টু হানড্রেড!
শাহবাগের উত্তাল দিনগুলোতেও ব্লগে সিরিজ ধরে পোষ্ট লিখে ছিলাম, গাল ভরা নাম ছিল 'নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়'। সেই সিরিজের সম্ভবত দুই হালির উপর পর্ব ছিল। অনেকে প্রশ্ন করতো শ্রেষ্ঠ সময় কিভাবে ফলবিহীন হবে? উত্তর ছিল, সাথে আমার সংশয়ও ছিল যে আদৌ ফাঁসীতে ঝুলানো যাবে কিনা, সকল সংশয়ের অবসান হলো কাল। অন্তত একজন অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তিও দেয়া গেল, এর চেয়ে আনন্দের কোনো খবর নাই। যদিও ফাঁসী কার্যকর হবার পর থেকে দেশের অবস্থা আরো খারাপ, বাসা থেকে খালি ফোন দিচ্ছে, বাসায় থাক-বাসায় থাক-বাসায় থাক। তাও আমি কথা শুনি না কারোর, মতিঝিল এজিবি কলোনীর গন্ডগোলে ভয়ে মোহাম্মদপুরে ঘরে বসে থাকার লোক না। আনন্দের এই দিন, উপভোগ করে কাটাতে চাই। কারন জীবনে এইসব দিন আর পাবো কি না জানা নেই, তাই আড্ডা ঘোরাফেরায় কাটাচ্ছি দিন। আরেক খুশীর খবর তো জানালাম ই না তা হলো- আমার আরেকটা ভাতিজি এই দুনিয়াতে এসেছে দুই তিন দিন হলো। মা মেয়ে দুইজনেই সুস্থ। কতো যে খুশী হইছি এই নিউজে তা কাউকেই বোঝানো যাবে না। সোলনাতে ঢূকেই পুলক আর আমি গপাগপ মিস্টি গিলেছি, যদিও মিষ্টি জিনিসটা আমার খুব একটা প্রিয় না। বারেক সাহেব কেউ সন্দেশ খাওয়ালাম, তাতে উনার মুগ্ধ চোখে আনন্দের সীমা নাই। তাই বোঝাই যাচ্ছে গত তিনদিন খুব মওজে কাটছে সময়!
এই ব্লগে কোনোদিন দুইশত পোষ্ট লিখবো, তা আমি বাপের জন্মেও ভাবি নাই। তাও লিখে ফেললাম কিভাবে জানি! যার বেশীর ভাগই আমার একঘেয়ে সব দিনলিপি গুলা। আমার বন্ধু এহতেশাম বলে বসে' আপনার দিনলিপি লেখায় হুমায়ুনীয় কায়দা আছে'। খুবই ইনসাল্টিং মতামত, তাও আমি থেমে থাকি নাই। লিখে গেছি বই নিয়ে, গান নিয়ে, সিনেমা নিয়ে যখন যা মন চাইছে তা নিয়ে। সেই সামহ্যোয়ারের আমল গুলাতে আমি খালি মন্তব্যের ঘরে তুবড়ি ছুটিয়েছি। আইডল ছিল রাশেদ ভাই। ভাবতাম ব্লগ মানেই বিষয়ভিত্তিক আড্ডা মারার জায়গা। কিন্তু ব্লগ লেখা যে কত আনন্দের তা বুঝেছি এই খানে এসে। প্রথম প্রথম যাই লিখছি তাই সবাই বলতো খুব ভালো, নিয়মিত লেখো না কেন? যখন নিয়মিত লিখতে বসলাম তখন দেখি আমার লেখায় কত সীমাবদ্ধতা আর কত ভুলে ভরা। আমার এক বন্ধু আমাকে সব সময় বলতো 'যতদিন ধরে ব্লগিং করি আমাদের আরো ভালো লেখা উচিত কারন ব্লগিংয়ে অনার্স মাস্টার্স আমাদের সবার করা শেষ' আমিও ভাবতাম আসলেই তো তাই। কিন্তু আমি তো ব্যর্থ তাই সব লেখাই কেমন জানি কাঁচা হাতের লেখা হয়ে যায়। তবুও লিখে চলছি এইটাই আমার একমাত্র সফলতা।
তবে এই ব্লগ আমার জন্য স্পেশাল একটা ব্লগ। যেখানে লেখার লোক নাই, আগে যারা লেখতো তাদেরও সময় নাই। কোনো কোনো লেখা পড়ে থাকে ধুমড়ে মুচড়ে, কোনো প্রতিক্রিয়াও নাই। যারা নিয়মিত ছিল তাদের ব্লগে দেখাই যায় না, আর নতুন ব্লগার যারা আসে নিস্প্রান ভেবে চলে যায়। তারপরেও আমি লিখছি কারন আমি অন্য কোনো ব্লগেই আর লিখি না। লিখতে চাইছিও না, চেষ্টাও করি না আর। মাঝেমধ্যে সচলায়তনে কিছু পড়া হয়, এছাড়া আমার ব্লগিং একটিভিটি মানেই 'আমরা বন্ধু'। এখনো ছয় সাত জন দারুণ লেখক এই ব্লগে লেখা চালিয়ে যাচ্ছি ইহাই ভরসা। রাতে ঘুম আসে না, শুয়ে শুয়ে অন্ধকারে অনেকের পুরানো পোষ্ট দেখে আপসোস জাগে, ইস এরা যদি থাকতো কত ভালো হতো। কিন্তু কিছুই থেমে থাকে না, আমি যখন লিখবো না তখনও হয়তো থেমে থাকবে না কিছুই। তাও এইসব ব্লগ আর দিনলিপি লিখতে লিখতেই ২০০ টা পোষ্ট হয়ে গেল। তেমন ভালো কোনো লেখাই হয় নি, তাও আমি খুশী এটলিস্ট চেষ্টা তো করেছিলাম। আর ছোটবেলা থেকেই আমি এমন, তেমন কোনো প্রতিভাই ছিল না বলার মতো। বিলো এভারেজ মানুষরা যেমন হয় আর কি, তাও রাত জেগে মশার কামড় খেয়ে, কত পোষ্ট তিনচার বারে লিখে মধ্যরাত পর্যন্ত পিসির সামনে বসে ছিলাম ব্লগ নিয়ে। ব্লগে লেখার প্রতি নিজের এই ডেডিকেশন দেখে নিজেই অবাক হতাম। লোকজন পড়ুক আর না পড়ুক লিখে গেছি নিজের জন্য ক্লান্তিহীন ভাবে! মোবাইল সেটটা নষ্ট হয়ে গেল এই শুধু ব্লগ লেখার প্রেশারেই, এখন চায়নিজ এন্ড্রয়েড চালাতে হয় কপাল দোষে! বাড়ীতে যখন মোবাইলে পোষ্ট লেখি, আম্মু বলে উঠে 'এই ছোট্ট মোবাইলে এত কি করোছ রাত জেগে?' আম্মুকে তো আর বোঝানো যাবে না ব্লগ লেখার আনন্দ! তাই দুইশো পোষ্ট লেখার এই দিনে এই ব্লগের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে দুইশত কোটি থ্যাঙ্কস!
আজকে তো বিশেষ একটা দিন, বিজয়ের এই মাসে আমাদের সব চাইতে দুঃখের দিন- এক সাথে এত বুদ্ধিজীবি হত্যার দিন। এই অপরিমেয় ক্ষতি ও সামগ্রিক জাতি হিসাবে আমাদের সেই মেধা শুন্যতা এখনো আমাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তবে এবার ভালো লাগছে যে এই বছর কিছুটা হলেও আমরা বিচার পেয়েছি সেই বর্বরতার। এই দুঃখের দিনেও আমার আজ মন ভালো, কারন প্রিয় দুই মানুষের আজ জন্মদিন। একজন লীনা আপু আরেকজন আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাই। ইনাদের জন্মদিন নিয়ে আলাদা ব্লগ পোষ্ট লেখার দরকার নাই কারন আগেও লিখছি আর ইনারা এতই অনন্য মানুষ যে নতুন করে বলার কিছু নাই। দুইজন লোকই আমাকে অস্বাভাবিক স্নেহ করে, ভালোবাসে, তাদের সেই ভালোবাসার ঋণ শোধ করার মত ক্ষমতা আমার নাই। আমি ইদানিং কালে যাকেই বই টই গিফট দেই কিনে, ঘুরে ফিরে কামাল ভাইয়ের বইগুলাই দেয়া হয়। এইজন্যে অলরেডী আমি একবন্ধুর মুখে কামাল ভাইয়ের ব্র্যান্ড এম্বাসেডরে পরিনত হয়ে গেছি। তাতে অবশ্য আমার দুঃখ নাই, কারন এত বিখ্যাত মানুষ আমার বড় ভাই এইটাই কপাল। তবে কামাল ভাই আমাকে সবসময় ধীরে সুস্থে ও যতি চিন্হের ব্যাবহার মেনে ও জেনে লিখতে বলে। কিন্তু তা আর পারলাম কই? লিখতে বসলে আর হুশ থাকে না, খালি তাড়াহুরা করি। প্রতিটা লেখা শেষে সেই গ্লানি বোধে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। সরি ভাইয়া! আর লীনাপু নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। আগেই নানা পোষ্টে বলে দিয়েছি উনার লেখা নিয়ে মুগ্ধতার বয়ান। দুইজনকেই শুভেচ্ছা জন্মদিনের, দারুণ দিন যাক সামনে, শরীর মন ভালো থাকুক। যেহেতু আমি সেলফিস মানুষ তাই আশা করি আগামীতেও আমাকে এইভাবেই স্নেহ করতে থাকেন তাঁরা!





অসংখ্য অভিনন্দন, সুপ্রিয় শান্ত ভাই।
ভাতিজি আর তার বাবা মা অনেক ভালো থাকুক, শুভকামনা রইল।
কামাল ভাই আর লীনাপাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাক, এই দোয়াই করি।
আপ্নে এভাবে এতটা করে আছেন বলেই হয়তো এবি কে একটা ব্লগএর চাইতেও বেশি একটা পরিবার বলে মনে হয়।
ভালো থাকেন, অনেক ভালো। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষন।
থ্যাঙ্কস বর্ণ, ভালো থাকো, তোমাদের ভালোবাসা আর ভালো লাগাতেই লেখালেখি ও ব্লগে ঘোরা ফেরা। শিঘ্রী নেট নিয়ে ফেরত আসো ও পোষ্ট লাগাও সমানে!
গতকাল রাতেই ভাবছিলাম শাহবাগের উত্তাল সময়ে লেখা তোমার পোষ্টগুলির কথা । কোন কারণেই কখনে তুমি লেখাগুলি ব্লগ থেকে সরিয়ে নিও না, এটা তোমাকে অনুরোধ । চাইলে যেকোন সময় যেন পড়তে পারি ।
২০০ পোষ্ট লেখা উপলক্ষে চা খাওয়াও
কেউ লিখুক বা না লিখুক তুমি লেখা বাদ দিবা না। রাজশাহী পোস্টিং হলেও না ।
পি্রয় কামাল ভ।ইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা, শুভকামনা । অনেক অনেক ভালো থাকেন, সবার ভালোবাসায় থাকেন ।:)
শুভ জন্মদিন লীনা আপা ।
এই ব্লগে লেখা কোনো পোষ্টই মুছে ফেলার ইচ্ছা নাই আপু, আপনিও ভালো থাকেন আপু, নিয়মিত আসবেন শত ব্যাস্ততা ও মন খারাপেও এই দোয়াই করি!
অদ্ভূত একটা সময় পার করছি আমরা । ভুলে গেছিলাম যে অন্ততঃ একজন যুদ্ধাপরাধীর হলেও সাজা কার্যকর হবে ! দূঃসময়েও কখনো দু' একটা ভাল দিন বরাতে জুটে যায় । ধন্যবাদ লেখার জন্য ।
কি আর করার আছে বলেন? এইদেশে আমাদের চাওয়া পাওয়া স্বপ্নের দাম নাই কোনো!
ডাবল সেঞ্চুরি করার জন্য শান্তকে অভিনন্দন।
নিজের দিনলিপি গুলোও এত সুন্দর হয় যে পড়তেই ভাল লাগে।
শান্ত এভাবেই সাবলীল গতিতে নিয়মিত লিখে যাবে এটাই চাই।
থ্যাঙ্কস এ লট আপু, ভালো যাক দিন!
ধইন্যাপাতা বস্। দুইজনের জন্মদিনের কথা মনে করায় দেয়ার জন্য অসংখ্য-অজস্র ধইন্যাপাতা আপনারে
আমি বস না, আমি উল্টা আপনার বিশাল ফ্যান। গত বছর মে বি পোষ্ট লিখেছিলাম তা ভুলে যাওয়াটা অসম্ভব ছিল। আপনার লেখা পোষ্ট আরো ভালো ছিল!
দুইশততম পোস্টের জন্য অভিনন্দন। কেক্কুক খাওয়া যায় কিন্তু এই উপলক্ষ্যে
মোহাম্মদপুরে, মোহাম্মদী সোসাইটি ৮য়ে এসে বারেকের দোকানে একদিন আসেন। খুব খুশী হবো!
ডাবল সেঞ্চুরি করার জন্য শান্তকে অভিনন্দন
সবচেয়ে বেশি কমেনটার হিসেবে আমাকেও অভিনন্দন
শুভ জন্মদিন লীনা
শুভ জন্মদিন কামাল ভাই
তা তো অবশ্যই আপু, আপনার মত নিবেদিত প্রান মন্তব্যকারী যেকোনো ব্লগের ক্যাপিটাল এসেট, আশা করছি আপনি এ ধারা দারুণ ভাবে অব্যাহত রাখবেন!
এই লেখাটা কি করে মিস করে ফেললাম!!
প্রথমত ডবল সেঞ্চুরীর শুভেচ্ছা। তুমি এখনও লিখে যাচ্ছ বলে ব্লগটা জেগে আছে।
এভাবেই জেগে থাকো, লিখে চল, সাথেই আছি। তোমার জন্য কেক্কু
শুভ জন্মদিন লীনা

শুভ জন্মদিন কামাল ভাই
থ্যাঙ্কস ফর দ্যা কমপ্লিমেন্ট ভাইয়া!
আপনিও রিয়াসা আর তার মাকে নিয়ে দারুণ থাকেন!
মন্তব্য করুন