
২৮০। সমবয়সীদের কাছে নবী হওয়া কঠিন।
২৮১। কোনো আক্রমণের আসল জবাব প্রতিরক্ষা নয়, প্রতি আক্রমণ
এই বইটা কিনে দিয়ে ছিল- যতদূর মনে পড়ে দেশের বিখ্যাত এক মানুষ, আহমাদ মোস্তফা কামাল। নানা কারনেই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। আশা করি তিনি সামনের দিনগুলোতেও এরকম মনোভাব অক্ষুণ্ণ রাখবেন।





কালেকশন ভাল্লাগছে!
ধনব্যাদ বিষণ্ণ!
ভাল লেগেছে ---------- শেষ করে না দিয়ে আরো কিছু পর্ব দাও, আমাদেরকেতো আর কেউ বই কিনে দেয়নি
আমি কিনা দিমু যান!

ভাল লাগলো।

থ্যাঙ্কস এ লট আপু~!
দারুণতো !!
নিয়মিত আইসেন এ পাড়ায়!
ভাল লাগলো শান্ত। যদিও কয়েকটার সাথে একমত হতে পারিনি।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া, আমিও না
টুকে নেওয়া কথাগুলি ভালো লাগছে । আমি সবসময়ই ভাবি শান্ত এমনই থাকুক, পড়ুক, লিখুক। আর সবার মত বদলে না যাক।
দোয়া করি, এই দোয়া গুলান যেন কবুল হয়, ভালো থাকেন আপু!
ভালো আছেন আপু?
মন্তব্য করুন