বাড়ী থেকে ফিরে, বইমেলা ফার্স্ট লুক!
সবাইকেই ফিরতে হয়, আমাকেও তাই ফিরতে হলো বাড়ী থেকে। যদিও শরীরের কন্ডিশন আশাব্যাঞ্জক না, ঠান্ডা লেগে মাথা খালি ভনভন করছিল গত কাল পরশু। আজ একটু কম, তবে শরীরটা কেমন জানি অসস্তিকর ঠেকছে। এক ডাক্তারকে ফোন দিলাম তিনি বললেন বসে থাকা লোকজনেরই এই সব হয়, শরীর মেজমেজ করে সাথে মাথা ভনভন করবে। যারা কাজের লোক তাদের নাকি এসব হয় না! শুনে পিত্তি জ্বলে গেল, তাই কাজ নিয়ে বসলাম। বই পড়ছিলাম, তার আগে ঘন্টা খানেক চায়ের দোকানে বসলাম, নিউএইজ পত্রিকা কিনে হেডলাইনে চোখ রাখলাম। এই তো বাসায় ফিরে জোহরের নামায পড়ে ভাবলাম একটা ব্লগ লিখতে থাকি- যতদুর লেখা যায়, পছন্দ না হলে পোষ্ট করবো না প্রথম পাতায়!
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম গত পরশু দিন, আমার দিন যাপন কেটে গেলো দোটানার টানাটানিতেই। তা কেমন? বাড়ীতে গেলে ভালো লাগে না- আবার বাড়ী থেকে যে ঢাকায় ফিরবো সেই ইচ্ছা থাকে না। আর আম্মু আমার এমন- যতদিনই থাকি বলবে আরো ৬-৭ দিন থাক, পরে যা। এই কথা শুনলে কি আর যেতে ইচ্ছা হয়! তাও ক্লাস আছে, বইমেলা আছে, কাজ আছে ফিরতে তো হবেই। আব্বু ঢাকায় আসছে এক কাজে, আমাকে বিদায় দিতে কেউ ছিল না। একা একাই গেলাম বেকুবের মত অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘন্টা দেড়েক দাঁড়িয়ে থাকলাম ষ্টেশনে। আমার আব্বুই ট্রেনের টিকেট ৮-১০ দিন আগে কেটে রেখেছিল তাই দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নাই আমার। ঘন্টা খানেক লেটে ট্রেন আসলো। কোনোকিছু না হারিয়েই সিটে বসলাম। জামালপুরে, ট্রেনে উঠার সময়ই গেঞ্জাম। এত ভীড় আর এত টাউট ও ছিচকে চোর, মোবাইল মানিব্যাগ হারানোর জন্য পারফেক্ট প্লেস। ভালো প্রথম শ্রেনীর চেয়ারে বসলাম। এক লোক এসে আদেশ করলো খ বগিতে বসতে, আমি এক বাক্যে মানা করলাম। তিনি আমাকে সিভিক সেন্স শেখালেন আমি শুনে গেলাম চুপ করে। তিনি তাঁর ভাগ্নের সাথে বসবেন এই জন্য আমাকে এই তীব্র ভীড়ে মাল পত্র নিয়ে আবার খ বগি খুজতে হবে, যত্তসব। দুইটা পত্রিকা ছিল হাতে, চোখ বুলালাম। গান শুনলাম দামী হেডফোনে। ইজতেমার কারনে ট্রেনে নানান সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকলো, আমি দুই কাপ চা বাদে আর কিছুই খায় নি। ওদের চা আর গরম পানি খাওয়া সেইম, তাও দাম ১০ টাকা। তাও পান করতে হয় আর কি! দশটায় এয়ারপোর্টে নামলাম, আমার অপেক্ষায় সবাই বারেকের দোকানে। সিএঞ্জি নিলাম নেমেই কিন্তু নভো থিয়েটারের সামনে সিএঞ্জির একসেল নাকি ভাঙলও। খেলাম এক বাশ, কিছুক্ষণ হেটে রিকশা পেলাম ডাবল ভাড়ায় শ্যামলী নামলাম। ততক্ষণে সময় সোয়া এগারোটা। বুয়া রান্না করে গিয়েছিল, ঠান্ডা ভাত তরকারী গোগ্রাসে গিলে নোটবুকে কিছু সময় বসেই ঘুমানোর চেষ্টা করলাম ঘুম আর আসে না। বাড়ীর যে বিছানার অভ্যস্ততা তাই হয়তো সমস্যা। তিনটের দিকে ঘুম দিয়ে উঠলাম সকাল আটটায়। ফ্রেশ হয়েই ব্যাপক হাটা দিলাম। বাসা থেকে জিয়া উদ্যান হয়ে ধানমন্ডী ৮ দিয়ে ঢুকে বাসায় ফিরলাম। ক্লান্ত লাগছিলো খুব আবার খুব আনন্দতেও ছিলাম মাস খানেক পর এরকম গরু হাটা দিয়ে।
বিকেলে বের হয়ে গেলাম পারভীন আপুর বাসায়, ধারনা ছিল সিরিয়াস কিছু না। কিন্তু গিয়ে দেখি সিরিয়াস অসুস্থ উনি। কথা বার্তা বললাম, জ্যোতি আপু আসলো অফিস থেকে, গপপো গুজব করলাম। টিভিতে উদ্ভট এক এড দেখলাম, শাহরুখ দীপিকার \লুঙ্গি ডেন্সের' আদলে একটা বাংলাদেশী চকলেটের এড। অত্যন্ত ফাউল। ভাপা পিঠা খেলাম চা খেলাম তারপর বইমেলার দিকে রওনা দিলাম। রাস্তায় বিপুল যানজট রিকশা নাই, খাসা এক হাটা দিলাম। ধানমন্ডি তিন থেকে বাংলা একাডেমী কম দুর না। হেটে হেটে ক্লান্ত হয়ে ঢূকলাম মেলায় প্রকাশকদের অঞ্চলে, সেইখানে দেখি হাটা আর হাটা। বানিজ্যমেলার মতোই বিশাল স্পেস। চেনাজানা স্টল গুলাতে শুধু ঘুরে দেখার খায়েশ ছিল। মাওলাতে গেলাম, নান্দনিক দেখলাম, শ্রাবন ও এ্যাডর্নে চোখ বুলালাম। এ্যাডর্নে গিয়ে জিগেষ করলাম মোস্তাক শরীফের বই আসছে? এক মেয়ে বললো আসবে সামনে, অনন্যাতে দেখলাম মিলন আংকেল নাই দেখে মন খারাপ হলো। সন্ধ্যা সোয়া সাতটা তখন লোকজন কম। যেই স্টলেই যাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকে সবাই। কি এক বিপদ ! মুখের দিকে কেউ তাকালে আমার বই দেখার কনসেন্ট্রেশনের সমস্যা। সাহিত্য প্রকাশের সামনেই অনেক সময় দাঁড়িয়ে দেখছিলাম বই। বিক্রেতা আমার পরিচিত তাই আমার খোজ খবর নিচ্ছিলেন। তাদের পল্টনের দোকানে অনেকবার গিয়েছি। নতুন কোনও বই দেখলাম না। আরো কিছুক্ষণ দাঁড়াতাম, শিক্ষামন্ত্রী আসলেন আর কোত্থেকে এক পাল লোক এসে যোগার হলেন। আমি হাটলাম, শুদ্ধস্বরে গেলাম দেখি ভাবী বসা, টুটুল ভাই কার সাথে কথা বলে আর আমার দিকে আড় চোখে তাকায়। উনাকে আর বিরক্ত করি নাই। জাস্ট দেখলাম, নতুন বই এখনো আসে নি। স্টল বিন্যাস অতি বাজে, স্টলের কোনো নাম্বার নাই ব্যানার গুলোতে, তথ্যকেন্দ্রের খবর নাই, অনেক স্টলেই পেরেক ঠুকছে, বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। অন্য প্রকাশের স্টলের সামনেই রাজ্যের ভীড়, গোটা ছয়েক চ্যানেল সেখানে ইন্টারভিউ নিচ্ছে। একাত্তর টিভির শামীম আল আমিন তাঁর বই নিয়ে তাঁর চ্যানেলেই বলছে। রিটন ভাইকে দেখলাম। উনার আশেপাশে দেখলাম ব্যাপক লোকজন। যার সাথেই দেখা হয় উনি নাম ধাম মুখস্থ রেখে বইয়ের খোজ নেন। এই ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লাগলো। বিদ্যা সিনহা মীম কিংবা আজিজুল হাকিমের ছবিওয়ালা লিখিত বই এবারও পাওয়া যাচ্ছে শব্দশিল্পে। হাটলাম অনেক কিন্তু মন দিয়ে ক্লান্তির কারনে কোনো স্টলই কিছু মনে রাখতে পারি নাই। নতুন নতুন অনেক প্রকাশনী দেখলাম, সুন্দর সুন্দর স্টল। আমি অবশ্য অনেবার মেলাতে গিয়েও কোথাও কোন স্টল তা বলতে পারি না। ওতো মাথা কাজ করে না শার্পলী। বাংলা একাডেমীর ভিতরে গেলাম তারপর সেখানে দেখি পুরাই ফাকা ফাকা। খালি বসার জায়গা। লিটল ম্যাগের ওইদিকে আগে দেখতাম কত ভীড়, এখন দেখি খালি পুরোই। বাংলা একাডেমীর বই বিক্রির সিস্টেমটা পছন্দ হলো না। আগের মতো বই বেছে দেখে নেয়ার কোনো ব্যাবস্থা নাই। নাম জেনে আসতে হবে। রাসেল ভাই মেলায় যায় না, গেলে উনি লিখতো। নতুন নতুন কিছু বইয়ের সাজেশন পেতাম। আমার প্যানেলের লোক নাই যে গুটিকয় মানুষের সাথে মেলায় হাটলেও শান্তি! চেনাজানা কাউকেই দেখি নাই কাল, কি আর করা যাবে! যাক এভাবেই মেলা, যাবো সামনে। কাল সেন্ডেল ছিড়লাম হাটতে হাটতে, এরপর কেডস ছাড়া মেলায় যাবো না। ফেরার সময় বাসের ভীড়। তাও আবির পুলক ছিল ছবির হাটে, দারুন আড্ডা দিতে দিতে বাসায় ফিরলাম!





প্রচারেই প্রসার। নিজের বই। নিজের চ্যানেল। উত্তম পদ্ধতি। রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বপালন এবং বিজ্ঞাপন। হা হা।
ছোট ছোট পর্যবেক্ষণগুলো মজার।
শুভেচ্ছা।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
বইমেলায় একা একা হেঁটে মজা পাওয়া যায় না !
ঠিক কথা বলছেন ভাই!
হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া এখন অন্যপ্রকাশের কি অবস্থা?
সেই ভীড় এখনো বিদ্যমান, নতুন তিন চারটা বই আসছে না হুমায়ূন আহমেদের!
সামনে মনে হয় সমগ্রও আসবে। ঐখানে দুনিয়ার হাউকাউ দশ বারোটা চ্যানেলের ক্যামেরা রিপোর্টার পাবলিক মিলে এক কারবারী এলাকা!
লাইনটা ছুয়ে গেলোরে
থ্যাঙ্কস আপু!
আমার মনে হয় যার গ্রাম নেই সে জানে না তার কি নেই । বাড়ী আসলে মনে হয় দুনিয়াতেই এক স্বর্গ ।
তুমি তো পকেট ফাকা করে বই কেনা শুরু করছ 
সেদিন ফেরার সময় এত্ত জ্যাম ছিলো পথে ঘুমায়ই যাচ্ছিলাম । তুমি বইমেলা যাবা তাই জোর করলাম না যে চলো বাসায়ই যাই ।
টেকা পয়সা নাই বেশী তাও কিনতেছি সমানে আপু!
ইলমা কে নিয়ে ঘুরে আইসেন এক বন্ধের দিন
মন্তব্য করুন